এখন সময়:রাত ১২:৪২- আজ: বৃহস্পতিবার-১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:রাত ১২:৪২- আজ: বৃহস্পতিবার
১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

অন্তরে নোনা জল

সৈয়দ মনজুর কবির

গোপালগঞ্জ শহরের প্রধান রাস্তার দু’পাশেই অনেকগুলো দোকান। একটি বাদে সবগুলোই বন্ধ। যেটি খোলা সেই দোকানটির নাম সালাম জেনারেল স্টোর। দেখেই মনে হয় কত কালের পুরোনো। ভীষণ তপ্ত ভর দুপুর। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাজেরো গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসেও হাসেম বেশ বিরক্ত। কি অলক্ষুণই ভোর ছয়টায় মাগুরার বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। ইচ্ছে ছিল গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদে জরুরী কাজটা সেরেই বিকেল বিকেল বাড়ি ফিরে যাবেন। কিন্তু আর হলো কই? ড্রাইভার অসুস্থ। নিজেই গাড়ি চালিয়ে সাত আট কিলোমিটার আসতেই চাকা পাংচার। কত কষ্টে লোকজন জোগাড় করে স্পেয়ার চাকা বদল করতেই ঘন্টা দেড়েক লেগে গেলো। আবার চলার পথে পাংচার সারানো দোকানে থেমে পাংচার চাকাটি ঠিক করতেই সময় গেলো আরো আধা ঘন্টার উপরে। এখানে গাড়ির জটলা, সেখানে গাড়ির জটলা এভাবে অতিক্রম করতে করতেই এখন ভর দুপুর।

কতদিন পর যে এলেন এখানে, কোন দিক দিয়ে যেতে হবে, তা কারো কাছে জিজ্ঞাসা করে নিলে ভালো হতো না! অবাক করা শহর। ওই দোকানটা ছাড়া আর কোনো দোকানই তো খোলা নেই। নেই কোনো পথচারীও। অগত্যা গাড়ি থেকে নেমে আসলেন। দাঁড়ালেন দোকানের সামনে।

দোকানে অভাবনীয় দৃশ্য অপেক্ষা করছিল হাসিমের জন্য। প্রথমে কাউকেও দেখতে পেলেন না। একটা গোঙানীর শব্দ কানে এলো। একটু কসরত করে উঁচু হয়ে সামনের কাঠের শোকেজের উপর দিয়ে তাকালেন। তারই মতো সত্তুর বছরের কাছাকাছি এক লোক ফ্লোরে শুয়ে আছেন। পায়জামা পরা। বোধহয় পাঞ্জাবি পরার অভ্যাস। সেটা এখন গায়ে নাই। একটা ছোট্ট বারো তেরো বছরের ছেলে খুব ব্যস্ত হয়ে লোকটির বুকে তেল ডলে দিচ্ছে। শুয়ে থাকা লোকটির মুখ বেঁকে বেঁকে গোঁঙানীর শব্দের প্রকৃতি হাসেমের ভাল লাগলো না। তিনি দোকানের ভেতর ঢোকার পথটা দিয়ে দ্রুত ভিতরে প্রবেশ করতেই বড় বড় চোখ করে ছোট্ট ছেলেটি চেঁচিয়ে ওঠে, আরে আরে আপনি ভেতরে আইলেন ক্যান ? ভেতরে আইলেন ক্যারা?

শোনো ছোট বাবু, আমার পরিচয় পরে নিলেও চলবে। মনে হচ্ছ ওনার হার্ট এটাক জাতীয় কিছু হয়েছে। এখনই হাসপাতাল নেয়া উচিৎ।

অচেনা লোকটার কথা শুনে ছেলেটিতো অবাক।

আপনে কি না কি কইতাছেন? আগেও দুইবার বুকে বেদনা হইছিল। আমি খাঁটি সইষষার ত্যাল বুকে ডইলা দিছি। ব্যস, দাদাজান একদম ঠিক।

