এখন সময়:রাত ১:২৪- আজ: বৃহস্পতিবার-১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:রাত ১:২৪- আজ: বৃহস্পতিবার
১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

আনিসুজ্জামান চট্টগ্রাম পর্ব-  চট্টগ্রামবাসীর দায়শোধের চেষ্টা

নিজামুল ইসলাম সরফী : আনিসুজ্জামান বাঙালির সারস্বত প্রজম্মের চেতনালোকের অনন্য সারথি, মহীরুহ ও বটবৃক্ষ বটে। শৈশবে স্কুলে আমরা যে শিক্ষককে স্যার বলে সম্বোধন করি পৌঢ়ত্ব অথবা বার্ধ্যক্যেও আমরা স্যার শব্দটিই ব্যবহার করি। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী বিষয় এই যে, যারা তাঁর ছাত্র নয় তারাও তাঁকে স্যার বলে সম্মোধন করেন। আনিসুজ্জামানের এই অবস্থান একান্তই তাঁর জন্য সংরক্ষিত। তিনি যেন এই প্রজম্মের সর্বজনীন স্যার। সকলের শিক্ষক না হয়েও সকলের আনিস স্যার।

আনিসুজ্জামান ছিলেন এদেশের একজন মহাকালিক বুদ্ধিবৃত্তিক পুরুষ। যার অলোকসামান্য অবদান বাঙালির জাতির শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে তাকে স্মরণীয় করে রাখবে যুগের পর যুগ। মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সামরিক স্বৈরাচার প্রতিরোধ, সাম্প্রদায়িকতার অমানিশা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে তার সাহসী ও সজাগ ভূমিকা ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে। তার আত্মজীবনী “কাল নিরবধি,” “আমার একাত্তর”, “আমার চোখে”, “বিপুলা পৃথিবী”, প্রভৃতি গ্রন্থ বাঙালির জীবন ও কালের চলমান ইতিহাস হিসেবে আগামী প্রজম্মকে আবিষ্ট করে যাবে নিঃসন্দেহে। বর্তমানে দেশ এক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে তার মত একজন পাবলিক

ইন্টেলেকচুয়েল বড় প্রয়োজন ছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে শাকিল আহমদ রচিত আনিসুজ্জামান চট্টগ্রাম পর্ব বইটি আমাদের কাছে এক আকরগ্রন্থ বৈকি।

আনিসুজ্জামান (১৮ ফ্রেব্রুয়ারি ১৯৩৭-১৪ মে ২০২০) এর বর্ণাঢ্য দীর্ঘ জীবনের একটি উল্লেখ্যযোগ্য সময় কেটেছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে এসে তিনি এতদাঞ্চলের শিল্প সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগতের অভিভাকতূল্য হয়ে ওঠেন। সেই হিরণ¥য় সময়ের ঘটনা প্রবাহকে ইতিহাসের আলোকে স্বভঙ্গিমায় পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন প্রাবন্ধিক-গবেষক শাকিল আহমদ তাঁর- “আনিসুজ্জামান চট্টগ্রাম পর্ব” গ্রন্থে। কথাসাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদ যাকে “নতুন প্রজম্মের সাহিত্যতাত্ত্বিক” আখ্যায় ভূষিত করেছিলেন সেই শাকিল আহমদ এবার আমাদের উপহার  দিয়েছেন এক অনন্য সাধারণ মৌলিক আকরগ্রন্থ “আনিসুজ্জামান চট্টগ্রাম পর্ব”। এটি প্রকাশ করে তিনি যেন আনিসুজ্জামানের প্রতি বাঙালির দায় শোধের চেষ্টায় শরিক হয়েছেন। আনিসুজ্জামানের ¯েœহধন্য শাকিল আহমদ স্যারকে কাছ থেকে দেখার স্মৃতি ও ইতিহাসের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে রচনা  করেছেন এই অমূল্য দলিল। নয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত গ্রন্থসূচিতে রয়েছে : আনিসুজ্জামান, ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে  যোগদান, ৭১-এর উত্তাল মার্চে চট্টগ্রাম ও আনিসুজ্জামান, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নিজ কর্মস্থল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যাবর্তন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ও অর্জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগকে সমৃদ্ধকরণ, ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান, চট্টগ্রামে  আনিসুজ্জামানকে কাছে থেকে দেখা, আমৃত্যু চট্টগ্রামকে ফিরে ফিরে দেখা।

গ্রন্থের পরতে পরতে নানা দুর্লভ ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা ও কিছু আলোকচিত্র পাঠককে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সুখস্মৃতিতে নিয়ে যাবে। চট্টগ্রামের প্রতি আনিসুজ্জামানের ছিল মায়ার বন্ধন। চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবার পরও যে কোনো ডাক পেলেই তিনি ছুটে আসতেন। এখানকার সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর উজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। আনিসুজ্জামান দেশবাসীকে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন রাজধানীর বাইরের জীবনের উল্লেখ্যযোগ্য সময় অবস্থান করেও একজন আনিসুজ্জামান তৈরী হতে পারে।

