প্রবীর বিকাশ সরকার
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্র করে জাপানে বিগত শত বছরে কত শত ক্ষুদ্র প্রকাশনা প্রকাশিত হয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। কত যে হারিয়ে গেছে যথার্থভাবে সংরক্ষণ না করার কারণে তারও হিসাব আছে বলে মনে হয় না। নানা ধরনের প্রকাশনা। সেটা হতে পারে আমন্ত্রণপত্র, অনুষ্ঠানের টিকিট, প্রচারপত্র, গ্রন্থের বিজ্ঞাপন, সংকলন, স্মরণিকা ইত্যাদি। সমকালীন সংস্কৃতির ইতিহাস লিখতে গিয়ে সেগুলোও তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিগত ৪০ বছরে রবীন্দ্রবিষয়ক অনেক ক্ষুদ্র প্রকাশনা আবিষ্কার করেছি জাপানের বিভিন্ন জায়গা থেকে। বিশেষ করে, ১৯৬১ সালে জাপানে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কিছু অসাধারণ ক্ষুদ্র প্রকাশনা যেমন, পোস্টার, প্রচারপত্র, টিকিট, স্মরণিকা, অনুষ্ঠানসূচি ইত্যাদি আবিষ্কার করেছিলাম। সেগুলো নিয়ে আলোচনাও করেছি।
বছর কয়েক আগে প্রয়াত জাপানশীর্ষ রবীন্দ্রগবেষক বাংলা ভাষা ও বাঙালিপ্রেমী এমেরিটাস প্রফেসর কাজুও আজুমার বাড়িতে প্রচুর মুদ্রিত দলিলপত্রের মধ্যে দুটি অনুষ্ঠানসূচি খুঁজে পেয়েছিলাম। একটি ১৯৮৬ সালে মুদ্রিত, অন্যটি ২০০১ সালে। দুটোই সাদাকালো গ্রন্থাকৃতির। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অমূল্য দলিল। অনুষ্ঠানের আয়োজক স্বনামধন্য জাপানি রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী শ্রীমতী কাম্বে তোমোকোর দল বা সংস্থা। এই দলের সদস্য সকলেই জাপানি নাগরিক। তারা হারমোনিয়ম, সেতার, তবলা, এস্রাজ, বাঁশি, তানপুরা, মন্দিরা, ঢোল ইত্যাদি বাজাতে পারঙ্গম।
শ্রীমতী কাম্বে জাপানে রবীন্দ্রভক্ত এবং প্রবাসী ভারতীয় বাঙালি সমাজে খুবই সুপরিচিত একটি নাম বহুবছর ধরে। তিনি বাংলা ভাষাতেই শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন না, জাপানি ভাষায়ও করেন। সুতরাং তিনি একজন রবীন্দ্র অনুবাদকও বটেন! যদিও কাজটি আদৌ সহজ নয়। রবীন্দ্রসঙ্গীতের বাইরে নজরুলগীতি, অতুলপ্রসাদ, লোকগীতি, লালনগীতিতেও সমান পারদর্শী শ্রীমতী কাম্বে। অবিবাহিত আশি উত্তীর্ণ ব্যক্তিজীবনে একজন পিয়ানো শিক্ষক শ্রীমতী কাম্বে এখনো জাপানে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে কর্মতৎপর। মঞ্চ ছাড়াও ইউটিউব চ্যানেলে তিনি গান পরিবেশ করে চলেছেন। এছাড়াও তিনি রবীন্দ্ররচনা জাপানি ভাষায় অনুবাদ করেছেন যেমন, পুরনো বট, রবীন্দ্রনাথের শিশুতোষ নদী কবিতা নিয়ে ‘কাওয়া’, শিশু, শিশু ভোলানাথ; ৬০টি রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনুবাদকৃত সিডিও প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য যে, শ্রীমতী কাম্বে উপর্যুক্ত রবীন্দ্রগবেষক দেশিকোত্তম অধ্যাপক কাজুও আজুমার শিষ্যা। তাঁরই উৎসাহে ও ব্যবস্থাপনায় শ্রীমতী কাম্বে ১৯৭৬-৭৭ সালে শান্তিনিকেতনস্থ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা শিক্ষালাভ করেন। শান্তিনিকেতন মানেই গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ। সেখানে গিয়ে তিনি সবুজ সতেজ প্রকৃতিসমৃদ্ধ রাবীন্দ্রিক পরিবেশ তার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। সেখানে অবস্থানকালে প্রতিবেশী বাড়িতে প্রতিদিন সকালবিকাল রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে অভিভূত হন এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত শিক্ষালাভে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সঙ্গীতভবনের অধ্যক্ষ রবীন্দ্রশিষ্য শান্তিদেব ঘোষের কাছে তালিম নেন এবং ১৯৮৩, ১৯৮৭ এবং ১৯৯০ সালে শান্তিনিকেতনে অবস্থান করে স্বসাধনাবলে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন দেশ-বিদেশের রবীন্দ্র পরিমণ্ডলে। ১৯৮৫, ১৯৮৯ এবং ৯০ এর দশকে কলিকাতায় একাধিক একক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করে রবীন্দ্রসঙ্গীতপ্রিয় শ্রোতা ও অভিজ্ঞ মহলের ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেন। ক্রমে ক্রমে তাঁর জীবনে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে ওঠেন ধ্রুবতারা। রবীন্দ্রনাথেই তাঁর সমর্পণ এবং আধ্যাত্মিক শান্তি। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে জাপানের সাংস্কৃতি বন্ধন যে বহুপুরনো এবং রবীন্দ্রনাথ ভারতবর্ষের পর জাপানকেই অধিক ভালোবেসে পাঁচবার এ দেশে এসেছেন, বহু বিদগ্ধ জাপানি নাগরিকের সঙ্গে তাঁর গভীর হৃদ্যতা ছিল——সেইসব ইতিহাস জেনে তিনি রবীন্দ্রনাথকে আত্মর আত্মীয় বলে গ্রহণ করে নিয়েছেন। তারই ফলশ্রুতি তাঁর প্রায় অর্ধশতাব্দিকালের একটানা রবীন্দ্রবন্দনা। জাপানে ১৯৮৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর রবীন্দ্রজন্মবার্ষিকী উপলক্ষে “রবীন্দ্রসঙ্গীত সন্ধ্যা” অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসেছেন। এছাড়াও জাপান প্রবাসী ভারতীয় বাঙালি ও বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানেও রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করে আসছেন। ২০১১ সালে কবিগুরুর সার্ধশতজন্মবর্ষ উপলক্ষে ঢাকার চ্যানেল আই টিভির তৎকালীন কর্মকর্তা প্রণব সাহা তাঁর একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে সম্প্রচার করেন আমার মাধ্যমে। শিল্পী কাম্বে বাংলাদেশ ভ্রমণ করে সেখানেও রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশ করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সঙ্গে। রবীন্দ্রস্মৃতিধন্য বাংলাদেশও তাঁর অত্যন্ত প্রিয় দেশ।
ধারণা করা হচ্ছে অনেক বছর ধরেই স্বআয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোর অনুষ্ঠানসূচি স্মরণিকাকারে প্রকাশ করেছেন তিনি। তারই দুটি আবিষ্কার করেছি প্রয়াত কাজুও আজুমার বাড়িতে। কী ধরনের গান এবং আয়োজন ছিল তখন তারই একটি চিত্র তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই নিবন্ধ।
১৯৮৬ সালের অনুষ্ঠানসূচি:
এই অনুষ্ঠানসূচির পৃষ্ঠা সংখ্যা সর্বমোট ১৪। প্রচ্ছদে রয়েছে চতুষ্কোণ ফুলেল বৃত্ত, তার মধ্যে বড় হস্তাক্ষরে লেখা তাগো-রু তানজোও ১২৫ নেন অ ওইওয়াই শিতে অর্থাৎ ১২৫তম রবীন্দ্র জন্মবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে। এর নিচে লেখা দাই গোকাই তাগো-রু কাকিয়োকু নো ৎসুদোই অর্থাৎ পঞ্চমতম রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনুষ্ঠান। এর নিচে রয়েছে একটি ভারতীয় নারীর অঙ্কনচিত্র। একেবারে নিচে রয়েছে শিল্পীর নাম, দিনতারিখ, সময় ও স্থানের কথা।
