শূন্যতার ভার
এই মন পোড়ে পোড়ে রয়েছে অবশেষ
মৃত মাছেদের নিথর চোখের মতন,
বলো, কি করে করি দেহের মাঙ্গলিক
চিন্তা যাপনে এই ক্ষণ?
এতোকালই জেনেছি,শূন্যতার নেই কোনো
গাণিতিক ওজন-মান,
কেন তবে শূন্যতার ভারে নুয়ে পড়ে এ বুক
আজ হলো খানখান।
শূন্যতা কি বোঝে, এ পোড়া মনের
চুপকথা কতোটা অগাধ?
নিজেই যখন হয়েছে ‘বৈকুন্ঠের উইল’
আমার দালিলিক এক সম্পদ।
তবে সে ঠিকই বোঝেছে নিজেকে নিয়ে
লাভ-ক্ষতির ভাবনার শেষ ধাপ,
প্রেমের হাটে মানুষই যখন মন্দ আমি
আমাকে দুঃখ দিলে কি করে হয় পাপ?
আজো আছে প্রেম
বলেছিলে, নন্দিনী হতে না পারলেও
পাখি হয়ে ফিরবে একদিন প্রেমডালে
আজ চাতকের মতো খুঁজি নিশিদিন
কেবলই পাখিদের ভিড়ে আঁখি মেলে।
বউ-কথা-কও আর হলুদিয়ায়
লেগে থাকে এ তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি,
দোয়েল-কোয়েল কিম্বা রাঙা টিয়ায়
কোথাও যে আর পাই না তুষ্টি।
তবে কি তুমি ওই পাখিদের মাঝে
আছো চেনা কোনো মুখ লুকিয়ে?
নাকি আছো আজ পর-কোকিলের বাহুডোরে
মিছে কোনো মায়ায় ভাব জমিয়ে চুকিয়ে?
থাকো তুমি কূল-রক্ষার অজুহাতে
যৌবতী সঙ সেজে ভুলে যাও এই শ্যাম;
হৃদয় ক্যানভাসে তবু এঁকে যাবো ফাগুন
এ বুকে আজো আছে অমেয় প্রেম।
অনঙ্গ প্রকাশ
ডাহুকের ডানায় ভর করে নামে
সন্ধ্যার হিমেল হাওয়া,
অন্ধকার ছুঁয়ে যায় অপূর্ণ সব
স্বপ্ন আর চাওয়া-পাওয়া।
বুকের গহীনে জেগে ওঠে
এক দীর্ঘশ্বাসের চর,
স্মৃতির বালুচরে ঘর বাঁধে
যত নামহীন যাযাবর।
এ কেমন অনঙ্গ প্রকাশ?
যা দেখা যায় না অথচ অনুভূত,
হৃদয়ের নিভৃত কোণে যেন
এক ব্যথারই রাজদূত।
আফসোসগুলো কুয়াশা হয়ে
ঢেকে দেয় চারপাশ,
রাতের আকাশে গুমরে মরে
এক চিলতে নীল আকাশ।
বঞ্চনার বর্গাচাষি
চর্চিত জীবনের একফালি উর্বর জমি
বিশ্বাসে দিয়েছিলেম তোমায় নিবিড় বর্গা;
সেখানেই আমি আজ বঞ্চনার চাষী
কী করে বলি, ‘তুমি দুর্গতিনাশিনী দুর্গা’?
আরাধনার বেদিতে যে ফুল রেখেছি যত্নে
সেখানে কেন বিষাক্ত ক্রুর অবস্থান;
তোমার বদলে যাওয়া আগুনের মতো পোড়ায়
আহত বিশ্বাসে বিদ্ধ আমার একাকী সম্মান।
তুমি পাল্টে গেলে মোহনার শেষ বাঁকে
উন্মোচিত হলো সেই তোমার পরিচয়;
তবে কার কাছে রাখবো এই আস্থাটুকু?
যখন আরাধ্যা দেবীই দেন চরম ধোঁকার ভয়।
জেনে নিও
তুমি যেন লাস্যময়ী কোনো এক সুদূর নির্জন দ্বীপ,
মরু-মাঝে তৃষ্ণার্ত চোখে যেমন মরীচিকার ঝিলিক।
আমি নাবিক, কম্পাসহীন পাল তুলেছি অজানায়,
তীব্র বেগে জাহাজ ছোটাই তোমার নিঃশব্দ ইশারায়।
মাঝপথে ঝড়ো হাওয়া আর নোনা জলের আর্তনাদ,
তবুও থামিনি আমি, তুচ্ছ করেছি সব অবসাদ।
বালুকাবেলায় যদি ঠাঁই পাই কোনো এক ভোরে,
জেনে নিও, এ তরী ভিড়েছে শুধু তোমারই বন্দরে।