এই খাঁটি ত্যাল একমাত্র এ্যাই দোকানেই পাইবেন। অন্য কোনো সময় হলে হাসি ঠেকানোই মুশকিল হতো কিন্তু আজতো অন্য পরিস্থিতি। তাই হাশিম কিছু না বলে শুয়ে থাকা লোকটির কাছে হাঁটু গেঁড়ে বসেন। বাম বুকের ওপর হাতটি রাখলেন সযতনে। হাত কেঁপে উঠল। তিনি এখন নিশ্চিত এটা হার্ট এটাকেরই ব্যাপার। হাত সরিয়ে আনতেই আরেকটা ঘটনা ঘটলো। তেলতেলে বুকের ওপর কি যেন হাতে অনুভব করলেন। হাত সরিয়ে দেখলেন কালো রঙের জড়ুল। মনের অজান্তেই মাথা ঝুঁকিয়ে নিয়ে যান জডুলের কাছাকাছি। মনের গভীরে কিছু নড়েচড়ে ওঠে। তিনি স্পষ্ট দেখলেন, একটা গোলাকার ছোট ঢিবি। আর গোড়া থেকে দুদিকে দুটো রেখা উঠে গেছে। শুয়ে থাকা লোকটির মতো হাশিম হৃদযন্ত্রও জোরে দোলা খায়। কাঁপা হাতে আরেকবার জড়ুলটাকে স্পর্শ করেন। তীক্ষœ দৃষ্টি দিলেন চাপদাড়িতে ঢাকা লোকটির চেহারার দিকে। কতগুলো বছর চলে গেছে, অনেক পরিবর্তন। মনের মধ্যে খচ খচ করতে থাকে। দ্রুত দাঁড়িয়ে ছেলেটিকে বলেন, সময় নষ্ট করা যাবে না। একটু সাহায্য করো তো। ওনাকে এক্ষুণি হাসপাতালে নিতে হবে। আমার সাথে গাড়ি আছে। ধরোতো, জলদি ধরো।

ছেলেটি এবার একটু ভয় পেয়েছে মনে হলো। অজানা আশঙ্কা। দাদুর সত্যিই খারাপ কিছু হলো কি না! সেও হাত লাগালো দাদুকে গাড়িতে তুলতে। হাশিম লোকটির একটা হাত কাধে নিয়ে টেনে তুলতেই দেখলো লোকটার একটা পা হাঁটুর নিচে কাঠের তৈরি। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই ছেলেটি বলে, দাদুর তো একটা পা’র পাতাই নো। কাঠের পা লাগাইছে। ওই যে বাহারি লাঠি, সেইটা দিয়া ভর দিয়া হাঁটে।

হাশিমের জোড়া ভ্রু আরেকটু বেঁকে যায়। তিনি কোনো কথা না বলে লোকটিকে বেশ কষ্ট করেই গাড়িতে নিয়ে তোলেন। তুমিও ওঠো গাড়িতে, ছেলেটিকেও উঠতে বললে, ছেলেটা বলল একটু দাঁড়ান। আমি জলদি লাইট, ফ্যান বন্ধ কইরা দোকানের ঝাপটা ফালাইয়া নেই।

ছেলেটি ছোট হলে কি হবে, দায়িত্ব জ্ঞান দেখে তিনি বেশ অবাকও হলেন। ছেলেটির নির্দেশ মতো গাড়ি চালিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সদর হাসপাতালে পৌঁছে গেলেন হাশিম। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত নবীন ডাক্তার দাদুকে পরীক্ষা করেই দ্রুত আই, সি, ইউ, তে পাঠাতে বলেন। আর তখনই রোগীর নাম লেখানোর সময় ছোট ছেলেটি বললো দাদুর নাম আসলাম। নাম শুনে হাশিম একটু মর্মাহত হলেন বটে কিন্তু মনের মধ্যে আনচান আনচান ভাবটা রয়েই গেলো। তার মন অন্য কিছু শুনতে চেয়েছিল, আসলামকে আই,সি,ইউ’তে নেবার সময়ও তিনি এক দৃষ্টিতে বুকের উপরের কালো জরুলটার দিকে তাকিয়ে থাকলেন আর মনে মনে ভাবছিলেন, এটা কীভাবে সম্ভব ! যা হাসু, যা। আর দাঁড়ায় থাকিস না, দোস্ত। যা, যা। আমার পায়ের অবস্থা ভালো নারে দোস্ত। গুলি মনে হয় হাড্ডির মধ্যে গেঁথে আছে। পা ফেলতেই পারতেছি না। তুই যাÑ জানের বন্ধুর কথাগুলো এখনো কানে বাজে। তখন দু’জনারই রাইফেল গুলিশূন্য। কামান্না গ্রামে তারা মোট ছিয়াত্তর জন মুক্তিযোদ্ধা ছিল। তিন ঘন্টার মতো রক্তক্ষয়ী গুলি বর্ষণের পর কমা-ারের নির্দেশ আসে, আমাদের বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়ে গেছেন। গুলির মজুতও প্রায় শেষ। যে কজন বেঁচে আছেন, তারা জেনো যেভাবেই পারে জলার দিক দিয়ে পালিয়ে যান। জলার জঙ্গলের ভেতর আগেই পাঁচটা নৌকা লুকিয়ে রাখা ছিলো, সবাই জানতো। যাবার পথেই হাসু দেখা পায় কমরের। পায়ে গুলি লেগেছে, পড়ে আছে মাটিতে। পাকিস্তান সেনাদের উপস্থিতিও বেশ কাছাকাছি। হাসু দৌঁড়ে বন্ধু কমরকে কাঁধে তুলে নিতে চাইলে, কমর বাধা দেয়। শত অনুরোধও শুনলো না। কত অবাস্তব, কত আশ্চর্য ঘটনা ঘটে জীবনে। হাসু মানে হাশিমের জীবনেও ঘটে ঘটনা, হাসু দেখে কমর মুহূর্তের মধ্যে এক পায়ে দাঁড়িয়ে যায় । আর সঙ্গে সঙ্গেই রাইফেলের বেয়োনেট উঁচিয়ে হাসুর পিছন দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পিছনে তাকাতেই খুব কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পায়। কমরের বেয়োনেট ঢুকে গেছে এক পাকিস্তান সেনার বাম বুকে। আর কমরের মাথা, গাল বেয়ে রক্ত ঝরছে। যে গুলি হাসুর লাগার ছিল তা কমর নিজের মাথা দিয়ে প্রতিহত করেছে। শুধু তাই নয়, সেই শত্রুকেও খতম করে দিয়েছে। কমর মাটিতে লুটিয়ে পরেও শেষ বারের মতো ইশারায় বন্ধুকে চলে যেতে অনুরোধ করে। হাসু সেদিন কাঁদতে কাঁদতে বন্ধুর অনুরোধ রেখেছিল। নিথর হয়ে যাওয়া বন্ধুকে রেখে জলার ধারে চলে আসে। আসবার সময় অবশ্য শত্রুটার রাইফেল আর গুলির বেল্ট সংগে নিয়ে আসে। কালু চাচার নৌকায় বেশ কয়েক জনকে দেখে হাশিম। তাড়াতাড়ি নৌকায় উঠতেই নৌকা ছেড়ে দেয় চাচা। কালু চাচার নৌকা করে মোট নয় জন পাশের গ্রামে নেমে যায় কালু চাচা, কিছুতেই মনকে শান্ত রাখতে পারছিলেন না। বার বার বলছিলেন আমার কমর বাপজান তো আইলো না, বারণ করা সত্ত্বেও তিনি ফিরে গিয়েছিলেন কামান্না গ্রামে। সেই তো শেষ বারের মতো কালু চাচাকে দেখা, আর দেখা হয় নি।

