এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

নাজিমুদ্দীন শ্যামল গুচ্ছ কবিতা – ফসলের নদী

ফসলের নদী

এ মাটি জানে ঘামের সাথে ঝরে পড়েছে
সাদা ভাতের স্বপ্ন। দুই বুক চিরে দিয়েছে
সোনালি ধান। তবুও চুলায় কেবল জ্বলেছে
জলের হাঁড়ি। ধানগুলো নিয়ে গেছে
মুক্ত বাজার অর্থনীতি।

আমরা দিনরাত এক করে ধান বুনি;
নিয়ে যায় অন্যজন। থালা ভর্তি ভাতের স্বপ্ন
চুরি হয় সারাক্ষণ। তবুও নবান্ন আসে
ধানের গন্ধ নিয়ে জীবনে। শূন্যতার সময়ে
উপোস গৃহস্থ বাড়ি।
চাষ হয়, ধান হয়, মাঠে ফসলের নদী।
আমার কৃষক অভুক্ত শুধু বাজার অর্থনীতি।

জলের নেশা

তোমার সমুদ্র জল দেখে
কতোবার ছুটে গিয়েছিলাম
তুমুল জোয়ারে।
কতোবার করেছিলাম ¯œান
মধ্যাহ্ন দুপুরে।

আশ্চর্য সেসব জল
কবে যেন হারিয়ে গেলো…
এখন শুধু ধু ধু
চরাচর।
এখন কেবল পড়ে আছে
কৃষ্ণবন।

তবুও জলের নেশা আমার
কাটেনি আমি তাই ছুঁয়ে যাই
বালির পারাপার। জানি তো,
জলের নেশা কাটে না কোনদিন…

স্বপ্ন

ঘরের দরজা খুলে চলে গেছে ঘুম; তারপর
দুই চোখে জোছনার নদী। বারান্দার ফোকর পেরিয়ে
জোছনার রং এসে পড়েছে তোমার জাফরান গালে!
কেমন ফর্সা হয়ে আসছে স্বপ্ন…

হঠাৎ চাঁদ উঠলে ঘুম চলে যায়। চোখের পাতায়
রাত জেগে থাকে, জেগে থাকে তোমার স্বপ্ন।
রাতের আয়নায় দেখি কেবল জেগে আছি আমি
আর জেগে আছে আমার স্বপ্ন…

 

বিদ্যালয়

কতো জীবন পার করলাম একা একা জন-সমাগমে।
কেবল হেঁটেছি বৃক্ষের সাথে, মেঘের সাথে, নদীর সাথে…
সমুদ্রও দেখেছি, দেখেছি ভালোবাসার জোয়ার।
তবুও কোন দিন নদী হতে পারিনি, পারিনি হতে মেঘ।
না সমুদ্র, না বৃক্ষ কিছুই হইনি আমি।

নিজের ছায়ার সাথে পুরাতন ঘুমের স্মৃতি নিয়ে
গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে গেছি। যাযাবর রাত আর
সব সমুদ্র ফেনা আমাকে নিয়ে গেছে বিদ্যালয়ে…
আর বিদ্যালয় বলতে বুঝেছি শুধু সমুদ্র,
সীমাহীন জলরাশি কিংবা মানুষের অসহায়তা।
আমি বিদ্যা শিক্ষা করিনি। আমার কোনো
অক্ষরজ্ঞানও নেই। গদ্যে পদ্যে কিছুই বলিনি।
শুধ শিখেছি ভালোবাসা পাঠশালায়; বলেছি আমি
ভালোবাসি তোমায়…

ঘুম ভাঙার কাল

এখন সাম্য স্বপ্নের মুগ্ধ সময় নয়,
এখন এক নিদারুণ স্বপ্ন ভাঙার কাল।
একদিন যেসব স¦প্ন আমরা দেখেছিলাম
যৌথ খামারের, মুক্তির অনাবিল আনন্দের…
সে সব স্বপ্ন চুরি হয়ে গেছে গোপনে।

সতীর্থরা অনেকেই আমাদের নদী থেকে
মাছ সব চুরি করে নিয়ে গেছে অন্ধকারে।
আমাদের পাড়ার জেলে রমণীরা
কেবল বলাবলি করছে : এই নদীতো
কারো একার নয়, আমাদের সকলের।
গুমান বিলের মাঝে মাঝে ঝুলে আছে
কর্পোরেট সাইনবোর্ড। গ্রামের কৃষকরা
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে, কারা যেন
গ্রামটাকে পকেটে নিয়ে শহর বানিয়ে
বগলদাবা করে উড়ে যাচ্ছে আকাশে।
আমরা যারা পাহারাদার ছিলাম,
তারা কি ঘুমিয়ে ছিলাম? নাহলে
আমাদের সকলের স্বপ্নের সিন্ধুক
কীভাবে তস্কর নিয়ে যায় রাতের আঁধারে!
তবে আমাদেও ঘুম ভাঙার কাল কখন হবে?

‘কল্লোল যুগের পরে’ অগ্রগতি’র কথা

ইসরাইল খান এই রচনাটির শিরোনাম হতে পারে—‘ত্রিশের দশকের সাহিত্যান্দোলন ও সাপ্তাহিক অগ্রগতি (১৯৩৫-৩৯)’। কিন্ত তার দরকার নেই । ‘অগ্রগতির কাহিনী’ নামে গল্পটা বলি—। ঊনিশ শতকে

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান’র আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান আতিক’র লেখা আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পিটস্টপ হল রুমে আবির প্রকাশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নুরুল আবসার’র

অপূর্ণতার ভেতর পূর্ণ এক সৃজনযাত্রা : কামরুল হাসান বাদল

এজাজ ইউসুফী কোনো লেখককে মূল্যায়ন করা সহজ নয়, বিশেষত যখন তার সৃজনী কাজের বিস্তার একক কোনো সাহিত্যধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ,

উদীচী’র সুর-আলেখ্য ‘একতারা ও রবীন্দ্র – বীণা’র অনুরণন

অনিন্দিতা অনি   অন্ধকার মঞ্চ। শিল্পীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন, সঙ্গে তালবাদকেরা। হঠাৎ মঞ্চের মাঝখানে গোল হয়ে নেমে এলো এক আলোকরশ্মি। দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এক

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির   দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো