এখন সময়:সন্ধ্যা ৬:৪০- আজ: মঙ্গলবার-২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-শীতকাল

এখন সময়:সন্ধ্যা ৬:৪০- আজ: মঙ্গলবার
২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-শীতকাল

মুসলিম সম্পাদিত ও প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র : শিখা

ইসরাইল খান

ভূমিকা: উনিশ শতকের রেনেসাঁস হিন্দুসমাজেই বদ্ধ ছিল। ওর মর্মবাণী সমাজঅভ্যন্তরে প্রবাহিত করেছিলো যেসকল সাময়িকপত্র তা ছিল হিন্দুসমাজপতিগণের। মুসলিম- পত্রপত্রিকার উদাহরণ কেবলই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। উল্লেখ করলেও ভালো না করলেও ক্ষতি নেই। মুসলিম মালিকানার পত্রিকাগুলোকে শক্তিশালী হতে দেখা যায় ১৮৯০-এর পরে। বিশ শতকের নবপ্রভাতে নবনূরের আলোয় বেঁকে যায় গতিপথ সেপথের অদূরেই বসে রীতিমতো হাট পত্রপত্রিকার যার মালিক লেখক সম্পাদক মুদ্রক মুসলমান। শতবর্ষের প্রান্তে এসে মনীষী রামমোহনসূচিত রেনেসাঁসের পরশমণির ছোঁয়ায় মুসলমান সমাজে একটা জাগরণ ঘটেছে বলে স্পষ্ট অনুভব করা যায়। এই পর্বের পরিণতি ১৯৭১ সালে।
মুসলমান সমাজে নজরুলের আত্মপ্রকাশ ঘটে বিস্ফোরকরূপে। ঘটনাক্রমে নজরুলের সাথে সাথে ঐতিহাসিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সাময়িকপত্র ও কয়েকজন মুসলিম লেখক ঝট্পট্ একই সঙ্গে সাহিত্যসমাজে আত্মপ্রকাশ করেন। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, সওগাত, মোসলেম ভারত, নবযুগ, ধূমকেতু, সাম্যবাদী, লাঙল, সাহিত্যিক, শিখা, মোহাম্মদী, মোয়াজ্জিন ঐকালের প্রভাবশালী পত্রিকা। জয়তী, প্রাতিকা, গুলিস্তাঁ, আল-ইসলাহ্, বুলবুল, ছায়াবীথি, সবুজ বাঙলা, পূরবী চতুরঙ্গ, মৃত্তিকা, নওরোজ, ত্রিকাল, প্রভৃতি ত্রিশের দশকের পত্রিকা । বিশ শতকের প্রথমার্ধে মুসলমান সমাজ থেকে প্রকাশিত এই সমস্ত পত্রিকাই দলবেঁধে বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলিম মানস গড়ার কাজ করে স্মরণীয় হয়ে। তাঁদের সাথে ছিল একগুচ্ছ অপ্রধান পত্রিকাও। দৈনিক-সাপ্তাহিক-পাক্ষিক সংবাদ-সাময়িকী ছিল কয়েক ডজন। পাকিস্তানের অঙ্কুর গজানোর (১৯৩০) দশ বছর পরেই তাঁরা কল্পিত ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ কবিতাও (১৯৪০)
প্রসব করতে থাকে। মুসলমানসমাজ দ্রুতদৌঁড় শিখেছিল কতোটা—এ তার প্রমাণ। কিন্তু ঐকালের সাময়িকপত্রের ভূমিকা নির্ণয়ের কাজ বহুদিন অবহেলিত ছিল। অথচ বাঙলা তথা ভারতবর্ষের রাজ্যসমূহের পুনর্বিন্যাস, পাকিস্তান-সৃষ্টি, বঙ্গ-বিভাজন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন প্রভৃতি পটপরিবর্তনে এবং বাংলা সাহিত্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে মুসলিম-সম্পাদিত পত্রপত্রিকার ভূমিকা অবিস্মরণীয়। গবেষণার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অলঙ্ঘনীয়।
রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাইজ অর্জন ও সবুজপত্রের ধারায় কল্লোল-প্রগতিও যখন প্রকাশিত হয়ে গেছে ; বাংলা সাহিত্যের সকল শাখায় হিন্দু-সাহিত্যিকদের শ্রেষ্ঠত্ব ও একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এমনকি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রভাবে ভারতবর্ষের উড়িষ্যা, কেরালা, কন্নড় প্রভৃতি অঞ্চলে অপরাপর ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টি এবং নতুন-নতুন পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হতে আরম্ভ করেছে তখনও সওগাত-সম্পাদককে পরামর্শ দিতে হয়েছিল মুসলিম সাহিত্যিকদেরকে যে, যাঁর যাঁর মেধার বৈশিষ্ট্য ও ক্ষমতা অনুযায়ী ক্ষেত্র নির্বাচন করে যেন তাঁরা সাহিত্য রচনায় ব্রতী হন।—যদিও এই সময়ে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, নজরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, আবদুল ওদুদ, এস. ওয়াজেদ আলি, জসীমউদ্দীন হুমায়ুন কবির সৈয়দ মুজতবা আলী প্রমুখ সাহিত্যিক স্বকীয় প্রতিভাবলে সারা বাঙলার সাহিত্যামোদীদের কাছে সুনাম অর্জন করেছেন; নজরুল ইসলামকে অ্যালবার্ট হলে বাঙালি সকলের পক্ষে সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তখনও বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের সাহিত্যিক অবদান ছিল এক নিঃশ্বাসে বলে শেষ করার মতো। পরের দশকে আর এই অবস্থা ছিল না। প্রয়োজন হলো বহুমুখী বিশ্লেষণের। এর মূলে ছিল মুসলিম সম্পাদিত কতিপয় সাময়িকপত্রের অনবদ্য ভূমিকা।
দুই
মুসলমানদের আধুনিক পত্রিকা নবনূর প্রকাশিত হয় সৈয়দ এমদাদ আলীর সম্পাদনায় ১৯০৩ সালে। নবনূরপূর্র্ব পত্রিকাগুলো প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। অধিকাংশই ছিল ক্ষীণকায় স্বল্পপ্রাণ সংবাদধর্মী মফস্বল থেকে প্রকাশিত। কালিক-চাহিদা পূরণ করে খ্যাতি অর্জন করেছিল সুধাকর, হিতকরী, ইসলাম প্রচারক, মিহির, হাফেজ, কোহিনূর। বিশ শতকের সূচনার দশকটি তাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল মুসলমানদের জন্য। বঙ্গভঙ্গনিরোধ-আন্দোলন সফল হবার পরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধচলাকালীন সময়ে মুসলিম-সম্পাদিত পত্রিকাজগতে যেমন তেমন মুসলিম সাহিত্যিকদের মনোজগতে ধাক্কা লাগে। কালের নিয়মে মুসলমান সমাজে আশ্চর্য পরিবর্তন দেখা গেল। সওগাতসহ ক’টি পত্রিকা মুসলমানদের সাহিত্যিক ক্ষুধা-তৃষ্ণা মেটাতে প্রয়াসী হয়। কাজী নজরুল আত্মপ্রকাশ করায় মুসলমানদের হীনমন্যতা দূর হতে থাকে। মুজফফর আহমদ এবং ফজলুল হক বাঙালি মুসলমানের সামনে মেধার উজ্জ্বল স্বাক্ষর প্রদর্শন করার ফলেও তাঁরা উজ্জীবিত হন। পশ্চাৎপদ মুসলমানদের প্রতি অগ্রবর্তী সুশিক্ষিত হিন্দু সমাজের সচকিত দৃষ্টি আকৃষ্ট হল। বিদ্রোহীর প্যারোডি লিখে মোহিতলাল নজরুলের সম্মান বাড়িয়ে দিলেন। নজরুল-জসীমউদ্দীন-আবদুল কাদির-হুমায়ুন কবির-বন্দে আলী-শহীদুল্লাহ-মনসুরউদ্দীন-শামসুন্নাহারের রচনা ছেপে কল্লোল-প্রগতি-কালি-কলম-ধূপছায়া মুসলিম লেখকদের অত্যাধুনিক সাহিত্যপত্রিকার লেখকগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। নজরুলের প্রতি স্নেহবৃষ্টি বর্ষণ করলেন স্বয়ং কবিগুরু। বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদান আবার যুক্ত হল। সাহিত্যবিশারদ আবিষ্কৃত নমুনা প্রমাণ করল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে মুসলমানেরা কোনোকালেই পশ্চাৎপদ ছিলেন না। শাহ্ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ জুলেখার কাল নির্ণয় করে বলা গেল বড়ু চণ্ডীদাসের সমকালে একই সাথে হিন্দু ও মুসলমান লেখকেরা বাংলা সাহিত্যের চর্চা আরম্ভ করেছিলেন। তাঁদের সংখ্যা ও গুণগত মানও সমপর্যায়ের। আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন তাঁদের শক্তি জুগিয়েছিলেন ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ রচনা করে।
লক্ষণীয়, বিশ শতকের সূচনায়ও যাঁরা জড়তা অদক্ষতা নিয়ে পত্রিকাজগতে ছিলেন পিছনের সারিতে, কয়েক বছরের ব্যবধানে তাঁরা নবযুগের (১৯২০) মতো সমাজতান্ত্রিক আদর্শানুগ দৈনিক পত্রিকা প্রকাশেরও কৃতিত্ব দেখালেন। মওলানা আকরম খাঁর সম্পাদনায় ১৯২১ সনে আরও একটি দৈনিক পত্রিকা সেবক প্রকাশিত হল। সরকার-বিরোধী রচনার জন্য পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। সম্পাদক হয়েছিলেন কারারুদ্ধ। এরপর প্রকাশিত হয় দৈনিক মোহাম্মদী। বিপ্লব ও সংগ্রামের দশকে ১৯২১ থেকে মুসলিম সম্পাদিত পত্রপত্রিকার জগতে নবপ্রাণের শিহরণ ধ্বনিত হল। দৈনিক সোলতান (১৯২২), দৈনিক তরক্কী (১৯২৬), দৈনিক হানাফী জামায়েত (১৯২৬), দৈনিক আমির (১৯২৯), দৈনিক রাষ্ট্রবার্তা (১৯৩০) মুসলমানেরা প্রকাশ করতে সমর্থ হল। ১৯৩৬ সনে ‘দৈনিক আজাদ’ প্রকাশিত হয় যার সঙ্গে তুলনা চলে ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকার। আনন্দবাজার যেমন হিন্দুদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধানতম মুখপত্র, তেমনি ‘আজাদ’ সাতচল্লিশ পূর্ববর্তী সময়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান দৈনিক মুখপত্র। দি মুসলমান, দি পীস, সার্ভেন্ট অব হিউম্যানিটি প্রভৃতি ইংরেজি পত্রিকাও তাঁরা প্রকাশ করেছিলেন। সকল প্রকার পত্রিকা প্রকাশের অভিজ্ঞতা পূর্ণ হয় তাঁদের ত্রিশের দশকেই। স্মরণীয় যে, ১৯২১ সনে ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি কার্যক্রম শুরু করে। বিশ্বজোড়া শ্রমিক মজদুর শ্রেণির যে নতুন জাগরণ— তার ফলে ধর্মীয় পরিচয় ছাড়া খাঁটি বাঙালি নাম ধারণ করে মুসলিম সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল দেবর্ষি দরবার, নবযুগ, ধূমকেতু, লাঙল, গণবাণী, সাম্যবাদী প্রভৃতি পত্রিকা। এঁদের লক্ষ্য ছিল ‘ভারতবাসীর মধ্যে ঐক্যসাধন এবং কৃষক মজদুর সেবা’। পশ্চাৎপদশ্রেণীর মুসলমানদের মধ্য থেকেই মার্কসীয় মতাদর্শ সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের বাণী প্রচারের জন্য সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। এই বিশেষ অবদানটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপন করা দরকার। কারণ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকারগণ মুসলমানদের দৈন্যই সর্বত্র লক্ষ করে থাকেন।
১৯২১ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পূর্ববঙ্গের মুসলমান সমাজে নতুন মধ্যবিত্ত ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় গড়ে উঠবার পথ প্রশস্ত হয়। এই দশকেই ঢাকাকেন্দ্রিক বুদ্ধিরমুক্তি আন্দোলন এবং শিখা (১৯২৬) প্রতিষ্ঠিত হয়। শিখা নামটিও লক্ষণীয়। বাঙালি বৈপ্লবিক ও প্রগতিভাবাপন্ন। ১৯২১-৩০ সময়ে প্রকাশিত মুসলিম সম্পাদিত পত্রপত্রিকার নামগুলোও এক নজরে দেখা যেতে পারে। এতে বোঝা যায় মুসলমানেরা জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী আলোকাভিসারী হয়ে উঠছেন। এই সময়ের পত্রিকার নাম নারী শক্তি (১৯২২), সোনার ভারত (১৯২৩), বাহাদুর (১৯২৩), দেশের কথা (১৯২৪), সত্যাগ্রহী (১৯২৪), যুগবাণী (১৯২৪), তরুণপত্র (১৯২৫), সৌরভ (১৯২৫), লাঙল (১৯২৫), যুগের আলো (১৯২৬), খাদেম (১৯২৬), দরদী (১৯২৬), হিন্দু মুসলমান (১৯২৬), অভিযান (১৯২৬), গণবাণী (১৯২৬), সাহিত্যিক (১৯২৭), জাগরণ (১৯২৮), তরুণ (১৯২৮), সঞ্চয় (১৯২৮), জয়তী (১৯৩০) প্রভৃতি।
১৮৩১ থেকে ১৯৩০ পর্যন্ত মুসলমান সম্পাদিত-প্রকাশিত-পরিচালিত পত্রিকার সংখ্যা জানা মতে ১৫৬। উনিশ শতকের বাঙালিরা সাহিত্যের বিকাশ ছাড়া যে সমাজ জাগবে না, আর সাহিত্যের জন্য দরকার সাময়িকপত্র—একথা বুঝে যেমন সাহিত্যপত্রিকার ঐতিহ্য গড়ে তুলেছিলেন, তেমনি মুসলমানেরাও সেপথ ধরেছিলেন।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র : শিখা (ঢাকা, ১৩৩৩-৩৮)