এমন বেদনা কাতর স্মৃতির ভাবনায় ছেদ পরে ডাক্তারের কথায়, রুগী আসলামের সঙ্গে কে আছেন?

হাশিম উত্তর দেয়, আমি আর এই ছোট ছেলেটি এসেছি রুগীর সঙ্গে। শুনুন, রোগীর অবস্থা বেশ খারাপ। সিভিয়ার হার্ট অ্যাটাক। আগেও তো মনে হয় মাইল্ড অ্যাটাক হয়েছে। আপনারা দেখেন নি ? যাই হোক এখন উনি অজ্ঞান অবস্থায় আছেন। আটচল্লিশ ঘন্টা পার না হলে কিছুই বলা যাচ্ছে না। মাঝে যা যা টেস্ট সম্ভব করে নেবো। আগামীকাল আপনাদের রুগীর অবস্থা জানাতে পারবো। আরেকটা কথা, ঢাকা থেকে হার্ট স্পেশালিস্ট ড. মঈন এসেছেন। উনিও আসলামকে দেখেছেন। ওনার ধারণা ওপেন হার্ট সার্জারি প্রয়োজন হবে। ডাক্তার রাজি আছেন অপারেশন করতে। এক্ষেত্রে ভালোই টাকা লাগবে। আপনারা তৈরি থাকুন। আমরা প্রস্তÍুত আছি, ওনার পরিবারের স্বজনদের জানানো হয়েছে। স্বজনরাও চলে আসবেন। আর যদি কিছু মনে না করেন সম্ভাব্য সমস্ত চিকিৎসা খরচ এখই অগ্রিম দিতে চাই। আপনাদের এখানে কার্ডে পেমেন্টের ব্যবস্থা আছে কি? হাশিম ডাক্তারের দিকে তাকালেন।

ডাক্তার সাহেবের চোখে বিস্ময়। আপনি একাউন্টস বিভাগে যান। ওনারা আপনাকে সাহায্য করবেন।

হাশিম আর দেরি না করে ছোট ছেলেটিকে নিয়ে অ্যাকাউন্টস বিভাগে গেলেন টাকাটা জমা দিয়ে দুজনে দুপুরের খাবার খেতে হাসপাতালের পাশেই একটা রেস্টুরেন্টে ঢোকেন। হাশিমের মনে কিছুটা শান্তি ফিরে এসেছে আসলামের জন্য কিছু একটা করতে পেরে। তিনি ভাবছেন আমার কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে যেতো। তাহলে খরচের দেখেছে কি? যা আছে উজাড় করে দেবা। কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটুক, সেটাই মনে প্রাণে চাইছেন। ইতোমধ্যে ফোনে বাসায় জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি কয়েক দিন এখানে থাকবেন এক বিশেষ কাজের জন্য। আগামীকাল যেনো ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দেয়।

ওয়েটার এলো খাবার অর্ডার নিতে। হাশিম ছোট ছেলেটিকে বলল, আচ্ছা দেখ কা-! এই তোমার নামই তো জানলাম না!

ছেলেটা ভীষণ খুশি, আজ এই রেস্টুরেন্টে আসতে পেরে। যখন এই আজব লোকটা বললো, চলো দুপুরের খাবার খেয়ে নেই, তখনই বুদ্ধি করে এখানে এনেছে। ওর বহু দিনের ইচ্ছা পূরণ হতে যাচ্ছে। নাম জানতে চাইতেই সঙ্গে সঙ্গে বলে, দেলু! দেলু আমার নাম।

দেলুর চোখে মুখে আনন্দ। প্রথমেই রেস্টুরেন্টের সামনে এক কোণায় ঝুলানো খাসির রোস্টের কিছু অংশ অর্ডার দেয়। একে একে কয়েকটা প্রিয় খাবার আনতে বলে যার ভেতর তারা বাঈম মাছের ভুনাও আছে।

হাশিমের খুব ইচ্ছা হচ্ছিলো দেলুর মুখজুড়ে পরিতৃপ্তির আনন্দ দেখবার। তা আর হলো না, কারণ দেলুর মুখের দিকে তাকাতে গিয়েই প্লেটের তারা বাঈম মাছের ভুনা আর খাসির রোস্ট চোখে পড়ছে। অনেক কষ্টে বমি আর মনের আক্রোশটাকে দমিয়ে রাখছিলেন, শুধুমাত্র দেলুর বাঁধভাঙা আনন্দের জন্য। মনের অজান্তেই ভেসে ওঠে তখন প্রবল যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। শহরের বিশাল অর্থশালী জগা দত্তের বাড়িতে পাকিস্তানি সেনারা ঘাঁটি গেড়েছ। শুধু ঘাঁটিই গাড়ে নি, বাড়ির উঠোনে জগা দত্তকে দিয়ে মাটি খুঁড়িয়ে সেখানেই ভদ্রলোককে গুলি করে হত্যা করে।

সেই ক্যাম্পেই কত যে কাপড়হীন গলাকাটা লাশ গাছের ডালে ঝুলতে দেখেছে। সেই থেকে খাসি জবাই করে ঝুলিয়ে কাটা কুটি করা দেখলেই ঔ দৃশ্যগুলি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আরেকটি বীভৎষ দৃশ্যও চোখে ভাসে। মাগুরা শহরের কুমার নদীর ওপর মাগুরা ব্রিজের নিচে ভেসে আসা গলা লাশের চারিদিক তারা বাঈমের দলে ঘিরে থাকা। প্রতিজ্ঞার দরকার ছিলো না, ওসব দৃশ্য দেখেই এমনিতেই বমি চলে আসতো, খাসির মাংস আর বাঈম মাছ খাওতো দূরের কথা! তার চেয়েও খারাপ অবস্থা হতো বন্ধু কমরের।

কি হইলো, খাইতেছেন না ক্যান? আমার তো পেট ফুইলা ঢোল হইয়া গেলো। দেলুর হাসি হাসি মুখে প্রশ্ন শুনে হাশিম স্মৃতির পাতা থেকে বাস্তবে ফিরে আসেন। বেগুন ভর্তা নিয়েছিলেন। বেশি কিছু খেতেও পারলেন না। হাত ধুতে উঠলেন।

আরে আরে! আপনে তো কিছুই খাইলেন না। আপনারও কি আসলাম দাদার মতো বমির রোগ আছে নাকি? খাসির মাংস, বাঈম মাছ মুখদিয়া কইলেই শরীল খারাপ শুরু। কি যে আজিব ঘটনা!

হাশেমের হৃদপি-টা হঠাৎই দ্রুত স্পন্দিত হলো, কি, কি, বললে? আসলামের কি হতো? উনি কি কখনই এগুলো খেতো না?

খাওন তো দূরে, নামই শুনতে চাইতো না। কেন জানি দাদিজান অনেক পীড়াপিড়ি করতো, কারণটা জানার জন্য। কিন্তু, দাদার যে কি হইছে কিছুই কইতে পারতো না।

কোনো পারতো না?

