এখন সময়:রাত ১:১১- আজ: বৃহস্পতিবার-১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:রাত ১:১১- আজ: বৃহস্পতিবার
১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবদের সন্ধানে

ড. ইলু ইলিয়াস :

১৫ আগস্ট ১৯৭৫, বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ দিন। এদিন পরিবার-পরিজনদের বহু সদস্যসহ চরম নির্মমতায়, নৃশংসভাবে ঘাতকের বুলেট বিদ্ধ হয়ে নিহত হন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালির জাতি রাষ্ট্রের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকরা আত্মগোপনে যায়নি, রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্রে আত্মঘোষণায় অমিত গৌরবে অধিকতর উজ্জীবিত হয়ে উঠে। হত্যাকা-ের ৪২দিন পর ২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে অবৈধ রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ খুনিদের বিরুদ্ধে যেন কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না যায় সে ব্যাপারে জারি করেন ইনডেমনিটি (অব্যাহতি) অধ্যাদেশ। আর ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে জেনারেল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধান- শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙালির চব্বিশ বছরের সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান সংশোধন করে তা পরিণত করেন আইনে; খুনিরা পায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, সম্মানিত হয় নানাবিধ মহার্ঘ পুরষ্কারে; নিষিদ্ধ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর নাম, জয় বাংলা শ্লোগান, নিথর নিশ্চল হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ নির্বাসিত হয়ে নির্মিত হয় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।
এভাবে একুশটি বছর অতিবাহনের পর গভীর গভীরতর অন্ধকারে ডুবে যাওয়া বাঙালির ভাগ্যাকাশের ধ্রুবতারা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে সরকার গঠনের পর জিয়াউর রহমান সরকারের ঐ ‘ইনডেমনিটি আইন’ বাতিল করে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় শুরু করেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারকি কর্মকা- এবং তা সম্পন্ন হতে অতিবাহিত হয় এক যুগেরও অধিক সময়-প্রায় চৌদ্দ বছর। শেষ অবধি আদালতের রায়ে বারো জনের ফাঁসির আদেশ হয়; ইতোমধ্যে ছয় জনের ফাঁসি কার্যকর হয়, একজন পলাতক অবস্থায় মারা যায়। অবশিষ্ট পাঁচ জন বিদেশে মার্কিনী ও অন্যান্য পরাশক্তি আশীর্বাদ এখনো বেঁচে আছে।
বস্তুত এসব বিচারকি কর্মকান্ড ফাঁসির আদেশ ও ফাঁসি কার্যকরণ ও এসব তো প্রকাশ্য খুনি অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী প্রত্যক্ষ অপরাধীদের। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পটভূমি কিংবা পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরী পরিকল্পনাকারী ও সহযোগী এমন কি উদ্দীপনাব্যাঞ্জক সমর্থনকারীরা তথা নেপথ্য কুশীলবরাই তো প্রকৃত অর্থে প্রধান অপরাধী। এদের সনাক্তকরণ ও এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কোন কর্ম প্রক্রিয়া কি আদৌও শুরু হয়েছে? প্রশ্নটি এ কারণেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ যে, বঙ্গবন্ধু হত্যকা-ের নেপথ্য কুশীলবদের সনাক্তকরণ ও এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়ে এসব অপরাধীদের নির্মূল ব্যতিরেকে এদেশের- মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, এমন কি স্বাধীনতাকেও ঝুঁকিমুক্ত রাখা বলা যায় অসম্ভব।
বাঙালির মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে চব্বিশ বছরের অবিরাম সংগ্রাম ও নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি অর্জন করে নেয় তার সহস্র বছরের লালিত স্বপ্ন স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ। বাঙালির স্বপ্নস্নাত এ সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুকে মোকাবেলা করতে হয়েছে নানা সংঘাতমুখর বহু বন্ধুর পরিস্থিতি- ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট গঠন প্রক্রিয়া থেকে ৭০-এর নির্বাচন সর্বত্রই এবং সর্বক্ষেত্রেই অজেয় থেকেছে তাঁর নেতৃত্ব। এভাবে শেখ মুজিব হয়ে উঠে বাঙালির আত্মসত্তার অন্য নাম। বস্তুত তারই পরিণতি বাঙালির স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের অনতিকালের মধ্যেই একদিকে বঙ্গবন্ধুর অপরাজেয় নেতৃত্বের প্রাণঘাতী প্রতিরোধ ও বাঙালির জাতিরাষ্ট্রকে বিপর্যস্থ করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে তৎপর হয়ে উঠে সুদীর্ঘকালের সংগ্রামে পরাজিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বলা ভালো শত্রুপক্ষ, অন্যদিকে নেতৃত্বের অন্ধ মোহে উন্মাতাল হয়ে হয়ে উঠে বঙ্গবন্ধুরই ¯েœহাশীষর্বাদপুষ্ট কতিপয় ধীমান রাজনৈতিক। কিন্তু তারা অচিরেই মোহের কাছে পরাজিত হয়ে তথা আদর্শচ্যুত হয়ে আত্মঘাতী হয়ে উঠে এবং শেষ অবধি তাদের অনেকে সম্পৃক্ত হয়ে যায় স্বাধীনতা বিরোধী শিবিরে। এ প্রসঙ্গে আলোচনার শুরুতে অবধারিতভাবেই উঠে আসে তিন কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- দুই সিরাজ ও এক ভাসানী এবং সেই সূত্রে আরও কতিপয় প-িতপ্রবর গণ্যমান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
দুই সিরাজের একজন হলেন, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন সিরাজুল আলম খান। ষাটের দশকে সিরাজুল আলম খান ছিলেন ছাত্রলীগের একজন শীর্ষ নেতা, বঙ্গবন্ধুর ¯েœহসিক্ত ও বিশ্বস্ত অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক কর্মী। ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এক সংগঠকও। কিন্তু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে এই রাজনৈতিক কর্মীর এক বিস্ময়কর (!) তাত্ত্বিক নেতা বনে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই হয়তো তেমন গুরুত্ব পায়নি বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের মহান নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে। ফলে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অনতিপরেই বঙ্গবন্ধুর কাছে সুপারিশকৃত যুদ্ধোত্তর স্বাধীন বাংলাদেশ পরিচালননীতি সম্পর্কিত তাঁর ১৫ দফা প্রস্তাবনা প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না পাওয়ায় প্রবলভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তিনি এবং সেই ক্ষোভ এতটাই দুর্দমনীয় হয়ে উঠে যে, অচিরেই প্রকাশ্য সমাবেশের মাধ্যমে অস্বীকার করে বসেন বাঙলি জাতির মুক্তি সংগ্রামে, মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বও। অগ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত করেন সংবিধানের চার মূলনীতির তিনটি- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা; ঘোষণা দেন বিপ্লবী সরকার গঠনের। এভাবে বঙ্গবন্ধুর একজন রাজনৈতিক কর্মী নিজকে যুদ্ধোত্তর স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুরই একজন শক্তিমান প্রতিদ্বন্দ্বী নেতারূপে ভাবিত হয়ে, অথচ নিজকে আড়াল করে কতিপয় উগ্র অনুসারীদের বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত করে, বঙ্গবন্ধু সরকার উৎখাতের অঙ্গীকারে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৩১শে অক্টোবর জলিল-রবের নেতৃত্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সংক্ষেপে জাসদ নামক এক নৈরাজ্যিক দল সৃষ্টির মধ্য দিয়ে কার্যত একদিকে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি পাকিস্তানী মৌলবাদী গোষ্ঠীকে পুনরুজ্জীবনে উৎসাহিত করে তোলে, তেমনি স্বাধীনতার আরেক পরাজিত শক্তি চীনপন্থী বহুধা বিভক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে করে তোলে আরও বেপরোয়া শক্তিসঞ্চারী।

বঙ্গবন্ধু সরকার উৎখাতের ঘোষণা দিয়ে গঠিত এই দলটি ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মার্চ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং জনভিত্তিহীনতার কারণে সকল আসনে যথারীতি পরাজিত হয়। অত:পর সরকার উৎখাতের অভিপ্রায়ে শুরু করে দেয় সশস্ত্র সংগঠন ‘গণবাহিনী’ গঠনের কার্যক্রমÑক্রমে গ্রামে, জেলায়, শিল্প এলাকায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং সেনানিবাসে সংগোপনে গড়ে তোলে ‘বঙ্গবন্ধু-সরকার’ উৎখাতের সামরিক সংগঠন বিপ্লবী গণবাহিনী। আগস্ট ট্র্যাজেডিতে এই গণবাহিনীর নেতৃবৃন্দের ভূমিকা গভীর গভীরতর তদন্তের দাবি রাখে। এখানে প্রসঙ্গত আরও একটি ব্যাপার স্মর্তব্য যে, বঙ্গবন্ধুর অতি আস্থাভাজন হয়েও সিরাজুল আলম খানের সেই ষাটের দশক থেকেই অন্যতম মুরব্বী ছিলেন কামরুদ্দীন আহমদÑহয়তো তা বঙ্গবন্ধুর অজান্তে, আর সিরাজুল আলম খান কিংবা জাসদ সংবিধানের যে তিন মূলনীতি অস্বীকার করেছিলেন তার দুই মূলনীতি বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে উত্তরকালে জিয়াউর রহমান সরকারের সময়ে সংবিধান থেকে অপসারণের মূল কারিগর ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। এই কামরুদ্দীন আহমদ ও আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন সেই ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট গঠন থেকে আমৃত্যু রাজনৈতিক ক্ষমতা ও আদর্শ উভয় ক্ষেত্রে শেখ মুজিবের চরম প্রতিপক্ষ, আরও সঠিকভাবে বলা হয় যদি বলি শত্রুপক্ষ। কাজেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এদের পারস্পরিক এই রাজনৈতিক আদর্শ ও অন্য ক্রিয়াকর্মের সংযোগের কিংবা সমিলের ব্যাপারটি অনুসন্ধানের আওতায় আনা অতি আবশ্যিক মনে করি।
দুই সিরাজের আর একজন সিরাজ সিকদার- ষাটের দশকে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীÑছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। শেখ মুজিবের আহ্বানে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ শে এপ্রিল বরিশালে গঠন করেন পূর্ব বাংলা সশস্ত্র দেশ প্রেমিক বাহিনী। ৩রা জুন এর নতুন নামকরণ করেন পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি। সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে এই সর্বহারা পার্টি পাকিস্তানী বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও মুক্তি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে পরিচালনা করে অন্য এক যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর স্বাধীন বাংলাদেশকে সিরাজ সিকদার মনে করেন ভারতীয় উপনিবেশ। অতএব অব্যাহত থাকে তার কাক্সিক্ষত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার সংগ্রাম। এই সংগ্রামে ১৬ই ডিসেম্বরকে ঘোষণা করে কালো দিবস। উল্লেখ্য যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পূর্বেই সিরাজ সিকদারের মৃত্যু ঘটলেও সর্বহারা পার্টির কার্যক্রম কিন্তু অব্যাহত ছিল। স্মর্তব্য যে ১৬ ডিসেম্বরকে কালো দিবস ঘোষণা করে সিরাজ সিকদার ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে এই দিনে দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করলে মহান মাওলানা ভাসানী বিবৃতি দিয়ে তা সমর্থন করেন আর রাষ্ট্র, স্বাধীনতা ও সরকার বিরোধী এসব কর্মকা-ে সিরাজ সিকদারের একটা গোপন আশ্রয়স্থল ছিল ভাসানী-অনুসারী জাফরুল্লাহ চৌধুরীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। উপরন্তু মওলানা ভাসানীর অনুসারী বহুধা বিভক্ত যে বামপন্থী গ্রুপ সমূহ ‘দুই কুকুরের লড়াই’ অভিহিত করে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়ে শ্রেণি শত্রু খতমের নামে আওয়ামী লীগার ও মুক্তিযোদ্ধা হত্যার পৈচাশিক উল্লাসে মেতে উঠেছিল যুদ্ধকালীন সময়ে, যুদ্ধোত্তর স্বাধীন বাংলাদেশকে ‘ভারতীয় উপনিবেশ’ আখ্যা দিয়ে চৌ এন লাই-এর অনুসরণে স্বাধীন বাংলাদেশে তারা ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ নামে যে গোপন হত্যাকাণ্ড চালায়, সে ব্যাপারে ভাসানীর নির্বিকারত্ব নিয়েও তো স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন থাকে। তবে এসব তো অন্যদের কাজে তাঁর সহযোগ মাত্র। এবার আসা যাক মাওলানার মূল কর্মকাণ্ডে।
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২৫শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করেন ‘সাপ্তাহিক হক-কথা’ এবং হক কথার সম্পাদক পদে নিয়োগ করেন একজন কোলেবরেটর সৈয়দ ইরফানুল বারীকে। শুরু করেন ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির বিরোধিতা, সেই সাথে প্রচারণা চলে ‘বৃহৎ বঙ্গ’ প্রতিষ্ঠার, বলেনÑ “আসাম আমার পশ্চিমবঙ্গ আমার, ত্রিপুরাও আমার। এগুলো ভারতের কবল থেকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মানচিত্র পূর্ণতা পাবে না।” ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ শে ডিসেম্বর গড়ে তোলেন বঙ্গবন্ধু সরকার বিরোধী রাজনৈতিক জোট- ঘোষণা দেন সংবিধানে গৃহীত চার মূলনীতি তিনি মানেন না, চান মুসলিম জাতীয়তাবাদ, ইসলামী সমাজতন্ত্র, সংবিধান রচিত হবে কোরান হাদিসের ভিত্তিতে। এবং তা বাস্তবায়ন অভিপ্রায়ে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই এপ্রিল গঠন করেন হুকমতে রব্বানী পার্টি।
এসব ঘটনা কি বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন বাংলাদেশের সাংবিধানিক মূলনীতির অনুকূল না প্রতিকূল? এসব ঘটনাই কি তৈরি করেনি ১৫ই আগস্ট ট্র্যাজেডির পটভূমি, পরিবেশ-পরিস্থিতি? মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ও আদর্শের সঙ্গে কি এসবের কোন অমিল আছে? সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার কি এই নয় যে, মহান ভাসানী তাঁর প্রিয় ‘মজিবর’ হত্যাকা-ের প্রতিবাদ তো দূরে থাক, ন্যূনতম সৌজন্য প্রকাশ, অন্তত লোক দেখানো দুঃখ প্রকাশও করলেন না। উপরন্তু মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও স্বাধীনতার স্বপ্ন বিনাশক জেনারেল জিয়ার বিএনপিকে উপহার দিয়ে গেলেন তাঁরই পার্টির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ, সেই সাথে বস্তুত পার্টি এবং খোন্দকার মোশতাকের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে তারাই ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে জেনারেল রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে সংবিধান সংশোধন করে রূপ দেন ইনডেমনিটি আইনে।
বস্তুত জাতির জনকের হত্যাকা-ের নেপথ্য কুশীলবদের সন্ধানে ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট গঠন প্রক্রিয়া থেকে এ যাবৎ সংঘটিত এরকম ঘটনা সমূহের বিবরণ, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ অতীব জরুরী। জরুরী বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপীল শুনানিতে নয় নয়টি বিচারকি বেঞ্চের বিব্রতবোধ করার আলামত সমূহের অনুসন্ধান ও সম্যক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং এসবের সঙ্গে বিদেশী শত্রু বলয়ের সম্পর্ক সূত্র পল্টন ময়দানে ভাসানীর বাংলাদেশে ‘নতুন পতাকা উড়ানোর’ ঘোষণা, ভাসানীকে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ এবং ‘মুসলিম বাংলা’ প্রতিষ্ঠার সহযোগিতা কামনা; জামাতে ইসলামী, পিডিপি, নেজামে ইসলাম ও মুসলিম লীগকে আড়াল রেখে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই এপ্রিল ভাসানীর হুকুমতে রব্বানী পার্টি গঠনের পর ২৪শে জুন ভুট্টোর ও ৩১শে অক্টোবর হেনরি কিসিঞ্জারের ঢাকায় আগমন এবং করাচীতে ভুট্টোর দম্ভোক্তি ‘বাংলাদেশে অচিরেই পরিবর্তন ঘটবে- এসবেরও সম্পর্ক সূত্র সন্ধানও অতীব জরুরী। এসব কার্য সম্পাদন- বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবদের যথাযথ অনুসন্ধান সনাক্তকরণ ও সনাক্তকৃতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যতিরেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের যথাযথ বিকাশ অলীক স্বপ্নই রয়ে যাবে। অর্থাৎ নিত্য ঝুঁকিতে থাকবে মুক্তিযুেেদ্ধর চেতনা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা। অতএব, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবদের সন্ধানে আর অধিক সময় ক্ষেপণ না করে কমিশন গঠনসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দ্রুত উদ্যোগ বাঞ্ছনীয়।

 

ড. ইলু ইলিয়াস, গবেষক ও প্রাবন্ধিক

বাজেটের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির বাজেট

আলম খোরশেদ আর কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হবে। আর অমনি শুরু হয়ে যাবে সবখানে বাজেট নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা। প-িতেরা, তথা অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার,

যৌক্তিক দাবি সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর

দেশে চাকরির বাজার কত প্রকট বা দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কত তা নিরূপণ করতে গবেষণার প্রয়োজন নেই। সরকারি চাকরি বা বিসিএস ক্যাডারে আবেদনকারীর সংখ্যা দেখলেই

সংবর্ধনার জবাবে কবি মিনার মনসুর বঙ্গবন্ধু শব্দটি যখন নিষিদ্ধ ছিল তখনই আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছি

রুহু রুহেল সময়ের সাহসী উচ্চারণ খুব কম সংখ্যক মানুষই করতে পারেন। প্রতিবাদী মানসিকতা সবার থাকে না; থাকলেও সেখানে  সংখ্যা স্বল্পই। এই স্বল্পসংখ্যক মানুষের মাঝে  সৌম্যদীপ্র