বাঙলার বিদ্বৎসমাজের কাছে ১৯২৬ সনে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ ও এর মুখপত্র বার্ষিক ‘শিখা’র পরিচয় প্রদানের প্রয়োজন নেই। রামমোহন-বিদ্যাসাগরের যুক্তিবাদী ঐহিক চিন্তার স্ফূলিঙ্গ থেকে বাঙালিসমাজে যে আলোকপন্থী একদল লেখক-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী ভবিষ্যৎ জীবনে দিশা লাভ করেছিলেন, তাঁদের সকলের প্রয়াস চিহ্নিত হয়েছে ‘বাংলার জাগরণ’ বলে। এই জাগরণের অন্যতম ব্যাখ্যাতা ও সম্প্রচারক, ‘মুসলমান সমাজের রামমোহন’-রূপে সম্মানিত কাজী আবদুল ওদুদ মনীষী আবুল হুসেনের সঙ্গে যুক্ত থেকে আরো কতিপয় মনীষীসহযোগ গড়ে তুলেছিলেন ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। প্রতি বৎসরে এর অধিবেশন বসতো। সেখানে ঢাকার বাইরে থেকেও আমন্ত্রিত অতিথিরা আসতেন। সাহিত্য সমাজের নামের আগে ‘মুসলিম’ কথাটা যুক্ত থাকলেও আলোকপন্থী হিন্দু-ব্রাহ্ম-খৃষ্টান সকলকেই আমন্ত্রণ জানানো হত।
এই সমাজের প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধিবেশনে কাজী নজরুল ইসলাম পরপর তিনবার প্রধানব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত থেকেছেন। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে গান গেয়েছেন, কবিতা পড়েছেন। ১৯৩৬ সালের দশম অধিবেশনে এসেছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিভাষণটি আনন্দবাজার বিচিত্রা বুলবুল সওগাত মোহাম্মদী ও জাগরণসহ বহু পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুসলমান সম্পাদিত পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখিও হয়। নজরুল নামের সঙ্গে স্মৃতিবিজড়িত, বর্ষবাণীর সম্পাদিকা জাহানআরা চৌধুরীর কাছে লেখা শরৎচন্দ্রের চিঠিটিতে বাংলা সাহিত্য ও মুসলমান-সমাজ বিষয়ে কিছু কথাও শরৎচন্দ্র বলেছিলেন, তাও আলোচিত হয়। তখন হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ উৎকটরূপ ধারণ করেছিল। সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হায়দারাবাদের নিজাম সরকার শান্তিনিকেতনের জন্য এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ করলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সে-টাকায় শান্তিনিকেতনে ‘হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ’ বিষয়ে তিনদিনব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করেছিলেন (১৯৩৫)। মূল বক্তা কাজী আবদুল ওদুদ তিন কিস্তিতে সেমিনারে যে দীর্ঘ প্রবন্ধ পাঠ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখবন্ধসহ বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ থেকে তা ১৯৩৬ সালে পুস্তিকারূপে প্রকাশিতও হয়। কিন্তু মুসলমান সমাজের এক বৃহদাংশই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আস্থাশীল-উদার-মুক্তবুদ্ধির অনুসারী কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন, আনোয়ারুল কাদির প্রমুখের বক্তব্যেও প্রচণ্ড বিরোধিতা করেছেন। কখনো-কখনো তাঁদেও লাঞ্ছিত-অপমানিতও করা হয়েছে, যা ইতিহাসে লেখা রয়েছে।
মোহাম্মদী কাজী আবদুল ওদুদ ও আবুল হুসেনের অধিকাংশ বক্তব্যেরই প্রতিবাদ করছে। এঁদেরকে রামমোহন-বিদ্যাসাগরের অন্ধ-অনুকারী বলে গাল-মন্দ করা হয়েছে। শিখাগোষ্ঠী আয়োজিত মুসলিম সাহিত্য সমাজের অধিবেশনগুলোয় পঠিত প্রবন্ধসমূহ মুসলিম-সম্পাদিত পত্রিকাগুলো উপর্যুপরি প্রচার করত তবে কোনোটি ছাপার সাহস সওগাতও দেখাতে পারেনি এমন হতো। সমাজের সাহিত্যসভা ও আলোচনাচক্রে পঠিত সব রচনা তাঁদের শিখাও ছাপাতে পারেনি। শিখা ও অন্যান্য পত্রিকায় প্রকাশিত গোষ্ঠীর লেখকদের রচনা ও বক্তব্যদ্বারা অনুপ্রাণিত সচকিত ও সংশোধিত হয়েছেন ঐকালের শিক্ষিত মুসলমানেরা। সেই ভাবনার বিপক্ষে রক্ষণশীলেরা হৈ চৈ করে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল মুক্তবুদ্ধির চর্চা। ‘শিখা’র দৈর্ঘ্যপ্রস্থ মোটেই অসাধারণ ছিল না, কিন্তু বাঙালি মুসলমানের চিন্তাজগতে তার প্রভাব পড়েছিল সুদূরপ্রসারী।
শিখার প্রথম সংখ্যার প্রকাশক ছিলেন আবদুল কাদির। প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (১৯২৭), পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৩৬, মুদ্রণসংখ্যা ১০০০ দাম আট আনা। পঞ্চম খণ্ড সৈয়দ ইমামুল হোসেন কর্তৃক মডার্ন লাইব্রেরি, ৭৪ নবাবপুর, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। এটি প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৩৮, ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে। প্রথম বর্ষে শিখার সম্পাদক ছিলেন আবুল হুসেন, পরের দুটোর কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ আবদুর রশীদ এবং পঞ্চমের আবুল ফজল। মটো ছিল— ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট,——মুক্তি সেখানে অসম্ভব।’
‘বাংলার জাগরণ’ গ্রন্থে কাজী আবদুল ওদুদ লিখেছেন : বাংলার মুসলিম সমাজে উদার মানবতাবাদী প্রথম সাহিত্যিক বেগম রোকেয়া, কাজী ইমদাদুল হক ও লুৎফর রহমানের চিন্তাধারা ওহাবী প্রভাবমুক্ত ছিলো। তাঁদের আবির্ভাব ঘটে স্বদেশী-আন্দোলনের ফলে বাঙলার রাজনীতি ও সাহিত্যক্ষেত্রে যখন উদার বীর্যবন্ত জাতীয়তার রূপ পরিগ্রহ করেছে তখন। সাহিত্যক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাবের পরে ১৯২৬ সনে প্রকাশিত শিখা-গোষ্ঠীর মন্ত্র ছিল— ঊসধহপরঢ়ধঃরড়হ ড়ভ ঃযব রহঃবষষবপঃ বা ‘বুদ্ধির মুক্তি। এই মন্ত্র তাঁরা লাভ করেছিলেন বহু জায়গা থেকে বিশেষত রামমোহন-রবীন্দ্রনাথ-রঁমা রোলা- কামাল পাশা-সেখ সাদী এবং হজরত মুহম্মদের কাছ থেকে।১
গোষ্ঠীর সদস্যরা সকলেই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে উদাহরণ-উপমা উপস্থাপন করে মুসলমানদের প্রগতির পথে আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আবদুল ওদুদ, আনোয়ারুল কাদির ও আবুল হুসেন ইসলাম ধর্ম ও হজরত মুহম্মদের জীবনী ও কোরান-হাদীসের গতিময় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখিয়ে বলেছিলেন মানুষের উন্নতির রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। ইচ্ছা করলে ‘সে হজরত মোহাম্মদের চেয়েও বড়ো হতে পারে।’
‘যুগধর্ম ধর্মগুরু ও ধর্মশাস্ত্রের জননী। জীবনের বহু ভঙ্গিমতায় সে যুগধর্মের প্রকাশ। যে ধর্মশাস্ত্র এই প্রকাশলালায়িত যুগধর্মকে অস্বীকার করে সে ধর্মশাস্ত্র মানুষের কাজে না লেগে কীটের খাদ্যে পরিণত হয়।’২
আবুল হুসেন পঞ্চম বর্ষের প্রথম অধিবেশনে হজরত মুহাম্মদের জীবনের ওপর আলোচনায় বলেছিলেন—
তাঁর জীবনের প্রত্যেক ব্যাপারকে ঔঁংঃরভু করে মুসলমানদের আর কোনো লাভ নেই, তাঁকে বিচার করতে হবে একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি হিসেবে। ইতিহাসের এক অতীত যুগে ভিন্ন আবেষ্টনে তিনি জন্মেছিলেন—সেখানে বসে তিনি যে জীবনযাপন করেছেন যে শিক্ষা দিয়েছেন, তার থেকে এই যুগে এই দেশে বসে আমরা যতটুকু আলো পাই আমাদের জীবন চলার পথে আমরা তাই শুধু নেব। তা না করে আমরা যদি তাকে শুধু পদে পদে লঁংঃরভু করতে চাই তাহলে তাঁকেও বোঝা হবে না, আমরা নিজেরাও শুধু বিড়ম্বিত হব। কোন একটা আদর্শের প্রতিমাকে আঁকড়ে ধরে থাকা ইসলামের শিক্ষা নয়। মুসলমানের জীবনে প্রতিমা-ভঙ্গের যে শিক্ষা সে শুধু মাটির প্রতিমা-ভঙ্গের শিক্ষা নয়, আদর্শের প্রতিমা-ভঙ্গেরও বটে।’৩

