এখন সময়:রাত ৮:৩৬- আজ: রবিবার-১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ৮:৩৬- আজ: রবিবার
১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

হকার

একরামুল হক মানিক:

রাজুর মার শরীরটা খুব ভাল যাচ্ছেনা। বিছানায় কাতরাচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরে। কদমতলা বাজার থেকে করিম চাচার কাছ থেকে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাইয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা। যদিও করিম চাচা তার কাছ থেকে একটি পয়সাও নেন না। রাজু মার দিকে অসহায়ের মত তাকিয়ে আছে। মার জন্য কি করবে বুঝে উঠতে  পারছেনা। রাজুর বয়স মাত্র বারো। ৫ বছরের ছোট্ট বোন ময়না, মা আর রাজু মিলে পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিন। বাবা অন্যত্র বিয়ে করেছে তিন বছর হল। এরপর একটি বারের জন্যও তাদের আর খবর নেয় নাই। রাজুর বাবা যখন তাদের  ছেড়ে চলে যায় তখন রাজুর বয়স নয় আর ময়নার ২ বছর মাত্র।

এর পর থেকে শুরু হয় তাদের কঠিন যুদ্ধ। বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম। মা বাসা বাড়িতে কাজ করে মাসে যা আয় করতো তাতে খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে সংসার চলতো। আছে বাসা ভাড়া। রাজুরা থাকে নালাপাড়ার ছিন্নমূল বস্তিতে। বেড়া দিয়ে তৈরি এক কামরার একটি বাসা। আর তাতেই রীতিমতো

হিমশিম খাওয়ার অবস্থা।  রাজুর মা তাকে একটি স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলো। তখন রাজুর বয়স ৬ বছর।  সেই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছিল সে। স্বপ্ন ছিল ছেলে জীবনে অনেক বড় কিছু করবে। পরিবারের হাল ধরবে। মাকে অনেক সুখে রাখবে।

এখন একমাত্র উপার্জনকারি মা অসুস্থ। এই অবস্থা দেখে রাজু যেন আর থাকতে পারলনা। বন্ধ হয়ে গেল স্কুলে যাওয়া। এই বয়সেই কঠিন সংগ্রামে নেমে পরল সে। যে বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে। সেই বয়সে কখনো ট্রেইনে, আবার কখনো চৌরাস্তার মোড়ে হকারের কাজ নিল রাজু। এখন তার হাতে থাকে একগুচ্ছ পত্রিকা। কাঠফাটা রোদে পথচারি কিংবা গাড়ির যাত্রীদের কাছে আকুতি, একটা পত্রিকা নেন স্যার। স্যার দিমু একখান পত্রিকা? অথবা আজকের তাজা খবর! আজকের তাজা খবর!! এইভাবে পথচারি আর যাত্রীদের আকর্ষণ করা। পত্রিকা বিক্রি করে যা পায় তা  মায়ের চিকিৎসার জন্য সে ব্যয় করে।

বর্তমানে রাজু এলাকার সবচেয়ে ভাল রশিদ ডাক্তারের কাছে মার চিকিৎসা করাতে লাগলো। মার ঔষধ কেনার পর যা টাকা থাকে তা দিয়ে ছোট বোন আর মার খাবারের ব্যবস্থা করে। নিজে প্রায়ই শুধু এক গ্লাস পানি খেয়েই রাতে ঘুমিয়ে পরে। সকালে দুর্বল শরীর নিয়ে উঠে আবার পত্রিকা বিক্রির কাজে নেমে পরে। বড়জোর মোড়ের টং এর দোকান থেকে একটা সিঙ্গারা খেয়ে সকালের নাস্তা সেরে ফেলে। দুপুরের খাবারে থাকে একটি কলা আর বান। কারণ তাকে টাকা বাচাতে হবে মার চিকিৎসার জন্য। যেকোনো ভাবেই হোক মাকে তার সুস্থ করা চাই। সপ্তাহে তিনদিন রাজু  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেনে করে যাওয়া আসা করে। ইউনিভার্সিটির ভাইয়া আপুরা তাকে খুব আদর করে। গানের গলা ভাল বলে তাকে গানও শুনাতে হয়। তাকে নিয়ে রেলের বগিতে রীতিমতো আসর জমে যায়। আর ভাইয়া আপুরা ট্রেনের কামরায় তাল আর তালি দেয়ায় তার উৎসাহও যেন অনেক গুন বেড়ে যায়। আসর জমে গেলে তার পত্রিকাও বিক্রি হয় ভাল। আর পাশাপাশি কিছু বকশিসও জুটে যায়। ট্রেনের ছুটে চলা রিদমের সাথে “আমার হার কালা করলামরে আরে আমার দেহ কালার লাইগারে”……গানটা যেন বেশ জমে উঠেছে ততক্ষণে। সবাই বেশ উপভোগ করতে লাগলো তার কণ্ঠে একের পর এক ফোক গান গুলো।