কি জানি আমি ওইগুলান জানি টানি না।

দেলুর কথাগুলো হাশিমের মনে আরো জটলা পাকায়। মনে আরো অশান্তি নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন।

সকাল সাড়ে দশটা। হাসিমের ড্রাইভার নাজির উপস্থিত হয়েছে। এসেই স্যারকে দেখে তো অবাক। এক দিনের ব্যবধানে স্যারের এ কি হাল! চোখ দেবে গেছে, বয়স মনে হয় এক লাফে আরো দশ বছর যোগ হয়েছে। ওয়েটিং রুমের চেয়ারে বসেই ঘুমাচ্ছেন। সারা রাত জেগে এই সকাল সাতটার দিকে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাও এখন হঠাৎ জেগে উঠেছেন। বিপরীত দিকের চেয়ারে একজন বয়স্কা মহিলা বসে আছেন। চোখে বিস্ময়।

তিনি কথা বলে উঠলেন, আমি আসলামের স্ত্রী নিলুফার। গতকাল ওনার অসুস্থতার কথা শুনে আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পরি। ডাক্তারের কথামতো বিশ্রাম নিতেই হলো। আমি খুবই লজ্জিত গতকাল আসতে পারি নি। দেলু আর এখানে ডাক্তার সাহেবের কাছে আপনার সব কথা শুনে ভীষণ অবাক হয়েছি। আপনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আপনার জন্য নাস্তা এনেছি। যদি কিছু খান খুব খুশি হবো। আমি কি প্লেটে বাড়বো?

হাশিমের গতকালের লাগা একটা খটকা এই মাত্র খুলে গেলো। আসলামের স্ত্রী গতকাল না আসার কারণটা বুঝালো। যাক খুবই ভালো লাগছে, কেননা মনের ভেতরের অস্থিরতার সমাধান যে করতেই হবে। মুখে কিছুটা লজ্জিত ভাব এনে বললেন, কি যে বলেন, ভাবি। কি আর করেছি? লজ্জা দিচ্ছেন। আমার বিচারে এটা কর্তব্য ছিল, সেটাই করেছি। আজ ভোরের দিকে ডাক্তারের সাথে কথা হয়েছে। আসলামের কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে। ওনার জ্ঞান তাড়াতাড়িই ফিরে আসবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। আপনাকে নাস্তা আনার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি অবশ্যই খাব। চোখে মুখে একটু পানি দিয়ে আসি। ওয়াশরুমের দিকে যেতেই তার ড্রাইভার নাজিরকে দেখলেন। ওকে গাড়ির চাবি বুঝিয়ে দিয়ে পুনরায় ওয়াশরুমের দিকে যেতে থাকলেন।

নিলুফার কিছুক্ষণ হাশিমের যাওয়া দেখলেন, টিফিন ক্যারিয়ার থেকে খাবার প্লেটে দেবার কিছু সময় পরেই হাশিম এসে আগের চেয়ারে বসেন। নিলুফার প্লেটটা এগিয়ে ধরতেই হাশিম হাত বাড়িয়ে নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, সত্যিই খুব খিদে পেয়েছে। ভাবি আপনাদের ছেলে মেয়েদেরকে দেখছি না যে!

আর বলবেন না, আমাদের যত বিপদ সব এই সময়েই হলো। আমার মেয়ে বড় আর ছেলেটি ছোট। মেয়ে জুঁই ইতিহাসে মাস্টার্স পাস করে এখন শ্বশুর বাড়ি মাগুরায় একটা স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক। স্কুলের আজ বার্ষিক মূল্যায়ন সভা ওর থাকাটা জরুরি। কাল রিপোর্ট তৈরি করছিলো। কিন্তু কি কারণে যেনো সেই মিটিংও হয় নি। আজ রওনা দিয়েছে। আর ছেলেটি চার বছর হলো ফিজিক্সে মাস্টার্স পাস করেও কোনো চাকরি যোগাড় করতে পারলো না। একটা দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির পরীক্ষার দিনটাই হলো আজ সকাল নয়টায়। যদি এবার হয়ে যায়, সেই চিন্তায়ই ও পরীক্ষা দিতে পাঠিয়েছি। শেষ করেই চলে আসবে। কি যে বলবো বলেন, সবই কপালের লিখন।

আপনার মেয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামটা কি?

কে. ইউ. মডেল হাই স্কুল। বেশ নামকরা স্কুল।

ভাবি, আপনার মেয়ের গতকাল এখানে না আসার কারণটা আমি। আমারও তো ওই সভায় থাকার কথা। আমি যে ওই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি।

হাশিম দু:খিত হলেন মনে হতেই নিলুফার বলে উঠলেন, আপনি দুঃখিত হচ্ছেন কেনো? বরং আল্লাহই আপনাকে এখানে পাঠিয়েছেন। না হলে আমার স্বামীর কি হতো! নিলুফারের চোখে পানি ছল ছল করছে।

ভাবী আমি নিজেও জানি না, কি হতে যাচ্ছে। কাল থেকে আমার মনটা ভীষণ ভীষণ অস্থির। বার বার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, আমার সন্দেহটাই যেনো সঠিক করে দেন।

আপনি কিসের সন্দেহ করছেন?

দেখুন ভাবি, আপনি ছাড়া মনে হয় আমাকে আর কেউ সাহায্য করতে পারবে না। সত্যি করে বলেন তো, আসলাম সত্যিই কি আসলাম নাকি, অন্য কেউ? হাশিম উত্তেজনা উৎসাহ আর ধরে রাখতে পারছেন না, দাঁড়িয়ে গেছেন।

নিলুফারের মনে কোথায় যেনো কষ্টের ছায়া নেমে এলো। সামনে ছটফট করতে থাকা লোকটিকে দেখে বড্ড মায়া হয়। কতগুলো বছর পার হলো, যে সত্যটি তিনি বুকের মাঝে চেপে রেখেছেন, তা বুঝি বলেই দিতে হয়। হাশিমের  প্রতি কৃতজ্ঞতারও একটা ব্যাপার আছে বৈ কি!

ভাই, কি শুনলে আপনার অস্থিরতা কাটবে ?

তার মানে কি, ভাবি ! এর মধ্যে অন্য কিছু কি আছে?

হ্যাঁ আছে, যা আমি ছাড়া কেউ জানে না । এমন কি আমাদের সন্তানেরাও জানে না।

কি সেটা? প্লিজ বলেন ভাবি, প্লিজ বলেন।

আসলামের নাম আসলেই আসলাম নয়। অনেক দিন তো হয়ে গেলো। তবুও ভুলতে পারি না সেই সব ঘটনা। যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আমি তখন সদ্য কলেজে ভর্তি হয়েছি। আমাদের এই মহল্লার ভেতরেই কতগুলো শয়তানের হাত থেকে বাঁচাতে বাবা আমাকে বানিয়ারচর ফাদার রিগনের চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন। চার দিন পরই শুনি বাবাকে পাকিস্তানি সেনারা ধরে নিয়ে যায়। তিনি বাসায় আর ফিরে আসেন নি। আমি ওখানেই নার্স হিসেবে কাজ করতে থাকি। শীতের প্রথম দিকে সকালে একজন মধ্যবয়সী লোক ঘাড়ে করে প্রায় মৃত এক যুবককে নিয়ে গেলেন। ছেলেটার হৃদপি-ের মৃদ স্পন্দনটুকুই ছিল এই যা। পায়ের গুড়ালিতে গুলি লেগে গুঁড়িয়ে গেছে আর মাথার ওপর দিকে গুলি খুলি ভেদ করে সোজা পিছন বরারব চিরে ফেলেছে। শরীরে রক্ত প্রচুর ঝরেছিল। ওখানকার ডাক্তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেন। রক্তের গ্রুপ এ বি নেগেটিভ। আমার সাথে মিলে যায়। আমি আমার ক্ষতি হতে পারে জেনেও দু’ব্যাগ রক্ত দিই। আমি নিজেই দায়িত্ব নিয়েছিলাম মুক্তিযোদ্ধার। তাই সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমি ওই চিকিৎসা কেন্দ্রেই থেকে যাই। সাড়ে পাঁচ মাস পর ছেলেটি সুস্থ হয় ঠিকই, শুধু একটি পায়ের নিচের অংশ কাঠের আর পূর্ব স্মৃতিশক্তিহীন। ছেলেটি চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তির সময় নামই জানা যায় নি। কারণ যে লোকটি নিয়ে এসেছিলেন তিনি এতোই দুর্বল ছিলেন যে তিনিও তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু একটা নাম তো লাগতোই। তখন আমি হঠাৎ মুখ দিয়ে বলে ফেলি আসলাম, আসলাম আহমেদ। ব্যাস, ছেলেটির নাম হয়ে গেলো।

এতক্ষণে হাশিম বেশ অধৈর্য হয়ে পরেছেন। তিনি আর চুপ করে থাকতে পারলেন না। চেঁচিয়েই বললেন, যিনি ওনাকে ওখানে নিয়ে গেলেন, তিনি কিছু বলেন নি?