কাজী আবদুল ওদুদ বলেন,
হজরত মোহাম্মদ শেষ পয়গম্বর কিনা, কোরান ফেরেশতার মারফৎ অহিরূপে নাজেল হয়েছিল কিনা আজিকার দিনে এই সব আমাদের বড় সমস্যা নয়—আমাদের সমস্যা হচ্ছে, এই যুগে এই আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে দাঁড়িয়ে হজরত মুহাম্মদের জীবন ও কোরান থেকে আমরা আমাদের জীবনে কতখানি পাথেয় সংগ্রহ করতে পারি। নানা দুঃখ দ্বন্দ্বপূর্ণ মানবজীবনকে কল্যাণের অভিসারী করবার চেষ্টা কোরানে আছে। হজরত মুহম্মদের বিরাট ব্যক্তিত্ব যেন আমাদের চোখ ঝলসে না দেয়—হজরত মুহম্মদের জীবনের কোন ঘটনা যদি আমরা আমাদের জীবনে না নিতে পারি তবে তা পরিহার করতে যেন আমাদের এতটুকু দ্বিধা না হয়।৪

‘সম্মোহিত মুসলমান’ শীর্ষক প্রবন্ধে মুসলমান সমাজের তৎকালীন দুর্দশার কারণ উল্লেখ করেছেন তিনি—
‘আজ আমাদের বুদ্ধি নিঃসাড় হয়ে পড়েছে—আমরা স্থূল বিশ্বাসে জড়িয়ে গিয়ে বুদ্ধির ঘরে তালা দিয়ে রেখেছি। কয়েকটি ধারণার বশবর্তী হয়ে আমরা দুনিয়ার এত ভাঙ্গাগড়া, পরিবর্তন, আবর্তন কিছুতেই সাড়া দিতে চাই না। ইসলাম আজ শত শত বৎসর ধরে চলেছে নানা দেশ, নানা আবহাওয়া, নানা জাতির মধ্য দিয়ে—তাতে তাকে দেশকালের প্রভাবে কিছু কিছু স্বরূপ বদলাতে হয়েছে। আজ আমরা তা না স্বীকার করে ইসলাম-ইসলাম বলে ধর্মের জোশ ও বড়াই প্রকাশ করি। আজ আমাদের ইসলামের গৌরব রক্ষা করতে হলে যুগধর্মের সত্যকে আশ্রয় করতে হবে এবং সেই সত্যে ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।’৫
মুসলিম সাহিত্য সমাজের পক্ষে শিখা মুসলমানদেরকে গতানুগতিক পথ থেকে ফিরাবার সাধনা করেছে। তাঁদের চিন্তার বিষয় ছিল জীবনের সর্বমাত্রিক, বিরাজমান সকল ধরনের সামাজিক সমস্যা ও গলদ বা রোগের কারণ নির্ণয় ও তাঁর পথ বা সমাধান নির্দেশ করা। এ সমাজ (মু. সা.সমাজ) কোন একটি বিশিষ্ট গণ্ডীর মধ্যে আবদ্ধ ছিল না কিংবা এ কোনও এক বিশেষ সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য গঠিত হয়েছিল না। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সাহিত্য সৃষ্টি করা। ‘আর সে সাহিত্যে মুসলমানের প্রাণ ও জীবন ফুটিয়ে তোলাই অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।’৬
শিখার লেখক তালিকায় রয়েছেন, স্যার এএফ রহমান, নজরুল ইসলাম, খানবাহাদুর তসদ্দক আহমদ, মাহমুদ হাসান, খানসাহেব আবদুর রহমান খাঁ, মুন্সী হাবিবুল্লা, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদিও, খানবাহাদুর কমরউদ্দীন আহমদ, আবদুস সালাম খাঁ, রকিবউদ্দীন আহমদ, করুণাকণা গুপ্তা, কাজী মোতাহার হোসেন, কাজী আনোয়ারুল কাদির, আবদুল মঈদ চৌধুরী, আতাউর রহমান, একে আহমদ খাঁ, ফজিলাতুননেসা, আবুল হুসেন, আবুল ফজল, কেসি মুখার্জি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মুসলিম সাহিত্য সম্মেলন: আমার অভিজ্ঞতা, ইংরেজি ভাষায় লিখিত), মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আবুল মোজাফফর আহমদ, কাজী আকরম হোসেন, মোহিতলাল মজুমদার, কালিকারঞ্জন কানুনগো, আবদুর রশীদ ও সেকালের প্রগতিপন্থি মুসলিম চিন্তাবিদগণ। লেখক-আলোচক-সভা ও সম্মিলনের সভাপতি, প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হিসাবে আগত সকল চিন্তাশীলদের আলোচনা ও পঠিত প্রবন্ধের সারাৎসার শিখাগুলোয় সংকলিত সম্পাদকের বার্ষিক বিবরণীতে পাওয়া যায়। তৎকালীন বাঙলার সামাজিক ইতিহাসের রূপরেখা শিখাকে সমৃদ্ধ করেছে। যদিও অনেকে একে ‘সাহিত্য পত্রিকা’ বলতে দ্বিধা করবেন কারণ গতানুগতিক মাসিকের ন্যায় গল্প কবিতার সমন্বয় শিখা ছিল না। কিন্তু সাহিত্য তো কেবল গল্প-কবিতাই নয়, জীবনের কথাই সাহিত্য, জীবনের সর্বমাত্রিক প্রয়োজন ও অকৃত্রিম বেদনাজাৎ অভিব্যক্তি যেহেতু সাহিত্য—জ্ঞানের সকল শাখাই সাহিত্যের অন্তর্গত বিবেচনায় শিখা বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যপত্রিকা সমূহের মধ্যে উন্নত বা সেরা একটি সাহিত্য-পত্রিকা ভিন্ন অন্যকিছু নয়। সম্পাদকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছিল এই সমাজের মুখ্য উদ্দেশ্য ‘চিন্তা চর্চা করা’। শ্রেষ্ঠ চিন্তা উন্নত সাহিত্যের অবলম্বন। প্রকাশকের নিবেদনে বলা হয়——‘সত্যিই পরিপুষ্ট চিন্তাই সাহিত্যের খোরাক জোগায়।… শিখার প্রধান উদ্দেশ্য বর্তমান মুসলমান সমাজের জীবন ও চিন্তাধারার গতির পরিবর্তন সাধন।’ শিখাগুলোয় মুদ্রিত প্রবন্ধসমূহ সমাজের দারুণ দৈন্য ও অভাবের এক প্রজ্জ্বলন্ত প্রতিবিম্ব-সমাজচিত্র। এতে অনেক অপ্রিয় সত্যের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। শিখার কথা— ‘আমরা মনে করি, সমাজের প্রকৃত সহৃদয় সুহৃদবর্গের কেহই সেই অপ্রিয় সত্য হজম করতে নারাজ হবেন না। কারণ নিতান্ত আত্মীয় যে সেই ত আঘাত দিতে পারে। প্রকাশক ‘সাহিত্যিক’ বিবেচনার কথা মনে রেখেই বলেন,—
‘প্রবন্ধগুলি কাহারও কাহারও নিকট নীরস মনে হবে—বিশেষত: যখন তাঁরা দেখবেন এ সংখ্যায় কোন হাল্কা গল্প নাই বা মিষ্টি কবিতা নাই। সেজন্য পাঠকবর্গের নিকট ত্রুটী স্বীকার করি, কেননা আমাদের দুঃস্থ সমাজের বর্তমান অবস্থা চিন্তা করলে আনন্দের হাসির পরিবর্তে বেদনার অশ্রুতে জীবন ভরে উঠে।’৭