ভেতরের ২ ও ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় রয়েছে রবীন্দ্রনাথের একটি ছবি এবং অনুষ্ঠানসূচি বিস্তারিত। দুই পর্বের অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে রয়েছে ৯টি গান। যথাক্রমে, ‘ওরে গৃহবাসী’, ‘ঝরাপাতা গো, আমি তোমারি দলে’, ‘দূরে কোথায় দূরে দূরে’, ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’, ‘কত কথা তারে ছিল বলিতে’, ‘তোমার হল শুরু, আমার হল সারা’, ‘নূতন প্রাণ দাও, প্রাণসখা’, ‘তোমারই গেহে পালিছ স্নেহে’ এবং ‘গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ’। প্রথম দুটি এবং শেষের তিনটি গান কোরাস। গায়কগায়িকাদের মধ্যে প্রায় সবাই জাপানি, বাকি তিনজন দক্ষিণ ভারতীয় ও বাঙালি। নৃত্যেও জাপানি নারী। আবৃত্তিতে জাপানপ্রবাসী বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালির নাম দেখা যাচ্ছে। বাদ্যযন্ত্রীরাও সবাই জাপানি।
দ্বিতীয় পর্বে নৃত্য, আবৃত্তি ও গান। নৃত্যের সঙ্গীত যথাক্রমে, ‘গহনকুসুমকুঞ্জ মাঝে, মৃদুল মধুর বংশি বাজে’, ‘ওরে ঝড় নেমে আয়’ এবং ‘এসো শ্যামল সুন্দর’। কবিতা আবৃত্তি ‘ওরা কাজ করে’। তারপর দুটি গানের একটি হল, ‘বেলা গেল তোমার পথ চেয়ে’, অন্যটি অনুল্লেখিত।
৪ থেকে ৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রয়েছে দুই পর্বে গীত গানগুলোর জাপানি অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন কাম্বে শ্রীমতী তোমোকো এবং শ্রীযুক্ত ওওনিশি মাসায়ুকি । ওওনিশি একজন প্রসিদ্ধ বাংলাভাষা বিশারদ,
রবীন্দ্ররচনার অনুবাদক ও গবেষক। গানগুলো যে বাংলা থেকে সরাসরি অনূদিত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ১০ ও ১১ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে বিশ্বভারতীর স্বনামধন্য অধ্যাপক ও রবীন্দ্রগবেষক সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত “রবীন্দ্রনাথের গানে প্রকৃতি” বিষয়ক একটি প্রবন্ধের আংশিক অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন শিল্পী কাম্বে তোমোকো। শেষ প্রচ্ছদে ছাপা হয়েছে আগের বছরের অনুরূপ অনুষ্ঠানের একটি চিত্র, সঙ্গীত পরিবেশন করছেন কাম্বে তোমোকো।
২০০১ সালের অনুষ্ঠানসূচি:
২০০১ সালে প্রকাশিত অনুষ্ঠানসূচিটি সর্বমোট ১৬ পৃষ্ঠা। এটা ২০তম আয়োজন এবং রবীন্দ্রনাথের ১৪০তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে মুদ্রিত। প্রচ্ছদে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী অলঙ্করণসহ তাগো-রু উতা নো য়ুউবে: শিজেন তো নো চৌওয়া অ উতাউ অর্থাৎ রবীন্দ্রসঙ্গীত সন্ধ্যা: প্রকৃতির ঐক্যতান গাওয়া শিরোনামসহ শিল্পী, বাদ্যযন্ত্রী, সময়, স্থান ও আয়োজকের নাম রয়েছে। আয়োজক হিসেবে মুদ্রিত আছে “তাগো-রু উতা নো কাই [শোনগিতা]” অর্থাৎ রবীন্দ্রসঙ্গীত সংস্থা সঙ্গীতা। সংস্থা প্রধান কাম্বে তোমোকো।
দ্বিতীয় প্রচ্ছদে মুদ্রিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের অঙ্কিত একটি অঙ্কনচিত্র। অনুষ্ঠানটি তিনটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে, রয়েছে ৫টি গান, চারটি গানেরই শিল্পী কাম্বে তোমোকো আর দ্বৈতকণ্ঠে একটি গেয়েছেন শ্রীমতী ইওয়াকুরো য়োওকো এবং শ্রীমতী মাসুদা মোয়োনো। গানগুলো যথাক্রমে, ‘বিপুল তরঙ্গ হে’, ‘তোমারি গেহে পালিছ স্নেহে’, ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’, ‘এ কী আকুলতা ভুবনে’ এবং ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’। দ্বিতীয় পর্বে, ৫টি গান, যথাক্রমে ‘হে নূতন দেখা দিক আর বার’, ‘ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে’, ‘পুরানো সেই দিনের কথা’, ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ ও ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে’। দুটি নৃত্যের সঙ্গে গীত ‘বঁধু, কোন্ আলো লাগল চোখে’ এবং ‘মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে’। একটি আবৃত্তি ‘বীরপুরুষ’ কবিতা। এই
পর্বটি ছিল শুধুই জাপান প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য। সহযোগী হিসেবে জাইনিচি ইনদোজিন তাগো-রু আইকোও কাই অর্থাৎ ভারতীয় রবীন্দ্রপ্রেমী সংস্থার শিল্পীরা এই পর্বটি উপস্থাপিত করেছেন। তবে বাদ্যযন্ত্রী সকলে ছিলেন জাপানি।
তৃতীয় পর্বে গীতাঞ্জলি থেকে ৬টি গান, যথাক্রমে, ‘প্রভু, তোমা লাগি আাঁখি’, ‘আজি এই গন্ধবিধুর সমীরণে’, ‘যদি তোমার দেখা না পাই’, ‘এই তো তোমার প্রেম’, ‘আমার মিলন লাগি তুমি’ এবং ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে’। তিনটি গান শিল্পী কাম্বে তোমোকো, একটি মাৎসুমোতো নোবুকো আর বাকি দুটি ছিল কোরাস।
৬ থেকে ১৩ পৃষ্ঠা পর্যন্ত গীত গান, নৃত্য এবং আবৃত্তির কবিতার জাপানি অনুবাদ। এবং সবগুলোর অনুবাদক শিল্পী কাম্বে তোমোকো। ১৪ ও ১৫ পৃষ্ঠাব্যাপী পূর্বে প্রকাশিত সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতে প্রকৃতি” প্রবন্ধের একই জাপানি অনুবাদ মুদ্রিত হয়েছে। শেষ প্রচ্ছদে রয়েছে ‘ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে’ গানের জাপানি স্বরলিপি এবং পূর্ববর্তী ১৯তম অনুষ্ঠানের একটি ছবি যাতে গান করছেন শিল্পী কাম্বে তোমোকো।
এ দুটি প্রকাশনার বিশেষত্ব হচ্ছে, শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীতকেই জাপানে উপস্থাপন করা নয়, দর্শক ও শ্রোতাকে রবীন্দ্রনাথের মাতৃভাষা, তাঁর গান ও কবিতার মর্ম উপলব্ধি করানো। আশির দশকে জাপানে বাংলা অক্ষর এককথায় দুষ্প্রাপ্য, তথাপি বাংলা ভাষার প্রতি প্রবল প্রেমের কারণে গানের প্রথম পঙক্তিগুলো স্বহস্তে লেখা হয়েছে। ধারণা করা যায় শিল্পী কাম্বেই লিখেছেন। পরবর্তীকালে অবশ্য বাংলা অক্ষর অনেকটাই সহজলভ্য হয়েছে জাপানে, তাই ২০০১ সালের অনুষ্ঠানসূচিতে বাংলা মুদ্রাক্ষর ব্যবহৃত হয়েছে। বলাই বাহুল্য যে, সমকালীন সাংস্কৃতিক ইতিহাস রচনার আকরসম মুদ্রিত স্মারক হিসেবে অনুষ্ঠানসূচি দুটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ এবং অমূল্য। এজন্য অবশ্যই রবীন্দ্রভক্ত আয়োজকদেরকে সাধুবাদ জানাতে হয়।
প্রবীর বিকাশ সরকার : প্রাবন্ধিক ও গবেষক




