এখন সময়:রাত ১০:৫০- আজ: মঙ্গলবার-১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:রাত ১০:৫০- আজ: মঙ্গলবার
১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

আন্দরকিল্ল’ার লোকগানের আসরে ড. শেখ সাদী ‘সঙ্গীত আমার কাছে প্রার্থনার মতো’

প্রদীপ খাস্তগীর

লোকাচার থেকেই লোকগান, বিচিত্র এর গতি-প্রকৃতি। এর রূপ-রস-সুধা বর্ণিল ও চিত্রার্পিত। বচন ও বয়ানসমূহ কাল ও সময়ের মৃৎপট। এখানে আঁকা প্রাকৃত জীবন গাঁথা। এতে সমাজ-সংস্কৃতির শিকড় আ-ভূমি প্রোথিত। হৃদয়ের টানে দরদমাখা মরমী কথা প্রাণ-প্রকৃতি নিঃসৃত সুরেলা মদিরা মরমীয়া পরিবেশনা লোকগান; ভাবের আদান-প্রদানে সহজিয়া প্রেম প্রকৃতির বর্ণনের পাশাপাশি দ্রোহ ও জাগৃতির দীপাবলী জ্বালিয়ে দেয়। পলল বিধৌত বঙ্গজ বদ্বীপে লোকগানের ধারাটি প্রাচীন এবং কাল থেকে মহাকালব্যাপী প্রবহমান।

বর্তমান এ অস্থির সময়ে আমরা যখন ইট পাথরের এ নগরে নানান দোলাচলে বিবর্ণ তখন শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজভাবনামূলক কাগজ আন্দরকিল্লা গত ৯ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক লোকগানের আসরের আয়োজন করে। সেদিনের সেই উষ্ণতম সন্ধ্যাটা লোকগানের বর্ণিল ফল্গুধারায় মরুময় প্রান্তরে মেঘ হয়ে জীবনকে সবুজ সজীব করে, শীতল বৃষ্টিধারায় সিক্ত করে উপস্থিত ক্লাসিক দর্শক শ্রোতাদের মন প্রাণ। ৩৮ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় অতিষ্ঠ একটি উষ্ণতম সন্ধ্যায় আন্দরকিল্লার বৈঠকী সাহিত্য আড্ডায় নিজ কণ্ঠে লোকগানের ডালি সাজিয়ে

মুগ্ধতার প্রশান্তি রচনা করেন বিশিষ্ট লোকবিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী। বাদ্য যন্ত্র দিয়ে তাঁকে সহযোগিতা করেন তাঁর দুই প্রিয় ছাত্র বিনয় সূত্রধর ও রাজন সরকার।

গানের ফাঁকে ফাঁকে কথামালায় অংশগ্রহণ করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক ডীন প্রফেসর হোসাইন কবির, কবি ইউসুফ মুহম্মদ, হাটহাজারী সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক আবু মুসা মোহাম্মদ মামুন, কবি দিলীপ কীর্ত্তুনীয়া এবং শিল্পী নিজে।

শিল্পী ও গবেষক শেখ সাদী বলেন—“গান আমার কাছে প্রার্থনার মতোন। যতক্ষণ এই দেহে প্রাণ আছে আমি গান গেয়ে যাবো।”

 

শিল্পী তাঁর সুরেলা কণ্ঠে একের পর এক জনপ্রিয় লোকগানগুলো শুনিয়ে উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মাতিয়ে তুলেন। তিনি শাহ আবদুল করিমের ‘জিজ্ঞেস করি তোমার কাছে বলে ওগো সাঁই, এই জীবনে এত দুঃখ কে দিয়েছে জানতে চাই’, কোন মেস্তরী নাও বানাইছে কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়, ‘বসন্ত বাতাসে সইলো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে, ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো, আজ আমার প্রাই নাথ আসিতে পারে’, গাড়ি চলেনা চলেনা চলে নারে, আমার ভাবের ঘরে আগুন দিলে-কেরে, সদাই মন খুঁজে বেড়ায় তারে’ (রমেশ শীলের গান) আমি ফুল, বন্ধু ফুলের ভোমরা ইত্যাদি।

আন্দরকিল্লা সম্পাদক কবি মুহম্মদ নুরুল আবসার এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই এই মরমিয়া লোকগানের আসরে উপস্থিতজনরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন এই সন্ধ্যাটি। এতে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক প্রদীপ খাস্তগীর, গীতিকার ও সুরকার উত্তম কুমার আচার্য্য, কবি আশীষ সেন, কবি স্বপন মাহমুদ, আন্দরকিল্লার সহযোগী সম্পাদক শান্তিপদ বৈদ্য, যুগ্ম সম্পাদক কবি রুহু রুহেল,

 

আলোকচিত্রী নাজমুল হুদা, গবেষক জামসেদ উদ্দীন, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক উপ-সচিব মো: বেলাল হোসেন, লেখক ও গবেষক কামাল উদ্দীন, কবি মারজিয়া খানম সিদ্দিকা, কবি নিবেদিতা বড়ুয়া, চট্টগ্রাম কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান, বাকলিয়া, সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ জামী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ.কে.এম ওসমান খান প্রমুখ।

বাঙালির ভাষার অধিকার হরণ- রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক মৃত্যু

হোসাইন আনোয়ার আজ থেকে ৭৯ বছর আগের কথা। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারতবর্ষের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যটেন তার রোয়েদাদ ঘোষণা করেন, এই ঘোষণার পর

‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ জননী রঞ্জিতা বড়ুয়াকে নিবেদিত সন্তান সত্যজিৎ বড়ুয়ার ‘সুরাঞ্জলি’

মা সুগৃহিনী শ্রমতী রঞ্জিতা বড়ুয়ার ৮৩ তম জন্মদিনকে উপলক্ষ করে ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গানে গানে সুরের

আন্দরকিল্লা’য় সুকুমার স্মরণ সন্ধ্যা

বিপুল বড়ুয়া   সুকুমার বড়ুয়া আমাদের ছড়াসাহিত্যের একজন প্রবাদপ্রতীম পুরুষ। নানা আঙ্গিক, বিষয়বস্তু, ধরণ-ধারণে, বৈচিত্রে অনুধ্যানে তিনি অসংখ্য ছড়া লিখে আমাদের ছড়া অঙ্গনে বহুমাত্রিকভাবে খ্যাত

জলে জঙ্গলে (পর্ব তিন)

মাসুদ আনোয়ার একে একে মুসল্লিরা বেরিয়ে আসছে মসজিদ থেকে। আমি দাঁড়িয়ে আছি স্থানুর মতো। প্রত্যেক মুসল্লির মুখের দিকে তীক্ষ্ম নজর বুলাচ্ছি। কাপ্তাই বড় মসজিদের ইমাম