এখন সময়:সকাল ৬:১৫- আজ: রবিবার-২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:সকাল ৬:১৫- আজ: রবিবার
২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব ও কবিতা বাংলার কবিতাভ্রমণ আয়োজন- চট্টগ্রাম পর্ব 

রুহু রুহেল

 

শান্তির পৃথিবী চাই

সর্ব মানবিক স্বদেশ চাই

– মানবিক সৌন্দর্যের জন্য কবিতা

 

We want a World of Peace

A Home of All Human Bliss

Poetry for Human Beauty

 

এ সুন্দর স্লোগানকে প্রতিপাদ্য রেখে দ্বাবিংশতিতম আন্তর্জাতিক লেখক দিবসকে ঘিরে কবিতাবাংলা কবিতাভ্রমণ ২০২৪ আয়োজনে ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর, ঢাকা শিল্পকলায় পরিসমাপন ঘটে ছিয়ানব্বই ঘণ্টার অবিশ্রান্ত চলার মধ্য দিয়ে। বলতে পারি এ ছিল তাপদাহ উপেক্ষা করে কবিতার মধুর জয়, কবি ও কবিতার অনতিদীর্ঘ অক্লান্ত ভ্রমণ। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হল গত ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ মে চার দিন ব্যাপী কবিদের সম্মিলন, কবিতাভ্রমণ। ঢাকা পাঠক সমাবেশ থেকে শুরু হয় এ পরিভ্রমণ। উদ্বোধন করেন জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি আসাদুল্লাহ, বিষয় ছিল- প্রসঙ্গ কবিতা : যুদ্ধ নয় শান্তি। প্রধান অতিথি ছিলেন কবি শ্যামসুন্দর সিকদার, আলোচক হিসেবে ছিলেন কবি আসাদ মান্নান ও কবি দোলা

 

 

বাজপেয়ী ঝাড়খ– ভারত, রাম গোপাল আশুতোষ- নেপাল, সঞ্চালনায় ছিলেন কবি ইউসুফ রেজা। উপস্থিত ছিলেন কবি রিশাদ হুদাসহ আরো অনেকে।

 

রাত পৌনে বারোটায় সম্ভবত চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ল। পৌঁছলেন চট্টগ্রাম ১৭ তারিখ ভোরবেলায়, অনুষ্ঠান স্থল আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম। বিকেল তিনটা থেকেই কবিদের অংশগ্রহণে মিলনায়তন আলোকিত হয়ে উঠে। সভাপতি কবি খুরশীদ আনোয়ার এর অনুমতিক্রমে শুরু করলাম কবিতা ভ্রমণের কবিতাপাঠআসর। প্রথমেই কবিতা পাঠ করলেন কবি হোসাইন কবির। প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের কবি অমরেন্দ্র চক্রবর্তী, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম, প্রাক্তন উপাচার্য কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমান ডিন মানববিদ্যা অনুষদ প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি।  বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন কবি শ্যামসুন্দর সিকদার প্রাক্তন সচিব ও চেয়ারম্যান বিটিআরসি। কবি দোলা বাজপেয়ী, ঝাড়খ– ভারত, কবি রামগোপাল আশুতোষ -নেপাল ও কবি বিপুল বড়–য়া।

কবিতার এ পরিভ্রমণে কবিতার প্রতি পরম ভালোবাসায় সম্পৃক্ত হয়েছেন ভারতের কবি অমরেন্দ্র চক্রবর্তী, কবি মৃণাল কান্তি ঘোষ, কবি সাদিক, কবি মহিবুর রহমান, কবি শ্যামল জানা, কবি দোলা বাজপেয়ী, কবি ড. মেঘনাদ ঘোষাল। নেপাল থেকে সংযুক্ত হয়েছেন কবি প্রকাশ থামসুহাং, কবি চন্দ্র সিং গুরু, কবি রাম গোপাল আশুতোষ, কবি অভয়া শ্রেষ্ঠা।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে যুক্ত ছিলেন কবি রূপক বরন বড়ুয়া, কবি আশীষ সেন, কবি রহীম শাহ, কবি ইউসুফ রেজা, ডা. কল্যাণ বড়–য়া, ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, কবি ভাগ্যধন বড়ুয়া, কবি অপু বড়–য়া, কবি ও সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার, প্রকাশক জামাল উদ্দিন, (মুক্তিযুদ্ধ গবেষক), প্রকাশক শাহ আলম নিপু, কবি প্রদীপ খাস্তগীর,  কবি তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী, কবি কাজী আনারকলি, কবি মারজিয়া খানম সিদ্দিকা, কবি স্বপন মাহমুদ, কবি কফিল উদ্দিন দুলাল, কবি জাহানারা মুন্নি, কবি মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, কবি ঝর্ণা তালুকদার, কবি আনোয়ারুল করিম,কবি আতিয়া চৌধুরী, কবি রিশাদ হুদা, কবি মালেক মাহমুদ,কবি নাহিদ সুলতানা, কবি  সঙ্গীতা স্বপন, কবি পারভীন আক্তার, কবি নিশাত আহমেদ,  কবি এম ফজলুল হক মনি, শিল্পী ফারহানা নীপা, শিল্পী রাজিয়া মুন্নি, কবি মুহাম্মদ আরিফুর রহমান, কবি কারিশমা পুষ্পিতা, কবি এম সামাদ মতিন, কবি জয়নুল আবেদীন জয়, কবি রনজিৎ মোদক, কবি জালাল খান ইউসুফী, কবি নাদিরা খানম,কবি ফরহাদ হোসেন খান, কবি লিয়াকত বখতিয়ার, কবি রাজলক্ষ্মী, কবি শেলী সেনগুপ্তা, কবি সেবপ্রিয় বড়ুয়া, কবি নির্বাণ পাল, কবি সঞ্জয় কুমার, কবি মুকুল চৌধুরী, কবি দুর্জয় পাল, কবি শুক্কুর চৌধুরী, কবি বিটন বড়ুয়া, কবি কাজী আনিসুল হক, কবি আবুল কালাম আজাদ, কবি শেখ মো. মিজানুর রহমান সজীব, কবি শাওন বড়–য়া, কবি মোহসিনা আক্তার সিথি, কবি খালেদ রাহী, কবি মোঃ শফিকুল ইসলাম আরজু, কবি মোঃ আলমগীর হোসেন, কবি মান্না আচার্য্য,সহ আরো অনেকে।

কবিতা পাঠের বিভিন্ন পর্যায়ে সভাপতি ছিলেন কবি আশীষ সেন, কবি শ্যামসুন্দর সিকদার, কবি খুরশীদ আনোয়ার।

১৮ মে ২০২৪ ছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এর টুরিস্ট বাস সহযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ। অত্যন্ত মজার এ ভ্রমণ প্রকৃতির বুকে এ যেন একটুকরো শ্যামলিমার বিশ্ব পাঠশালা তথা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন। ভীষণ আনন্দে উদ্বেলিত কবিদের এই ভ্রমণ ভীষণ মুগ্ধতাও ছড়ালো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাদেকা তামান্নার কবিতা পাঠ সবাইকে মোহিত করেছেন, এই মুগ্ধতা কবিতার প্রতি, এ সম্মোহন কবিতার প্রতি একান্ত ভালোবাসার।

বিকেলে ছিল পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ভ্রমণ ও বঙ্গবন্ধু টানেল পরিদর্শন। গোধূলি লগ্নের পূর্ব মুহূর্তে আমরা সকলে পৌঁছেছিলাম পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। সমুদ্রের কাছাকাছি এসেই জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা প্রথমেই বললেন বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব এর পক্ষ থেকে এই এই সমুদ্র সৈকতে কবিদের জন্য কবিতামঞ্চ হবে। নামকরণ সুপারিশ করেছেন কবি আলাওল চত্বর, কবি নবীনচন্দ্র সেন কবিতা সিঁড়ি, আর আমরা সকলেই বললাম কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা কবিতা মঞ্চও এতদসঙ্গে যুক্ত থাকবে। সমবেত সকল কবি সমস্বরে সমর্থন জানালেন। বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব চট্টগ্রামের সভাপতি কবি খুরশীদ আনোয়ার শীঘ্রই এ প্রস্তাব সমর্থন করে বাস্তবে রূপ দেয়ার পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এই সৈকত কবিতাচত্বরে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা কবিতার শপথ পাঠ করে শুনালেন। বিদেশাগত ও স্বদেশের কবিদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিলেন কবি খুরশীদ আনোয়ার। অতঃপর মালাই চা পর্ব শেষে সন্ধ্যায় কবিতা পাঠের আসর বেশ জমে উঠেছিল।  কবিতা পাঠ শেষে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্দর বঙ্গবন্ধু টানেল পরিদর্শনে গেলাম । এ পরিদর্শন বিষয়টি উৎসর্গ করা হলো প্রয়াত কবি বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের অন্তপ্রাণ কবি সোহাগ সিদ্দিকীকে।  যার স্মৃতি বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের প্রতিটি সদস্যকে করে ভীষণ তাড়িত, তাঁর মহাকালের জীবন শান্তিময় হোক। পুনরায় সমবেত হলেন সকলে আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চট্টগ্রামে। রাতের গহীন তারার সাথে মিশে গেল কবিতাবাংলা কবিতাভ্রমণ ২০২৪ এর চট্টগ্রাম পর্বের নান্দনিক আয়োজন। এ ধরনের বড় আয়োজনে সুসমন্বয়ের অভাব কিছুটা থেকেই যায়। আগামীতে বিচ্যুতিগুলো কাটিয়ে উঠে সুন্দর সমন্বয়ের অপেক্ষায় না হয় থাকলাম!!!

পরিশেষে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলি-

বিজ্ঞাপন দিয়ে সহযোগিতা করেছে – এনআরবি ফাউন্ডেশন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএল সি, এ বি আই প্যাকেজেস ও বাংলা একাডেমি। এছাড়াও ব্যক্তিগত সহযোগিতাও যারা করেছেন তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। কবিতাবাংলা কবিতাভ্রমণ ২০২৪ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন রহীম শাহ। সফল সুন্দর বাস্তবায়নের কারিগর যারা তাঁদের একটু স্মরণ করি। কবি ইউসুফ রেজা, মাহমুদুল হাসান, কবি কাজী আনিসুল হক, কবি জাহাঙ্গীর হোসেন, মিরাজ সিদ্দিকী, শফিকুল ইসলাম আরজু আরো অনেকে।

কবিতার এই পরিভ্রমণে চট্টগ্রাম পর্বে ক্লান্তিহীন পরিশ্রমে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন প্রাবন্ধিক লেখক অমল বড়–য়া বাচিক শিল্পী মাহমুদুল হাসান ,আমাদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব চট্টগ্রাম এর সভাপতি কবি খুরশীদ আনোয়ার, এবং বাংলাদেশের রাইটার্স ক্লাব ঢাকা এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক কবি শাহ মোহাম্মদ সানাউল হক (প্রাক্তন সচিব), কবি ডা. কল্যাণ বড়–য়া, কবি অপু বড়ুয়া, কবি খনরঞ্জন রায় ও কবি ভাগ্যধন বড়ুয়া।  সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলাম -রুহু রুহেল, ছিলেন কবি ইউসুফ রেজা। সমন্বয় সাধন করেছেন প্রাবন্ধিক অমল বড়–য়া ও মাহমুদুল হাসান। কৃতজ্ঞতা আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মনোয়ারা বেগম মহোদয়।

আমাদের চাওয়া অনুযায়ী শান্তির পৃথিবী রচিত হোক, সর্বমানবিক স্বপ্নস্বদেশ রূপান্তরিত হোক, মানবিক সৌন্দর্যের জন্য কবিতার বিশ্ব অনিন্দ্যরূপে অমর হোক। আন্তর্জাতিক লেখক দিবস ৩১ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়–ক। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা রচিত শান্তি সঙ্গীত দিয়ে এ লেখা শেষ করছি

 

শান্তিসঙ্গীত

মুহম্মদ নুরুল হুদা

 

শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি

আর নয় বিভেদের বিভীষিকা ভ্রান্তি

 

শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি

মানুষের দেহ মনে ঘুচে যাক ক্লান্তি

শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি

মানুষের বুকে মুখে আলোকের কান্তি

শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি

 

সময় সাগর তীরে সূর্যাস্তের বালুকাবেলায়

গেঁথেছি ফেনিল মালা তরঙ্গিতে প্রাণের মেলায়

আমাদের সব হাত উন্মীলিত  শান্তিপ্রার্থনায়

ডানার সোনালি রোদে নেই পথশ্রান্তি

শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি

 

ধ্বংস নয় সৃষ্টিধর্ম মানুষের মূল পরিচয়

মানুষকে ভালোবেসে মানবতা মাগে বরাভয়

ছায়ায় ছায়ায় যুদ্ধে নেই কোন জয়পরাজয়

যুদ্ধ আর হানাহানি দাও চির ক্ষান্তি;

মানুষ আলোক জাতি

মানুষের পরিচয়ে তমসার নেই বিভ্রান্তি

শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি দাও শান্তি

 

 

রুহু রুহেল, কবি ও অধ্যাপক

প্রাচীন বাংলার নাগরিক জীবনে শিল্প ও সৌকর্য

ড. আবু নোমান এখন প্রাচীন বাংলার যে স্থাপত্যগুলো পাওয়া সম্ভব সেগুলোকে প্রত্মতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ বললেও বলা যেতে পারে। স্থাপনা সমাজের সভ্যতার একটি অন্যতম নিদর্শন বা উপাদান।

বৈষম্যমূলক কোটা প্রথায় মেধাবীরা বঞ্চিত হবে (সম্পাদকীয়- জুলাই ২০২৪)

সরকারী চাকরীতে কোটা প্রথা কোন ভালো বা গ্রহণযোগ্য প্রথা হতে পারেনা। এতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়। প্রশাসনে মেধাবীর চেয়ে অমেধাবীর আধিক্য বেশী বলে রাষ্ট্রীয় কাজে

আহমদ ছফা বনাম হুমায়ূন আহমেদ

মাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ তখন আহমদ ছফার পিছন পিছন ঘুরতেন। লেখক হুমায়ূন আহমেদ-কে প্রতিষ্ঠার পিছনে যে আহমদ ছফার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, সে কথা