এখন সময়:রাত ৪:৫০- আজ: বৃহস্পতিবার-১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:রাত ৪:৫০- আজ: বৃহস্পতিবার
১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

একজন মায়াবতী

শারমিন আফরোজ :

ইচ্ছে ছিলো খুব গুছিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করবো আমার লেখনিতে।লেখা কি এতো সহজ? লিখতে হলে জানতে হয়।ঘটনার পর ঘটনা সাজিয়ে হয় না লেখা। তবে কি হবে না আমার ইচ্ছে পূরণ। কেউ জানবে না আমার কথা?

এরপর অনেক কিছুই হয়তো লেখা ছিলো কাগজে।  লেখাগুলো খুব যতœ  করে কেটে দিয়েছে লেখক নিজেই।

আমি যখন তাকে আবিষ্কার করি তখন তিনি নিজের নাম বলতে পারেন না অথবা বলেন না।ধবধবে চাদর বিছানা বিছানায় জানালার গ্রীল  ধরে বসে থাকা এক ৫৫বছরের নারী। ছোট্ট ঘরটাতে একটা  টেবিল একটা চেয়ার টেবিলের ওপর কিছু কাগজ কলম আর একটা পানির বোতল। ও আচ্ছা একটা ছোটো পুরাতন আলমারি ও দেখেছিলাম। পরনে পরিষ্কার শাডিড়,দীঘল চুল ,কোটরে যাওয়া মায়াময়  চোখ, টিকালো নাকের  এক শ্যামলা নারী। অথচ পুরো মুখজুড়ে কোথায়  যেনো একটা মায়া লুকিয়ে আছে।তাই আমি তার নাম দিলাম মায়াবতী।

এটা একটা এসাইলাম।এসাইলামের কর্ণধার সুশান্ত। তার কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম  আমার  দেখা মায়াবতী কথা।তিনি জানালেন এই বছর কয়েক হলো শরীফ নামের এক ভদ্রলোক তাকে এখানে দিয়ে গিয়েছেন। চিকিৎসার টাকা পয়সা তিনিই পাঠান। তবে দিয়ে যাবার পর হতে আর কখনো দেখতে আসেননি। তাই  তার বিষয়ে তেমন কিছুই জানা সম্ভব হয়নি। প্রতি মাসের টাকার সাথে আসে ২টা বিছানার চাদর আর২টা সুখি শাড়ি কিছু কাগজ আর কলম।মহিলার খবর নিতে আর কেউ কখনো আসেনি। কোনো বিরক্ত করে না, তেমন কারো সাথে কথা বলে না। কি সব লেখে ছিড়ে  তবে খুব গোছানো। দেখে বোঝার উপায় নাই তার মাথায় সমস্যা।

আমি অবাক হই। জানতে চাই  তাহলে চিকিৎসা চলছে কি ভাবে? সুশান্ত হেসে বলেন তিনি নিজেই চান না ভালো হতে। অন্য কোথাও যেতে। আমি হতবাক হই। আগ্রহ বারে। আমার এখানে কাজ শেষ  হতে দুদিন  লাগবে। সুশান্ত বাবাকে বলে মহিলাকে সব সময় দেখা যায় এমন একটা ঘরে নিজের

 

থাকার ব্যবস্থা করি।উদ্দেশ্য মায়াবতীকে বুঝার চেষ্টা করা।

পুরো একদিন পার করে ফেললাম। কাজের ফাঁকে ফাঁকে খেয়াল করছি ,কিন্ত নতুন কিছুই পেলাম না।ঐ জানালার গ্রিল ধরে বসে থাকা আর কাগজের ওপর কলমের আচর  কাটা ছারা তেমন কিছুই চোখে পড়লো না।

দ্বিতীয় দিন  সেই একই অবস্থা কোনো নতুন কিছুই চোখে পড়লো না। শেষ বিকেলে হঠাৎই দেখি জলভরা চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে মহিলা। তবে কি এখনো তার মাঝে খেলা করে মায়া?

ঢাকায় ফিরে নানা কাজের ফাঁকে বারবার মনের কোনায় মায়াময় একটা মুখ উঁকি দিচ্ছিলো। তাই  শত কাজের ফাঁকে শরিফ সাহেবের নাম্বারে ডায়াল করলাম। কোনো সারা পেলাম না ওপারের। বাসায় এসে মায়ের পুরানো অ্যালবাম খুলে বসলাম। এইতো আমি ঠিকই ধরেছিলেন ঐ মহিলা আমার মার বান্ধবী বা আতœীয়। অনেক ছবি আমার মায়ের সাথে।আবার কল দিলাম শরিফ সাহেবকে।ওপার হতে বয়স্ক  এক ভদ্রলোক রিসিভ করলেন। আমি আমার পরিচয় দিলাম। কাশতে কাশতে ভদ্রলোক বললেন  আমিতো আপনাকে চিনতে পারলাম না। আমি বললাম আপনি আমাকে চিনেন না। আমি বান্দরবানের এসাইলাম থেকে আপনার নাম্বারটা পেয়েছি। আপনি কি দয়া করে ওনার সম্পর্কে বলবেন?ভদ্রলোক ভীষণ রেখে গেলেন বললেন ভবিষ্যতে আমাকে বিরক্ত  করবেন না,আমি কাউকে চিনি না।আমি বোঝানোর চেষ্টা করতেই ওপাশ থেকে লাইনটা কেটে দিলেন।

আমার আর জানা হলো না কিছুই। তারপর কেটে গেছে অনেক দিন, মাস আমার আর খোঁজ নেওয়া হয়নি মায়াবতী জীবন হয়তো এমনই। আমরা হারিয়ে ফেলি কতো মায়াবতীদের। অজানা থেকে যায় মায়াবতীরা, রেখে যায় অমীমাংসিত এক গল্প।

 

শারমিন আফরোজ, কবি ও গল্পকার

বিশ্ব নারী দিবসের পুনর্পাঠ : বহুমাত্রিক নারীর নতুন ভাষ্য

শাহেদ কায়েস   নারীর ইতিহাস কোনো একরৈখিক অগ্রযাত্রা নয়—তা বহু পথে বয়ে চলা নদীর মতো, যেখানে সংগ্রাম, প্রেম, প্রতিরোধ, রাজনীতি, শ্রম, মাতৃত্ব, শিল্প, দর্শন ও

আন্দরকিল্লার ইফতার অনুষ্ঠানে সুধীজনদের অভিমত বাঙালি জাতিসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার চিহ্নটিই অনির্বাণ অস্তিত্বের প্রতীক

আন্দরকিল্লা ডেক্স : শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সমাজভাবনামূলক কাগজ ‘আন্দরকিল্লা’র ইফতার আয়োজনে সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আন্দরকিল্লা কোনো বলয়বদ্ধ সীমানায়

প্রথা ভেঙে বেরিয়ে এসো নারী  

গৌতম কুমার রায় বিংশ শতাব্দী বিদায় হওয়ার পরে এসেছে একবিংশ শতাব্দী। বিজ্ঞান এগিয়েছে। সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে পুরুষ। কিন্তু নারী ! শুধু পিছিয়েছে নারী। কেন

আদিবাসী নারী

কুমার প্রীতীশ বল   ‘হৈ হৈ হৈ জুমত  যেবং. জুমে যেইনে গচ্ছা সুদা তুলিবং. গচ্ছা সুদা তুলি নেই টেঙ্গা কামেবং।’ চাকমা এই গানটির বাংলা অনুবাদ

মহাশ্বেতা দেবী: দর্শন, সাহিত্য ও সমাজচেতনার প্রতিফলন

রওশন রুবী   মহাশ্বেতা দেবী উপমহাদেশের একজন শক্তিমান ও প্রখ্যাত লেখক। তাঁর শতবর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাহিত্য শব্দের সীমা অতিক্রম করে মানবতার গভীর নৈতিক শক্তিতে