চিড়িয়াখানার ইতরগুলো
কী-এক প্রলয়কাল এলো
কেয়ারটেকার ও প্রহরীরা,
চিড়িয়াখানার দরোজাগুলো খুলে দিল!
ইতরপ্রাণীরা বের হয়ে এলো,
এর আগে এতগুলো ইতরপ্রাণী চিড়িয়াখানা থেকে
বের হতে পারেনি কখনো!
তারা দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে লাফাচ্ছে,
অন্যদের স্বাধীন মতো থাকতে দিচ্ছে না,
নিরিবিলি বিলি কেটে কেউ রোদ পোহাতে পাচ্ছে না!
ওদের কুঁচকি ও লোম থেকে
দুর্গন্ধ বের হচ্ছে,
ওরা গা’য়ের ময়লা যেখানে-সেখানে ঝেড়ে ফেলছে,
রোগ জীবাণু ছড়িয়ে দিচ্ছে!
সুর্মা ও কাজল মেখে
দু’পায়ে আনোট পরে,
কোপস্বভাবে জিদ্দিবাজ হয়ে উঠছে!
ভাদ্র মাসের গরম আসার আগেই
নম্রতা ও ভদ্রতা হারিয়ে ফেলছে!
ইতরগুলো এতটা ইতরামি শুরু করেছে
ষাঁড় ও গণ্ডার লজ্জা পাচ্ছে,
শজারু তার কাঁটা লুকিয়ে ফেলছে,
নেকড়ে ও ভুজঙ্গ পেছন পথে হাঁটা শুরু করছে!
ইতরগুলো বনবাদাড় ও হাটবাজার
লোকালয় ও নদীনালা দখল নিয়ে
—চিঁ চিঁ শব্দে,
চিতাবাঘকে কাতুকুতু দিয়ে
চিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করছে,
সেখানে তারা অটোগ্রাফও দিচ্ছে!
দাসত্ব
হাঁড়িয়ামেঘের মতো
চরম দাসত্ব ধেয়ে আসছে,
মেঘধ্বনি শোনা যাচ্ছে—মেঘাচ্ছন্ন চারপাশ!
দাসগুলো দাঁত না মেজে
মজে যাচ্ছে দাসত্বে!
বৃষ্টিপাত হবে না,
জলবেষ্টিত এই ভূভাগে!
দাসমালিকের সহযোগী
ফড়িয়া দরিয়া পার হয়ে যায়,
অভিসারে যায়
প্রমোদভ্রমণে যায়!
গিয়ে ঘুরঘুর করে ঘুটঘুটে অন্ধকার,
দুই হাত ভরে নিয়ে আসে!
প্রধান রক্ষাকর্তা—দাসপ্রধান হয়ে উঠছে,
নাকের সাথে নাক ঘষে ঘষে
নাকখত দিয়ে,
নখরামি শুরু করে প্রচণ্ড গতিতে!
বংশীবাদকেরাও বংশচ্যুত হয়ে
দাস-দাসী হয়ে উঠছে!
দ্যুতিমানও দ্রুতলয়ে অস্তগামী!
বাউরি বাতাস থেমে যাওয়ার পর,
দাসযুগ এতটা প্রকট হয়ে আসবে?
সম্মোহনে অভিভূত হয়ে ভূতের অনুগামী হয়ে ভূতগ্রস্ত হয়ে,
হতভম্ব ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ছি!
নড়ছি না তবুও!
আত্মবিক্রি করে
বশ্যতা ও নতিস্বীকার করে শিকার হয়ে উঠছি!
আজ্ঞাবহ হয়ে
ওদের জন্য পান্থশালা তৈরি করে দিই!
চোরছ্যঁচোড়, বাটপার ও তস্কর নিয়ে
ঠগীদের রাজত্ব আরও রমরমা হয়ে উঠছে!
দাসত্ব উপযোগী বেলেপাথর ও বালুশিলা দিয়ে
ঘেরাও হয়ে পড়ছি—সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছি!
দাসপ্রবণতা দেখে—
পবর্তশিখর লজ্জায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না!




