এখন সময়:সকাল ১১:৫২- আজ: মঙ্গলবার-১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:সকাল ১১:৫২- আজ: মঙ্গলবার
১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

ইউসুফ মুহম্মদ-এর দোঁহা

৪৫৪

দলা মোচড়ানো কাগজের পাতাÑ

খুলে পাই মুখোশের জালে মানুষের মুখ,

প্রেমের কাহিনি যমুনায়, রাধা কি বুঝেছে

কাগজি অন্তর ফোঁড়ে কতটা অসুখ!

 

৪৫৫

কী করে তোমার মনেরে চিনিব, পাইব তোমারে রাখিতে

বিন্দু আঁকিল জলের পদ্মÑপাতার ছায়াতে ঢাকিতে,

তোমার দিলের পাতার বাঁশিতে বিধুর কাদার বালক

খুঁজে খুঁজে তার ক্লান্তি জমায়, কে যেন ছড়ায় পালক।

 

৪৫৬

যে আমাকে অতলান্তিক দরিয়া কূলে ফেনার ধাঁধায় বাঁধে

তার জন্যে কাগজের নৌকা ভাসাতে ভাসাতে আমি

ডুবে যাই নুড়ি পাথরের অমসৃণ খাপে,

একজন অভিকর্ষ ঘেষে ডুবতে ডুবতে

নাকে মুখে জলের উষ্ণতা পান করে

তাকে খুঁজে পাই বধির ও বোবা, অনিবার্য ক্ষত চিহ্নের তাপে।

 

৪৫৭

খেলছো পাশা দূরে বসে, হরগৌরীর ভুল তাস

কঙ্কণে তোর লেখা আছে আমার সর্বনাশ।

 

৪৫৮

হাঁড়ি ঘর খাঁখাঁ, উনুন জ্বলে না

অভাবী নগর, কোথা গেলে পাবো সুখ!

আমি ভুলে যাই ইষ্ট-দেবের

নামের যজ্ঞ ক্ষুধা যদি জাগরুক।

 

পেটে থাকে যদি পিঠের রোয়াক

সয়ে যাবে ধর্মের ছড়ি বারোমাস,

অনাথ পিঠের প্রতিটি আঘাত

লিখে যাবে কষ্টের লাল ইতিহাস।

 

৪৫৯

চোখের মুগ্ধতা নিয়ে ঝুলে আছ জানালায়

অচেনা ছুরত ছায়া। কার ডাক শোনা যায়,

দূর-ঈশারায় শুদ্ধ হয় মায়া-বন্দি মন…

আউলা আবেশে সুফি, সঙ্গ-সুখ উচাটন?

 

৪৬০

একলা হাওয়ার অঙ্গ ছিলো খোলা সে অঙ্গেতে বন্য রকম দোলা,

ঢেউ নাচিয়ে উড়ায় মনের ঘুড়িÑসন্ধ্যা-সকাল কিসের তাপে পুড়ি!

 

৪৬১

বাঁশির ব্যাথা বুঝতে পেরে বিষ ছুঁয়েছে নুন

সুরের রন্ধ্রে প্রাণ জাগাতে বাঁশ হয়েছে খুন।

 

৪৬২

মন থেঁতো হয়Ñবাঁশির দহন আত্মদানের সুরে

সুর-সেতারে বায়ু চঞ্চল চাঁদ পোড়া রোদ্দুরে।

 

৪৬৩

পাঁজরে কিসের শব্দ! মন চায় না ভাঙন,

রক্তের প্রবাহ চায় অপার উষ্ণতা-ঢল

পান পাত্রে কার প্রতিচ্ছবি অপরাহ্নে হাসে?

মায়ার মুক্তিতে এসো, জলে ভাসি মন, চল।

 

৪৬৪

পথের পাশেই পড়ে থাকিÑআমি হেলা, ঘাস-ছিলা ধূলি কণা

তোমরা চতুর-বিজ্ঞ মাড়িয়ে দিয়েছÑকুড়িয়ে রেখেছে খনা।

 

৪৬৫

আঙুল ছুঁয়ে পুড়লো আগুন, অচেনা কার ভুল

হৃদয় নেড়ে কে ফোটাল ফুলের হুলুস্থ’ূল!

 

৪৬৬

গুরু আমার কাব্য-কোরআন-বেদ ও পুরান-বাইবেল

পাপের পৃষ্ঠায় তাক করো না চোখের রারুদ রাইফেল।

 

৪৬৭

বৃক্ষের বাকল খুলে যা কিছু দেখোনি তা কবিতা

জামার আস্তিনে দেহ দান যেন জলের ভণিতা

অস্বস্তি দুয়ারে এলে বর্ণমালা পাঠে তুমি পূর্ণ কবি,

যে আছো দূরে সে কবি?  নাকি দুর্বোধ্য কবিতা!

 

৪৬৮

শিশুর মতো সে কেনো যে চাটতে থাকে

গন্ধমের ওই মরুর মায়া কালিকা-রস!

চোখের তারায় ফুলের বাহার আঁকতে জানে!

তাতেই মিলে আলোকধারা খোদার পরশ।

 

বাঙালির ভাষার অধিকার হরণ- রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক মৃত্যু

হোসাইন আনোয়ার আজ থেকে ৭৯ বছর আগের কথা। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারতবর্ষের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যটেন তার রোয়েদাদ ঘোষণা করেন, এই ঘোষণার পর

‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ জননী রঞ্জিতা বড়ুয়াকে নিবেদিত সন্তান সত্যজিৎ বড়ুয়ার ‘সুরাঞ্জলি’

মা সুগৃহিনী শ্রমতী রঞ্জিতা বড়ুয়ার ৮৩ তম জন্মদিনকে উপলক্ষ করে ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গানে গানে সুরের

আন্দরকিল্লা’য় সুকুমার স্মরণ সন্ধ্যা

বিপুল বড়ুয়া   সুকুমার বড়ুয়া আমাদের ছড়াসাহিত্যের একজন প্রবাদপ্রতীম পুরুষ। নানা আঙ্গিক, বিষয়বস্তু, ধরণ-ধারণে, বৈচিত্রে অনুধ্যানে তিনি অসংখ্য ছড়া লিখে আমাদের ছড়া অঙ্গনে বহুমাত্রিকভাবে খ্যাত

জলে জঙ্গলে (পর্ব তিন)

মাসুদ আনোয়ার একে একে মুসল্লিরা বেরিয়ে আসছে মসজিদ থেকে। আমি দাঁড়িয়ে আছি স্থানুর মতো। প্রত্যেক মুসল্লির মুখের দিকে তীক্ষ্ম নজর বুলাচ্ছি। কাপ্তাই বড় মসজিদের ইমাম