কুকুর বৃত্তান্ত
শামীম নওরোজ
প্রতিটি সন্ধ্যা ধীরে ধীরে মধ্যরাত হয়ে যায়
প্রতিটি মধ্যরাত ধীরে ধীরে সকাল হয়ে যায়
এবারের কার্তিক মাসে খুব বেশি কুকুর দেখা যায়নি
ঘেউঘেউ শব্দে প্রতিবাদ করার প্রয়োজন আছে
এমনকি চার পায়ের সমস্ত নখ ব্যবহারের প্রয়োজন আছে
দাঁত দিয়ে কামড়ে রক্তাক্ত করে দেবারও প্রয়োজন আছে
কালরাত্রি আমাদের জীবনে একবারই এসেছিলো
সে রাতে কুকুরের ঘেউঘেউ আর নখের ব্যবহার ছিলো মারাত্মক ভুল
সেইসব কুকুরদের অনেকেই মারা গেছে
সেইসব কুকুরদের অনেকেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর বিভিন্ন জঙ্গলে
আরো একটি কালরাত্রি এসেছিলো আমাদের জীবনে
সে রাতে একজন মুক্তিযোদ্ধা কর্নেলকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো
অতঃপর, ছোটোখাটো কালরাত্রি অনেক দেখেছি
প্রতিটি সন্ধ্যা মধ্যরাত হয়েছে
প্রতিটি মধ্যরাত সকাল হয়েছে
অথচ, এবারের কার্তিক মাসে খুব বেশি কুকুর দেখা যায়নি
===========================
আজ ও কাল
দুলাল সরকার
আজ ও কালের মধ্যে কি পার্থক্য? সেই
একই ক্ষুধা, একই কলংক —- কেউ খায়তো
কেউ খায়না,কে আছো যাকে বলব— এই শীতে
আজ ও কাল ফুটপাতে বস্ত্রহীন আমি
ও কয়েকজন মানুষের চেহারায় পশুর মতো
যাপিত জীবন; কাকে বলব, আজ ও কালের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই —- সেই একই হাহাকার, দলিত মানুষের চিৎকার,
চাপাতির ক্ষুধার নিচে বর্জিত বিবেকের হাহাকারে ইতিবাচক পরিবর্তনে সূচিত
হয়না নববর্ষ —- আমার ও তোমার আকাশে
একই সূর্যালোকে বাস্তবায়িত হয় না
সবাই মানুষ, বাতাস আমাদের একই,
এই নববর্ষ —–
===========================
লোকটা যেন কে?
সাব্বির রেজা
কেউ ধরে হাত,
ছেড়ে দেয় কেউ –
অশান্ত জীবনে উথাল -পাথাল ঢেউ
নির্ঘুম কাটে তাঁর রাত!
পার ভাঙা জীবনের ভাঙা বাঁকে বাঁকে
দু:খ বেদনারা আসে ঝাঁকে ঝাঁকে,
ভাঙা -গড়ার এ এক অদ্ভুত খেলা
খেলতে খেলতেই চলে যায় বেলা—-!
ভাঙাহাল, ভাঙাদাঁড়, ছেঁড়া পালে- শুধু লগি ঠেলা-
বন্ধুর পথে একাএকা চলা!
এটাই কী জীবনের গন্তব্য –?
বামপকেটে কষ্ট, পাশ পকেটে দু:খ,
হিপ পকেটে বেদনা ভরে-
অসুস্থ শার্ট প্যান্ট পরে–
বিপণ্ন লোকটা অসুস্থ চটি পায়ে, ঝোলা কাঁধে হাঁটে,
বন্ধুর পথে, জীবনের ভাঙা ঘাটে-ঘাটে!
উলুকঝুলুক মাথা ভরা শাদা শাদা চুল
কেউ কেউ বলে, চুল নয়,
শাদা কাশফুল–
শূন্য পকেট যাঁর,
রোজ রোজ কোথায়, যাওয়া – আসা তাঁর
পকেটে -পকেটে উঁকি দেয় দু:খ কষ্ট,
বোতামে বেদনা ঝুলে থাকে স্পষ্ট-
রুগ্ন ঝোলাটা কদমে কদমে হোচট খায়,
নির্বিকার লোকটা তবু হেঁটে যায়
গভীর যামিনীতে ঘরে ফেরে সে-
লোকটা যেন কে ?
===========================
প্রত্যাশা
সুশান্ত হালদার
রক্তাক্ত যিশুর মতো ক্রুশে ভর করে
প্রতিটি ভোর আসে মৃত শতাব্দীর গন্ধ বুকে নিয়ে,
কৃষ্ণচূড়ার রঙ ফিকে হয়েছে বহু আগে
পলাশের মতো শিমুলও ঝরে গেছে কার্তিকের হিম কুয়াশার মতো করে
যে আলোর প্রত্যাশা করে নারী এক এসেছিল সুরভিত ফাল্গুন মোহাচ্ছন্ন দেশে
তাকে আর দেখি না কুসুম কুমারী বেশে রূপসী এই
অশ্বত্থের দেশে
যেভাবে সাদা হাঁস ভেসেছিল একদিন নদীমাতৃক গাঙুরের জলে
তাকে আর দেখি না করতোয়া বুড়িগঙ্গা তীরে,
আমিও একদিন চলে যাব বকুল ঝরা কুয়াশার জল ভালোবেসে
মনে কি থাকবে এই প্রেম….
যেভাবে হেসেছিল নারী-ঠোঁট রক্তাভ ভোর নতুন সূর্য উদয়ে?
পথে পথে ফুটে থাকবে ফুল,অদেখাই হবে সব শৌখিন
মনে রেখ পাতা-ঝরা-দিন,গোধূলি সন্ধ্যা, কর্দমাক্ত স্যাঁতসেঁতে আশ্বিন
আমিও যে বেসেছিলাম ভালো বহু শতাব্দী ঘেরা ইতিহাস ঐতিহ্য প্রাচীন!
===========================
দুইয়ে দুইয়ে চার
মুন্সী আবু বকর
শহরের দেয়ালে
একটি ছায়া হঠাৎ আলো হয়ে ওঠে,
আলোটি প্রশ্ন করে না
কে তার পেছনে সুইচ টিপেছিল।
কিছু নাম বাতাসে ভাসে
নাম নয়, তারা আসলে তীরচিহ্ন,
যেদিকে ইশারা করে
সেদিকেই সত্য হাঁটে।
আমরা হিসাব করি
দুইয়ে দুইয়ে চার,
কিন্তু ভুলে যাই
কে সংখ্যাগুলো সাজিয়েছে।
লাশ দরকার হলে
গল্পও বানাতে হয়,
আর গল্প বানাতে হলে
একজন হিরো অথবা খলনায়ক অবশ্যই লাগে।
তথ্য যুগে
সব প্রকাশ পায়,
শুধু উদ্দেশ্যটাই
সবচেয়ে ভালো লুকিয়ে থাকে।
আলিঙ্গনের ইচ্ছে চলে গেলে
হাসান ওয়াহিদ
আলিঙ্গনের ইচ্ছে চলে গেলে
অস্তমিত চাঁদে রাত বাড়ে
জিরো ওয়াট বাল্ব
ভুলে আর অকারণে জ্বলে।
আলিঙ্গনের ইচ্ছে চলে গেলে
আকাশের গায়ে পিড়ি পেতে তারা গুনি
নিত্য রাতে,
বিরহের বুদবুদ ওঠে রোজ
খড়ের চাল চুইয়ে শোক ঝরে রাতভর।
আলিঙ্গনের ইচ্ছে চলে গেলে
ওয়াশরুমে ধুয়ে রাখি সমস্ত পাপের স্তব।
===========================
উঁইপোকা
হোসাইন আনোয়ার
কোনো এক নষ্ট লগ্নেই যেন জন্ম আমার।
রেটিনার লোনাজলে সাঁতার কেটে কেটে
নিহত হচ্ছে আমার মূল্যবান সময়।
আমার আঙিনায় পুষ্পেরা এখন মৃত
সময় নপুংসকতায় ক্লান্ত
চরিত্রহীন টেকনোলজির বিশাল উদারতায়
কোন পাপে যেন জননীর জরায়ু ছিঁড়ে
পড়ে আছি এই নষ্ট আশ্রমে।
কোনো ফলো-আপ নেই।
কেবলই উঁইপোকা’দের মনে পড়ে
যারা দিকভ্রান্ত হয়ে, পথ হারিয়ে আলোর প্রচন্ডতায়
পথ খোঁজে।
===========================
বৈরী হাওয়া
মাহমুদ নজির
কীভাবে তোমাকে বলি
চেনা এই শহরে দিনদিন
অচেনা হয়ে যাচ্ছে পরিচিত প্রিয় মুখ।
দিনদিন ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্ক,ভিত
বদলে যাচ্ছে নিয়ম-নীতি
প্রেম-প্রীতি, চেতনা, নৈতিকতা।
মনের ব্যাকুল গোপন কথা
নিঃসংকোচে না যায় বলা,
কষ্ট সয়ে রাখতে হয় চেপে।
কীভাবে তোমাকে লিখি
চেনা এই শহরে দিনদিন ভিড় বাড়ছে
অচেনা,অজানা মানুষের।
কবিতা, গল্প ,গান
সত্য ও সুন্দরের কথা কেউ বলে না ,
সকলেই বিভাজিত দলে দলে।
যেদিকে তাকাই পোড়া গন্ধ
ছাই আর ছাই,
প্রবল ঘূর্ণনে ছড়িয়ে পড়ছে নিত্য
বৈরী হাওয়া।
===========================
অবতার চুপচাপ
নীহার মোশারফ
শাড়ির আঁচলে চিটচিটে দাগ
রাগে হুতোম মুখে শিপ্রার দিকে
সন্দেহের তির ছোড়ে অচিন্ত বাড়ৈ।
কী ভুল ছিল তার?
