এখন সময়:রাত ৮:২৫- আজ: রবিবার-১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ৮:২৫- আজ: রবিবার
১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

কুড়ানো আনন্দের ঈষৎ আখ্যান

লেখক আনন্দ ভ্রমণ ২০২২ ঢাকা-মনপুরা-নিঝুমদ্বীপ

রুহু রুহেল

ভ্রমণটা ছিল ঢাকা- মনপুরা- নিঝুমদ্বীপ- ঢাকা, ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০২২, , আমার বেলায় ট্যুরটা হল চট্টগ্রাম-ঢাকা-মনপুরা-নিঝুমদ্বীপ-ঢাকা -চট্টগ্রাম। ১ তারিখ ঈষৎ হিম হিম আমেজে ভোরের স্নিগ্ধতা মেখে মেখে সকাল সাড়ে ছয়টার একটু পর চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছলাম। বরাবর ৭টার ট্রেন সুবর্ণ ছেড়ে গেল ঢাকার উদ্দেশ্যে। আমাদের আসন দুই বগিতে, এক বগিতে তিনজনের অন্য বগিতে চারজনের। আমরা যে কজন ছিলাম – কবি মেরুন হরিয়াল, কবি রিমঝিম আহমেদ, আলাউদ্দিন খোকন, গল্পকার ফজলুল কবিরী, কবি স্বরুপ সুপান্থ , কবি আহমেদ পলাশ, তৃতীয় চোখ সম্পাদক আলী প্রয়াস ও আমি। দুপুর ১২টার পর আমরা কমলাপুর রেলস্টেশনে নামলাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম দুপুরের খাবার কবিসাহিত্যিককদের স্মৃতি বিজড়িত আড্ডাস্থান বিউটি বোর্ডিং এ সারবো। এ বোর্ডিং খ্যাত হয়ে আছে বাংলা সাহিত্যের ৫০ দশকের প্রধান কবি শামসুর রাহমান আল মাহমুদ ও অন্যান্যদের আড্ডাস্থল হিসেবে, তাই করলাম। বড় আকৃতির তামার বর্তনে খুব তৃপ্তি সহকারে খাবার খেলাম। অত:পর আগামী প্রকাশনীর লেলিন ভাই চায়ের আমন্ত্রণ জানালেন আমরা আনন্দচিত্তে গ্রহণ করলাম। খাবার ও চা পর্ব শেষে বিআইডবিøউটিসির ঘাটের উদ্দেশ্যে রিক্শায় চড়লাম । ঠিক আড়াইটার কাছাকাছি সময়ে অভ্যর্থনা কমিটির সাথে সাক্ষাৎ এবং স্বাক্ষর শেষে গ্রহণ করলাম সবার কাঙ্ক্ষিত টিকেট। যার যার আসন ও কেবিনচাবি গ্রহণ করে শুরু হল অন্যরকম মজার আড্ডা। পরিচয় পর্বটা যেন যে যার মতো করে নিচ্ছেন আলোচনার ধরণ ও ধীমনাতার পাম্পর্য অনুযায়ী। বিকেল ঘনা সুন্দর রোদ্দুরের আলো ছায়ায় চলছিল ছবির নিজস্বী ধারণের অপূর্ব মহড়া। খোলা আকাশের নিচে বুড়িগঙগার বুকে এমভি মধুমতির বিশাল জাহাজের ছাদে লেখকদের আনন্দ ভ্রমণের ওইটুকুও যেন সার্থকতার স্বরূপস্পন্দন। সদস্য সচিব স্বকৃত নোমান লিখেন-” চলুন উল্লাসে মাতি” (লেখক আনন্দ ভ্রমণ ২০২২ লোক সংখ্যায়) লেখকদের এই ভ্রমণকে অধিক আনন্দমুখর করে তোলার জন্য আমরা নির্বাচন করেছি এমন একটি জলযান এম ভি মধুমতি যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ এবং বিলাসবহুল একটি জাহাজ। বিআইডবিøউটিসির তত্ত¡াবধানে ওয়েস্টার্ন মেরিন কোম্পানি ২৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করেছে জাহাজটি। একদা এই জাহাজ ঢাকা-মোড়লগঞ্জ রুটে চলাচল করতো। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাড়ে ৭০০ যাত্রী নিরাপদে ভ্রমন করতে পারে এ তরীতে।”

সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁইকালে আমরা রওয়ানা দিলাম মনপুরার উদ্দেশ্যে এবং নিঝুম দ্বীপের উদ্দেশ্যে । এম ভি মধুমতি চলছে চলছে ভোলা জেলার এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরার উদ্দেশ্যে , প্রকৃতির এক অপরূপ রঙের খেলার বৈচিত্র দেখা যায় এই দ্বীপে তিনদিকে মেঘনা আর দক্ষিণে আদি মাতা বঙ্গোপসাগর সূর্যোদয় যেমন দেখা যায় তেমনি দেখা যায় সূর্যাস্তের রঙিন খেলা। মধুমতিতে চলছে কমিটির পরিচয় পর্ব যাদের দিনরাত খাটুনিতে অর্থ ও সামগ্রিক সমন্বয়ের বিনিময়ে এই আনন্দ ভ্রমণের সার্থকতা। সূচনায় কথা বললেন আহবায়ক পারভেজ হোসেন সদস্য সচিব স্বকৃত নোমান কবি আসাদ মান্নান কবি ও কথা সাহিত্যিক ঝর্না রহমান জাহিদ হায়দার নাট্যকার ও কবি ফরিদ আহমেদ দুলাল , কবি ও কথাসাহিত্যিক মজিদ মাহমুদ , হাসান মাহমুদ মোজাফফর হোসেন, কথা সাহিত্যিক সেলিম মোর্শেদ আরো অনেকে। শুরু হল কবিদের কাক্সিক্ষত পর্ব কবিতা পাঠ , কবিতা পাঠের মাঝখানে তালবেতাল বয়ানও অনেককে ছুঁয়ে দিয়েছে কিছুটা হর্ষ কিছুটা বিস্ময়। বাঁধভাঙ্গা আনন্দঢেউ যেন আছড়ে পড়ছে মধুমতি জাহাজরে ভেতর আঙ্গিনায়। শুরু হলো গানের পর্ব গানের তালে চলছিল আনন্দ নৃত্যবৃত্তের উচ্ছ¡ল ফোয়ারা।
সারারাত কেউ ঘুমিয়ে অনেকেই না ঘুমিয়ে পৌঁছে গেলাম একদম ভোরের আলোয় বৈচিত্র্যময় দ্বীপ মনপুরায়।
সকালে নরম খিচুড়ি ডিম সেদ্ধ এর সঙ্গে পেঁয়াজলালমরিচ ভর্তার অপূর্ব ঝাঁজালো সংমিশ্রণ এর মজাদার খাবার। মনপুরা নেমে চায়ের দোকানে চা পর্বের এক মজাদার আয়োজন ও ছবির নিজস্বী ধারণের বহু রকম চিত্র কবি সৈয়দ তারিক কবি ইউসুফ রেজা কবি রিমঝিম আহমেদ কথাসাহিত্যক ফজলুল কবিরী, আরো অনেকে।
কিছুক্ষণ পর দেখলাম এম ভি মধুমতি জাহাজের সাথে যুক্ত হয়েছে দুটি ট্রলার, লক্ষ্য নিঝুম দ্বীপ। দুটো ট্রলার গতিময় শব্দ তরঙ্গে চলল নিঝুম দ্বীপের উদ্দেশ্যে লেখকদের এক মহাসম্মেলন যেন সমুদ্রের জলরাশিতে ভাসছে। তার আগেই লেখকরা সংগ্রহ করলেন সারিবদ্ধ ভাবে লেখক আনন্দ ভ্রমণের স্মারকগ্রন্থ “লোক” লেখক আনন্দ ভ্রমণ ২০২২ সংখ্যা চমৎকার ব্যাগ ও খাবার পানীয়।

প্রিয় স্বদেশ বাংলাদেশ তার সর্বশেষ স্থলভাগ নিঝুম দ্বীপ । লেখক স্বকৃত নোমান তথ্য জানিয়েছেন “নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার একটি দ্বীপ নিঝুম দ্বীপ। বল্লারচর, কামলার চর, চর ওসমান ও চর্মরি এই চারটি প্রধান দ্বীপ ও বেশকটি ছোট চরের সমন্বয়ে ১৯৫০ সালের শুরুর দিকে জেগে উঠে প্রায় ১৪.০৫০ শুন্য একরের এই দীপাঞ্চল। দীপটি প্রথম আবিষ্কার করে হাতিয়ার জেলেরা। তারা এই চরের নাম দিয়েছিল বালুয়ার চর। পরবর্তীকালে বালুয়ারচর রূপান্তরিত হয় বল্লার চরে। অনেকের মতে এই দ্বীপের প্রাচীন নাম চর ওসমান, ওসমান নামের একজন বাথানিয়া মোষের দল নিয়ে সর্বপ্রথম এই দ্বীপে বসতি পত্তন করেছিল একটি জনবসতিহীন নিঝুম ছিল বলে পরবর্তীকালে স্থানীয়রা এর নাম দেয় নিঝুম দ্বীপ । সত্তরের দশকে কার্যক্রম শুরু করে বন বিভাগ। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ছাড়ে চার জোড়া হরিণ। ধীরে ধীরে নিঝুম দীপ হয়ে উঠে হরিণের অভয়ারণ্য। সেখানেই একটা হোটেলে টেংরা মাছ দিয়ে এবং হাঁসের মাংস দিয়ে সুস্বাদু দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম।
অনেকেই নিঝুম দ্বীপ এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি করে কুড়িয়ে এনেছেন ভ্রমণ আননন্দের নির্যাস।

প্রকৃত পক্ষে লেখকদের মিলনমেলায় পরিণত সাজানো গোছানো একটি সুন্দর ভ্রমণানন্দসময় পার করলাম ১-৩ ডিসেম্বর। ২৮৫ জন লেখক এর সম্মিলন হল এম ভি মধুমতিতে বুড়িগঙ্গার কোলে। খুব বড় সাহসী এবং মহৎপ্রাণ না হলে এরকম বিশাল আনন্দ ভ্রমণ আয়োজন সম্ভব নয়। খাবার ও পানীয় আয়োজন ছিল খুব সুশৃঙ্খল। কবিতা পাঠ গান ও বিবিধ কথামালা এবং ব্যান্ডদল “আপনঘর” এর বিমুগ্ধ ও ব্যতিক্রম পরিবেশনা ভীষণ আন্তরিকতাপূর্ণ উচ্ছ¡লতায় হৃদস্পর্শী। যথারীতি র‌্যাফেল ড্র তো ছিলই।

মধুমতিতে উঠে ফুড জোন তথা টি-স্টল ও ধুমধুম্রের স্থানে প্রথম যার সাথে পরিচিত হলাম প্রিয় শ্রদ্ধেয় শিহাব সরকার এর সাথে। আনন্দ ভ্রমণ পর্বের আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্র তে উনার হাত দিয়েই (অন্যতম প্রিয় সংখ্যা) ১১তম পুরস্কার গ্রহণ করছি। প্রথম ছবিতে আরো আছেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব স্বকৃত নোমান অনিকেত শামীম ,মোজাফ্ফর হোসেন, হাসান মাহমুদ। পুরস্কারের কুপন নম্বর ০৩৯, আমার ভেতরে ভেতরে জানা হয়েছিল আমি পাবো তাই সাহসানন্দে সর্বপ্রথম ১০ টা কুপন সংগ্রহ করি ১০০০/ টাকা দিয়ে কবি বীথি রহমান এর কাছ থেকে। বীথি প্রথমে কুপন নিয়ে আসলেন আমার ও কবি ইউসুফ রেজা ভাইয়ের কাছে, যেহেতু ঘোষণাঞ্চল হতে আমাদের অবস্থান অতিনিকট ।

