এখন সময়:রাত ১০:৩৯- আজ: রবিবার-১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ১০:৩৯- আজ: রবিবার
১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

ব্যাবিলনীয়  সভ্যতার  উত্থান ও পতনের  ইতিহাস

বাবুল সিদ্দিক :

সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে অ্যামেরাইট নামের এক জাতী বাস করত। এরা খ্রিস্টপূব ১৮৯৪ অব্দে মেসোপটেমিয়ায় এসে সুমের ও আক্কাদ  অঞ্চলের  মাঝামাঝি ব্যাবিলন নামক স্থানে একটি সভ্যতা গড়ে তোলেন। এটিই ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামে পরিচিত। ব্যাবিলনীয় সভ্যতার স্থপতি ও প্রথম রাজা ছিলেন বিখ্যাত অ্যামেরাইট নেতা সুমুয়ারাম।

সুমের ও আক্কাদ নামের এলাকা দুইটি ব্যাবিলনের অংশ ছিল। খ্রীস্টপূব ২৩ শতকে আক্কাদের রাজা সারগনের সময়কালের একটি কাদামাটির ফলকে ব্যাবিলনের নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।’ ব্যাবিলন ‘ শব্দটির অর্থ ‘ দেবতাদের নগরী ‘। তাইগ্রীস ও ইউফ্রেতিস নদী দুইটি যেখানে সবচেয়ে কাছাকাছি এসেছে সেখানেই গড়ে তোলা হয়েছে এ নগরী। নগরীর ঘরবাড়িগুলো রোদে শুকানো ইট দিয়ে তৈরী করা হয়েছিল।প্রতিটি নগরে নির্মাণ করা হয়েছিল জিগুরাট। বরিসিরাপ নগরের জিগুরাটটি ছিল সাত তলা বিশিষ্ট। ৬৫০ ফুট উচ্চ পিরামিডের মত জিগুরাটটিতে ছিল বিচার কক্ষ, স্কুল কক্ষ ও সমাধি।

ব্যাবিলন ছিল প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ নগরী । ১৭৭০ থেকে ৩২০ খ্রীস্টপূর্বব্দের সময়টিতে ব্যাবিলন ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহর। দুই লাখেরও বেশী জনসংখ্যার প্রথম নগরী ছিল ব্যাবিলন। খ্রীস্টপূর্ব ৫ম শতকের দিকে সুরক্ষিত ছিল বিশাল আকারের প্রাচীরের আড়ালে। পুরো নগরী বেস্টন করে ছিল ২ স্তরের প্রাচীর, যেন প্রথম প্রাচীরের পতন ঘটলেও দ্বিতীয়টি দিয়ে শত্রু ঠেকানো যায়। ঐতিহাসিকের মতে দেয়ালগুলি ছিলো ৯০ ফুট উঁচু ও ১০ মাইল লম্বা। দুই দেয়ালের মাঝখানে ছিল পরিখা যা শত্রু পক্ষের শহরের ভেতরে প্রবেশ করা রীতিমত অসম্ভব করে রেখেছিল। আরও ছিল ওয়াচ টাওয়ারগুলিতে সার্বক্ষনিক পাহাড়ার ব্যবস্থা। তাছাড়া ইউফ্রেতিস নদী শহরটির মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত ছিল। ফলে অবরূদ্ধ থাকা অবস্থাও তাদের পানির সরবরাহ নিয়ে চিন্তা করতে হতো না। ৫৩৯  খ্রীস্টপূর্বাব্দে পারস্যের রাজা ২য় সাইরাস, যিনি ‘সাইরাস দি গ্রেট ‘নামে বেশী পরিচিত, তিনি আক্রমণ করে বসেন ব্যাবিলন। কিন্তু ব্যাবিলনের সৈন্যরা সাইরাসের এ আক্রমণকে পাত্তাই দিল না। তারা তখন ফসল কাটার উৎসবে ব্যস্ত ছিল। শহরের নিরাপত্তা নিয়ে আত্মতুস্টিতে ভোগা ব্যাবিলনীয় সৈন্যদের কাছে সাইরাস যেনো ছিল একজন শিশু। কিন্তু চারিদিকে প্রাচীর ঘেরা শহরের ভেতরে বহমান ইউফ্রেতিস নদীর প্রবেশপথে গেট নির্মাণ করে রাখলেও এদিকে বাড়তি আর কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাখে নি তারা। সৈন্যরা কখনও কল্পনাও করে নি, পানির নিচে সেই গেট ভেঙ্গে কেউ তাদের শহরে আক্রমণ চালাবে। তাছাড়া পানির নিচে কেউ দীর্ঘ সময় ধরে দম আটকে রাখতে পারবে বলেও তারা মনে করে নি। আর তাদের সেই দূর্বল জায়গা দিয়েই আক্রমণ করল সাইরাস কাহিনি। নদীর আসেপাশে বিভিন্ন খাল ও জলাশয় খনন করে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করলেন সাইরাস। ফলে নদীর পানির স্থর নিচে নেমে গেল। তখনই দেখা মেললো গেটগুলোর। তারপর এক রাতে গোপনে তার সৈন্যরা সেখানে ফাঁকা জায়গা দিয়ে শহরে প্রবেশ করে এবং এর মুল ফটকটি খুলে দেয়। এরপর মৌমাছির ঝাকের মত শহরের মধ্যে ঢুকে পরে সাইরাসের বাহিনী। প্রকৃত অবস্থা বুঝতে বেবিলনীয় সৈন্যদের বেশ কিছুক্ষন সময় লেগে গিয়েছিল। যখন বুঝলো তখন বেশ দেরী হয়ে গেছে। তাছাড়া নাচ, গান ও মদের আড্ডায় ডুবে থাকা তারা সেভাবে প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারে নি। সাইরাসের সৈন্যদের হাতে কচুকাটা হতে হয়েছিল তাদের।