অবতার চুপচাপ যাতনার ভারে
এখন আর ধর্মালয় পুণ্যে ভরে না।
সুদখোর দানপাত্রে অজস্র কড়ি দিলে
মুয়াজ্জিনের হাসি ফোটে ঠোঁটের কোণে
ধর্মের ভাগাভাগি, লেবাসের কাড়াকাড়ি
আড়াআড়ি নেতার চোখ, সন্নিকটে থাকে।
ভ্রাতার অভিমান
ছোটবউ সংসারে চিতার আগুন
প্রচণ্ড শীত, কারণে কারণে
ভেতরে গরম।
চাকরি নেই পাঠানের
বংশের নামে চলে পালের প্রধান
পরমা সরকারি নিম্ন কর্মচারী।
===========================
ছুটি
বিবিকা দেব
মধ্যদুপুরে হৈ-হুল্লোড়ে ছুটে…। সবুজ ঘাসের গালিচা মাড়িয়ে স্কুল ছুটি। যারা নিজেকে ভাবে একেকটি দূরন্ত প্রজাপতি। কেউ কেউ নিচ্ছে চাকরি থেকে দীর্ঘ অবসরের ছুটি। প্রিয় জনের থেকেও বেশি যে চাকরিতে কেটেছে সময়। ভাতঘুমের ভেতর হয়তো জীবনের ছুটি। যে আরও একটি ভোরের আকাশ দেখার অপেক্ষায় ছিল। পরিকল্পিত পাতানো ফাঁদে কর্ম জীবন থেকে বহিষ্কারের ছুটি। যে আগামীর স্বপ্ন বুনে ছিল প্রত্যাশাকে ঘিরে। যেই বৃক্ষের ছায়াতলে মানুষের নিশ্বাস ঝিমোয় তারও ছুটি হয় গভীর রাতে করাতের আঘাতে। জলের ভেতর গল্প করা মাছের, ভোরের আলো ফোটার পূর্বেই ঝাকে ঝাকে ছুটি হয়ে গেল। যে অন্ধকারে বিষাক্ত নিশ্বাস মিশিয়েছে জলের প্রাণে। এই ছুটির রয়েছে বহুগুণ ক্ষমতা।
===========================
অর্জন
বিশ্বজিৎ মণ্ডল
কোনদিন বশিষ্ঠ হতে পারিনি, তবুও অরুন্ধতী সেজে
নিমগ্ন চেয়ে রইলে, উত্তর আকাশে
পায়ের নিচে জেগে রইল,কৃষ্ণচূড়ার ডাল,ময়ূরাক্ষীর ঢেউ,
হাসপাতালে বেডের নিচে ফেলে আসা, সুগন্ধি রুমাল…
উঠে দাঁড়াতে পারিনি, তোমার হাত চিঠির পৃষ্ঠায়
কেবলই জমে গেছি, কষ্ট দগ্ধ অহল্যা পাথর
আজ যখন কলেজ ঘাটের কৃষ্ণচূড়ার তলায় গিয়ে দাঁড়ালাম
শরীর থেকে খসে পড়তে লাগল, তোমার এঁকে দেওয়া
নামাবলির শব্দ
একটু একটু করে ভুলতে থাকি, মর্গের অন্ধকারে
ঘুমিয়ে পড়া আমাদের তেইশটি বছর
এইবার ওয়ারড্রবে ঢুকিয়ে রাখি, আমাদের অর্জন
সব দিয়ে দাও ! হৃদয় দিও না
সাইয়িদ মাহমুদ তসলিম
কাকা ! বুড়ো বয়সে সব দিয়ে দাও।
ভাত দাও, রুটি দাও ! বাথুয়া গ্রাম দাও।
গ্রামীণ জনপদও। অর্ণামেন্ট দাও -লরেটও।
কিনতু এশিয়ার দ্বার দিও না। হৃদয়ও না।
প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নাও।
কাকু। তোমার গ্রামের ঠিক পূর্বদিগন্তের বাসিন্দা সূর্য সেন,
দক্ষিণে প্রীতিলতা ওয়াদ্দার, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী কিছুই দেয়নি !