শিখার লেখকগণ সমাজের ত্রুটি নির্দেশ করতে গিয়ে যত প্রকার সমস্যা বা কারণ নিরূপণ করেন তার মধ্যে প্রধান কারণ হিসাবে বলা হয়, অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে ইংরেজ আমলের শিক্ষা প্রচেষ্টা থেকে মুসলমানেরা দূরে থেকে অবনতির শেষ সীমায় গিয়ে পৌঁছেছে। বাংলা ভাষার প্রতি বিরাগও তাঁদের অগ্রগমনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। স্যার এ. এফ. রহমান বলেন, সত্যের মত সাহিত্যও সীমাবদ্ধ নয়। যেমন পৃথিবীর সাহিত্যে আমার অধিকার আছে, তেমনি আমাদের সাহিত্যও সত্য হলে পৃথিবী তা আপন করে নেবে। জাতীয় জীবন-সংগ্রামে সাহিত্য একটি অস্ত্র। যুদ্ধের সময় জাতীয়-সঙ্গীত (ঘধঃরড়হধষ ধহঃযবস) যে কাজ করে শান্তির কালে সাহিত্যও ঠিক সেই কাজ করে। যে জাতির পরিবর্তন নাই, তার কোন ইতিহাস নাই। যে জাতিতে সাহিত্য চর্চা নাই তারা নিজেদের ইতিহাসের উপর সমাধি মন্দির তুলে দিয়েছে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি বাঙালি মুসলমানের মনোভাব ফুটে উঠেছে মুসলমান সমাজের উঁচু তলার মানুষ এ. এফ. রহমানের এই বক্তব্যেও : ‘আমারই জীবনে এমন একটা সময় দেখেছি যখন নিজের ভাষাটা না জানাই সভ্যতার চিহ্ন বলে ধরা হতো’, কিন্তু যে ‘মুসলমানের উৎসাহে বাংলা সাহিত্যের এত উন্নতি’, সেই মুসলমান যদি এখন আবার ‘বাংলা সাহিত্যের প্রতি মনোনিবেশ করেন তবেই তাঁরা জাতীয় কীর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে পারবেন।’ তিনি মনে করেন, ‘আধুনিক মুসলমানদের সাহিত্যবিমুখ হওয়া আর জাতিকে খর্ব করা ও সর্বনাশের পথে তুলে দেওয়া এক কথা।’৮
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক খান বাহাদুর মো. তসদ্দুক আহমদ বি.টি. সভাপতির অভিভাষণে স্পষ্ট করেই বলেন, ‘বাঙ্গালা যে আমার মাতৃভাষা সে কথাটা আপনাদের সমক্ষে জোর গলায় বলিতে আমার একটুও দ্বিধা বোধ হয় না। কারণ তাহা না-হইলে আমার নিজের মা-কেই অস্বীকার করিতে হয়। এতটা অধোগতি আপনাদের আশীর্বাদে এখনও আমার হয়। তাঁহাদের মাতৃভাষা বলিয়া স্বীকার করিতে লজ্জা বা অপমান বোধ করেন। তাঁহারা নাকি বলেন, ‘শরিফ’ অর্থাৎ সদ্বংশজাত মুসলমান বলিয়া পরিচয় দিতে হইলে মাতৃভাষাটাকে না বদলাইলে চলিবে না।”৯ তিনি বলেন, ‘সাহিত্যের’ মাপকাঠিতে বাঙালি মুসলমান ‘আজ পৃথিবীর সকল সভ্য সমাজ অপেক্ষা কত দরিদ্র।…সাহিত্যের অমৃতধারা আমাদিগকে নানা জ্ঞানে পুষ্ট করিতে পারিত… আমরা অর্বাচীনের ন্যায় তাহা অবহেলা করিয়া আসিয়াছি। আজ আমরা অপরাপর সম্প্রদায়ের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হই, কিন্তু আমাদের দুরবস্থার জন্য যে আমরাই প্রধানত: দায়ী…’ তবে দূরে ঠেলে রাখার জন্য যে বাংলা সাহিত্য আমাদের অনাত্মীয় মনে হয়, তাকে আমাদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য হারালে মুসলমান বলে পরিগণিত হওয়া যাবে না। ‘সাহিত্য যখন সকলেরই সম্পত্তি, তখন সকলেই তাহার কলেবর বৃদ্ধি করিবার সমান অধিকারী… হিন্দু ভ্রাতৃগণ তাঁহাদের অংশ পর্যাপ্ত পরিমাণে দিয়াছেন,…আমরা আমাদের অংশ দিই নাই… ক্রমেই আমাদিগকেই অধিকতর পরিমাণে দিতে হইবে। তখন আমরা বাঙ্গালী হিন্দু ও মুসলিম দুই ভাই একই ভাষা-জননীর পীযূষধারা পান করিয়া বলিয়ান হইব। ১০
‘সাহিত্য-সমস্যা’ শীর্ষক প্রবন্ধে কাজী আবদুল ওদুদও বাঙালি মুসলমানের সাহিত্য-স্বল্পতার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এর ফলে তাদের চিত্তের স্বাভাবিক বিকাশ বা স্ফূর্তিও ঘটেনি। ‘তারা যে বড়জোর অর্ধবিকশিত মানুষ। তারা কি করে হবে মুক্তিপথ যাত্রী?’ বলেন, মুসলমানেরা ললিতকলার চর্চাকে দূরে সরিয়ে রেখেও নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছেন। মুসলমান কৃষক-চাষীরা বাঙলার মোট অধিবাসীর এক বৃহদাংশ। লোকসংগীতের মাধ্যমে তাঁরা ‘অভাবগ্রস্ত জীবনে আনন্দ ও তৃপ্তি’ পেয়েছেন, ‘কিন্তু মানুষের অন্তরের বেদনার প্রতি ভ্রুক্ষেপহীন আমাদের আলেমসম্প্রদায় শাস্ত্রের ভয় দেখিয়ে… এই গানের ফোয়ারা বন্ধ করে দিয়েছেন। ১১
আবদুল কাদির ‘লোক-সঙ্গীত’ শীর্ষক প্রবন্ধে আবহমান বাঙলার সেই সঙ্গীত-সম্পদেরই পর্যালোচনা করেন। ‘বাঙালি মুসলমানের আর্থিক সমস্যা’ বিষয়ে আলোচনায় রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বিগত দুই শত বৎসরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আজ আমরা এমন এক স্থানে আসিয়া পৌছিয়াছি যাহার চারিপাশেই অন্ধকার, ঘোর অন্ধকার। মুসলিম এখন শক্তিহীন, নিবীর্য।’
মুসলমানের কৃষি শিল্প বাণিজ্য ব্যবসা স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ধর্ম ও কর্মের ‘একতানবিশিষ্ট পুষ্টি সাধন করিতে হইলে, প্রত্যেকটি যুবককেই ধ্বংসের উপরে তাহার আত্মপ্রতিষ্ঠা করিতে হইবে’। ‘এই বাঙলাদেশে অন্যের যাহা অধিকার মসুলিমের তারচেয়েও বেশি অধিকার আছে।… এতদিন পরে হৃতসর্বস্ব মুসলিম যুবক বাঙলার লুপ্ত গরিমা পুনরুদ্ধার করিতে সামান্য চেষ্টাও করিবে না? জ্ঞান ঐশ্বর্য্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বিপুল-সম্ভার বুকে নিয়া পার্শ্বে এতবড় একটা হিন্দুসমাজ উজ্জ্বল হইয়া বিরাজ করিতেছে, আর মুসলিম পরশ্রীকাতর চিত্তে, নির্বাক নিশ্চুপ হইয়া বসিয়া থাকিবে? তাহারও আশা আছে, ভবিষ্যত আছে ; সেই ভবিষ্যতের দ্বার উদ্ঘাটন করিতে যাইয়া হয় সে রুদ্রতেজে জাগিয়া উঠিবে, না হয় চিরতরে আত্মদান করিবে।’ ১২
মুসলিম সাহিত্যসমাজের অন্যতম চিন্তক কাজী আনোয়ারুল কাদিরের ‘বাঙালী মুসলমানের সামাজিক গলদ’ প্রবন্ধটি নানা অপ্রিয় সত্যের দৃষ্টান্তে পূর্ণ। ‘লোকসমাজে সগর্বে দাঁড়িয়ে এমন করে টানা সোজা উলঙ্গ ভাষায় আমাদের সমাজের অন্তরালে লুক্কায়িত নানা অপ্রিয় ব্যাপার সম্বন্ধে খুলে বলবার দুঃসাহস দেখিয়ে কাজী সাহেব সেদিন মজলিসের বিরাগভাজন হয়েছিলেন বটে, কিন্তু শিখা গোষ্ঠীর আশা ছিল—এই দুঃসাহসের পরিণাম একদিন সুখকর হবেই—কারণ এতে আমাদের সমাজের সারথিগণ হয়ত সত্ত্বরই ঐ সমস্ত সামাজিক রোগসমূহের প্রতিকার বা নিরাময় করবার জন্য বদ্ধপরিকর হবেন।’১৩
