মা সুগৃহিনী শ্রমতী রঞ্জিতা বড়ুয়ার ৮৩ তম জন্মদিনকে উপলক্ষ করে ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গানে গানে সুরের ‘সুরঞ্জালি’ নিবেদন করলেন আমেরিকা প্রবাসী জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রকৌশলী সত্যজিৎ বড়ুয়া। অনুষ্ঠানটি যেহেতু প্রণম্য মায়ের প্রতি সন্তান ও স্বজনদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনমূলক সেহেতু শুধু গান নয়, স্বজন-সুজন-আপনজনদের মিলনমেলাও বটে; তাই হৃদয় মোচড়ানো থরো থরো আবেগে কম্পন উচ্ছ্বাসের ভাষাটি মুখ্য হয়ে উঠেছিল। সঙ্গত কারণেই ‘সুরাঞ্জলি’ ফুলেল সুরভিত পুষ্পাঞ্জলিতে রূপান্তরিত হয়ে ওঠে। আর আনন্দ-বেদনার মিশ্র অনুভূতিতে অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠেন আয়োজক ও অতিথিগণ।
প্রকৌশলী সত্যজিৎ বড়ুয়ার জন্ম দেশমাতৃকার পুণ্যভূমি বীর প্রসবিনী চট্টলার চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়ায়। তিনি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা স্বর্গত শ্রী রিপন জয় বড়ুয়া ও বিদুষী নারী শ্রীমতি রঞ্জিতা বড়ুয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এস.এস.সি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং বুয়েট থেকে ডিগ্রি প্রাপ্ত হয়ে তিনি উচ্চতর শিক্ষা ও উন্নত জীবন-জীবিকার অন্বেষনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানেই একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে সপরিবারে তিনি থিতু হন। তাঁর স্ত্রী অরুণা বড়ুয়া ডালিয়া ডাক্তার হিসেবে বাঙালি প্রবাসী মহলে একজন পরিচিত মুখ।
সত্যজিৎ বড়ুয়া ছোট বেলা থেকেই গানের পূজারী। পেশায় প্রকৌশলী হলেও গান-ই তার আসক্তি এবং অবসরের আরাধনা। একজন মানুষ হিসেবে পরিণত সত্যজিৎ বড়ুয়ার ‘প্রথম ভালোবাসা’ শৈশব ও কিশোর বেলায় গুনগুন স্বরে গাওয়া এই গান-ই। টানা সতের বছর পর মা রঞ্জিতা বড়ুয়াকে নিয়ে স্বদেশ ফেরত সত্যজিৎ বড়ুয়া গর্বধারীনির ৮৩ তম জন্মদিনে আপন, পরমাত্মীয় ও স্মৃতির স্বজনদের নিয়ে ‘প্রথম ভালোবাসা’ গানকে দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের যে ডালি সাজিয়েছেন তার সুষমা সত্যিই অপরূপ এক মাতৃবন্দনা।
সত্যজিৎ বড়ুয়ার ভরাট কণ্ঠে গীত ডজন দেড়েক দেশাত্মবোধক, রবীন্দ্রনাথ ও পূরনো দিনের গান দিয়ে গাঁথা গানের এই মালাটি একজন স্বার্থক মায়ের যথার্থ কণ্ঠহার।
কবি ও নাট্যজন সপ্রতিভ বাচিক শৈলীতে ঋদ্ধ অধ্যাপক সনজীব বড়ুয়ার সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সুরাঞ্জলির উদ্বোধক ছিলেন প্রকৌশলী সত্যজিৎ বড়ুয়ার কাকা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ৯৮ বছর বয়সেও ‘নটআউট’ তরতাজা ডা. দেবপ্রসাদ বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুজ সুরজিত বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে রত্নগর্ভা জননী শ্রীমতি রঞ্জিতা বড়ুয়া তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন—‘সন্তান, পরমাত্মীয় ও স্বজনদের ভালোবাসায় এতোই মুগ্ধ যে, আমি তা প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি’।
– প্রদীপ খাস্তগীর




