এখন সময়:রাত ১১:৪৫- আজ: সোমবার-৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:রাত ১১:৪৫- আজ: সোমবার
৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

নাজিমুদ্দীন শ্যামল গুচ্ছ কবিতা – ফসলের নদী

ফসলের নদী

এ মাটি জানে ঘামের সাথে ঝরে পড়েছে
সাদা ভাতের স্বপ্ন। দুই বুক চিরে দিয়েছে
সোনালি ধান। তবুও চুলায় কেবল জ্বলেছে
জলের হাঁড়ি। ধানগুলো নিয়ে গেছে
মুক্ত বাজার অর্থনীতি।

আমরা দিনরাত এক করে ধান বুনি;
নিয়ে যায় অন্যজন। থালা ভর্তি ভাতের স্বপ্ন
চুরি হয় সারাক্ষণ। তবুও নবান্ন আসে
ধানের গন্ধ নিয়ে জীবনে। শূন্যতার সময়ে
উপোস গৃহস্থ বাড়ি।
চাষ হয়, ধান হয়, মাঠে ফসলের নদী।
আমার কৃষক অভুক্ত শুধু বাজার অর্থনীতি।

জলের নেশা

তোমার সমুদ্র জল দেখে
কতোবার ছুটে গিয়েছিলাম
তুমুল জোয়ারে।
কতোবার করেছিলাম ¯œান
মধ্যাহ্ন দুপুরে।

আশ্চর্য সেসব জল
কবে যেন হারিয়ে গেলো…
এখন শুধু ধু ধু
চরাচর।
এখন কেবল পড়ে আছে
কৃষ্ণবন।

তবুও জলের নেশা আমার
কাটেনি আমি তাই ছুঁয়ে যাই
বালির পারাপার। জানি তো,
জলের নেশা কাটে না কোনদিন…

স্বপ্ন

ঘরের দরজা খুলে চলে গেছে ঘুম; তারপর
দুই চোখে জোছনার নদী। বারান্দার ফোকর পেরিয়ে
জোছনার রং এসে পড়েছে তোমার জাফরান গালে!
কেমন ফর্সা হয়ে আসছে স্বপ্ন…

হঠাৎ চাঁদ উঠলে ঘুম চলে যায়। চোখের পাতায়
রাত জেগে থাকে, জেগে থাকে তোমার স্বপ্ন।
রাতের আয়নায় দেখি কেবল জেগে আছি আমি
আর জেগে আছে আমার স্বপ্ন…

 

বিদ্যালয়

কতো জীবন পার করলাম একা একা জন-সমাগমে।
কেবল হেঁটেছি বৃক্ষের সাথে, মেঘের সাথে, নদীর সাথে…
সমুদ্রও দেখেছি, দেখেছি ভালোবাসার জোয়ার।
তবুও কোন দিন নদী হতে পারিনি, পারিনি হতে মেঘ।
না সমুদ্র, না বৃক্ষ কিছুই হইনি আমি।

নিজের ছায়ার সাথে পুরাতন ঘুমের স্মৃতি নিয়ে
গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে গেছি। যাযাবর রাত আর
সব সমুদ্র ফেনা আমাকে নিয়ে গেছে বিদ্যালয়ে…
আর বিদ্যালয় বলতে বুঝেছি শুধু সমুদ্র,
সীমাহীন জলরাশি কিংবা মানুষের অসহায়তা।
আমি বিদ্যা শিক্ষা করিনি। আমার কোনো
অক্ষরজ্ঞানও নেই। গদ্যে পদ্যে কিছুই বলিনি।
শুধ শিখেছি ভালোবাসা পাঠশালায়; বলেছি আমি
ভালোবাসি তোমায়…

ঘুম ভাঙার কাল

এখন সাম্য স্বপ্নের মুগ্ধ সময় নয়,
এখন এক নিদারুণ স্বপ্ন ভাঙার কাল।
একদিন যেসব স¦প্ন আমরা দেখেছিলাম
যৌথ খামারের, মুক্তির অনাবিল আনন্দের…
সে সব স্বপ্ন চুরি হয়ে গেছে গোপনে।

সতীর্থরা অনেকেই আমাদের নদী থেকে
মাছ সব চুরি করে নিয়ে গেছে অন্ধকারে।
আমাদের পাড়ার জেলে রমণীরা
কেবল বলাবলি করছে : এই নদীতো
কারো একার নয়, আমাদের সকলের।
গুমান বিলের মাঝে মাঝে ঝুলে আছে
কর্পোরেট সাইনবোর্ড। গ্রামের কৃষকরা
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে, কারা যেন
গ্রামটাকে পকেটে নিয়ে শহর বানিয়ে
বগলদাবা করে উড়ে যাচ্ছে আকাশে।
আমরা যারা পাহারাদার ছিলাম,
তারা কি ঘুমিয়ে ছিলাম? নাহলে
আমাদের সকলের স্বপ্নের সিন্ধুক
কীভাবে তস্কর নিয়ে যায় রাতের আঁধারে!
তবে আমাদেও ঘুম ভাঙার কাল কখন হবে?

বাঙালির ভাষার অধিকার হরণ- রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক মৃত্যু

হোসাইন আনোয়ার আজ থেকে ৭৯ বছর আগের কথা। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারতবর্ষের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যটেন তার রোয়েদাদ ঘোষণা করেন, এই ঘোষণার পর

‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ জননী রঞ্জিতা বড়ুয়াকে নিবেদিত সন্তান সত্যজিৎ বড়ুয়ার ‘সুরাঞ্জলি’

মা সুগৃহিনী শ্রমতী রঞ্জিতা বড়ুয়ার ৮৩ তম জন্মদিনকে উপলক্ষ করে ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গানে গানে সুরের

আন্দরকিল্লা’য় সুকুমার স্মরণ সন্ধ্যা

বিপুল বড়ুয়া   সুকুমার বড়ুয়া আমাদের ছড়াসাহিত্যের একজন প্রবাদপ্রতীম পুরুষ। নানা আঙ্গিক, বিষয়বস্তু, ধরণ-ধারণে, বৈচিত্রে অনুধ্যানে তিনি অসংখ্য ছড়া লিখে আমাদের ছড়া অঙ্গনে বহুমাত্রিকভাবে খ্যাত

জলে জঙ্গলে (পর্ব তিন)

মাসুদ আনোয়ার একে একে মুসল্লিরা বেরিয়ে আসছে মসজিদ থেকে। আমি দাঁড়িয়ে আছি স্থানুর মতো। প্রত্যেক মুসল্লির মুখের দিকে তীক্ষ্ম নজর বুলাচ্ছি। কাপ্তাই বড় মসজিদের ইমাম