এখন সময়:রাত ১১:৫৩- আজ: মঙ্গলবার-২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:রাত ১১:৫৩- আজ: মঙ্গলবার
২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

‘একুশ মানে মাথা নত না করা’

পাকিস্তানিরা বাঙালিকে শুধু বহুমাত্রিক শোষণ ও নির্যাতন করে ক্ষান্ত হয়নি, তারা চাইছিল বাঙালির মুখের ভাষাও কেড়ে নিতে। দম্ভ করে জিন্নাহ ঘোষণা দিয়েছিল ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। তার এই দম্ভ চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়েছিল এ দেশের ভূমিপুত্ররা। প্রতিবাদে গর্জে ওঠে রাজপথে মিছিল করেছে। হানাদার বাহিনী এতে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ মিছিলে গুলি করে। ভূলুণ্ঠিত হয় সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত প্রমুখ। রক্তে রঞ্জিত ঢাকার রাজপথের এই দৃশ্য অবলোকন করে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তাৎক্ষনিক রচনা করেন সেই বিখ্যাত কবিতা যা পরে বাংলাদেশের আইকনিক গানে রূপান্তরিত হয় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’। চট্টগ্রামে বসে কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীও রচনা করেন ‘আমি কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।’ জান্তা সরকার এই কবিতা নিষিদ্ধ করে তাঁর ওপর হুলিয়া জরি করে। অধ্যাপক আবুল ফজল বলেছেন-‘একুশ মানে মাথা নত না করা’।
মোট কথা একুশ মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দ্রোহ ও বিদ্রোহ। আজকে সর্বজনস্বীকৃত এই বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের মাঝেই অঙ্কুরোদগম হয়েছিল ৭১এর স্বাধীনতার বীজ।

১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়াারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এখন বিশ্বের সব দেশ দিবসটি উদযাপন করে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের বিষয়।

কিন্তু একুশের যে মূল চেতনা সেটা থেকে বর্তমানে আমরা অনেক দূরে সরে যাচ্ছি। জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে এখনো বাঙলা প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা একমুখী করা হয়নি। ভাষা ও শিক্ষায় যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে তাতে জাতি হিসেবে আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার ভীত দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। আর নিরাপত্তার নামে নানা প্রটৌকল মানুষকে শহিদ মিনার বিমুখ করছে। যে একুশ বাঙলা ও বাঙালির চেতনার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছিল সেটা এখন দিন দিন ম্রিয়মান হয়ে যাচ্ছে। আমাদের এখন ‘একুশের’ চেতনাকে ধারণ করে আগামীর পথে চলতে হবে। অন্যায়, অসত্য ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই ছিল একুশের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হলে জাতি হিসেবে গর্ব করার মতো আমাদের আর কী থাকবে?

বিশ্ব নারী দিবসের পুনর্পাঠ : বহুমাত্রিক নারীর নতুন ভাষ্য

শাহেদ কায়েস   নারীর ইতিহাস কোনো একরৈখিক অগ্রযাত্রা নয়—তা বহু পথে বয়ে চলা নদীর মতো, যেখানে সংগ্রাম, প্রেম, প্রতিরোধ, রাজনীতি, শ্রম, মাতৃত্ব, শিল্প, দর্শন ও

আন্দরকিল্লার ইফতার অনুষ্ঠানে সুধীজনদের অভিমত বাঙালি জাতিসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার চিহ্নটিই অনির্বাণ অস্তিত্বের প্রতীক

আন্দরকিল্লা ডেক্স : শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সমাজভাবনামূলক কাগজ ‘আন্দরকিল্লা’র ইফতার আয়োজনে সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আন্দরকিল্লা কোনো বলয়বদ্ধ সীমানায়

প্রথা ভেঙে বেরিয়ে এসো নারী  

গৌতম কুমার রায় বিংশ শতাব্দী বিদায় হওয়ার পরে এসেছে একবিংশ শতাব্দী। বিজ্ঞান এগিয়েছে। সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে পুরুষ। কিন্তু নারী ! শুধু পিছিয়েছে নারী। কেন

আদিবাসী নারী

কুমার প্রীতীশ বল   ‘হৈ হৈ হৈ জুমত  যেবং. জুমে যেইনে গচ্ছা সুদা তুলিবং. গচ্ছা সুদা তুলি নেই টেঙ্গা কামেবং।’ চাকমা এই গানটির বাংলা অনুবাদ

মহাশ্বেতা দেবী: দর্শন, সাহিত্য ও সমাজচেতনার প্রতিফলন

রওশন রুবী   মহাশ্বেতা দেবী উপমহাদেশের একজন শক্তিমান ও প্রখ্যাত লেখক। তাঁর শতবর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাহিত্য শব্দের সীমা অতিক্রম করে মানবতার গভীর নৈতিক শক্তিতে