আনিসুজ্জামান  স্যারের চট্টগ্রাম পর্বে ‘সাহিত্য নিকেতন’, আবুল ফজল, আবুল মোমেন  নামগুলো অনিবার্য স্মৃতি হয়ে জড়িয়ে আছে। গ্রন্থের লেখক শাকিল আহমদ অনেকটা দ্বিধা সংকোচ এড়িয়ে লিখলেন-“ ইট পাথরের নগর যখন আরো মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে লাগলো তখন আবুল ফজল এর পরিবারের স্বপ্নও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার কারণে এক সময়ের চট্টগ্রামের শিল্প সাহিত্য ও আন্দোলনের পীঠস্থান সাহিত্য নিকেতনও বহুতল ভবনের নিচে চাপা পড়ে কিন্তু তখন কেউ আর ব্যানার হাতে নিয়ে অনেক ইতিহাসের সাক্ষী সেই ভবনকে  রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি।”

আনিসুজ্জামানের কাছে পদবি নয় ব্যক্তিমানুষই সব সময় বড় ছিল। ছেলে আনন্দ জামালের স্মৃতিকথায়-” আনিস স্যারের মেজ মেয়ে শুচির স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন স্যারকে দেখতে গেছেন তেমনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে আসার প্রায় সিকি শতাব্দ পরও এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রহরী চট্টগ্রাম থেকে ফোন করে স্যারকে সমবেদনা জানান, সান্ত¦না দেন। রাস্ট্রের সর্বোচ্চ স্থান থেকে একেবারে কনিষ্ঠ কর্মচারীর ভালোবাসার সিক্ত ছিলেন আনিসুজ্জামান। এজন্যই তিনি বাঙালির কিংবদিতুল্য মহান মানুষ। তাঁর বিদায় আমাদের সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি ও শূন্যতা।। সেই ক্ষতি সহজে পুষিয়ে ওঠার নয়। আর সে জন্যই শাকিল আহমদ রচিত গ্রন্থটির কাছে পূনঃ পুন: ফিরে গেলে একজন আনিসুজ্জামানের জীবন ও আর্দশের সন্ধান পাব।

শাকিল আহমদ তাঁর “আনিসুজ্জামান চট্টগ্রাম পর্ব” গ্রন্থ তথ্যসূত্র আনিসুজ্জামানের সাথে সম্পর্কের খ্যাতিতে ও স্মৃতিকথায় অনেক বাঙালি মনীষার নাম ও সুল্লুকসন্ধান করেছেন যেটি গ্রন্থটির গৌরব বাড়িয়ে দিয়েছে বহুলাংশে। সেখানে ওঠে এসেছে শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, ইন্দিরা গান্ধি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আহমদ শরীফ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ ঘোষ, শেখ হাসিনা, কাজী নজরুল ইসলাম, অমর্ত্য সেন, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, পবিত্র সরকার, আনন্দ জামান, প্রণব মুখার্জী, ভূঁইয়া ইকবাল, আবদুল মান্নান ওরফে মঈনু, ফয়জুর রহমান আহমেদ, আবদুল হাই, জয়নুল আবেদিন, মোহাম্মদ খালেদ, আবদুল ওয়াহাব, আলী আহমদ, আবদুল আলী, আবদুল আউয়াল ওরফে সুধা, সৈয়দ ফজলুল হক বিএসসি, আহমদুর রহমান আজমী, সিদ্দিকা জামান, শুচি, রুচি, আবুল ফজল, আজহার, সুফিয়ানী এটি, টিএম আখতারুজ্জামান, মুনীর চৌধুরী, এ.আর মল্লিক, সৈয়দ আলী আহসান, মাহমুদ শাহ কোরেশী, মোহাম্মদ আবু জাফর, মাহবুব তালুকদার, রশিদ চৌধুরী, কামাল এ খান, মমতাজ উদ্দীন আহমদ, সৈয়দ মোহাম্মদ শফি, মাহাবুব হাসান, আব্দুর রব, নাজমুল আলম, মাহবুবুল হক, এখলাস উদ্দিন আহমদ, মেজবাহ উদ্দিন আহমদ, শামসুল আলম, রফিকুল ইসলাম, ডা. জাফর, আতাউর রহমান খাঁন কায়সার, অলি আহমদ, খালেকুজ্জামান চৌধুরী, শমসের মবিন চৌধুরী, অনুপম সেন, শামসুল আলম খাঁন, রফিকুল আনোয়ার, এম.এ হান্নান, এইচ টি ইমাম, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, জিয়াউর রহমান, মোশারফ হোসেন, হারুন আহমেদ চৌধুরী, নতুনচন্দ্র সিংহ, প্রফুল্লরঞ্জন সিংহ, মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, আজিজ, আবুল খায়ের, শামসুল হক, ওসমান জামান, রশীদুল হক, চৌধুরী আহমদ ছফা, মোহাম্মদ ইবরাহিম, কবির চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, মুহাম্মদ কুদরাত-এ খুদা, মুহাম্মদ শহীদুল্ল্যাহ, ইউ এন সিদ্দিকী, আবু হেনা মোস্তাফা কামাল, সুনীতি ভূষণ কানুনগো, মনসুর মুসা, আবদুল করিম, শঙ্খ ঘোষ, ক্লিন্টন বি সিলি, উইলিয়ান রাদিচে, জোসেফ টিও কলেল, অসিত কুমার বন্দোপাধ্যায়, জ্যোতিময় ঘোষ, আজাহার উদ্দিন খান, গোলাম মুস্তাফা, মনিরুজ্জামান, আবুল মোমেন, আহমদ মমতাজ, শাহরিয়ার খালেদ, বিশ্বনাথ চৌধুরী, সজল বড়–য়া, গোলাম কিবরিয়া, নাসিমা বেগম, মহীবুল আজিজ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, বদরউদ্দীন উমর, আনু মুহাম্মদ, ফজলে হাসান আবেদন, মাহফুজুর রহমান, তাহের সোবহান, উমরাতুল ফজল, শীলা মোমেন (ফুলকি), সুব্রত বড়–য়া, আশোক বড়–য়া, এ এফ এম আবদুল জলিল, এটিএম মোয়াজ্জেম, আলী ইমাম, সৈয়দা খাতুন, হাসান আজিজুল হক, মো. আবদুল মালিক (মালিক সোবহান) শাকিল আহমদ, মো. আবুল কাসেম, মো. আবদুল হামিদ, শিরিন শারমিন চৌধুরী, আবদুল মান্নান, ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, অভীক ওসমান, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, রাশেদ রউফ, খালিদ আহসান, ডেইজী মওদুদ, জিন্নাহ চৌধুরী, আইয়ুব ভূঁইয়া, আলী প্রয়াস, আব্দুল হাসনাত প্রমুখ। এসব মানুষের নাম সম্পর্কও যেন আনিসুজ্জামানের সাথে ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে রহিল।