হাঁ, বলেছিলেন। ডাক্তারের মতে প্রায় দেড় দিন অভুক্ত ছিলেন। গায়ে ছিল ১০৪ ডিগ্রির উপরে জ্বর। উনি শরীরের ওপর খুবই অত্যাচার করেছিলেন। একদিন পর খুবই কম সময়ের জন্য জেগে উঠেন। আর জেগে উঠেন নি। তখন ওই অল্প সময়ে আমি তাঁর সাথে কথা বলেছি। নাম বলেছিলেন কালু মাঝি। মাগুরা বাড়ি। আর বললেন, বাপজানকে বাঁচাও মা জননী। বাপজান কে বাঁচাও।

কি, কি বললেন ! কালু মাঝি ! মানে কালু চাচা! আর, ওই ছেলেটিকে বাপজান বলেছেন? ওই ছেলেটির নাম কি ..!!!

বুঝতে পারছি আপনি ছেলেটির নাম শুনতে চাচ্ছেন – কমর! কমর উদ্দিন!

নামটা নিলুফার ভাবির মুখ থেকে উচ্চারিত হতেই হাশেমের হার্টবিট হঠাৎ মনে হলো এক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি ধপ্পাস করে চেয়ারে বসে পড়েন। হাশিম আর নীলুফারকে ঘিরে যে ছোটখাটো ভিড় জমে গেছে তা বুঝতেই পারেন নি। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, নিলুফার ভাবির মেয়ে জুঁই, হাশিমের সাহেবের ড্রাইভার নাজির, ছোট দেলু আর ডাক্তার। হাশিমের হঠাৎ বসে পরে যাওয়াতেই নাজির দৌঁড়ে গিয়ে ধরে। তিনি একটু স্বাভাবিক হতেই নাজিরকে সরিয়ে দিয়ে আবার দাঁড়িয়ে যান।

ভাবি, আপনি জানতেন যে ছেলেটির নাম কমরউদ্দিন। কেনো আসলাম হয়ে গেলেন?

নিলুফার ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠেন। দু’হাতে মুখ ঢেকে বললেন, ভয়ে । ভয়ে, বলি নি।

ভয় ! কিসের ভয় ?

কালু চাচার মৃত্যুর দশ দিন পর আমি লোক পাঠিয়েছিলাম মাগুরায়। জানতে পারলাম, কমরউদ্দিন জগা দত্তের বাড়িতে যে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্প করেছিল সেই ক্যাম্পের দাপ্তরিক কাজ করতো। মুক্তিযোদ্ধারা অতর্কিতে আক্রমণ করে তিন দিন আগেই ক্যাম্পের সকল পাকিস্তানি সেনাদের সাথে সকল রাজাকারদেরকেও মেরে ফেলে। লোকদের মতে ওই রাজাকারদের মধ্যে কমরউদ্দিনও একজন ছিল। আমি সত্যিই ভয় পেয়েছিলাম। আমি এক রাজাকারের সেবা করছি। আবার অতদিনে আমি মনে মনে ছেলেটির মায়ায় পড়ে গিয়েছি। তাই জানাজানির ভয়ে আমি ছেলেটির নাম কমরউদ্দিন ভুলে গেলাম। আর আসলাম আহমেদের নাম বেঁচে থাকলো। প্রায় পাঁচ মাস পর আসলাম যখন সুস্থ হয়, তখন সবাই বুঝতে পারলাম যে নতুন আসলাম অতীত স্মৃতি ভুলে যাওয়া একজন মানুষ। আমার মন বললো, যেহেতু ওর অতীত মনে নেই তাই অতীতে কি ছিলো, কি কাজ করতো সেটাও বোধহয় ক্ষমা করে দেয়া যায়। দেশতো তখন স্বাধীন। আমি ফাদার রিগনের চিকিৎসা কেন্দ্র ছেড়ে গোপালগঞ্জের নিজের বাড়িতে ফিরে যাই। সাথে এই আসলাম নিয়ে আসি। পরের মাসেই আমরা বিয়ে করি। দীর্ঘ এগারো বছর পরে মেয়ে জুঁই আসে আমাদের জীবনে আর তারও সাত বছর পরে আমাদের ছেলে সাদ জন্মে। আমি এতদিন গোপন রেখেছি যে তাদের বাবা একজন রাজাকার ছিলো। নাউজুবিল্লাহ! হাশিম  দু’হাতে কান ঢেকে চিৎকার দিয়ে উঠেন। চোখ বেয়ে পানি ঝরছে।

এই সব আপনি কি বলছেন, ভাবি। জানেন কাকে রাজাকার বলছেন? যদি কষ্ট করে মাগুরার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামগুলো দেখতেন, দেখতে পেতেন এক নম্বরেই কমরউদ্দিনের নাম। আর সেই লিস্টে কালু মাঝির নাম দেখতে পেতেন। কমু মানে কমর আর আমি এক সাথে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম লেখাই। দু’সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত ট্রেনিং শেষে মাগুরাতেই ফিরে আসি। কমর ছিলো এতিম। ওর বড় চাচার কাছেই বড় হয়েছে। চাচা ছিলো পাকিস্তানের খাস মতাদর্শী। কমু চাচার কাছেই ঊর্দু ভাষা বলতে এবং লিখতেও শিখেছিলো। কমা-ারের নীল নকশা অনুসারেই কমু বড় চাচার মাধ্যমে জগা দত্তের বাড়িতে বসা পাকিস্তানি ক্যাম্পের চাকরিতে যোগ দেয়। আমরা সময় মতো গোপন খবর পেয়ে যেতে লাগলাম কমুর মাধ্যমেই। কত কুৎসিত রাজাকার, যাদের আমরা গোপনে পরপারে পাঠিয়েছি, তাদেরকে তো কেউ বাড়ির পাশে থেকেও চিনতে পারতো না। পাকিস্তানি তিন তিনটা অতর্কিত হামলা আমরা নস্যাৎ করে দেই, কমরের ইনফর্মেশনেই। সেদিনও জীবন বাজি রেখে রাতের অন্ধকারে কালু চাচার নৌকায় কামান্না গ্রামে গিয়েছিলো। আমাদের এক বিশাল জমায়েত ছিলো সেদিন। কথাছিল জগা দত্তের বাড়ির ক্যাম্পে আক্রমণ করবো। কিন্তু আগেই হানাদাররা আক্রমণ করে বসে। ভাবি, আপনি কি জানেন, সেদিন এই কমুই নিজের মাথা দিয়ে আমার মৃত্যু ঠেকিয়েছে। আমার প্রতি গুলি ছোড়া সেনাকেও ছাড়ে নি। বেয়োনেটের ফলা ঢুকিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানি সেনার বাম বুকে। শুধু মাত্র কমুর আগাম ইনফর্মেশনের জন্যই আমাদের একত্রিশ জন যোদ্ধা কামান্না গ্রাম থেকে বেঁচে আসতে পেরেছিলাম। পেরেছিলাম জগা দত্তের বাড়ির সেনা ক্যাম্প সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে। আমরা তো ভেবেছিলাম কমু সেদিনই শহীদ হয়েছে। কালু চাচা আমাদের নয়জনকে নিরাপদে নামিয়েই ফিরে গিয়েছিলেন আবার কামান্নায়, এই কমরের খোঁজেই। ভেবেছিলাম তিনিও শহীদ হয়েছেন। ভাবি, আপনি কি করেছেন? কমরউদ্দিন এর মতো বীর মুক্তিযোদ্ধা কতজন হতে পারে? আপনি জানেন না – কমু আমার কাছে কত খানি! আমার মেহনতে গড়া ছয়টি কারখানা, দুটি এতিম খানা, একটি স্কুল, একটি মাদ্রাসা, একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট সব কটির নামই শুরু কে, ইউ দিয়ে। ভাবি, আপনি কি জানেন, এই কে, ইউ তে কি হয়? কে, ইউ তে হয় – কমর উদ্দিন!

চিৎকার দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে হাশিম আবার চেয়ারে বসে পড়েন।

পুরো ওয়েটিং রুমে অন্তর ভাঙা কান্নার ঢেউ বয়ে যায় উপস্থিত প্রত্যেকেই অন্তরজুড়ে। কিছু সময় পরে ডাক্তার নিঃস্তব্ধতার অবসান ঘটায়। বললেন, একটা সু খবর আছে ! আসলাম না মানে মুক্তিযোদ্ধা কমরউদ্দিনের জ্ঞান ফিরেছে।

 

সৈয়দ মনজুর কবির, গল্পকার

বাজেটের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির বাজেট

আলম খোরশেদ আর কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হবে। আর অমনি শুরু হয়ে যাবে সবখানে বাজেট নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা। প-িতেরা, তথা অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার,

যৌক্তিক দাবি সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর

দেশে চাকরির বাজার কত প্রকট বা দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কত তা নিরূপণ করতে গবেষণার প্রয়োজন নেই। সরকারি চাকরি বা বিসিএস ক্যাডারে আবেদনকারীর সংখ্যা দেখলেই

সংবর্ধনার জবাবে কবি মিনার মনসুর বঙ্গবন্ধু শব্দটি যখন নিষিদ্ধ ছিল তখনই আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছি

রুহু রুহেল সময়ের সাহসী উচ্চারণ খুব কম সংখ্যক মানুষই করতে পারেন। প্রতিবাদী মানসিকতা সবার থাকে না; থাকলেও সেখানে  সংখ্যা স্বল্পই। এই স্বল্পসংখ্যক মানুষের মাঝে  সৌম্যদীপ্র