এখন সময়:ভোর ৫:৫১- আজ: বৃহস্পতিবার-১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-শীতকাল

এখন সময়:ভোর ৫:৫১- আজ: বৃহস্পতিবার
১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-শীতকাল

পদাবলি (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)

এক বিম্ববতী দেশিয় মেঘগাছ

মাসুদ মুস্তাফিজ

 

গাছে বিদ্যুৎ সংকট-

এ নিয়ে আকাশে বসেছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

এদিকে নির্মল আকাশে বৃষ্টি নামাবে মেঘ

প্রস্তুতি প্রায় শেষ-

মেঘের সুঘ্রাণহৃদয়ে মহাকালের কৃষ্ণকথাকে বলে ছুটি নিচ্ছে

এদিকে মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষাযুদ্ধ তাহার চরিত্র হারিয়ে নতুন দুঃসাহস হচ্ছে-

এই যুদ্ধরোদ-মেঘের ক্যাপিটালপুত্র সর্বসত্যটুকু শিল্পে কাছে

রোদ্দুর শুকোতে নিতে অন্যদেশে উড়ে যায়-

 

জানি—এই তুলতুলে থাকার বিরামচিহ্ন সবাইকে ঠোকাঠুকি করে

তাই আমি অবেলায় নিরাসক্তমনে লিখে রাখি চোখের জলসেতু একাত্তরে-ভাষাযোগযুদ্ধে—

 

 

 

 

====================================

 

 

 

 

ভাষা ক্যাপিটাল- শাইনিং ফেব্রুয়ারি

লুৎফা শাহিন

 

 

সবকছিু কেমন বদলে যাচ্ছে শেষ বিকেলের রোদের মতন

মেয়াদোত্তীর্ণ স্বপ্নগুলো বিজাতীয় সূর্যশাবক খেয়ে নিচ্ছে ক্রমশ

নির্লজ্জ আবেগ অস্তিত্বে সংকট বালু দিয়ে ভরাট করে দিচ্ছে চোখ

আর নিজের ছায়া পচে যাচ্ছে পক্ষপাত রোদের সুরেলা বাতাসে!

আমরা উত্তর পুঁজিবাদকে খুঁজতে খুঁজতে অবিশ্রান্ত মনকে খুঁড়ছি

মাঘ-ফাগুনের রোদগুলো রিং লর্ডরার ঘরে নতুন শ্রমনীতিতে

কৃষি পরস্পরায় রোমাঞ্চিত হেমন্তে দাড়িগুচ্ছের দৈর্ঘ হচ্ছে

 

এবার গ্রীষ্মকালে রঙের মেলায় ভাষাকে শুকোতে দেবো-

বাঙালির চেতনা মননে জীবন দিয়ে কেনা এই ভাষার রঙ বদলাক!

 

 

 

 

====================================

 

 

 

একুশের দেশে

দুলাল সরকার

 

 

এইভাবে চলতে পারেনা —- এই বিবেক বর্জিত

নতজানু হয়ে —- কপট সর্বস্ব এই একুশের দেশে,  মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাংলায়,এই মিথ্যার

হুঙ্কারে, বিপর্যস্ত মানবতা, এ-ই  শূন্য

বাগানে, দাঁতাল আঁধারে বলো কি করে জীবন?

 

স্বপ্নহীন  বিপ্লবের নতজানু ভিড়ের কবলে এই বেঁচে থাকা,লেজুড় বৃত্তির এই গলিত দুর্গন্ধে  আগুনের উত্তাপহীনতায় নির্লজ্জ দিনের কুন্ঠিত বিবেকের মৃত কংকালের পাশে বলো একুশ কি অক্ষত থাকে?  তবু আসমুদ্র হিমাচলে এখনো  উত্তাল সমুদ্র যাপন করে  বিপ্লবী চেতনা,

এখনো বাংলায় ওড়ে শ্বেত রঙ্গা কৈতরের পাশে

গড়ুরের নির্ভীক  গর্জন  ,শহীদের রক্তের উষ্ণতা।

 

 

 

====================================

 

 

রক্তে লেখা বর্ণমালা

আজাদ ইব্রাহিম

 

ভোরের শরীরে লেগেছিল রক্তের উষ্ণ ছাপ,

নীরব রাস্তা হঠাৎ শিখে নিয়েছিল কথা বলার ভাষা।

অক্ষরগুলো মাটি থেকে উঠে এসেছিল ক্ষত হয়ে,

রাষ্ট্রের মানচিত্র কেঁপে উঠেছিল এক একটি শব্দে।

 

একুশ তখন ক্যালেন্ডার ছিঁড়ে দাঁড়ানো এক প্রশ্ন,

মায়ের ভাষা ছিল মানুষের প্রথম প্রতিবাদী শ্বাস।

ঢাকার বাতাসে ঝুলে ছিল অসমাপ্ত কয়েকটি বাক্য,

রক্তের ভেতর জন্ম নিচ্ছিল স্বাধীন বর্ণমালার সূচনা।

 

সময় বুঝে নিয়েছিল ভাষারও থাকে স্মৃতি,

বিশ্ব মানচিত্রে একুশ হয়ে উঠেছিল নীরব চিহ্ন।

যে সভ্যতা শব্দ বেঁধে রাখে, সে নিজেই কারাগার,

মায়ের মুখের ভাষা কোনো অনুমতির অপেক্ষা করে না।

 