আজাদ বুলবুল গ্রন্থের ভূমিকাতে যথার্থভাবে লিখেছেন গ্রন্থটি সমকালীন সাহিত্য সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের বিশ্বস্ত দলিল হয়ে ওঠেছে। শাকিল আহমদের পর্যবেক্ষণের দক্ষতায় ও বর্ণনার মুন্সিয়ানায় আনিসুজ্জামান চট্টগ্রাম পর্ব শুধু আত্মজৈবনিক বিবরণ নয়। চট্টগ্রাম ও আনিস স্যারকে ঘিরে অর্ধশতকের অনন্য উপস্থাপন। আবির প্রকাশন থেকে এটি প্রকাশ (অক্টোবর ২০২১) করেছেন মুহম্মদ নুরুল আবসার। টিপলু বড়ুয়ার দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদে গড়া গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছে আনিসুজ্জামান স্যারকে চেনা জানা মানুষের করতলে।

আনিসুজ্জামানের জীবনের উল্লেখ্যযোগ্য সময় ও কর্মের বিশাল পরিধি বেষ্টন করে আছে এই চট্টগ্রাম। শাকিল আহমদ আনিসস্যারের সেই স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রামকে আদ্যোপ্রান্ত তুলে ধরেছেন এই গ্রন্থে একজন ছাত্র শিক্ষকের দৃষ্টিতে নয়; মানবীয় দৃষ্টিতে। চট্টগ্রামবাসীর প্রতি স্যারের জীবৎকালের অহর্নিশ ভালোবাসার দায়শোধেরও এক অনন্য দৃষ্টান্ত – আনিসুজ্জামান চট্টগ্রাম পর্ব। আনিসুজ্জামানের প্রতি চট্টগ্রামবাসীর এই দায় শোধের প্রচেষ্টাও স্মৃতিধারণ রক্ষার্থে শাকিল আহমদও এক অনন্য দৃষ্টান্ত রাখলেন আনিসুজ্জামান চট্টগ্রাম পর্ব গ্রন্থটি রচনা করে। আনিসুজ্জামানের চেনা-জানা প্রিয় মানুষেরা এই গ্রন্থ পাঠে যেমন একদিকে পুলকিত হবে। তেমনি অনেক অজানা তথ্য জেনেও নিজেকে সমৃদ্ধ করবে।

 

নিজামুল ইসলাম সরফী, প্রাবন্ধিক

বাজেটের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির বাজেট

আলম খোরশেদ আর কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হবে। আর অমনি শুরু হয়ে যাবে সবখানে বাজেট নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা। প-িতেরা, তথা অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার,

যৌক্তিক দাবি সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর

দেশে চাকরির বাজার কত প্রকট বা দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কত তা নিরূপণ করতে গবেষণার প্রয়োজন নেই। সরকারি চাকরি বা বিসিএস ক্যাডারে আবেদনকারীর সংখ্যা দেখলেই

সংবর্ধনার জবাবে কবি মিনার মনসুর বঙ্গবন্ধু শব্দটি যখন নিষিদ্ধ ছিল তখনই আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছি

রুহু রুহেল সময়ের সাহসী উচ্চারণ খুব কম সংখ্যক মানুষই করতে পারেন। প্রতিবাদী মানসিকতা সবার থাকে না; থাকলেও সেখানে  সংখ্যা স্বল্পই। এই স্বল্পসংখ্যক মানুষের মাঝে  সৌম্যদীপ্র