এখন সময়:রাত ১১:১৩- আজ: সোমবার-২৫শে নভেম্বর, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-হেমন্তকাল

এখন সময়:রাত ১১:১৩- আজ: সোমবার
২৫শে নভেম্বর, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-হেমন্তকাল

বিপ্লব যাতে বেহাত না হয় ( সম্পাদকীয় – আগস্ট ২০২৪)

জুলাই মাসের কোটাবিরোধী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত আগস্টের ৬ তারিখে ১৫ বছর সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের পতন ঘটিয়েছে। অভূতপূর্ব এই গণঅভ্যুত্থান ইতোপূর্বে ঘটিত গণ অভ্যুত্থানগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে নানা মাত্রায়। শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে যে বৈষম্যমূলক কোটা ছিল তা নিরসনের জন্য জুলাইয়ের শুরু থেকে নানাভাবে আন্দোলন করে আসছিল। সাধারণ একটা ব্যাপারকে সরকার তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে এড়িয়ে যেতে চাইছিল। পুলিশ এবং দলীয় বাহিনী দিয়ে দমন করতে চেয়েছে। এতে হয়েছে হিতে বিপরীত। আন্দোলন যখন তুঙ্গে, শতাধিক আন্দোলনকারীর নির্মম মৃত্যু হলো, আহত হলো হাজারে হাজার। তখন এক পর্যায়ে সরকার বিশেষ আদালতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর্দের দাবি মেনে নিল। এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের কিছু মৌলিক দাবি উত্থাপন করে। এতে সরকার আরো ক্ষেপে গিয়ে দমন নিপীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি করে আন্দোলন দমাতে চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সরকার শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দেয়। সময় তখন অনেক গড়িয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এক দফাতে নেমে আসে। তখন এই আন্দোলনে আপামর জনতা জড়িয়ে পড়ে। অবশেষে তুমুল আন্দোলনের ফলে ৬ আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
কেন এই গণঅভ্যুত্থান? সংক্ষিপ্ত করে বলা যেতে পারে এর কারণ হাজারটা। আমরা শুধু বলবো বিগত সরকারের পনের বছরের দু:শাসন, ঘুষ, দুনীর্তি, ব্যাংক লুট, টাকা পাচার, দলীয় লোকদের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধ্বগতি, আইনের শাসনের অভাব, অস্বচ্ছ নির্বাচন ইত্যাদিতে মানুষের মন বিষিয়ে গিয়েছিল। তারা নানাভাবে প্রতিবাদ করলেও সরকার প্রতিবাদীকে নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করত। দেশের বিরোধী দল ছিল দুর্বল প্রকৃতির। এই সুযোগে ক্ষমতাসীন দল দেশটাকে এক প্রকার ‘হীরক রাজার দেশ’ বানিয়ে ফেলে। অবশেষে ছাত্র আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে জনগণ সরকারের পতন ঘটায়। এখন দেশে গঠিত হয়েছে অন্তর্বতীর্কালীন সরকার। এই সরকারের প্রধান হয়েছেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় একুশজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিত এই সরকারের কাছে মানুষের চাহিদা বিপুল। মানুষের দাবি শুধু নির্বাচন দিলে হবে না, রাষ্ট্রে সংস্কারও করতে হবে। স্বাধীনতার পরবতীর্ প্রতিটি সরকারই কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগুলোকে ভঙ্গুর করে দিয়েছে। যখন যে সরকার ক্ষমতা আসে তারা তাদের নিজস্ব নিয়মে দেশ চালাতে চেষ্টা করে। দেশের প্রচলিত নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে না। প্রতিটি সরকারের রূপ অনেকটা ‘হীরক রাজার দেশ’—এর মতো।
দেশে এ পর্যন্ত অনেক বিপ্লব হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি বিপ্লবই নানা কারণে ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ বারবার আশাহত হয়েছে। হয়েছে হতাশ। তাই দেশে এখন দরকার সুশাসন, আইনের শাসন। প্রয়োজন রাষ্ট্রের সব কাঠামোর সংস্কার। এ সব না হলে বিপ্লব বেহাত হয়ে যাবে। বিফলে যাবে হাজারো মানুষের রক্ত। অতএব সাধু সাবধান। যাতে বিপ্লব কোনোভাবেই বেহাত না হয়।

উইলিয়াম রাদিচে : বাঙালিত্বের সাধক

মহীবুল আজিজ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক অনন্য সাধক উইলিয়াম রাদিচে’র নাম তাঁর বাঙালিত্বের সাধনার জন্য সমগ্র পৃথিবীতে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। তাঁর অনূদিত রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প

রামিনা সাদাতখানের শিল্পকর্ম: অবিরল রঙের ধারায় সিক্ত জগৎ ও জীবন

সাজ্জাদ হোসেন জামি ও আ.ম.ম.মামুন   শিল্পসাহিত্য ও সমাজভাবনামূলক কাগজ ‘মাসিক আন্দরকিল্লা’র জুলাই-২০২৩ সংখ্যা। প্রচ্ছদে ব্যবহৃত স্নিগ্ধ ব্যতিক্রম একটি ছবি দেখে চোখ আটকে গেলো। রঙের

সলিমুল্লাহ খানের আদমবোমা

মুহাম্মদ ইসহাক   বিশ্বের ইতিহাসে নানান সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। উন্নয়নশীল, অনুন্নত, উন্নয়নকামী কিংবা উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ কিংবা বিদ্রোহ হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ

আহমদ ছফার দশ দর্শন

আসহাবে কাহাফ   আমাদের প্রজ্ঞা ও সাধনার যথেষ্ট ঘাটতি আছে, এ ঘাটতি থেকেই আমাদের সভ্য সমাজের প্রতিটি মানুষের অন্তরে প্রবেশ করেছে, পরশ্রীকাতরতা ও হীনমন্যতার! যার

সৈয়দ মনজুর কবির-এর পাঁচটি অনুগল্প

অনড় প্রতিযোগিতা   এই মাত্র ভোরের সূর্য লাল আভা ছড়িয়েছে! অসংখ্য কাক উড়ছে দিক্ বিদিক। শুধু একটি কাকের যত আগ্রহ ডাস্টবিনের পাশে তাকিয়ে থাকা লোকটির