শিশুর কণ্ঠে উচ্চারিত ভাষা মানে ভবিষ্যৎ বীজ,

বৈচিত্র্যের শব্দেই পৃথিবী শোনে মানুষের ডাক।

শহীদরা আজও ইতিহাসের পাতায় নীরবে হাঁটে,

বাংলা তাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সময়ের সামনে।

 

====================================

 

এই ধুলো

আশীষ সেন

 

‘এই উদাসী হাওয়ার পথে পথে মুকুলগুলি ঝরে’

– রবীন্দ্রনাথ

 

এই ধুলো সবকিছু জানে উদাসী হাওয়ার কেন দোষ নেই।

শাখার দীনতা এত নগ্ন হয় কিছুই থাকে না

হলুদ পত্রের চোখ শোকাতুর প্রেমিকের মত

পাখির পালক ছুয়ে অবেলায় ঝরে পড়ে গেল।

 

নদীকে অনেক করে বুঝিয়েছি বৈশাখ শেষের দিনে

মাঠে নিয়ে যাবো।

 

ফিরে দেখি ক্রমাগত রাত্রি ভাঙে ঘুমের চরায়

ফুলের তলায় এসে পৃথিবীর শিশির জমেছে

এই ধুলো তার সবকিছু জানে উদাসী হাওয়ার কোন দোষ নেই।

 

 

 

====================================

 

 

 

 

আদম সন্তান

সাজিদুল হক

 

তোমাদের বিশ্বাস করাতে চাই

দশকের পরে দশক ধরে চলা

দুর্ভিক্ষে মারা যায়নি অমল কাশফুল

নন্দিত গোলাপের মৃত্যুর জন্য দায়ী নয়

পরিবর্তনকামী বিশ্বের কোনো কবি

 

প্রাচীন কাল থেকে সমুদ্রের নাবিক

জাহাজে বয়ে বেড়ায় মৃত্যু নামক বিশ্বাস

অনিবার্য ভবিতব্য যেহেতু মৃত্যু

বেহুদা অপরের দায় কেন নেবে

সমুদ্রের জলে ডুবে

অথবা আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া দৈবাৎ তেমন কিছু ভেবে নিও

 

চালিয়ে দাও লোকসংস্কারের নামে

কেটে ফেলা জায়েজ আদম সন্তান।

 

 

====================================

 

 

রাত্রির কালিতে লেখা

শামসুল বারী উৎপল

 

রাত্রির কাছে ফিরে যাবো একদিন

স্নিগ্ধ ছায়ার স্বর্ণ উঠোন

জলমগ্ন পদ্মপাতার নীহারিকা সকাল

আর ভুবনমোহিনী সুন্দরের বিম্বিত সুর

ফেলে যাবো স্বর্গের অরণ্য জ্যোৎস্না,

তুমিও অগণিত মৃত্তিকার পাহাড় অতিক্রম করে

বিপ্লবী উদ্ভাবনে একদিন ছুঁয়ে দেবে সর্বোচ্চ আকাশ,

তোমার তারুণ্যে

কেউ কেউ খুঁজে পায় ঋদ্ধ সাম্রাজ্য

বিজয়ীর জৌলুস, কালোত্তীর্ণ সনদ

তুমি এবং আমি এবং আমি এবং তুমি

আমরা দু’জনই ঝরিয়েছি কর্মক্লান্ত লোনাজল

মস্তিষ্কের ক্ষরণে সাজাতে চেয়েছি দোঁআশ মানচিত্র;

অথচ বাষ্পায়িত ধূলিকণা

একদিন আপেক্ষিক তত্ত্বের নাভিমূল থেকে

ফিরে যাই রাত্রির কাছে

হকিন্সের ব্ল্যাকহোল জগতে,

অগোছালো পড়ে থাকে ঝলমল পাহাড়

বাসন-কোসন, বায়বীয় ঘর গেরস্থালি,

অতঃপর

রাত্রির কালিতে লেখা হয় দিবসের ইতিহাস;

তুমিই কেবল সৃষ্টির আলোকিত দরোজায়

দিবসের অংশ হয়ে যাও,

আর আমি

জটিল সমীকরণ শেষে

ফলাফল শূন্য মিলিয়ে যাই

হকিন্সের ব্ল্যাকহোল জগতে।

 

তুমি এবং আমি এবং আমি এবং তুমি

কিংবা আমাদের ব্যবহৃত মস্তিষ্ক ভিন্নতায় আর

সময়ের অনৈতিক ফলাফলে

দিন ও রাত্রির কাব্যে লেখা হয়

সৃষ্টি আর ধ্বংসের বিপরীত ইতিহাস।

 

 

 

 

====================================

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কালো শরৎ

আসিফ নূর

 

শরতের কবিতাপাঠের আমন্ত্রণ পেয়ে অদ্ভুত প্রাণিত

সেই সুন্দরী কবি একদিন আগেই নীল-সাদা সাজে

গেলেন কাশবনে ছবি তুলতে। শহর ছেড়ে অনেক দূরে

মিঠাছড়ি গ্রাম, পশ্চিম বিলে তার আঁকাবাঁকা চঞ্চলা

বাটাখালি খাল। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি পেরিয়ে কবি

ওপারে পৌঁছেই অবাক—দুমড়ানো-মোচড়ানো কাশবনজোড়া

কাদামাটিতে ধস্তাধস্তির আলামত, মরদেহের নিকট-দুর্গন্ধ!

একটু পরেই কবি খুঁজে পেলেন ধর্ষিতার বিস্রস্ত লাশ,

জমাট রক্তে ল্যাপটে-থাকা শাঁখা আর নূপুরের ভগ্নাংশ।

 

পরদিন শরতের কবিতাসন্ধ্যায় কবি হাজির হলেন

শাড়ি-চুড়ি-টিপ-স্যান্ডেল সব সাজেই কালো রং নিয়ে,

মঞ্চে উপবেশনের আহ্বান সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করে তিনি

নতমুখে বসে রইলেন; দর্শক-গ্যালারির নিরালা কোণে।

অতঃপর কবিতাপাঠের ডাকেও কবি অসম্মতি জানালেন,

তবু সবার অনুরোধে মাইক্রোফোনে বললেন: আমি আজ

কোনো কবিতা শোনাতে এবং শুনতে পুরোপুরি অপারগ…

কাশফুলের শুভ্রতায় আশৈশব বেড়ে অবশেষে দেখলাম—

সব শরতই নীল-সাদা নয়, কুৎসিত কালো রঙেও

কখনো শরৎ আসে; প্রীতিমুখজুড়ে ভীতির কালিমা জ্বেলে…

====================================

 

নারী

শামীম নওরোজ

 

ভোরের জানালায় ঝুলে থাকা নরম আলো

সে আলো চোখে এসে পড়ে, চোখ ধাঁধিয়ে যায়

 

প্রশ্নের মতো গভীর

উত্তরের মতো ধৈর্যশীল

অপেক্ষার সৌন্দর্য

 

হাঁটার শব্দে ইতিহাস জেগে ওঠে

নীরবতায় জন্ম নেয় ভবিষ্যৎ

 

মাটির ঘ্রাণ

আগুনের ফুল

পাল্টে পাল্টে যায়

 

চোখে নদীর মোহনা

বৃষ্টি হয়

সবুজ হয়ে ওঠে দুকূলের মাঠ

 

শক্তির কোমল বিস্ময়

মা

মেয়ে

বউ…

 

====================================

 

তোমাদের অপেক্ষা সন্ধ্যা ছুঁয়ে চিতাবাঘ

রওশন রুবী

 

ঠিক যেন হাওয়া এসে তোমাদের মাথার পাশে-

পাখা নিয়ে দিচ্ছে আরাম, একদল মৌমাছি-

অদূরেই ছিল, মৌ এনে ঠোঁটে ঠৌটে রাখছে সঞ্চয়

রোমে রোমে জমে উঠা নোনতা স্বাদ বেহুদাই

সারছে আলাপ, তোমাদের চোখে,  কপোল কপালে

আলতো আদর ছোঁয়ায় কুর্চির সুবাস,

কেউ একজন দলের লোক বলে-

এখন নিশ্চিন্ত বসন্তকাল? কোকিল ডাকেনি-

কোথাও , পাঠ থেকে ফেরেনি আর সব পাখি,

নতুন পাতার বুকে শত্রুও বসাবে না ছুরি,

কেউ কেউ লাল চোখে তখনও সামনে দাঁড়ানো

হরতনের তাস বিবি ও গোলামের দিকে তাকিয়ে

ফিসফিস করে- আহাম্মক,

ঐ দেখ বিজিপি বিএসএফ কাঁটাতার

ঐপারে আমাদের বসন্ত ঘুমায়, ঐপারে আমাদের-

বর্ষা লাগাম খুলে অদ্ভুত নৃত্যে- মত্ত , যেন উদ্ভ্রান্ত,

যেন ঐশ্বরিক ছোঁয়ায় ঝরে পড়ে জলজআগুন।

তোমাদের অপেক্ষা সন্ধ্যা ছুঁয়ে চিতাবাঘ

জ্বলজ্বলে চোখ নিয়ে নক্ষত্রপুঞ্জ পোড়ায়

তোমাদের ইচ্ছে ভোরের দিকে আগুয়ান

সুযোগের জন্য হাতড়ে বেড়ায় সময়

ভোর কেউ দৌড়ায়, কেউ বলে এই না! না! থাম!

তখনই গুলির শব্দ, তখনই শ্রমিকের চিৎকার

তখনই এপার ওপারের ঋতুচক্র রক্তে ভেসে যায়…

ভালোবাসার মৃত্যুর হলে মানুষেরা কখনও কখনও-

দম নিতে ভুলে যায়, তোমরা তখন নিশ্চুপ নিস্তরঙ্গ

শুধু ভোরের পাখি ডানা জাপটায়

শুধু বুটের শব্দ ঘন হয়ে দূরে চলে যায়

শুধু এবড়ো খেবড়ো শোক দীর্ঘশ্বাস হয়ে যায়…

 

 

 

 

 

 

 

 

====================================

 

 

 

মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার

এম এ ওয়াজেদ

 

হে সুপারসোনিক বেদনার নির্বোধ প্রেমরস-

তুমি ভুলে গেছো প্রাণবন্ত শিল্পকলার নন্দিত বীর্যপাত

ভুলে গেছো সজ্জিতা স্বর্ণভূমির ইকোফ্রেন্ডলি পোশাক

দীপ্তির রাজতরিকা নৈতিক প্রতিধ্বনির ইকটোপ্লাজম

যৌবনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ডুপ্লেক্স শুভময়তাবাদ

সুপ্রসন্ন সৌভাগ্যের সুরক্ষিত সহিষ্ণুতার আত্মোদ্বোধন

আরো ভুলে গেছো ভয়ঙ্কর তমসাবৃত্তিক ডেসপটিজম

নির্মল পাহাড়ি ঝরনার আত্মবাদী পোয়েটিক রিফ্লেকশন

সভ্যতার জাজিমে রক্তজখমের কতিপয় ম্যানারিজম

তৃণাচ্ছাদিত খোলা মাঠের অটবি শাখায় আঘাত করে

 

“ললিত” শব্দমালার ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস

ছিঁড়ে খেয়েছে অবাধ্য কাঠঠোকরার বিষপূর্ণ রক্ত ঠোঁট

লেড পয়জনিংয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে নবজাত শিশুর লিভার

ফেরাউনের ” ওয়ান উইথ পাওয়ার ” –

কুরে কুরে খায় পৃথিবীর মস্তিষ্ক স্নায়ু হার্ট কিডনি পাকস্থলী

যে ইম্পারিয়াল টাইটেল আমদানি করে

ষোড়শ লুইয়ের ভাগ্যবিপর্যয়ের মৃত্যুবাদী সৃষ্টিহীন প্লিজার

হে নিপীড়িত এশিয়া আফ্রিকার চেতনাহীন ফসিল-

ল্যাটিন আমেরিকার হে ধূসর উপত্যকার বিপ্লবী ঝঞ্ঝাবায়ু

এসো আজ ভেঙে ফেলি রক্ততাঁবুর উন্মাদ ইনকুইজিশন

 

বিপর্যস্ত সমাধিসৌধে নৃত্যরত পলিটিক্যাল ব্যুরোক্রাট

যে ব্যালেনৃত্যের প্রধানগায়িকা মনোরঞ্জনের অভিলাষে

সভ্যতার আনন্দনগরে হতে চেয়েছিলো নেফারতিতি

কামনার সাইকোপ্যাথিক বুনোহাঁস নিঃশেষ করেছে-

সৌন্দর্যদায়িনী আশাবাদের রক্তক্ষরিত পালমোনারি

মানুষের জীবনবাদী আশাগুলো একে একে মরে যায়

বন্যতার আদিম ঝড়ে উড়ে যায় নৈস্বর্গিক ভ্রূণযাত্রা

আলোগুলো আত্মহত্যা করে ধ্বংসবাদিস্ট ব্ল্যাকহোলে

মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিশ্ছিদ্র দানব কেবিনে

পড়ে থাকে মূর্খতার স্বপ্নহীন স্বাধীনতার সেলফি স্টিক

 

 

 

 

 

====================================

 

 

 

 

 

সংক্রামিত গৃহবেদনা

মাহফুজা অনন্যা

 

এই ঘরে আজও ঘনিয়ে থাকে নোনা নীরবতা,

দেয়ালের ভেতর জমে থাকে কান্নার ছত্রাক,

ছাদের ফাঁক দিয়ে চুইয়ে পড়ে পুরনো অভিমান—

গন্ধটা, অনেকটা অপচিকিতসিত স্মৃতির মতো।

অব্যক্ত ধোঁয়ায় মিশে গেছে অসমাপ্ত কথা

বালিশের নিচে শুয়ে আছে নিঃশব্দ অনুতাপ।

বাতাসে ছড়ায় এক অদ্ভুত জ্বর—

ভালোবাসার জীবাণু, অবহেলার সংক্রমণ।

এই ঘরে আলো আসতে ভয় পায় এখন

কারণ প্রতিটি জানালা জানে—

আলো মানেই মুখোশ খুলে ফেলা,

আর মুখোশহীন মুখেই থাকে সত্যের দগদগে ক্ষত।

সংক্রামিত গৃহবেদনা—নীরব মহামারি

যেখানে প্রত্যেকে অসুস্থ, তবু কেউই স্বীকার করে না।

 

====================================

 

সভ্যতার আর্তনাদ

তাহমিনা আলম

 

তিলোত্তমা নগরীর ধ্বংসস্তুপে বসে কাঁদছে শত সহস্র গোলাপ।

শহরের পুরোনো প্রাচীরজুড়ে রাতের মৌনী শিশির

কেউ না, কেউ শুনছে না তাদের আর্তচিৎকার।

দেবালয়, তীর্থভূমি, রঙ্গশালা কেঁপে উঠা তীব্র আর্তনাদে,

নুইয়ে পড়ছে ক্যাকটাসের কাঁটায়িত শরীর।

তবুও ভাঙছে না কুম্ভকর্ণের নিদ্রা।

কেউ কি আছে?

মূক, বধির সভ্যতার মর্মে বাজাবে মানবতার প্রণয় সংগীত?

মহাকালের বিস্মৃত অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দিবে কোন জাতিস্মর?

ভূখণ্ডের বন্ধ্যাত্ব দূর হবে কখন?

কোন শুভক্ষণে জন্ম নিবে দেবশিশু অপ্সরার জঠরে?

 

 

 

 

====================================

 

 

 

 

 

 

এসো যেতে যেতে বলি

হাফিজ রহমান

 

অনেক কথা আছে, তোমাকে বলে যাব।

 

একটা সময় কথা বলার ভাষাও নিয়েছে কেড়ে,

আমরা কিছু বলতে গেলেই আসতো ওরা তেড়ে!

আমরা তাই কথা বলি হয়তো কোন নির্জন  সংগোপনে,

হয়তো বলি হেঁটে যেতে যেতে,  দুজন নীরব ক্ষণে

আবার বলেছি কোন চিরকুটে, গোপন ইঙ্গিতে।

অবশেষে সোচ্চারে বলেছি মিছিলের সঙ্গীতে!

আমাদের মাতৃভাষা হারিয়ে যেতে দেবো না।

তাতে যদি প্রাণ যায়, যাবে নাহয়, যাক না!

 

এসেছে আবার সেই ক্ষণ

যেতে হবে চলে, যাবই যখন –

কিছু কথা বলবার আছে, বলে যাই চলি

এসো, সেসব কথা যেতে যেতে বলি!

এই যে ভাষার লড়াই,  এই যে প্রাণের লড়াই

এসব হাজার বছর জমে ওঠা প্রবল আবেগ!

হাজার বছর জমে থাকা শব্দের ফসিল,

এসব হারিয়ে গেলে জেগে ওঠে দুর্গন্ধ পঙ্কিল!

একথা স্মরণে রেখো মরে গেছে আমাদের ভাই

বায়ান্নর ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ, আমাদের স্মৃতিতে চির উজ্জল তাই!

 

====================================

 

 

অদৃশ্য অন্ধকার

মুস্তফা হাবীব

 

নদীরা যৌবনে পাড় ভাঙে, ভাঙে নৌকার দাড়

অমিত আনন্দে ছোটে সমুদ্রের দিকে।

মানুষও যৌবনে রৌদ্রের করোটি চেপে মিছিলে যায়

পরাজয়ের সুর অতিক্রম করে মাতে জয়ের নেশায়।

 

আমিও এমনই সুর তুলেছিলাম আড়বাঁশিতে

শিরা ধমনীতে অদম্য অনলপ্রভা

চেতনায় বেপরোয়া বীরের আস্ফালন

বেতসবন ছিঁড়ে সম্মুখে দৌড়, অদম্য হামাগুড়ি!

 

এখন চোখে ভাসে মরানদীর ধূসর ছায়াচিত্র

অনুভবে অনুরণন অব্যক্ত নিঃসীম হাহাকার!

অবহেলা- অনাদর, কেউ কাছে টানে না,

লুটিয়ে পড়ে না বুকে পূর্ণিমার চাঁদ, বসন্ত বাতাস।

 

উত্তর দখিনে পূর্ব পশ্চিমে অথবা ঈশান কোনো

যেদিকে রাখি অমুদ্রিত যুগল চোখ

দেখতে পাই, খেলা করে গ্রহ নক্ষত্র এবং অনাত্মীয়

পাতাঝরা শীতের নিঃসঙ্গ রাত্রি, অদৃশ্য অন্ধকার।

বিবর্ণ ক্যানভাস

অনীক রহমান বুলবুল

 

শকুন আশে পাশে দীর্ঘ চঞ্চু বাড়ায়

দেহ থেকে বেরিয়ে যায় দেহ

তৈরী হয় যোজন যোজন ব্যাপী দেয়াল।

এখানে কোনো সুবাস নেই-

ফুলের ভেতর লুকায় কুঁড়ি

হাওয়ায় উড়ে যায় ফেনায়িত ভাতের ঘ্রাণ।

 

কিশোরীর স্তনচূড়ো খামচে ধরে কামুক পুরুষ

বুটের শব্দে যেন বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটায়

আদিম অরণ্যের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসে

হিংস্র সরীসৃপ এক

নিংসঙ্গ নগ্নপায়ে আরেক রেস

শিল্পীর ক্যানভাস হোঁচট খায়

নিরন্ন মানুষের মুখ ভেসে ওঠে।

 

 

====================================

 

 

 

 

মনোনদীতে স্মৃতিগন্ধা

তারিফা হায়দার

 

প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলে যাওয়া শেষ ট্রেনের মতো

প্রতিদিন কিছু অতীত কাল পেছনে ফেলে আসি।

রাস্তার দু’ধারে অযত্নে বেড়ে ওঠা লজ্জাবতী,

ভাঁট কিংবা নিশিন্দা;

ফেলে আসি ধুলো জমা স্মৃতির চাদর।

 

চৌকাঠ পেরোলেই ভুলে যাই কনকনে শীতের রাত,

আলোর হাতছানি পেলে যেমন ঘাসের ডগায় ফোটে চনমনে হাসি।

 

বিষাদের ঘর থেকে তুলে আনি কাঁটামুকুট

সাজাই অতিথি ঘর,

আজো অতল হাতড়ে খুঁজি স্মৃতির মানিক।

মনোনদীতে ভেসে উঠা চলচ্চিত্রের নাম দেই স্মৃতিগন্ধা;

থেকে যাওয়া, ছেড়ে যাওয়া।

 

তবু দুঃখ এলে ডাক দিও, ডেকে নিও

ভেবো আছি, শিরদাঁড়ার মতো

আমি তো আর অতীতকাল নই,

যে একবার চলে গেলে আর

ফিরে আসতে পারবো না।

সরষেখেতে হলুদ পরি

সৌপর্ণ মাছুম

 

শ্বেত কুয়াশায় শীতের হাওয়ায় গায়ে হলুদ মেখে

সরষেখেতে হলুদ পরি বসলো বুঝি জেঁকে ।।

 

সবুজ নদে চর জেগেছে হলুদের আলপনা

কুসুম-ঢেউয়ে ভাসছে তরি কাঁচাহলুদ সোনা

ভিড়লো তরি স্বপ্নজালে চাষির রঙিন চোখে ।।

 

রূপপিয়াসি তুলতে ছবি আসে হলুদ বনে

হাত বাড়ায়ে জড়ায় কুসুম মধুর আলিঙ্গনে

 

মৌমাছিদল গুনগুনিয়ে

মৌয়ের নেশায় আসে ধেয়ে

মুখমন্থনে পুষ্পসুধা জমায় সে মৌচাকে ।।

 

 

 

 

====================================

 

 

 

বসন্ত আসেনি

বদরুননেসা সাজু

 

বয়সের উল্লসিত ছন্দ বারবার ঢেউ খেলে কর্ণফুলির জলে

সবুজ ছায়া ঘেরা বাড়ির আঙিনায়, নৌকাবাইচ সাম্পানের সাঁজোয়া মহড়ায়

নাড়া দেয় অস্তিত্বে

লাজে রাঙা হয়ে ওঠে আপাদমস্তক, পাওয়ার দুর্দমনীয় স্পৃহা শিহরিত তনুমন। মেয়ে, দয়িতের (!)

প্রতারণার ফাঁদে পা দিও না

 

ব্যর্থ আবেগের মধুর অনুভব কান্নার সায়রে রূপায়িত

ভালোলাগার উত্তাল সমুদ্রের ওপাড়ে শূন্যতার বিকট গর্জন শুনে দমে গেছি

যেতে যেতে জেগে ওঠে হালদার চর,কাদা ও বালির শুষ্ক মৌসুম-খরার দহনেও ডাকে, আয় — আয়

বসন্ত আসেনি যার জীবনে কৃষ্ণচূড়ার রঙ তার কাছে শুধু বায়ান্নের রক্তাক্ত রাজপথ, শহিদের আত্মদানের রক্তে ফুটে থাকে পলাশ শিমুল –

হাজারো ফুল।

====================================

 

 

 

মানবতার প্রচ্ছন্ন ছায়া

জেড আর স্বপন

 

এক মুঠো শান্তির খোঁজে অশান্ত হৃদয়ে

মহাকালের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে

ছুটে বেড়াচ্ছি দিন মাস বৎসরান্তে-!

 

মহাকর্ষের অনুরাগী ছায়াপথ ছাড়িয়ে

বিবেকের কাঠগড়ায় আমি কুন্ঠিত, ক্ষুণ্ন-!

তাইতো মনুষ্যে কর্ণিয়ায় দেখতে পাই

 

মানবতার ছায়া রয়েছে প্রচ্ছন্ন-!

ভোরের আলো ফুটে উঠতে দেখি

ক্ষুধার্ত শিশুর পাজর ভাঙ্গা আর্তনাদ-!

উন্মাদ পশুদের লালসার শিকার

 

সতীত্ব হারা হাজারো বিষাদ-!

তেজারতি বর্বরতা সুবিধা বঞ্চিতের

ন্যায্য হিস্যার থলেতে বসায় ভাগ-!

চর্মসার নিপীড়িতকে মিথ্যে অপবাদের-

 

ব্যারিকেডে আটকে রেখে-

দম্ভ করে ছড়ায় মেকি অনুরাগ-!

নগ্ন সভ্যতা গুলো নৃত্য করে বেড়ায়

অসভ্য লালসার অবলীলায়-!

 

ঘৃণ্য দাসত্বের নির্মম করাঘাতে

মরছে মনুষ্য, ডুবছে মনুষ্যত্ব-!

আমি তাতেও ভীত নই,আমি কাপুরুষ নই-!

 

আমার সাম্যবাদী নির্ভীকতায়

আগামী কোনো ভোরে নিশ্চিহ্ন করবো-

তোমাদের চাতুর্য বিবেকের ঔদ্ধত্য-!

 

পরিশেষে, সেদিন হবো শান্ত

যেদিন তোমাদের চেতনা হবে জাগ্রত

ঘৃণিত বর্বরতা হবে ক্ষান্ত-!!