কাজী আনোয়ারুল কাদির ‘সামাজিক গলদ’-এর বিবরণে মুসলমান সমাজের বহুবিবাহের শাস্ত্রীয় অনুমোদন ও অকারণ ধর্মভীতির ফলে ঘটা অমানবিক ও অযৌক্তিক ঘটনাসমূহের বর্ণনা দিয়ে বলেন, সমাজপতি বলে বিবেচিত ব্যক্তিরা ধর্মের এবং সংস্কারের নামে অনেক সময় অন্যের রূপবতী স্ত্রীকেও হাতিয়ে নিয়ে যায়। সেজন্য অশিক্ষা ও বুদ্ধির মুক্তি না ঘটাই দায়ী। লেখক বলেন আমাদের যোগ্য হওয়ার কতকগুলি অন্তরায়ের প্রধান হচ্ছে আমাদের শিক্ষা সম্বন্ধে উদাসীনতা। আমরা বিদ্যা চাই না, জ্ঞানের মর্যাদা বুঝি না, সাহিত্যের সমাদর করিনি তাই আমাদের মধ্যে বিদ্বান নাই বৈজ্ঞানিক নাই সাহিত্যিক দার্শনিক ও ঐতিহাসিক নাই। আমরা দান ভালবাসি তাই আমাদের মধ্যে দাতা আছে এবং দাতা আছে বলেই ভিক্ষুকের অভাব নাই। সেইরূপ আমরা যদি শিক্ষা ভালবাসিতাম তবে শিক্ষাদাতা শিক্ষিত জন ও শিক্ষান্বেষী কোনটার অভাব হত না। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে বলা হয়, মাদ্রাসা থেকে পাশ করে আমাদের যুবকগণ জীবনসংগ্রামে কতটুকু জয়লাভ করতে সক্ষম হবে ? ‘বুদ্ধির মুক্তি না হলে ধর্মশিক্ষা হতে পারে না। ধর্মের আদেশ ও নিষেধ পালন করার জন্য বুদ্ধির দরকার। বুদ্ধির অভাবে আমাদের ভিতর প্রকৃত ধর্মভাব লোপ পেয়েছে। এখন গোঁড়ামিই আমাদের ধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোঁড়ামির কারণেই আমরা ধর্মের বিধিনিষেধগুলোর কতকগুলোর সহজ অর্থ করে নিয়েছি। এইরূপ সহজ অর্থ করার দরুণই যে আমাদের এই দুর্দশা তার সুন্দর ব্যাখ্যা দেয়া হয়। আমাদের প্রতিবেশী হিন্দুসমাজের প্রতি বিদ্বেষ আমাদের সমাজের অন্যতম গলদ। গানবাজনা নিয়ে বাড়াবাড়িও একটি গলদ। আমাদের মসজিদের সামনে হিন্দুরাই পাপ অর্জন করবেন সেজন্য মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক যুদ্ধে আত্মাহুতি দেবার দরকার পড়ে না। নিজেদের ধর্মের অনুসরণ করে আদর্শ সৃষ্টি করতে হবে। আবার মুসলমানেরা গানবাজনার আসক্তি পরিহার না করে অন্যকে গানবাজনা পরিহারের উপদেশ দিলে শুনবে কেন ?’১৪
তাছাড়া গান বাজনা সম্পর্কেও মুসলমানদের কুসংস্কার দূর হওয়া বাঞ্ছনীয়। ‘সঙ্গীত চর্চায় মুসলমান’ শীর্ষক দীর্ঘ প্রবন্ধে মনস্বী-শিখা সে-কথাও বলতে চেয়েছে কাজী মোতাহার হোসেনের লেখনীতে : মানুষের স্বাভাবিক বৃত্তিকে চেপে রাখা যায় না, কোন না কোন প্রকারে তার প্রকাশ হবেই।—এই যুক্তির ওপরে তিনি বলেন : ‘ধার্মিক মুসলমানগণ প্রায় কোন সময়েই সঙ্গীতকে প্রীতির চক্ষে দেখেন নাই। তথাপি দেখিতে পাই উচ্চকণ্ঠে সুললিত স্বরে আজান দেওয়া হয় কেরাত করিয়া সুমিষ্টস্বরে কোরাণ শরিফ পাঠ করা হয়। ইহা ছাড়া পরমার্থসম্বন্ধীয় গজল কাওয়ালি প্রভৃতির অন্ত নাই। মিলাদ শরিফে যে প্রকারে দরুদ পড়া হয় এবং হজরতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন জন্য যে ওজনে সমস্বরে সালাম আলায়কা পড়া হয় তাহাকে নিশ্চয়ই সঙ্গীত আখ্যা দেওয়া যাইতে পারে। শাস্ত্রকারেরাও আমোদে নিয়মনাস্তি হিসাবে বিবাহের সময় দফ বাজাইয়া গান করা জায়েজ রাখিয়াছেন। ইহা হইতে অন্তত এটুকু প্রমাণ হয় যে নানারূপ সামাজিক ও ধর্মনৈতিক বিধি নিষেধের ভিতরেও অনুষ্ঠানপ্রিয় মুসলমানগণের স্বাভাবিক সঙ্গীতস্পৃহা চারিতার্থ করিবার যৎসামান্য পন্থা আছে।’১৫
মাদ্রাসায় নূতন জ্ঞান দেয়া হয় না। যেজ্ঞান দ্বারা সভ্যতায় অগ্রগামী হতে ছাত্ররা অনুপ্রেরণা পাবে। আরবি পার্শী না বুঝে পড়লেও পুণ্য সঞ্চার হয়—এই জাতীয় কুসংস্কার ত্যাগ করে ছেলেমেয়েরা যদি দেশী বাংলা ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করে তবে জীবনকে স্থিত ও উন্নত করতে পারবে।—এই বক্তব্য নিয়ে লেখা হয়েছিল মতাজউদ্দীন আহমদের ‘শিক্ষা সমস্যা’। ‘আমাদের নবজাগরণ ও শরিয়ত’ শীর্ষক প্রবন্ধে শরিয়ত ও বিজ্ঞানকে একই সঙ্গে অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সুদ সম্পর্কে মুসলমানদের ধারণা পাল্টাতে চেয়েছিলেন লেখকেরা। তবে নারীর পর্দা তুলে না দেওয়ার পক্ষেই মত দেওয়া হয়েছিল। ‘স্ত্রীলোকের কার্যক্ষমতা প্রকৃতির বিধান অনুসারেই সীমাবদ্ধ। জীবজগতে পুরুষের প্রাধান্য অনিবার্য।’ তবে সম্পাদকীয় টীকায় সম্পাদক আবুল হুসেন মন্তব্য করেন: ‘লেখকের পর্দার নূতন ব্যাখ্যায় আমাদের কিছু আপত্তি আছে। তিনি নারীর সতীত্ব রক্ষার জন্যই ব্যস্ত—কিন্তু পুরুষের সতীত্বও যে পক্ষান্তরে আবশ্যক সেকথা ভুলিলে চলিবে না। পুরুষের জন্যই নারীর উপর যত নির্যাতন। মোটকথা নারীর স্বাধীনতার সীমা তার জ্ঞান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া আবশ্যক। সেই জ্ঞান সর্বাগ্রে চাই। তখন পর্দ্দা আপন সীমা ঠিক করবে।’১৬
‘নাট্যাভিনয় ও মুসলমান সমাজ’ শীর্ষক প্রবন্ধের মূল-বক্তব্য মুসলমান সমাজে শিল্প হিসেবে একে প্রচলন করতে হবে। সুদ ও রেবার বিষয়ে আলোচনা করে মুসলমানদের অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে বাস্তবমুখী পরির্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে। মোটামুটিভাবে মুসলমান সমাজের দৈন্য ও গলদের বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণে অনুসন্ধানী গবেষণা ও অনেকগুলো প্রস্তাব ছিল শিখার পাঁচটি সংখ্যায়। বিশেষত অর্থে শিক্ষায় ও সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের যে দৈন্য তারই বিস্তৃত আলোচনা সমালোচনা এতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। শিখার লেখকদের মূল বক্তব্য ছিল জীবনের নানাক্ষেত্রে মুসলমানের দীনতা-হীনতা পশ্চাৎপদতার অবসানকল্পে উন্নতির লক্ষ্যে ‘সর্বপ্রথমে চাই সে সব অন্তর দিয়ে অনুভব করা। আজ সকল প্রকার দৈন্য সম্বন্ধে আমরা সজাগ নই বলে আমাদের দুর্দশার সমাপ্তি হচ্ছে না।’
মুসলমান সমাজের লোকেদের অন্তরে জীবনের স্বাদ পৌছে দিয়ে তাঁদেরকে জগত ও জীবনের প্রতি শ্রদ্ধান্বিত করে তোলার জন্যে—শিখার আলোচনা থেকে শিক্ষিতরা বুঝতে পেরেছিলেন ‘মুসলমানের উন্নতি ইংরেজের নিকট আর্জি পেশ—অথবা হিন্দুর প্রতি ঈর্ষা পোষণের মধ্যে নেই, আছে স্বসমাজের জন্য মুসলমানেরই সত্যিকার ভালবাসা ও পরিশ্রমের মধ্যে।’১৭

তথ্যনির্দেশ
১. কাজী আবদুল ওদুদ, বাংলার জাগরণ, কলকাতা, ১৯৫৬, পৃ. ১৯৩ু৯৫।
২. আবুল হুসেনের একটি বাণী, উদ্ধৃত, শিখা, প্রথম সংকলন, ১৩৩৩, পৃ. ২০।
৩. আবুল হুসেনের প্রবন্ধের সারাংশ, পঞ্চম বার্ষিক বিবরণী, শিখা, পঞ্চম বর্ষ, ১৩৩৮, পৃ. ২০।
৪. কাজী আবদুল ওদুদের প্রবন্ধের সারাংশ, উপরিউক্ত।
৫. উপরিউক্ত, সম্পাদকের বার্ষিক বিবরণী, শিখা, প্রথম বর্ষ, ১৩৩৩ পৃ. ২৬।
৬. বার্ষিক বিবরণী, শিখা, পঞ্চম বর্ষ, ১৩৩৮, পৃ. ২৭।
৭. প্রকাশকের নিবেদন, শিখা, প্রথম বর্ষ, ১৩৩৩।
৮. এ.এফ. রহমান, অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতির অভিভাষণ, শিখা, প্রথম বর্ষ, ১৩৩৩, পৃ. ৫।
৯. তসদ্দুক আহমদ, সভাপতির অভিভাষণ, উপরিউক্ত, পৃ. ৮ু১৩।
১০.উপরিউক্ত, পৃ. ১০।
১১. কাজী আবদুল ওদুদ, সাহিত্য-সমস্যা, উপরিউক্ত, পৃ. ৩২।
১২. রকিব উদ্দীন আহমদ, বাঙালী মুসলমানের আর্থিক সমস্যা, উপরিউক্ত, পৃ. ৪৯-৫৬।
১৩. বার্ষিক সম্মেলনের বিবরণ, পরিশিষ্ট, শিখা, প্রথম বর্ষ, ১৩৩৩, দুই আনা।
১৪. কাজী আনোয়ারুল কাদির, বাঙালী মুসলমানের সমাজিক গলদ, উপরিউক্ত, পৃ. ৫৭-৫৯।
১৫. কাজী মোতাহার হোসেন, সঙ্গীতচর্চ্চায় মুসলমান, উপরিউক্ত, পৃ. ৭৩।
১৬.আবদুর রশীদ, আমাদের নবজাগরণ ও শরিয়ত, পাদটীকা, শিখা, প্রথম বর্ষ, ১৩৩৩, পৃ. ৯৮।

ইসরাইল খান: প্রাবন্ধিক ও গবেষক

মুসলিম সম্পাদিত ও প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র : শিখা

ইসরাইল খান ভূমিকা: উনিশ শতকের রেনেসাঁস হিন্দুসমাজেই বদ্ধ ছিল। ওর মর্মবাণী সমাজঅভ্যন্তরে প্রবাহিত করেছিলো যেসকল সাময়িকপত্র তা ছিল হিন্দুসমাজপতিগণের। মুসলিম- পত্রপত্রিকার উদাহরণ কেবলই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। উল্লেখ

নাটোরের সাহিত্য সম্মেলনে রত্নগর্ভা হাজেরা খাতুন পদক ২০২৫ প্রদান ও গুণীজন সংবর্ধনা

\ আন্দরকিল্লা ডেক্স \ নাটোর ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার হাজেরা ফাউন্ডেশন সাহিত্য সম্মেলন শুভ উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে প্রতি

আন্দরকিল্লা’র উদ্যোগে তিন কবির জন্মদিন উদযাপন

মন ও প্রাণের অনাবিল আনন্দ আমেজে শীতার্ত সন্ধ্যেয় হৃদয়ের উষ্ণতায় উচ্ছল উচ্ছ্বাসে আন্দরকিল্লার ২৮ বছর পদার্পণ, ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬, এবং তিন কবির জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠিত

প্রজেক্ট ক্লাউড হাউস

রোখসানা ইয়াসমিন মণি ডা. অভ্র সেনগুপ্ত, একজন প্রথিতযশা জ্যোতির্বিজ্ঞানী। ল্যাবের কাঁচের দেওয়ালের ওপারে ধূসর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। আজ সকালটা মেঘাচ্ছন্ন, ঠিক তার মনের মতো।