ব্যাবিলনের সমাজ : ব্যাবিলনীয় সমাজ তিন শ্রেনীতে বিভক্ত ছিল। উঁচু শ্রেনীতে ছিল রাজা,পন্ডিত, পুরোহিত ও সৈন্য। এদের নিজস্ব জমি ছিল। শিল্পী ও ব্যবসায়ীরা ছিল মধ্যম শ্রেনী। আর নিম্ন শ্রেনীতে ছিল কৃষক, সাধারন শ্রমিক আর দাসরা। ব্যাবিলনীয় সমাজে যুদ্ধবন্দীদের দাস করা হতো।

ব্যাবিলনীয় সভ্যতার রাজা হম্বুরাব্বি একটি উল্লেখযোগ্য নাম। তিনি ছিলেন ব্যাবিলনের ৬ষ্ঠ রাজা। তিনি খ্রীস্টপূর্ব ১৭৯২ অব্দে ব্যাবিলনের রাজা হন। তিনি খন্ড-বিখন্ড নগর রাস্টগুলোকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তার শাসনামলকে ব্যাবিলনের ইতিহাসে স্বর্নযুগ বলা হয়। বেবিলনের সর্বাধিপতি ও সুখ্যাত এ রাজা ১৭৫০ খ্রীস্টাপূবে  মৃত্যু বরন করেন। ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান বা ঝুলন্ত বাগান (ঐধহমরহম মধৎফবহ ড়ভ ইধনুষড়হ) –:  ইরাকের ইউফ্রেতিস নদীর তীরে খ্রীস্টপূবে ৬০০ অব্দে নির্মিত হয় এটি। সম্রাট নেবুচাডনেজার সম্রাজ্ঞীর প্রেরনায় এটি নির্মান করেন। প্রথমে নির্মান করা হয় বিশাল এক ভিত, যার আয়তন ছিল ৮০০ বর্গফুট। ভিতটিতে স্থাপন করা হয় তৎকালীন সম্রাটের খাস উপাসনালয়ের সুবিস্তৃত ছাদ। ভিত্তি স্থাপনের পর মাটি থেকে এর উচ্চতা দাঁড়ায় ৮০ ফুট। এই ভিত্তির উপর নির্মিত হয়েছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং বিস্ময়কর পুস্পবাগান। ৪০০০ হাজার শ্রমিক  রাতদিন পরিশ্রম করে তৈরী করেছিল এই বাগান। বাগানের পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত ছিল ১০৫০ জন মালী। ৫০০০/৬০০০ হাজার ফুলের চারা রোপন করা হয়েছিল এই ঝুলন্ত বাগানে। ৮০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত বাগানের সুউচ্চ ধাপগুলোতে নদী থেকে পানি তোলা হতো মোটা প্যাঁচানো নলের সাহায্য। ৫৩৯ খ্রিস্টপূর্বে পারস্য রাজা দ্বিতীয় সাইরাসের আক্রমণে শহরটি সম্পূর্ন ধংসপ্রাপ্ত হয়। তাদের উপাসনালয় ও রাজপ্রসাদ পুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এ সময় থেকেই ব্যাবিলন সামরাজ্য ম্লান হতে থাকে। পরবর্তীকালে নেবোনিডাস স¤্রাট হয়। তবে ব্যাবিলনের জৌলুস, সমৃদ্ধি আর ফিরে আসেনি। ব্যাবিলন এখন ধংসস্তুপ।

বাবুল সিদ্দিক, নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখক

চট্টগ্রামী প্রবাদের প্রথম গ্রন্থ : রচয়িতা জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন

মহীবুল আজিজ জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন (১৮৫২-১৯২০), সংক্ষেপে জে ডি এন্ডার্সন আজ থেকে একশ’ সাতাশ বছর আগে চট্টগ্রামী প্রবাদের সর্বপ্রাথমিক গ্রন্থটি রচনা-সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছিলেন। চট্টগ্রামী

দেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই (সম্পাদকীয়- জুন ২০২৪ সংখ্যা)

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্প্রতি আমাদের দেশসহ উপমহাদেশে যে তাপদাহ শুরু হয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় বৃক্ষরোপণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই