শোয়েব নাঈম
‘খুন ও হুইসেল’ গল্পগ্রন্থটি হচ্ছে লেখক কামরুল হাসান বাদলের চিন্তার দংশনে নড়ে ওঠা ক্রিয়েটিভ ইমাজিনেশানের সীমানা। এই গ্রন্থের গল্পগুলি হচ্ছে লেখকের চিন্তাধারার দিকচক্রবালে উদিত হওয়া মানবিক অনুভূতির গাড়ি। নয়টি গল্পের বিশ্বস্তে ‘খুন ও হুইসেল’ কামরুল হাসান বাদলের নয়টি সৃজনশীল কল্পনা, যা এই গ্রন্থে স্মারকবাহিতের মতন মিশে আছে। লেখকের চিন্তার দংশনের মোড়কে তাঁর মানবিক অনুভূতি দীর্ঘ হতে হতে, বিস্তৃতির গভীরে এক-একটি কাহিনীতে ফেলে, তাঁর জমাটবাঁধা চিন্তার ব্যাখ্যা বুঝার চেষ্টা করেছেন প্রতিটি গল্প থেকে। শব্দ ভেঙে ভাষা ব্যাখ্যার মোড়কে লেখকের অনুভূতি প্রকাশের প্রবণতা, সৃজিত প্রতিটি গল্পের গভীরতার বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। মানবিক অনুভূতির অসীমে প্রথমে লেখককে একটি চিন্তা দংশন করে। একটা গল্পের পর যখন আরেকটা ভাবনা মনের উপরিতলে ভেসে ওঠে, তখন সেই চিন্তাটিকে আস্তে আস্তে কোনো একটা ঘটনার মধ্যে ফেলে লেখক তাঁর মানবিক অনুভূতি বুঝার চেষ্টা করেছেন। কাহিনির মাধ্যমে বিকশিত চরিত্রগুলি লেখকের ব্যক্তিগতভাবে, সমাজাজিকভাবে এবং রাজনীতির পর্যবেক্ষণ নির্ভর। তবে কোনো গল্পকে সমাজের, জীবনের এবং রাজনীতির তথ্যসূত্র হিসেবে ডকুমেন্টেশান করার চেষ্টা করেননি। ফলে সরাসরি লেখকের উদ্দেশ্যকে ধরতে না পারলেও কাহিনীকে অনুসরণ করতে করতে লেখকের অনুভূতি বুঝতে অসুবিধা হয় না পাঠকের। তিনি দিনের আলোতে পাঠককে জানিয়ে দিয়ে গেছেন, তাঁর পরিপার্শ্বের অন্ধকারে ঢেকে থাকা বোবা যন্ত্রণার রূপতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। প্রতিটি গল্পই জটিল, ঘন বুনোট এবং গভীর অস্বস্তিতে সমাপ্তি। লেখক এখানে চরিত্রের আবরণে যে ইশারা রেখে গেছেন তা শাশ্বত পাঠে তৈরি করে অনন্য জীবনবোধ, তা পাঠের চালুনিতে অনুভব হয়— সমাজ, সম্প্রদায়, রাষ্ট্র এবং রাজনীতি বিনাশের সূত্রগুলি। কাহিনীর ছায়ার ভেতর সশরীরে চরিত্রদের হেঁটে যাওয়া দেখে এখানে নবায়িত হয় আমাদের সমকাল। বাস্তবতা এখানে ন্যুজ, সময় গোলকধাঁধা, আর সমাজ কাচের মতো ভেঙে পড়া দিগন্তরেখা। নয়টি গল্পের শিরোনামে কামরুল হাসান বাদল গাঢ়তর বেদনায় সেই জীবনের ওঠানামা এবং হাহাকার রেখে গেছেন।
চিন্তার উত্তাপের মতো গল্পের নামগুলি এবং পৃষ্ঠা :
১) যে রাতে আমি মদ্যপান করিনি – ০৯
২) ব্রেকিং নিউজ ১৪
৩) আবুল সওদাগর ১৭
৪) রাজ্জাক-কবরীর শেষ অধ্যায় ২৬
৫) কর্পূর ৪৬
৬) বিভ্রম ৫১
৭) খুন ও হুইসেল ৬০
৮) জমিনদার ৬৯
৯) আবসেরাব ৭৮
কাহিনির ভেতরে তাঁর চিন্তার যা যা লিখছেন, সেগুলি তাঁর দংশিত চিন্তাকে ঘিরেই কাহিনির কো-প্ল্যানিং বা সহ-পরিকল্পনার মডেলে ভেবেছেন। সমাজে এবং জীবনে সম্ভাবনার যে বিকল্প সম্ভাবনা আছে— এটা নিয়েও ভেবেছেন এবং সেই সহ-পরিকল্পনার মডেলে দুইটি গল্পও এখানে সৃজন করেছেন। সৃজনের লেন্সের ফোকাসে সেই গল্পে ধরা আছে— সম্ভাবনার বিকল্প সম্ভাবনা, যাকে অন্যভাবে বলা যায় না-অভ্যস্তপাঠের সিলেবাসে ভিন্নমতের পাঠক্রম। যেমন— ‘কর্পূর’ এবং ‘যে রাতে আমি মদ্যপান করিনি’। পাঠক যাতে বুঝতে পারে লেখক তাকে মৃদুভাষণে প্রস্তুত করে নিচ্ছেন— সহ-পরিকল্পনার মডেলে ‘সম্ভাবনার বিকল্প সম্ভাবনা’ নামের কোনো জগতের সামনে। অনুভবের গাঢ়তায় এবং চিন্তার প্রকৌশলে তাঁর সময়ের তল থেকে, কোনো মনুষ্যলোকে ঘটে না এমন অলৌকিকে এই দুইটি গল্পে উন্মোচিত হতে থাকে। এমন অলৌকিকের সংমিশ্রণে বিশ্বাসযোগ্য ধারণা তৈরি না-করলেও তা পাঠকের বোধকে জাগ্রত করতে পেরেছে। পাঠকের বোধকে এমনভাবে জাগ্রত করতে পারাটাই হচ্ছে— সম্ভাবনার বিকল্প সম্ভাবনা। স্পষ্ট করে বলতে গেলে বলতে হয়, লেখায় উপস্থাপিত ঘটনাটি ঘটেছে জাদুর মতো করে, মুহূর্তের মধ্যে। কিন্তু যারা অনুভব করবেন তারা এমন কিছু পাবেন, যা থেকে বোঝা গিয়েছে কাহিনির মূলে একটি গভীর সত্য রয়েছে। লেখক আবেগহীন এবং ভাবালুতামুক্ত থেকেই সুস্পষ্ট লক্ষ্যাভিমুখীতে এই দুই গল্পে, পাঠককে সেই গভীর সত্য অনুসন্ধান করতে দিয়েছেন।
৭৮ পৃষ্ঠায় গল্পকার কামরুল হাসান বাদল ছাপিয়েছেন এই গ্রন্থের শেষ গল্প ‘আবসেরাব’। অমানুষিক দুর্ভাগ্য বহন করা ‘মহিউদ্দিন’-এর বিদীর্ণ আত্মাকে চুরমার করে দেওয়া কাহিনিই এই গল্পের উপজীব্য। এর বীভৎসতা ও বিষণ্ণতা দীর্ঘস্থায়ী ছায়া ফেলেছে পাঠকের বোধের উপর। লেখক চিন্তার দংশনে নড়ে ওঠা এবং তাঁর ভাষা-দ্রবণের সংবেদনশীলতা দিয়ে কেনো ঘটনার প্রতিচ্ছায়া এখানে দ্রবীভূত করেছেন। গল্পে তুলে এনে দেখিয়েছেন সিস্টেমের অপশক্তি দ্বারা পরিচালিত হয় এদেশের আইন,সমাজ, সাম্প্রদায়িকতা এবং সাংবাদিকতা। রাষ্ট্রের ত্রুটিবিচ্যুতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং অপশক্তির অন্তরঙ্গে যেন আগুনের পাঠ। যেখানে বর্বরতার আগুনে পুড়ে যায় মহিউদ্দিনের জ্যোৎস্নার শরীর।