একদিন বাসায় ফেরার পথে রাজু সারা দিনে কত টাকা পেল হিসেব করছিল। কোম্পানিকে কত দিতে হবে। দেওয়ার পর হাতে কত থাকছে। এক কেজি চাল কেনার পর কিছু তরি-তরকারী যদি নেয়া যেত। তাছাড়া মার জন্য ঔষধ কেনা…ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে বাজারের দিকে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে দুজন মাস্তান রাজুর পথ অবরুধ করে দাঁড়ালো। দুইজনের বয়স হবে আনুমানিক ২৩/২৪ বছর। রাজু কি চাই জিজ্ঞেস করতেই, সে যেন টাকা যা আছে সব তাদেরকে দিয়ে দেয়। রাজু অনেক অনুরোধ করে বলছে “দেখেন আমার মা অনেক অসুস্থ । মার জন্য এই টাকা দিয়ে ওষুধ কিনতে হবে। তাছাড়া আমার ছোট বোন আছে। তারা দুইজনেই না খেয়ে আছে। আমি যদি কিছু কিনে নিয়ে যাই তাহলে ওরা খাবে। চুলায়ও আগুন ধরবে তখন। আমি অনেক কষ্ট করে টাকা রোজগার করি। বাসায় গিয়ে রান্নাটা আমাকেই করতে হয়। তোমরা আমাকে দয়া কর। ওরা আমার পথ চেয়ে বসে আছে।” তাদের মধ্যে যে একটু লম্বা তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফিট ৭ ইঞ্চি হবে। হাল্কা পাতলা গড়নের। অন্যজন বেঁটে। উচ্চতা বড়জোর ৫ ফিট ৪ ইঞ্চি হবে। দুইজনের গায়ের রঙই কালো। দুইজনের চোখই লালচে বর্ণ ধারণ করে আছে। নেশা যে করে তা দেখেই বুঝা যায়। সময় তখন দুপুর প্রায় দেড়টা। আশে পাশে মানুষজন ও দেখা যাচ্ছেনা। বেটে জন তার হাত শক্ত করে ধরে আছে আর অন্য জন কোমরে ছুরি দেখিয়ে বলছে, যদি চিৎকার করে তাহলে তাকে আস্ত রাখবেনা। সোজা উপরে পাঠিয়ে দেবে। রাজু অনেকটা অনুনয়ের স্বরে বলছে, আমাকে ছেড়ে দেন ভাই। আপনাদের দুইটা পায়ে ধরি। কিন্তু কে শুনে কার কথা! রাজু আপ্রাণ চেষ্টা করছে বেটে শয়তানটার হাত থেকে যদি ছুটতে পারে। তাহলে দৌড়ে পালাবে। কিন্তু কিছুতেই ছুটতে পারছেনা রাজু।  গায়ে যেন মহিষের শক্তি বেটে মাস্তানটার। দেখতেও অনেকটা মহিষের মত। বড়জোর ৫০-৬০ গজ সামনে দুইজন লোক কে দেখে রাজু চিৎকার করে উঠল। বাঁচা ও ও ও … !  কিন্তু ততক্ষনে যা হবার তাই হয়ে গেল। তার তল পেটে ছুরি বসিয়ে দিল লম্বা শয়তানটা। পকেটে ৩৫০ টাকা ছিল। সব নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল তারা।

আশে পাশের মানুষ ঘটনা কেন্দ্রে আসতে আসতে পালিয়ে গেল জানোয়ার গুলো।

পরদিন সকাল ৭ টায় ঘুম ভাঙল রাজুর। সব কিছু কেমন অচেনা লাগছে তার। পেটে কেমন জানি একটা ব্যথা অনুভব করছে। বুঝে উঠতে তার বেশ খানিক টা সময় লাগলো। চোখ মেলে ইউনিভার্সিটির প্রিয় মুখ গুলো দেখতে পেল। ভাইয়া- আপুরা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তারা তার জন্য কত কিছু যে এনেছে।

নিজকে বিশ্বাস করতে পারছেনা রাজু। কেউ আপেল, কেউ কমলা, সুপ, বার্গার কত কিছুই না তার জন্য এনেছে। এত কিছু আনার পরও একজন আপু তাকে জিজ্ঞেস করছে তার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে কিনা। এত ভালোবাসায় রাজু অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ল। সে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। মার কাছে শুনেছে বিপদ-আপদে আল্লাহ ফেরেস্তা পাঠিয়ে মানুষ কে সাহায্য করে। এরা যেন মানুষের রূপে সেই ফেরেশতাই । এই মুহূর্তে তার মার কথা বেশি মনে পরছে। রাজু শুধু বলছে, “আমাকে আমার মার কাছে নিয়ে চলেন। আমি আমার মার কাছে যাব। আমার মা অনেক অসুস্থ। ছোট বোন ময়না না জানি কেমন আছে?” ভাইয়া আপুরা সবাই তাকে সান্তনা দিচ্ছে । সে যেন একদম চিন্তা না করে। ময়না এবং তার মা ভাল আছে। তারা খবরাখবর রাখছে তার পরিবারের। খুব শীগগির সে বাড়িতে ফিরতে পারবে। আগে সে সুস্থ হয়ে উঠুক।

ইতিমধ্যে রাজু জেনেছে তার এক ব্যাগ রক্ত লেগেছে। ভাইয়া-আপুদের মধ্য থেকেই কেহ একজন এই মহৎ কাজটি করেছে। সবাই যেন তাকে কেমন ভালোবাসার ঋণে আবদ্ধ করে ফেলছে। এই ঋণ যেন কোনদিন শোধ হবার নয়। ভাবতে ভাবতে তার  চোখ জলে টলমল করতে লাগলো।

দেখতে দেখতে ৭ দিন হয়ে গেল হাসপাতালে। আজকে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা। সকাল সকাল তার রহমত মামা এসেছে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ডাক্তার শেষবারের মত তাকে চেকআপ করে বাসায় যাওয়ার অনুমতি দিল। বেলা এগারটার দিকে রহমত মামা ছাড়পত্র নিয়ে এল। এসেই বলছে, চল ভাগিনা বাড়িতে চল! রাজু মামার দিকে তাকিয়ে আলতো করে একটু হাসল। চোখে-মুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। মনে মনে ভাবছে কতদিন মাকে দেখেনা। আহা! ৫দিন যেন তার  কাছে ৫শ দিনের মত লাগছে।

বাড়িতে ফিরে এক আবেগ ঘন মুহূর্ত তৈরি হল। মা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। ছেলেও হাওমাও করে কাঁদছে। এ যেন ছেলে মাকে আর মা ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দের বন্যা। সাথে যোগ হল ছোট বোন ময়না। এই দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীরাও চোখের পানি মুছতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। আহা জীবন! আহা মায়ার বন্ধন!!

সত্যি জীবনটা যেন এক মায়ার বন্ধন। আমরা যেন এক মায়া জালের মধ্যে আটকা পরে আছি। পৃথিবীতে এখনও ভাল মানুষ আছে। ভাল মানুষ আছে বলেই জীবন এত সুন্দর। এইদিকে ইউনিভার্সিটির ভাইয়া-আপুরা কোন না কোন ভাবে প্রায়ই রাজু এবং তার পরিবারের খবরাখবর নিচ্ছিল। টাকা পয়সা আর খাবার দিয়ে তাদেরকে যথাসাধ্য সাহায্য করছিল। নিজেরা চাঁদা তুলে মানবিক কাজটি করছিল তারা।

প্রায় ১৮ দিন পর। রাজু ততদিনে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। আবার সেই হকারের কাজটিই শুরু করল সে। চৌ- রাস্তার মোরে ট্রাফিক সিগনাল কিংবা জ্যাম পরলে,  আজকের তাজা খবর ! আজকের তাজা খবর !! কিংবা গাড়ির জানালার কাছে দৌড়ে গিয়ে অনুরোধ করা- একটা পত্রিকা নেন স্যার! স্যার দিমু একখান পত্রিকা ?  নেন না স্যার একটা পেপার! এইভাবে পুনরায় শুরু হল রাজুর জীবন সংগ্রাম।

এর দুইদিন পর ইউনিভার্সিটির ট্রেনে ভাইয়া আপুরা রাজুকে পেয়ে যেন সবাই আনন্দে আত্মহারা। কেউ রাজুকে জড়িয়ে ধরছে। কেউ আবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। সবাই বলছে আরও কিছুদিন বিশ্রামে থাকলেই পারত সে। এখনি কেন সে ঘর থেকে বের হল। সাহায্য-সহযোগিতা তো সে পাচ্ছেই তাদের কাছ থেকে। প্রত্যুত্তরে রাজু যা বলল তার জন্য তারা প্রস্তুত ছিলনা। সে যা বলল, আপনারা যদি  এইভাবে সাহায্য- সহযোগিতা করতে থাকেন তাহলে আমি আপনাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরব। আমি অনেক অলস হয়ে যাব। কাজ করতে ইচ্ছে করবে না আর। তার চেয়ে বরং কাজে নেমে পরা অনেক ভাল। তাছাড়া আপনাদের সবাইকে অনেক দিন দেখিনা। দেখতে বড্ড মন চাইছিলৃ। সবাই এক স্বরে বলছে , ঐধঃং ড়ভভ ুড়ঁ  জধলঁ ! ঐধঃং ড়ভভ ুড়ঁ !! তোমার কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শিখার আছে। তোমার আত্মমর্যাদা বোধ দেখে আমরা সত্যিই অভিভূত! তুমি আমাদের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এরপর ছাত্র-ছাত্রি ভাই বোনেরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল রাজুকে সান্ধ্য কালীন একটি স্কুলে ভর্তি করে দিবে। সবার বিশ্বাস লেখা পড়া শিখে একদিন সে অনেক বড় হবে। তার মেধা এবং বুদ্ধি দিয়ে সে অনেক দূর যাবে…।

কিছুদিন পর রাজুকে একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সব কিছু শুনে তাকে বিনা বেতনে পড়ার ব্যবস্থা করে দিল। এখন রাজু দিনে হকারের কাজ। আর সন্ধ্যায় স্কুল। বাকি সময় ছোট বোনটির দেখা শুনা আর মা-র সেবা করে। খুব ইচ্ছা ছোট বোন ময়নাকেও স্কুলে দিবে। লেখাপড়া শিখাবে। মানুষের মত মানুষ করবে।  চোখে তার অনেক স্বপ্ন। একদিন সে ভাইয়াদের মত ইউনিভার্সিটিতে পড়বে। বড় হয়ে টাকা রোজগার করবে। ভাল একটা চাকরী  করবে। ছোট বোন কে ডাক্তার বানাবে। মাকে অনেক সুখে

 

 

 

রাখবে। তাকে যেন বাসা বাড়িতে আর কাজ করতে না হয়। তাদের সুন্দর একটা বাড়ি হবে। গাড়ি হবে। একদিন সব কষ্টের অবসান হবে। এইসব ভাবতে ভাবতে  রাজুর মনে সুখের অনাবিল আনন্দ বয়ে যায়। হটাত যেন রাজুর ঘোর কাটে। গাড়িতে  বসা কেউ একজন তাকে “এই পেপার! এই পেপার!!- বলে ডাকছে”।

প্রতিদিনের মত আজকেও রাজু একা বাসায় ফিরছে। আজকে ট্রেন অনেক লেট করেছে। সন্ধ্যা প্রায় ঘনিয়ে এল। পথ চলতে চলতে রাজু গেয়ে চলল, আমরা সবাই রাজা আমাদেরই রাজার রাজত্বে। নইলে মোদের রাজার সঙ্গে মিলবে কি শর্তে। আমরা সবাই রাজা….।

রাজু এখন অনেক সাহসী। কারণ সে জানে সে একা নয়। তার মধ্যে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য স্পৃহা কাজ করছে। সে জানে তাকে বহু দূর যেতে হবে। সে বিশ্বাস করে একদিন তার বাবা তাদের খবর নিতে ঠিকই আসবে। কিংবা কখনো না কখনো এই বদ লোকটির সাথে তার সাক্ষাত ঘটবে। আর তখনই রাজু তার বাবার কাছ থেকে জানতে চাইবে- তার মা, আদরের ছোট বোনটি কি এমন দোষ করেছে ? কেন তাদেরকে মাঝ দরিয়ায় এই ভাবে ফেলে চলে গেল? সেই বা কি দোষ করেছে? মাত্র দুই বছরের বোনটিই বা কি অন্যায় করেছে? রাজু অপেক্ষায় থাকবে সেই দিনটির জন্য। ¯্রস্টার কাছে তার আকুল ফরিয়াদ। ¯্রষ্টা যেন তার বাবাকে তার মুখো-মুখি করে দেয় একদিন। বুকটার মধ্যে যে অনেক কষ্ট জমাট বেঁধে আছে! সব অভিমান, কষ্ট গুলো সেইদিন বুক থেকে বিস্ফোরিত হবে। যেইদিন এই লোকটার সাক্ষাত সে পাবে। তার জন্মদাতাকে অনেক কিছু বলার আছে ! ততদিন এই জমাট বাঁধা কষ্ট বয়ে বেড়াবে সে। একা, নিরবে, নিভৃতে।

 

একরামুল হক মানিক, গল্পকার

চট্টগ্রামী প্রবাদের প্রথম গ্রন্থ : রচয়িতা জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন

মহীবুল আজিজ জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন (১৮৫২-১৯২০), সংক্ষেপে জে ডি এন্ডার্সন আজ থেকে একশ’ সাতাশ বছর আগে চট্টগ্রামী প্রবাদের সর্বপ্রাথমিক গ্রন্থটি রচনা-সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছিলেন। চট্টগ্রামী

দেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই (সম্পাদকীয়- জুন ২০২৪ সংখ্যা)

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্প্রতি আমাদের দেশসহ উপমহাদেশে যে তাপদাহ শুরু হয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় বৃক্ষরোপণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই