এখন সময়:ভোর ৫:২৬- আজ: বুধবার-২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:ভোর ৫:২৬- আজ: বুধবার
২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

নাজিমুদ্দীন শ্যামল গুচ্ছ কবিতা – ফসলের নদী

ফসলের নদী

এ মাটি জানে ঘামের সাথে ঝরে পড়েছে
সাদা ভাতের স্বপ্ন। দুই বুক চিরে দিয়েছে
সোনালি ধান। তবুও চুলায় কেবল জ্বলেছে
জলের হাঁড়ি। ধানগুলো নিয়ে গেছে
মুক্ত বাজার অর্থনীতি।

আমরা দিনরাত এক করে ধান বুনি;
নিয়ে যায় অন্যজন। থালা ভর্তি ভাতের স্বপ্ন
চুরি হয় সারাক্ষণ। তবুও নবান্ন আসে
ধানের গন্ধ নিয়ে জীবনে। শূন্যতার সময়ে
উপোস গৃহস্থ বাড়ি।
চাষ হয়, ধান হয়, মাঠে ফসলের নদী।
আমার কৃষক অভুক্ত শুধু বাজার অর্থনীতি।

জলের নেশা

তোমার সমুদ্র জল দেখে
কতোবার ছুটে গিয়েছিলাম
তুমুল জোয়ারে।
কতোবার করেছিলাম ¯œান
মধ্যাহ্ন দুপুরে।

আশ্চর্য সেসব জল
কবে যেন হারিয়ে গেলো…
এখন শুধু ধু ধু
চরাচর।
এখন কেবল পড়ে আছে
কৃষ্ণবন।

তবুও জলের নেশা আমার
কাটেনি আমি তাই ছুঁয়ে যাই
বালির পারাপার। জানি তো,
জলের নেশা কাটে না কোনদিন…

স্বপ্ন

ঘরের দরজা খুলে চলে গেছে ঘুম; তারপর
দুই চোখে জোছনার নদী। বারান্দার ফোকর পেরিয়ে
জোছনার রং এসে পড়েছে তোমার জাফরান গালে!
কেমন ফর্সা হয়ে আসছে স্বপ্ন…

হঠাৎ চাঁদ উঠলে ঘুম চলে যায়। চোখের পাতায়
রাত জেগে থাকে, জেগে থাকে তোমার স্বপ্ন।
রাতের আয়নায় দেখি কেবল জেগে আছি আমি
আর জেগে আছে আমার স্বপ্ন…

 

বিদ্যালয়

কতো জীবন পার করলাম একা একা জন-সমাগমে।
কেবল হেঁটেছি বৃক্ষের সাথে, মেঘের সাথে, নদীর সাথে…
সমুদ্রও দেখেছি, দেখেছি ভালোবাসার জোয়ার।
তবুও কোন দিন নদী হতে পারিনি, পারিনি হতে মেঘ।
না সমুদ্র, না বৃক্ষ কিছুই হইনি আমি।

নিজের ছায়ার সাথে পুরাতন ঘুমের স্মৃতি নিয়ে
গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে গেছি। যাযাবর রাত আর
সব সমুদ্র ফেনা আমাকে নিয়ে গেছে বিদ্যালয়ে…
আর বিদ্যালয় বলতে বুঝেছি শুধু সমুদ্র,
সীমাহীন জলরাশি কিংবা মানুষের অসহায়তা।
আমি বিদ্যা শিক্ষা করিনি। আমার কোনো
অক্ষরজ্ঞানও নেই। গদ্যে পদ্যে কিছুই বলিনি।
শুধ শিখেছি ভালোবাসা পাঠশালায়; বলেছি আমি
ভালোবাসি তোমায়…

ঘুম ভাঙার কাল

এখন সাম্য স্বপ্নের মুগ্ধ সময় নয়,
এখন এক নিদারুণ স্বপ্ন ভাঙার কাল।
একদিন যেসব স¦প্ন আমরা দেখেছিলাম
যৌথ খামারের, মুক্তির অনাবিল আনন্দের…
সে সব স্বপ্ন চুরি হয়ে গেছে গোপনে।

সতীর্থরা অনেকেই আমাদের নদী থেকে
মাছ সব চুরি করে নিয়ে গেছে অন্ধকারে।
আমাদের পাড়ার জেলে রমণীরা
কেবল বলাবলি করছে : এই নদীতো
কারো একার নয়, আমাদের সকলের।
গুমান বিলের মাঝে মাঝে ঝুলে আছে
কর্পোরেট সাইনবোর্ড। গ্রামের কৃষকরা
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে, কারা যেন
গ্রামটাকে পকেটে নিয়ে শহর বানিয়ে
বগলদাবা করে উড়ে যাচ্ছে আকাশে।
আমরা যারা পাহারাদার ছিলাম,
তারা কি ঘুমিয়ে ছিলাম? নাহলে
আমাদের সকলের স্বপ্নের সিন্ধুক
কীভাবে তস্কর নিয়ে যায় রাতের আঁধারে!
তবে আমাদেও ঘুম ভাঙার কাল কখন হবে?

হাসনাত আবদুল হাই: নবতিতম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ তাঁর কথা প্রথম শুনি স্বয়ং পিতৃদেবের মুখে। একই এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দুজনেই, তদুপরি লতায় পাতায় কীরকম যেন আত্মীয়ও। এই নিয়ে একধরনের চাপা গর্বও

ডা. চন্দন দাশ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ

শোয়েব নাঈম চন্দন দা’ (ডা. চন্দন দাশ) অভূতপূর্ব মানসিক অনুরণনে আমার মধ্যে বহু বছর আগেই বসন্তের এক রেশ রেখে গেছেন। তাঁর বসন্তের এই রেশ ছিল

তেজোদীপ্ত তোফায়েল আহমেদ বোধশূন্যতায় তুমি শোকসভা

কামরুল হাসান বাদল   বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তর একবারই এসেছিল, সে একাত্তর গৌরবের, সে একাত্তর অহংকারের। সে একাত্তর আর কখনও বাঙালির জীবনে আসবে না।

পান্থজনের কথা

সুমন বনিক মহেড়া জমিদার বাড়ির নামটি অনেক আগেই জানা ছিল, কিন্তু দেখা হয়নি। ইতিহাসের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এর মানিকরতœ উদঘাটন করা ঊর্মিলা (আমার স্ত্রী)’র স্বভাবজাত

পরিশেষে সেই তুমি

সৈয়দ মনজুর কবির এমনিতেই সরু গলি, কি বুঝে ফায়ার ব্রিগেড এর মাঝারি সাইজের পেট মোটা ওয়াটার ওয়াগনটা ঢ়–কলো তা দামালের বোধগম্য হচ্ছে না। অফিসের গাড়ি