রক্ষা করেছিল মা মাটি মাতৃভূমি।
প্রজন্মের জন্য, আমার জন্য –
আমাদের ভবিষ্যতের জন্য ।
ওরা ফাঁসির কাস্টে ঝুলে,
আত্মাহুতি দিয়ে তাড়িয়েছিল বৃটিশ বেনিয়া।
সব দিয়ে দাও ! হৃদয় দিও না
এ বয়সে এসে , তুমি যদি বধির,
বোবা এবং ধর্মান্ধের প্রেমে পরে অন্ধ হও? তাহলে বুঝ ? তুমি কি করছ?
যখন লরেট- এ জয়ী হলে।
তখন দেশের মানুষের আবেগের বজ্রধ্বনিতে।
তুমি দু হাত খোলে হেসে ছিলে, হয়েছিলে উৎফুল্ল, মায়া মমতায় আনন্দম ।
গর্বে তোমার নিঃশ্বাস স্পর্শ করেছিল বীর প্রসবিনী চট্টগ্রামের মানুষ। কিন্তু এখন !
তোমার দৃষ্টির আগুনে ভালোবাসার মানুষের চোখে অশ্রু লবণৃ.
সব দিয়ে দাও ! হৃদয় দিও না
তোমার রহস্যের দরজা খুলে দাও?
তোমার অস্তিত্বের সূর্যালোক পরিষ্কার কর।
তোমার স্নেহের ছায়া দাও !
জ্ঞানের আলোতে আরো বসন্ত ফুটুক।
তোমার প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নাও। কারণ দেশ জনতা
সবাই তোমাকে একটি নিশ্চয়তা নির্ভরতা প্রতীক হিসেবে পেতে চাই,
আগামীকাল অপরিবর্তিত, দৃঢ়ভাবে প্রোথিত।
একটি শক্ত কংক্রিটের প্রাচীরের মতো।
সব দিয়ে দাও ! হৃদয় দিও না প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নাও।
===========================
মনের মাঝে
রবি বাঙালি
বসত তোমার মনের মাঝে পাইনা তবু খুঁজে,
তোমায় পেতে আর কতকাল যেতে হবে পুঁজে।
ব্যাকুল হয়ে প্রেমের টানে
আর রেখো না দূরের পানে
আরাধনা প্রার্থনাতে তোমার চরণ ভঁজে।
বসত তোমার মনের মাঝে পাই না তবু খুঁজে,
তোমায় পেতে আর কতকাল যেতে হবে পুঁজে।
বর্ণচোরা রসিক প্রেমি
আর করো না হেলা,
ছাড়ো তোমার ভেলকিবাজি
লুকোচুরি খেলা।
মন বাঁধিয়া মায়াজালে
থাকো তুমি কোন আড়ালে
দিয়ে মোরে নিত্য ফাঁকি মনটা নাহি বুঝে।
বসত তোমার মনের মাঝে পাইনা তবু খুঁজে,
তোমায় পেতে আর কতকাল যেতে হবে পুঁজে।
===========================
হে নতুন
নিবেদিতা বড়ুয়া
কেলেন্ডারের পৃষ্ঠা বদলে গেলে—–
ইতিহাসের পাতা রক্ত সমুদ্দুর।
দেখ, ময়ূরী উঠোনে বোবা এক পুকুর।
হরিৎ স্বপ্ন ভাঙা জলে বিচিত্র মুদ্রায় ছড়িয়েছে ভুল।
আলোর বসন ছেড়ে জড়ায় মিথ্যা কুসুম।
এই জোছনায় হাসবে কী চাঁদ?
সুখের না হউক, স্বত্বি খোঁজে বটের নিশ্বাস।
দীঘল পায়ে মুকুট পড়ে, গলে যায় উত্তাপ।
জ্বলন্ত অক্ষরে নির্জনতা শুয়ে থাকে —
বুননহীন ডোবা জলে।
এখানে আনাড়ি উল্লাস পৃথুলা গঞ্জে।
ঘাস ফড়িং গোধূলি নামায় পা টিপে টিপে।
হে নতুন–
তবু তোমার জন্য সাঁকো পেড়ে নৈবেদ্য সাজায়।
গাঁয়ের খোকা ফিরছে গাঁয়ে
জাহেদুল ইসলাম বাঁধন
পায়রাগুলো ঝাঁক বেঁধে আজ
করছে কানাকানি,
গাঁয়ের খোকা ফিরছে গাঁয়ে
প্রেমের টানাটানি।
ধানশালিকের একটি দলে
ভোরের দোয়ার বায়,
বাজনা নিয়ে হেসে-গেয়ে
পথ পেরিয়ে যায়।
পানশালাতে বসলো না কেউ
এইতো ভোরের ক্ষণ,
ঘাস ফড়িং এর মিছিল বলে
ফিরলো গাঁয়ের ধন।
সবুজ পাতার আঁচল গোঁজা
বৃক্ষদেবী ঝুঁকে,
খোকার মাথায় হাত বুলিয়ে
নেয় জড়িয়ে বুকে।
পুকুর ভাসা কাতাল-বোয়াল
কাঁকড়া এবং পুঁটি,
দেখবে খোকা, জলের উপর
করছে ছুটাছুটি।
===========================
রক্তের নদী ও ভবিষ্যতের সূর্য
আলী আকবর বাবুল
যুদ্ধের মাঠে পড়ে থাকা বুটজোড়া যেন ভাঙা মিথ-
যা পরাজিত সময়কে মনে করায়।
মুক্তিযোদ্ধার ডাকে কেঁপে উঠেছিল মাটি,
যেন পৃথিবী নিজেই যুদ্ধে নেমেছে।
মরচে ধরা অস্ত্রও অনুভব করেছিল মানুষের আশার ওজন।
নদীর জলে ভেসে ছিল অন্ধকার,
কিন্তু সেই অন্ধকারেই জন্ম নেয় আলো।
বালুচরে শুয়ে থাকা শহীদের মুখে ছিল স্বপ্নের শেষ পরশ।
শত্রুর পতাকা আগুনে গলে পড়েছিল ঠিক যেন ক্রোধের গলিত নক্ষত্র।
কোনো উপকথা নয়—বিজয় ছিল রক্তে লেখা নিউট্রন-তরঙ্গের সত্য।
হাটের ভিড়ে, গাছের তলে, মাঠের ঘাসে ইতিহাস আজও গুঞ্জন তোলে।
যে শিশুটি বিজয়ের সকালে জন্মেছিল তার শিরায় ছিল যুদ্ধের আলোক-ধারা।
সূর্যের আলো তাকে স্পর্শ করেছিল যেন আশীর্বাদের মহাজাগতিক অঙ্গার।
দেশ আজো সেই দিনের প্রতিধ্বনি বহন করে উচ্চতর স্বপ্নে।
বিজয় দিবস তাই প্রতি বছর ফিরে আসে শক্তির, স্মৃতির, অনন্ত পুনর্জন্মের মতো।
===========================
নতুন বই
অপু বড়ুয়া
নতুন বই আবেগমাখা
পাতায় পাতায় ঘ্রাণ
নতুন বই স্বপ্ন আঁকা
বর্ণমালার গান।
নতুন বই পেলেই হাতে
স্বর্গ হতে পাই
নতুন বই পড়ার নেশায়
বিভোর হয়ে যাই।
বই মানে তো আলোর গাথা
বই মানে বিস্ময়
নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে
মনটা ভালো হয়।
===========================
ছড়ার সম্রাট সুকুমার বড়ুয়া
মানস কুমার বড়ুয়া
ছড়ার সম্রাট আমাদের ছড়াকার সুকুমার
চট্টগ্রামের রাউজানে বিনাজুরি বাড়ি তাঁর।
গ্রামের বাড়িতে তিনি গড়েছেন গ্রন্থাগার
সৃজনশীল কর্ম সমাজে প্রদীপ্ত উপহার।
দুঃখ কষ্টে ভরা ছিল প্রথম শুরুর জীবন
অসাধারণ ছড়া লিখে প্রচুর খ্যাতি অর্জন।
মহান একুশে পদক পেয়েছেন সুকুমার
জীবনে আরো অর্জন অসংখ্য পুরস্কার।
তাঁর ছড়া পড়ে মুগ্ধ স্বদেশে আবালবৃদ্ধ
বহু গ্রন্থ প্রকাশ সাহিত্যে তিনি মহান ঋদ্ধ।
হাস্যোজ্জ্বল সদালাপী ছড়াকার সুকুমার
সহজ সরল জীবন যাপন নেই অহংকার।
প্রতিভাবান সুকুমার প্রতিভা যে অসাধারণ
সাহিত্যে দক্ষ বিচরণ সম্মানিত তাঁর আসন।
উপমা গুণে ভরপুর সুকুমার বড়ুয়া’র ছড়া
তাঁর ছড়া পড়ে আনন্দে হৃদয় মন ভরা।
ছন্দের কারিগর নন্দিত সুকুমার বড়ুয়া
এ বাংলায় রয়েছে অগণিত ছড়া পড়ুয়া।
শব্দের কারুকাজে প্রশংসিত অতিশয় যিনি
সেই ছড়াকার সুকুমার ছন্দের যাদুকর তিনি।
===========================
বাবা
কাওসার রহমান সিয়াম
বাবা নিতান্ত দুই অক্ষরের শব্দ নয় শুধু,
সন্তানের সুখের জন্য দূরে থেকে ঘরে রেখে বধূ।
সন্তান যখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে সুখে,
সে সুখ আনতে গিয়ে পাথর কাঁধে হেঁটে নিরবে।
সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের আশা করে,
কবর দিয়ে দেয় নিজের সখ হাসি মুখে।
অভাব কাকে বলে বুঝতে দিবে না তাই,
কত পথ সে পায়ে হেঁটে পারি দিয়ে যায়।
মহান মানুষ দেখবে বলে যেতে হয় না তীর্থ,
একবার তাকিয়ে দেখো বাবার দিকে সে নিরস্বার্থ।
আশা নেয় তার বৃদ্ধ বয়সে হবে তোমার বোঝা,
আশা তার কেবল তোমাকে হাসি খুশি দেখা।
তুমি যখন গভীর রাতে ঘুমে কাদা,
বাবা তখন তোমার জন্য চিন্তার দিশেহারা।
বাবা নয় কোনো সামান্য শব্দ,
বাবা এক অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
নিজের জীবনের সব ছেড়ে দিয়ে তাই,
তোমার আমার ভবিষ্যতের চিন্তায় ডুবে যায়।
বলা হয়নি কখনো জড়িয়ে ধরে তোমায়,
কতটা ভালোবাসি আমি তোমায়।
বাবা মানে নয় সে কোনো বৃদ্ধ,
বাবা মানে যোদ্ধা এক অদম্য।
বাবা মানে বট বৃক্ষের শীতল সে ছায়া,
যার প্রতি বর্তমান সন্তানেরা হারিয়েছে মায়া।
ভালোবাসি বাবা বলতে গিয়ে হায়,
আজও আমার বুক ফেটে যায়।
জড়িয়ে ধরে বাবাকে আমি,
বলতে পারিনি কতটা ভালোবাসি।
যদিও আমি আজও
তার মুখে দেখি হাসি।
সব শেষে লেখার নেই শেষ,
ভালোবাসি তোমায় বাবা, জেনে রাখো বেশ।
===========================
স্বাধীন হলো দেশ
বিভাস গুহ
ত্রিশ লক্ষ বীরের রক্তে
স্বাধীন হলো দেশ
বুকের মাঝে রয়ে গেছে
ভাই হারানোর রেশ।
যুদ্ধে গিয়ে আর ফিরেনি
লাখো মায়ের ছেলে
দেশের জন্য বুকের তাজা
রক্ত দিল ঢেলে।
সবুজ লালের নিশান পেলাম
তাঁদের ত্যাগের জন্য
তাঁরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
ধন্য তারা ধন্য।