আমার পুরস্কার প্রাপ্তিতে প্রিয় অগ্রজ আসাদ মান্নান উনার আসন হতে উঠে এসে উচ্ছ¡সিত আনন্দে আলী প্রয়াসকে বললেন ছবি নাও ছবি নাও। ছোট ভাই আলী প্রয়াসও আমার নাম শুনে দ্রুততার সাথে ছবি ধারণ করলেন।
স্বকৃত নোমান ভাইয়ের মুহুর্মুহ অনুপ্রাণন ঘোষণায় অনেকেই ৫/ ১০ / ২০ / এমন কি কবি ফরিদ কবির ঘোষণাই দিলেন আমি ১০০ টা কিনব, তবে শর্ত জুড়ে দিলেন একটা পুরস্কার আমার জন্যে নির্ধারিত হতে হবে । সবাই সমউচ্চারণে রায় দিলেন ঠিক আছে ঠিক আছে তাই হবে জোরে করতালিতে স্বাগত অভিনন্দন জানালাম সবাই।। উনাকে দশম পুরস্কার তুলে দেয়া হল চমৎকার সব বই নিয়ে এক বাÐেল। তাঁর সে বইগুলো চট্টলার রিনিঝিনি কবি রিমঝিম আহমেদ এর হাতে হস্তান্তর করলেন। আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল সবখানে
পুরো রাত কারো ঘুম অন্য কারো নির্ঘুমের জলপথ পাড়ি দিয়ে ভোরের আলোয় আলোয় পৌঁছলাম বুড়িগঙ্গার বিআইডবিøউটিসির তীরে । সেখান থেকে ফকিরাপুল হয়ে ইমপেরিয়াল বাসে চড়ে আবারো চট্টগ্রামের আদি ও অকৃত্রিম প্রিয় কুঞ্জ কবিতার এই শহরে। কবি ইউসুফ রেজার কবিতা দিয়ে শেষ করি এ লেখা –

নিঝুম দ্বীপে
নিঝুম দ্বীপের চর মুরিতে
মা ও হরিণছানা
মনের সুখে গলা খুলে
করতেছিল গানা।

কেওড়াবনে এ অঞ্চলে
বাঘ যেহেতু নাই
ভাবলো হরিণ গলা খুলে
সামান্য গান গাই।

গানের শ্রোতা সরালি আর
লেনজা কাদাখোঁচা
সুরের মায়ায় সব পাখিদের
দু’চোখ আধা বোজা।

কোত্থেকে এক বন্যকুকুর
হঠাৎ ছুটে এলো
পেছন পেছন মানুষদেরও
সবাই দেখতে পেলো।

কী ভয়ানক শাস্তি এলো
গাংচষাদের জানা
নিঝুম দ্বীপের বালুর চরে
গান গাওয়া কি মানা?

 

চট্টগ্রামী প্রবাদের প্রথম গ্রন্থ : রচয়িতা জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন

মহীবুল আজিজ জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন (১৮৫২-১৯২০), সংক্ষেপে জে ডি এন্ডার্সন আজ থেকে একশ’ সাতাশ বছর আগে চট্টগ্রামী প্রবাদের সর্বপ্রাথমিক গ্রন্থটি রচনা-সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছিলেন। চট্টগ্রামী

দেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই (সম্পাদকীয়- জুন ২০২৪ সংখ্যা)

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্প্রতি আমাদের দেশসহ উপমহাদেশে যে তাপদাহ শুরু হয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় বৃক্ষরোপণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই