এখন সময়:সন্ধ্যা ৭:২৮- আজ: মঙ্গলবার-২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:সন্ধ্যা ৭:২৮- আজ: মঙ্গলবার
২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

দুঃখিনী কর্ণফুলি, কেমনে তোমারে ভুলি?

প্রফেসর ইদ্রিস আলী

উপরে নির্মল নীলাকাশ। দিগন্তব্যাপি উঁচু নিচু মাটি, বৃক্ষ, ঝোপ ঝাড়ের শ্রীমান শ্রীবিষাদের পাহাড় শ্রেণী। উঁচু বিদীর্ণ কাটা পাহাড়ের পাশ দিয়ে আঁকা—বাকা পাহাড়— কোলে পিচঢালা পথ। নির্বাক বৃক্ষরাজি । নীচে নির্মল স্রোতস্বীণি, পাহাড়ি নদী। পুব দিক থেকে নেমে এসে বাঁক নিয়ে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। নির্মল জলের  স্নিগ্ধ নিবিড়তা। যৌবণ তারুণ্যের চপলতা। প্রবাহের গাম্ভীর্যতা, চলার রহস্যময়ী স্বকীয়তা । কী অপূর্ব!

দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে্যর কোন কমতি নেই। রুপ লাবণ্যের কোন ঘাটতি নেই। যেন বহমান রুপসাগর। যেন চলমান রুপবতী। যেন উপচে পড়া যৌবন সরস্বতী।

আমাদের পাহাড়ি মেয়ে কর্ণফুলি। আমাদের নাচের রানী কর্ণফুলি। লুসাই রুপসী পাহাড়ি কন্যা, চির অনন্যা কর্ণফুলি। মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের হৃদপিন্ড থেকে উৎসারিত রাম পাহাড় সীতা পাহাড়ের বুক চিরে পাহাড়ের কান্নাকে অগুনিত, অপরিমেয়  সাগরের নীল জলে অঞ্জলি দেয়া পাহাড়ি নদী কর্ণফুলি।

সবুজ, অবুঝ, আনমনা, আনকোড়া,  নির্বাক পাহাড়ের সংবেদনশীল জীবন্তসত্তা কর্ণফুলি। আমাদের এই বাংলাদেশের পাহাড়ি নদী কর্ণফুলি। দক্ষিন পুর্ব বাংলা অঞ্চলের সামাজিকতা, সাংস্কৃতিকতার ভান্ডার কর্ণফুলি। আঞ্চলিকতার  বহমান দর্পন, জাতিসত্তার পবিত্রতা নিশ্চায়ক  ভাগ্যবতী নদী কর্ণফুলি। বিরহীর বেদনার অশ্রু, হতভাগ্য প্রেমিকের আত্নাহুতির ঠিকানা, কুলবধুর উদাসী পথচাওয়ার সীমাহীন সীমানা, সাম্পান মাঝির উদাস কন্ঠের আকুতি—আর্তনাদ, সাংস্কৃতিক নদী, অর্থকরি নদী, বাণিজ্যের নদী, নির্ভরতার নদী, আত্মীয়তার নদী, কর্ণফুলি।

নীরব, নিস্তব্ধ, নির্বাক পাহাড়ের বুকচিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের এই নদীতীরে পড়ন্ত বিকালে বসে জলের ওপর বৈকালিক আলোর পতন ছন্দ, মৃদুমন্দ হালকা বাসন্তী  প্রতিফলন।

সাথে নিকট, দুরের ন্যাড়া ক্ষত  হালকা সবুজ পাহাড়ের  নির্বাক— নির্বোধ ফ্যালফ্যাল দৃষ্টির সবাক অন্তরদোলা আমাদের দুলিয়েছে সারা বিকেল।

অপুর্ব, অভুতপুর্ব, অদৃশ্যপূর্ব, অনিন্দসুন্দর, অমোচনীয় এক জীবন্ত অনুভূতি। মন ভরে যায় যখন এরকম একটি প্রাচুর্যময়, ঐতিহ্যমন্ডিত, ঐশ্বর্যে্যর রানী নদীর পাড়ে বসার সুযোগ হয়। আমাদের আজ তা—ই হয়েছিল। আবার কবে হবে জানিনা।

বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বার্ষিক বনভোজনের আয়োজকদের ধন্যবাদ অফুরন্ত। এমন  সুযোগ যেন আসে বার বার, কোলাহল ক্লান্তি ভরা প্রতিটি ব্যস্ত জীবনে। রসায়ন সমিতির এই আয়োজনে যুক্ত ছিলেন যথাক্রমে— প্রফেসর রিয়াজুল হক, প্রফেসর শামসুদ্দিন আজাদ, প্রফেসর মনজুরুল করিম, শওকত হোসেন, উপাধ্যক্ষ সিরাজউদ্দিন, ব্যাংকার নুরুন্নাহার, এস ভিপি মোঃ আবুল হাসেম, প্রফেসর ফরিদ আহমদ, প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম, প্রফেসর মোঃ আলমগীর হোসেন, প্রফেসর নুরুল আনোয়ার, উপাধ্যক্ষ মাহফুজুল হক চৌধুরী প্রমূখ।

বিশ্ব নারী দিবসের পুনর্পাঠ : বহুমাত্রিক নারীর নতুন ভাষ্য

শাহেদ কায়েস   নারীর ইতিহাস কোনো একরৈখিক অগ্রযাত্রা নয়—তা বহু পথে বয়ে চলা নদীর মতো, যেখানে সংগ্রাম, প্রেম, প্রতিরোধ, রাজনীতি, শ্রম, মাতৃত্ব, শিল্প, দর্শন ও

আন্দরকিল্লার ইফতার অনুষ্ঠানে সুধীজনদের অভিমত বাঙালি জাতিসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার চিহ্নটিই অনির্বাণ অস্তিত্বের প্রতীক

আন্দরকিল্লা ডেক্স : শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সমাজভাবনামূলক কাগজ ‘আন্দরকিল্লা’র ইফতার আয়োজনে সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আন্দরকিল্লা কোনো বলয়বদ্ধ সীমানায়

প্রথা ভেঙে বেরিয়ে এসো নারী  

গৌতম কুমার রায় বিংশ শতাব্দী বিদায় হওয়ার পরে এসেছে একবিংশ শতাব্দী। বিজ্ঞান এগিয়েছে। সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে পুরুষ। কিন্তু নারী ! শুধু পিছিয়েছে নারী। কেন

আদিবাসী নারী

কুমার প্রীতীশ বল   ‘হৈ হৈ হৈ জুমত  যেবং. জুমে যেইনে গচ্ছা সুদা তুলিবং. গচ্ছা সুদা তুলি নেই টেঙ্গা কামেবং।’ চাকমা এই গানটির বাংলা অনুবাদ

মহাশ্বেতা দেবী: দর্শন, সাহিত্য ও সমাজচেতনার প্রতিফলন

রওশন রুবী   মহাশ্বেতা দেবী উপমহাদেশের একজন শক্তিমান ও প্রখ্যাত লেখক। তাঁর শতবর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাহিত্য শব্দের সীমা অতিক্রম করে মানবতার গভীর নৈতিক শক্তিতে