‘রাজ্জাক-কবরীর শেষ অধ্যায়’ ; পৃষ্ঠা২৬— এই গল্পে লেখকের যেমন ঝুসঢ়ধঃযু আছে, পাঠকের তেমনি Sympathy আছে। দুজন মানব মানবীর সম্পর্কের দুঃখ বেদনা অনুভব করে লেখক যেমন সমবেদনা
Sympathy জানিয়েছেন, এই দুজনের সুখদুঃখ এবং সর্বপ্রকার অনুভূতির সঙ্গে পাঠক’ও সহমর্মিতায় (Empathy) একাত্ম হয়েছেন। সমবেদনার আর সহমর্মিতার দ্যোতনায় এই গল্পটি পরিবেশিত হয়েছে সম্পর্কের ভাব-উম্মাদনার আবেগে নিঃশেষিত হয়ে। সফল গল্পকারই পাঠককে একাত্ম করতে পারেন তাঁর সৃষ্ট চরিত্রদের সঙ্গে, কিংবা নিয়ে যেতে পারেন তাঁর বর্ণিত ঘটনাস্থলে। কামরুল হাসান বাদল’ও তেমনি সফলভাবে পাঠককে একাত্ম করে দিতে পেরেছেন, তাঁর সৃষ্ট চরিত্র ‘মরিয়ম’ এবং ‘রেজাউল’-এর সঙ্গে এবং তাদের ঠিকানার প্রতিভাসে, যে ঠিকানায় রাজ্জাক-কবরী জুটির কাহিনিতে ভালোবাসার নামে দুটি গোলাপ ফুটে আছে। যে কোন সাহিত্য তখনি সার্থক সৃষ্টি হয়ে ওঠে— কালের সীমানা অতিক্রম করে সেগুলি যখন চিরন্তন হয়ে ওঠে। তেমনি ‘মরিয়ম’ এবং ‘রেজাউল’ চরিত্রদ্বয় ১৯৭৫ সাল সময়ের রক্তে চিহ্নিত হয়েও সমকালের গগনেও বিশ্বস্ততায় উদ্ভাসিত হয়েছে। কিন্তু পাঠক বিপন্ন অভিঘাতে নিমজ্জিত হয় সম্পর্কের ট্র্যাজিক উপসংহারে এবং বেদনা অনুভবের বৃত্তান্তে।
সংকীর্ণ ধর্মীয়বোধের আবদ্ধতায় জীর্ণ সন্তান ‘রাজীব’। তাই সন্তান ‘রাজীব’-এর ধর্মের বিকৃতি নিমজ্জনে যে ‘বিভ্রম’— এই নামকে গল্পের শিরোনামের জন্য উপযুক্ত মনে করেছেন এই গল্পের লেখক। যেন রাত্রিশাসিত কোনো আলো ক্রমক্ষীয়মাণ, সেই অন্ধকারে ক্রম মেলে ধরা রাশেদ-সামিনা পরিবারে উগ্রবাদী ক্ষতের মতো অস্তিত- ‘বিভ্রম’ রাজীব। এই গল্পের প্রধান চরিত্র রাজীব, তারই দৃষ্টিকোণ থেকেই গল্পটি বিবৃত। সন্তানের পিতা ‘রাশেদ’ সমাজটাকে তিনি চিনেছিলেন ঠিকই, কিন্তু রাজীবের উগ্রবাদী ধর্মীয় চেতনাকে চেনেন নি, তাই রাজীবের বিশ্বাস-ভাবনায় যেন মাটি টলছে ভূমিকম্পে। তাই গল্পের শেষে রাশেদের আত্মোপলব্ধির সঙ্গে করুণ, কোমল খোলসটি আলগা হয়ে খসে পড়ে যায়, বেরিয়ে আসে বাতিস্তম্ভের মতন নিভে যাওয়া মৃতকল্প জীবনের ভাষ্য।
ক্রমিক অবক্ষয়ের গল্পবলা পথে ‘খুন ও হুইসেল’ হচ্ছে এই গল্পবইয়ের ক্রমানুসারে ৭ নম্বর গল্প। কামরুল হাসান বাদল ক্রাইম ফিকশনের উপধারায় গল্পটি তুলে ধরেছেন। গল্পটি পাঠের পর প্রতিক্রিয়া এমন হয়েছে যে, চট্টগ্রাম শহরের আমবাগান এলাকার পরিবেশ, আশেপাশের স্থাপনা, অফিস এবং তাদের জীবনযাত্রা লেখক খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করেছিলেন। সেই মনোযোগের ফলাফলে এখানকার অবক্ষয়িত সমাজকে ঘিরে চিন্তার একটি মর্মবস্তু উদ্ধার করতে পেরেছিলেন। এমন প্লটে লেখা গল্প দৈনিক পত্রিকায় প্রায় সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের মতন মনে হলেও এই গল্পটি পাঠকালে কোনো একঘেয়েমি অনুভব হয়নি। বরং জনজীবনের নিবিড় সংযোগে মানুষের কাছের হয়ে উঠেছে এই গল্পের স্বর। সেই জীবনযাপনের ইতিহাস-ভূগোলের সঙ্গে সেঁটে থাকাও তুলে ধরেছেন। সমাজচেতনা, রাজনৈতিক চেতনা, জীবনচেতনা প্রকাশের স্বতন্ত্রতা ফুটে উঠেছে। আইনের দেয়ালে ফাটল আছে বলেই ‘শামসু’-এর মতন অপরাধীরা প্রশাসন থেকে আরও বেশি নিরাপত্তা পায়। গল্পলেখার নতুন সময়কে আত্মস্থ করেই লেখক এমন কাহিনিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন।
‘আবুল সওদাগর’ গল্পের ‘কোহিনুর বেগম’-এর মতো একজন সাধারণ ব্যক্তিমানুষকে লেখক তাঁর নিজস্ব ঘরানায় বাহিরানায় সাহিত্যসমাজে আশ্চর্য নৈপুণ্যে গভীর সংবেদনে তরঙ্গায়িত করেছেন।
আঞ্চলিক ভাষায় সংলাপ প্রয়োগ করলে চরিত্রদের যাপনচিত্র ফুটে ওঠে। পাঠকের সন্নিকটে পৌঁছাতে আঞ্চলিক ভাষায় সংযোগের পরিবর্তে, কামরুল হাসান বাদল নিজস্ব তৈরি আঞ্চলিকতার হাতছানিতে সংলাপ সৃজন করেছেন। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু চরিত্রের মধ্যেকার সংলাপে লেখক তরল, সহজপাচ্য সংলাপের ভেতর দিয়ে চরিত্রদের আলোকিত করেছেন। লেখকের এমন তরল সংলাপের কারণে গল্পের মাধ্যমে চরিত্রদের শিকড়হীন নাগরিক অনুভব হয়েছে। কাহিনি যখন যে অঞ্চলের জনপদ থেকে উঠে আসে, তখন ঐ অঞ্চলের সংলাপে কথা বললে গল্পের ভেতর চরিত্রদের আরও বলিষ্ঠ এবং মাহত্ম্যে উজ্জ্বল অনুভব হয়। আঞ্চলিক ভাষাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে গল্পের উচ্চতাও অনেকখানি বাড়ে। ‘খুন ও হুইসেল’ এই গল্পগ্রন্থে লেখক আঞ্চলিক শব্দের অনুভবে এবং চরিত্রের স্থানিকতা বোঝাতে চট্টগ্রামের একটিও সংলাপ ব্যবহার করেন নাই। সংলাপে যে ভাষা দিয়েছেন লেখক এখানে তা পড়লে উপলব্ধি হয় যে, কোনো অঞ্চলের জীবনকে লেখক দূর থেকে দেখার এবং বুঝার চেষ্টা করেছেন। এই গল্পগ্রন্থে যেহেতু চরিত্রের সমাবেশ কম, তাই লেখক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার প্রতি আস্থা রাখতে পারতেন। কিন্তু এই ব্যাপারটি উচিত-অনুচিতের বিষয় নয়, লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভরশীল।
চট্টগ্রামের দক্ষিণ গহিরা অঞ্চলের দুই চরিত্রের মধ্যেকার সংলাপে লেখক আঞ্চলিক ভাষার বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তে স্থানবিবর্জিত সংলাপে তুলে এনেছেন।
উদাহরণস্বরূপ যেমন—
“….. কেউ একজন তাঁর পথ আগলে দাঁড়িয়েছে। নিজের অন্যমনস্কতায় লজ্জিত মরিয়ম চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলেন, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে এক যুবক।
তুমি কোন ক্লাসে পড়?
এদিক-ওদিক তাকালেন মরিয়ম। নিশ্চিত হতে চাইলেন, প্রশ্নটা কাকে করা হচ্ছে। দেখলেন, তিনি আর যুবকটি ছাড়া আশেপাশে আর কেউ নেই।
তোমাকে বলছি, কোন ক্লাসে পড়?
ক্লাস এইটে। কম্পিত গলায় এতটুকু বলতে পারলেন মরিয়ম। খুব ভালো! আমাদের পাড়া থেকে শুধু তুমিই হাই স্কুলে যাও। খু-উ-ব ভালো! আমি রেজাউল করিম। আমাকে চিনতে পারছ না? ওই বাড়িটা আমাদের, বলে হাত তুলে কয়েকটা বাড়ির পরে একটা বাড়ি দেখাল সে। তোমাদের বাড়িতে আমি কয়েকবার গেছি। চিনতে পারছ না?
এবার হ্যাঁ-সূচক মাথা ঝাঁকালেন মরিয়ম। তাকালেন যুবকটির মুখের দিকে। চোখাচোখি হতেই মরিয়ম বললেন, যাই, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
রেজাউল করিম শুধু বলল, আচ্ছা।…..”
(পৃষ্ঠা ৩০, রাজ্জাক-কবরীর শেষ অধ্যায়)
চট্টগ্রামের চাকতাই অঞ্চলের সওদাগরের মুখের ভাষাকে লেখক পরিবর্তন করে দিয়েছেন, ভাষায় চট্টগ্রামের মাটির সংলগ্নতা পায়নি—
“…. ওই মাগির পোলা, সাতটা বাইজা গেল, অহনও ঘুমাইতাছস। হালার পুত, তোর কোন্ বাপে দোকান খুলব? উঠ কইতাছি। খাওয়ার টেবিলে বসে ডান হাতে পরোটা ছিঁড়তে ছিঁড়তে একটা বন্ধ দরজার দিকে চোখ রেখে এই অশ্রাব্য শব্দবাণ চূড়ে দেয় আবুল। পাশের চেয়ারে বসা কোহিনুর বেগম হাত নেড়ে স্বামীকে বাধা দেওয়ার ভঙ্গিতে বলে, তুমি কী শুরু করছো এইসব? প্রতিদিন বিহানবেলাতেই পোলাটারে গালাগাল করো। তোমার আসলে হইছে কী? পোলাটারে বিয়া করানোর পর থিইক্যা অরে যেন সহ্যই করতে পারতেছো না
তুমি…. ” ( পৃষ্ঠা: ১৭, ‘আবুল সওদাগর’ )
শোয়েব নাঈম, সাহিত্যকর্মী




