ধুরন্ধর যুবতি ধাঁচ
মহাসংকটে রঙিন সুতোর জট
আঙুল খোলে?
খোলার চেষ্টা অহরহ দিনাতিপাত
কাটে গণ্ডগলে?
বিপক্ষের তুষের ধুয়োয় অজস্র হাত
নরমগরম গলায় তর্কে মিষ্টি বারুদ
ছেটায় যত্রতত্র
আলো নিভিয়ে কোন আলোর সন্ধানে
না পাওয়ার মন্ত্র
উল্লাসে মাতে বোঝার দায়, প্রেম নয়—
ভাঙনের ঐক্য পিষে তীরন্দাজ খুরে
ধুরন্ধর যুবতি ধাঁচ ভাঙে, অনৈক্যের সুরে
মনে হতে পারে যারা দেশপ্রেমে ভূত
তাদেরই গলার স্বর বিমর্ত— অদ্ভুত
সামনে পৌষমাস, দিনের পড়ন্ত রোদ
মিইয়ে যায়। সামনে পরাজিত বোধ
ঠেসে ধরে অন্ধকারে
অশুভ শিষ আকারে!
জানি— বারুদ পুড়ায় তাহার নিত্য ভঙ্গী
অবাক দ্বিমুখা তার দ্রৌপদী নীরব সঙ্গী!
যাও, যেতে পারো
বোকা নও বুঝো, বুঝো বলেই ভাসানো জলে
কোনো স্মৃতিময় অভিধানে চাওনা ফুটান্ত ফুল
কোনো অনুশোচনা নেই, আকণ্ঠ নীল অতলে
ভাঙো রহস্য তিথি বিব্রত শাড়ির পঞ্চমী চুল।
যা বলি তার উল্টো সুরে ভাসাও নীলমেঘ ঢেউ
দ্বিচারিনী বলবো না, বলবো না নিঃ¯পাপ কাটো
ধবল দাঁতে, রূপল যৌবন ছোঁবে না তো কেউ
বুঝি— তোমার অনুযোগ মিথ্যার কাঁচিতে ছাঁটো।
বলবো না—
যেওনা, যাও যেতেই পারো, কল্পকালের গন্তব্যে।
হেলেপড়া মেঘ
এই যে হেলেপড়া মেঘ দিনের ক্লান্তি
নিয়ে হারালো ঘনআঁধারে
সে তোমার মতো অমানবিক নয় যে—
প্রত্যুষে আলো নিয়ে ফিরে।
এই যে পাহাড় ডগাচুয়ে ঢালুতে নামা
জল-জলের স্বচ্ছ ধারে
সে আর ফিরে না পাহাড়ে। প্রকৃতির
ক্রোধ কভু খুঁজবে না তারে।
অথবা মাঠের ফসলি জমি রাতের
সঙ্গমে দেয় যে ওম
শস্যের মতো তুমিও উদ্ভাবনে দেবী
টানো করবী কুসুম।
রাতেই সৃষ্টি হয় মহাপৃথিবীর আয়ু
রমন হও, রমণী তুমি
বীজের স্বপ্ন বোপন করে ক্রোড়পত্র
ঠোঁট চুষে নাভির ভূমি।
উনত্রিশের জোয়ার
যেখানে দাঁড়িয়ে আছো সেখানে শীতকুয়াশা
সেখানেই ভাবলেসহীন রাঁধা
প্রেমহীনা ঝরে অকারণ স্বর, তাও জানো
মিথ্যার ঘুমঘরে পড়ে কী বাধা?
কেমন যুবতি তুমি উনত্রিশে জোয়ার টানো
কার চুষো রক্তের অনুবীজ প্রাণ
উড়ান্ত পাখির মতো খোঁজো অসহায় যুবার
বাসন্তিক আঁচড়ে অলীক সন্ধান!
শখের প্রতিমা, দেবী তো নও, নও মানবিক
বিষধর শঙ্খ, পুজারী ভয়ে অসহায়
বসে না পুজায়; তারও আছে সম্মুখে মৃতুর ভয়্য
সে-ও নির্বাক, ধর্মের ধামাকায় হায়!
কিসে দেমাকী তুমি, কোন খেলায় মেতে আছো
আরও আরও খেলা রেখেছো বাকি
নব্য নাগর খোঁজে উড়ো, উড়াও মেঘের অন্তর
সে যে ছিল প্রাণনাথ, রাতের জোনাকি!