 

==============================

মাতৃভাষা বাংলার প্রাণ

শবনম ফেরদৌসী

 

মায়ের কোলে মায়ের বোলে

শুনেছি কত গান,

সে আমার মাতৃভাষা বাংলা

ভাষার প্রাণ।

 

কোথা থেকে এক দস্যু

বাংলায় বল্লো এসে,

উর্দুই হবে রাষ্ট্র ভাষা

বাংলা রবে শেষে।

 

এই কথায় রাস্তায় নামে

মাতৃভাষার সব ভক্ত,

দস্যুসেনা  গুলি ছোঁড়ে মিছিলে

রাজপথ রঞ্জিত  রক্ত।

 

রমনার বটমূল ঘাস ফুল

লালে লাল হয়ে উঠে,

বীর শহীদের ভাষার মিনার

অ, আ, ক,খ হয়ে ফুটে।

 

==============================

সৃষ্টির উল্লাস

আসাদুজ্জামান খান মুকুল

 

কবির দৃষ্টি জগৎ দেখে

গল্প যত ধ্যানে রেখে

মিটায় মনের ভুখ,

দুঃখ-ব্যথার পাহাড় ঠেলে

আলোর চেরাগ নিত্য জ্বেলে

পায় যে পরম সুখ।

 

ছন্দ নাচে কলম-ডগায়

সুধা ঢালে স্নেহেরই বায়

গড়ে নতুন দেশ,

অক্ষরেতে জীবন সাজে

সুর বাজে যে মনের মাঝে

মুছে সকল ক্লেশ।

 

মাটির গন্ধে মাতাল কবি

আঁকে বসে নিখুঁত ছবি

করতে কলুষ দূর,

হৃদয় নিংড়ে বিলান দেওয়া

সুখের পরশ খানিক নেওয়া

সৃষ্টির মধুর সুর।

 

কাপুরুষের কাব্য না হয়

লড়তে হবে আনতে বিজয়

চুরমারে সব ভয়,

কলম যখন হয় তলোয়ার

বিনাশ ঘটে ঘোর তমসার

কবির লভে জয়।

 

শূন্য পেটে শব্দ মাগে

ভীষণ মায়ায় অনুরাগে

জাগে গভীর প্রাণ,

কষ্টে ঘেরা জীবন হলেও

সবটুকু মন উজাড় দিলেও

ফোটে জয়ের গান।

 

 

 

 

====================================

 

 

 

 

 

 

 

 

 

একুশের কবিতা

অপু বড়ুয়া

 

একুশের গাথা বেদনাবিধুর কাহিনির মনিহার

একুশের গানে স্বজন হারানো হৃদয়ের হাহাকার।

একুশ আমার প্রাণের রুধিরে লেখা এক ইতিহাস

একুশ আমার শাশ্বত বোধ চিরায়ত বিশ্বাস।

 

একশ আমার মায়ের ভাষার অবিশ্বাস্য জয়-

একুশ আমার শেখালো কখনো মাথা নিচু করা নয়!

 

সালাম রফিক জব্বার অহি বরকত শফিউর

বীর শহিদেরা আমার কণ্ঠে দিয়েছে অমর সুর।

সেই সুরে আমি গাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লোকজ গান

সে গান আমার সাহসী হওয়ার মন্ত্রণা অফুরান।

সে গান মাতৃভাষার—

সে গান আমাকে স্বপ্ন দেখায়, সে গান দুঃখনাশার।

 

একুশ আমার কথা—কবিতার বর্ণমালার দোলা

একুশ আমার মুক্ত আকাশ উচ্ছ্বাস প্রাণখোলা।

মায়ের শাড়ির স্নেহের আঁচল, ভালোবাসা অনিবার

কোকিলের কুহু,রাখালিয়া বাঁশি জোনাকিরা সন্ধ্যার।

 

একুশ আমার প্রাণের আকুতি, সুখের স্বপ্ন দেখা

একুশ নিয়েই আমার সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ কবিতা লেখা।

 

====================================

 

 

পাহাড়ি গ্রাম

জনি সিদ্দিক

 

দূর পাহাড়ের চূড়া থেকে ঝরনা আসে নেমে

ঝিরঝিরিয়ে চুঁইয়ে পড়ে পাহাড় ঘেমে ঘেমে।

শান্ত মনে বয়ে চলে ব্যথার বেদন গেয়ে

এঁকেবেঁকে পাথর ঠেলে সাগর পানে ধেয়ে।

ছোট বড় গাছের সারি সবুজ ঘেরা পাহাড়

গহিন বনে বানর ছুটে খুঁজে ফেরে আহার।

বলাকারা করতে খেলা আসে নদীর তীরে

অল্প দূরে রাজহাঁসেরা ভাসে মাছের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়া একলা যখন সুয্যি মারে উঁকি

সবুজ পাতা দেয় ইশারা করতে আঁকি বুকি।

নদীর তীরে মাটির বাড়ি ছোট্ট একটি পাড়া

আলো জ্বেলে রাত্রি বেলায় জোনাকি দেয় সাড়া।

ছবির মতন এমন গাঁয়ে থাকার ইচ্ছে জাগে

পাহাড়-বন আর ঝরনা-নদী আঁকব অনুরাগে।

 

====================================

 

আমি কবিতা ভালোবাসায় মগ্ন

ফাতেমা আক্তার চৌধুরী

 

আগ্রহ তোমার দৃষ্টি আকর্ষণে

তুমি চাও ওই দুটো চোখের দিকেই

যেনো তাকিয়ে থাকি অগত্যা আমিও তাকালাম,

চেয়েছিলে কাছে ডাকি, তাও ডাকলাম,

ইংগিতে পাশেও বসি, বললাম থেকে যাবো,

তুমি বললে, হ্যাঁ থাকো…

বলেছি কবিতা আমার আরাধ্য, ভালোবাসা

তুমি চেয়েছো কবিতা হতে,

শব্দে শব্দে আঁকতে বসলাম তোমার চোখের আলো…

 

প্রার্থনা প্রবণ চোখ দেখতে দেখতে কেটে গেছে

আড়াই বসন্তের দিনরাত্রি—

আবৃত্তির প্রস্তুতি শেষ না হতেই তুমি দুরের অতিথি হয়ে

মন থেকে ছিটকে ফেলেছো আমার সমস্ত শব্দ।

চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে কবিতার মৃত্যু সংবাদ,

পথে পথে পড়ে থাকে তোমার অঙ্কিত চোখ,

নাক, কান ও শ্রবণকেন্দ্র।

তুমি কিছুই শুনো না, দেখো না বা বলতে পারো না..!!

 

অবশেষে বুঝলাম তুমি শব্দ নও, কবিতাও নও

পাটিগণিতের যোগ-ভাগ-গুণ-বিয়োগেই স্থির।

অথচ ভুলের জানালায় বসে আমি কবিতা ভেবেই

মুখস্থ করেছি তোমার অনুপুংখ ছবি,

ব্যাকুল হৃদয়ে আকুলতা উদযাপন করতে গিয়ে দেখি

তুমি হিসাব বিজ্ঞানের জটিল সমীকরণে বুঁদ…

ডেবিট-ক্রেডিটের দেয়াল দেখিয়ে বললে, যাও

তোমার গণিত যন্ত্রে শব্দ উৎপাদন করে বললাম

ভালোবাসাবাসি তাই অজুহাত বেমানান।

তুমি না-বোধক হাত নেড়ে পান করতে দিলে চূড়ান্ত দহন…

 

বুঝলাম, আমি কবিতা ভালোবাসায় মগ্ন

তোমার দুচোখে অংক, তুমি পরিপূর্ণ গণিতের,

তুমি পরিপূর্ণ গণিতের..!!

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

====================================

 

 

 

দুটি কবিতা

বঙ্কিমকুমার বর্মন

 

# দ্বিতীয় ভাষা

 

জাগে গুহা জীবনের নারী

আঁচল উড়ছে— ততখানি বেহিসাবি মন

দু-হাত বাড়িয়ে সেরে নিচ্ছে জ্যোৎস্নায় স্নান

অতঃপর এই গাছেরা শরীর ঢেকেছে

এভাবে গড়েছে ছায়াজন্ম— মুগ্ধ অন্তর্বাস

 

নিমিত্তে—নারী তুমিই ভূ-ভাগ

সলজ্জ তুমি— যথার্থ জেনেছো মানে

বলো, এই গর্ভ কতখানি ঈশ্বরের ?

 

# সুলভ সমাচার

 

এইসব মাঠ— প্রজাপরিচিতি

ক্ষমাহীন শস্য, অনাবিষ্কৃত জলদেশ

প্রকৃতই উঠে আসে

লেখার টেবিলে

 

ছয় ছয়টি ঋতু—গাছে গাছে পাখি

সেই পাহাড়, সেই নদীতীর

অন্তহীন পথ — মিথ্যে ভালোবাসা

 

এই যাত্রা সূর্য পরম্পরা

এই যাত্রা মহাকাশযুগ।

 

বাঙালির ভাষার অধিকার হরণ- রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক মৃত্যু

হোসাইন আনোয়ার আজ থেকে ৭৯ বছর আগের কথা। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারতবর্ষের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যটেন তার রোয়েদাদ ঘোষণা করেন, এই ঘোষণার পর

‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ জননী রঞ্জিতা বড়ুয়াকে নিবেদিত সন্তান সত্যজিৎ বড়ুয়ার ‘সুরাঞ্জলি’

মা সুগৃহিনী শ্রমতী রঞ্জিতা বড়ুয়ার ৮৩ তম জন্মদিনকে উপলক্ষ করে ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গানে গানে সুরের

আন্দরকিল্লা’য় সুকুমার স্মরণ সন্ধ্যা

বিপুল বড়ুয়া   সুকুমার বড়ুয়া আমাদের ছড়াসাহিত্যের একজন প্রবাদপ্রতীম পুরুষ। নানা আঙ্গিক, বিষয়বস্তু, ধরণ-ধারণে, বৈচিত্রে অনুধ্যানে তিনি অসংখ্য ছড়া লিখে আমাদের ছড়া অঙ্গনে বহুমাত্রিকভাবে খ্যাত

জলে জঙ্গলে (পর্ব তিন)

মাসুদ আনোয়ার একে একে মুসল্লিরা বেরিয়ে আসছে মসজিদ থেকে। আমি দাঁড়িয়ে আছি স্থানুর মতো। প্রত্যেক মুসল্লির মুখের দিকে তীক্ষ্ম নজর বুলাচ্ছি। কাপ্তাই বড় মসজিদের ইমাম