এখন সময়:সকাল ৮:০১- আজ: রবিবার-২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:সকাল ৮:০১- আজ: রবিবার
২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

নিভৃতচারী কর্মযোগী ‘মোহীত উল আলম’  প্রজ্ঞার আলোক দিশারি

রূপক বরন বড়ুয়া

 

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.মোহীত উল আলমকে কম বেশি সবাই চেনেন, জানেন। মিষ্টভাষী এই শিক্ষক সম্পর্কে ‘আবির প্রকাশন’ এ বসে প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী ‘ মাসিক আন্দরকিল্লা ছোট কাগজের সম্পাদক নুরুল আবসার ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো। এক পর্যায়ে আবসার ভাই ‘ অধ্যাপক মোহীত উল আলম’ এর উপর বিভিন্ন প্রবন্ধ নিয়ে ‘আলী প্রয়াস’ কর্তৃক সম্পাদিত ‘তৃতীয় চোখ’ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত ‘আপনারে করো উন্মোচন’ গ্রন্থটি বের করে আমার হাতে দিয়ে বললেন বইটি পড়ুন। বইটি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখলাম ১৬৩ জন গুণী লেখকের লেখায় সমৃদ্ধ ১০৮০ পৃষ্ঠার বেশ নাদুসনুদুস বই। সদা হাস্যমান, সুপুরুষ অধ্যাপক মোহীত উল আলম’কে প্রথম দর্শনেই এক আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে সহজেই অনুমিত হয়। ‘মোহীত উল আলম ‘ বস্তুত একটা প্রতিষ্ঠান। বইটি হাতে পেয়ে বইটার একটা ছোটখাটো রিভিউ করার ইচ্ছে হলো। স্যারের সাথে এর আগে দুবার দেখা হয়েছিলো সামনাসামনি, কথাও হয়েছে বেশ ওনার চেম্বারে বসে। তবে এটুকু থেকে সব্যসাচী এই গুণী লেখককে তার খোলস থেকে বের করে আনা সহজসাধ্য নয়।

 

সাদামাটা এই মানুষটার অতলে যে জ্ঞানভা-ার তা ঘেঁটে গুটে বের করে আনা না গেলে এ লেখকের পা-িত্য সম্পর্কে অনেক কিছুই অজানা থেকে যাবে। ‘আলী প্রয়াস ‘বইটি শুরু করেছেন লেখকের জীবনপঞ্জি দিয়ে। সম্পাদকের ভাষ্যে ও সম্পাদক নিজে অনেক কথা দিয়ে মোহীত উল আলমের কর্মকা-ের ইঙ্গিত রেখেছেন। বই সজ্জা ও অসাধারণ। জীবনপঞ্জিতে যে সমস্ত তথ্য উপাত্ত দেয়া হয়েছে তাতে ভেতরের মোহীত উল আলমকে প্রকট হতে সাহায্য করেছে। অধিকাংশ প্রবন্ধকারের লেখায় তা স্পষ্ট হয়েছে।

পূর্বেই বলা হয়েছে ‘মোহীত উল আলম’ একজন সব্যসাচী লেখক। মূলত ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে নিজেকে তিনি যতটুকু বিকশিত করেছেন ঠিক ততটুকু বা তার চেয়ে অনেক বেশি বাংলা সাহিত্যে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

চট্টগ্রামের বিখ্যাত ও স্বনামধন্য আলম পরিবারে ১৩ ডিসেম্বর ১৯৫২খ্রি. মোহীত উল আলম’র জন্ম। পিতা মরহুম মাহবুব  উল আলম সাহিত্যে একুশে পদক,  বাংলা একাডেমি পদক ও আদমজী সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত, মা মরহুম বেগম রাহেলা খাতুন। তাই তাঁর লেখালেখির অভ্যাস গড়ে ওঠে শৈশব থেকে তার সৃষ্ট উপন্যাস, গল্প,কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ অনুবাদ, কলাম ও ইংরেজি ভাষায় রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশোর্ধ্ব।

 

প্রাথমিক দিকে মোহীত উল আলমের পিতা মরহুম মাহবুব উল আলম পুত্রের নাম রেখেছিলেন মুহিত উল আলম আরবি শব্দের আল মুহিতকে কেন্দ্র করে কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তাঁর নামের বানানে ঈষৎ পরিবর্তন করে মোহীত উল আলম রাখেন।

 

মোহীত উল আলম তাঁর প্রাইমারি স্কুল জীবন শুরু করেন মিউনিসিপ্যাল প্রি প্রাইমারি স্কুল যতটুকু ধারণা করা যায় তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন ‘আলাদীন আলী নূর ‘স্যার। তারপর একে একে কলেজিয়েট হাই স্কুল,চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজিতে দ্বিতীয় এম এ ডিগ্রি লাভ করেন লেইকহেড বিশ্ববিদ্যালয়, থা-ার বে অস্টারিও, কানাডা থেকে। পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সনে।

 

কর্মজীবন শুরু করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে এরপর নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করে এসেছেন। বর্তমানে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে যোগদান করেন ২০০৩ সালে। তিনি ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এবং কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ও তিনি ঢাকার ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও মানববিদ্যা বিভাগের সভাপতি ও কলা অনুষদের ডিন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ মেয়াদে উপাচার্য পদ অলংকৃত করেছেন।

 

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত আলম পরিবারের বরেণ্য এ সন্তান পরিপূর্ণ সাহিত্য আবহে বেড়ে ওঠা মোহীত উল আলম শৈশব থেকে লেখালেখির সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন।

সম্পাদক সুনিপুণভাবে এ মহান কর্মযোগীর সৃষ্ট কর্মকে অনুপমভাবে সাজিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে মোহীত উল আলমের আলোকোজ্জ্বল পা-িত্যের নান্দনিক সৃজনকর্ম। কাব্যগ্রন্থ মোট ৬টি,গল্পগ্রন্থ ৪ টি, ইংরেজি গল্পগ্রন্থ ১ টি, উপন্যাস ৯ টি, প্রবন্ধগ্রন্থ মোট ৭টি,ভ্রমণকাহিনী ২ টি,ক্রীড়া-বিষয়ক গ্রন্থ ১টি,অনূদিত গ্রন্থ মোট ১৪ টি,ইংরেজি ভাষা শিক্ষা বিষয়ক -গ্রন্থ মোট ৩ টি, ইংরেজি সাহিত্য মোট ৪ টি, সম্পাদনা করেছেন ৭ টির অধিক গ্রন্থ। প্রকাশের অপেক্ষায় উন্মুখ The star to Every Wondering Bark ; Essays on Shakespeare.

ইংরেজি বিষয় নিয়ে শিক্ষা সমাপ্তের পর এই ধীমান তাপস ইংরেজি বিষয় ও বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন একান্ত নিষ্ঠা ও ঔজ্জ্বল্যের সাথে। উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এর কর্মকা- ইংরেজি সাহিত্যে যে বিশাল জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তা তিনি প্রথম থেকেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তাই শেক্সপিয়ারের সমগ্র কর্মকান্ড নিয়ে অনুশীলন, অধ্যয়ন করতে গিয়ে শেক্সপিয়রের সমগ্রতায় তিনি একনিষ্ঠ ডুবেছেন, প্রভাবান্বিতও হয়েছেন বৈ কি! কিন্তুু তিনি শেক্সপিয়ার সমগ্রতায় ডুবেছেন তাঁর সুগভীর রাজ্য থেকে জীবনবোধের সর্বোপরি মানবের মনোরাজ্যে চিত্র বিচিত্র  মহামূল্যবান বোধিক চিন্তন, হিংসা দ্বেষ, লোভ লালসার খ- খ- বিষয়ের পরিসমাপ্তির রগরগে কাহিনিকে বিশেষ এক ভঙ্গিমায় দাঁড় করাতে, বাংলা অনুবাদে সে সবকে দৃশ্যমান করেছেন অন্যরকম মেধা ও মননে, শৈল্পিক চারুতে। শেক্সপিয়রের কালজয়ী সর্বমোট ১০ টি নাটক তিনি অনুবাদ করে পাঠককুলের কাছে তা তিনি সহজবোধ্য করেছেন। বাংলাসাহিত্যে এর পরিচিতি ঘটিয়েছেন অসম্ভব প্রাজ্ঞতায়। এরপরেও তিনি থেমে থাকেন নি। শেক্সপীয়রের উপর এখনও তিনি লিখে চলেছেন নানা প্রবন্ধ। দেশে বিদেশে সেমিনার সিম্পোজিয়ামে পাঠ করে চলেছেন তাঁরই লেখা প্রবন্ধ সমূহে।

 

ইংরেজি ভাষাকে অনায়াসে রপ্ত করার জন্য

তিনি ১) গল্পে গল্পে ইংরেজি শেখা A handbook English grammer Reading Comprehension and writing. 3)A comprehensive English grammer.

ইংরেজি সাহিত্য : ৪টি

1) An introduction to literary terms

2) As u like it. Introduced and edited by Mohit

3)Hemlet introduced and edited by Mohit

4) Macbeth ( Albatross Classics.

 

১৯৯৬ সালে ‘অপার প্রকাশনী, চট্টগ্রাম থেকে বের করেন তাঁর একমাত্র ইংরেজি গল্পগ্রন্থ The Tantalized Heartland ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে প্রচুর গবেষণায় ব্যাপৃত থাকলেও অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম আদ্যোপান্ত একজন বাঙালি। শৈশব থেকে বাংলা ভাষায় ছড়া, গল্প,উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ অনুবাদ, কলাম ইত্যাদি নিয়ে তাঁর চর্চা অনেক গাঢ়। লেখালেখির শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। তাঁর মেধা ও মননে বাংলা সাহিত্য একটা বিশেষ স্থান জুড়ে রয়েছে। তাই তাঁর হাত দিয়ে বের হয়ে এসেছে ১) মৌসুমের দূরে কাছে ২) এক সকালের কবিতা ৩) এপাড়ে অপার টান ৪)ঝুল বারান্দায় মেঘ ৫) ইউনিকোডের ইলশে গুঁড়ি ৬) মানুষ ফিরে যায় দীর্ঘশ্বাসে এর মতো সাড়া জাগানো ৬ টি কাব্যগ্রন্থ। এরপরও থেমে থাকেনি তাঁর সাহিত্যচর্চা। দিগন্ত বিস্তৃত তার লেখনি ধারায় উজ্জ্বলতর হয়েছে  ১) নিগড় ২) সোনা আর ঘামের বনিবনা ৩) বলয় ছুঁয়ে ভালোবাসা ৪) বিকেল মাতোয়ারার মতো ৪ টি উল্লেখযোগ্য

গল্পগ্রন্থ। উপন্যাস লিখেছেন ৯টি;

১) কালো বিড়াল ২) চুড়ি ভাঙার শুরু ৩) নোঙরের শেষ নেই ৪) এক জীবনে আরেক জীবন ৫) গ্রেনেড ৬)মৌমিতা ৭) মুরলী ৮) এলবাম ৯) সনদ। তাঁর সাধনা আর কর্মস্রােতের পাশাপাশি আলোকময় হয়েছে ১) সামাজিক চোখ ২)দেশ কোথায় আটকে আছে ৩) ভাষা,মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ৪) আধুনিকতার পথে বাংলাদেশ ৫) কবি নজরুল  ৬) বঙ্গবন্ধু : বাংলাদেশ ৭) সাহিত্যপাঠ: তত্ত্ব ও তালাশ এর মতো ৭টি প্রবন্ধ।

কর্মজীবনের পাশাপাশি ভ্রমণের বৈচিত্র্যতা নিয়ে লিখেছেন ১) ভারত ভ্রমণ ২) আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে সাঁইত্রিশ দিন এর মতো মনোজ্ঞ ভ্রমণকাহিনি। খেলাধুলা নিয়ে লিখেছেন ১টি ক্রীড়া বিষয়ক গ্রন্থ ‘ক্রিকেটের ইনসুয়িং আউটসুয়িং।

অধ্যাপক মোহীত উল আলম মূলত যোগী পুরুষ সাহিত্যের যেদিকে তাঁর চোখ পড়েছে সেখানে তিনি তার বিচরণ ক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল এ পুরুষ তাঁর অসামান্য ব্যক্তিত্বকে খুব সরলে তুলে ধরেছেন অনন্য আলোকে। প্রতিটা কর্মে রেখেছেন কর্মনিষ্ঠা, প্রখর প্রাজ্ঞতা ও পারঙ্গমতা। প্রতিটা কর্মকে আপনার করে ভেবেছেন আপন মহিমায় রূপায়ন করেছেন অকৃত্রিম আদলে। তাই কর্মক্ষেত্রে প্রতিভাত হয়েছে তাঁর অফুরান ভালোবাসা যে কোন কাজে রয়েছে তাঁর গভীর মনোনিবেশ। এটাকে প্রত্যক্ষ করে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর ‘ মোহীত উল আলমকে শুভেচ্ছা তার জন্মদিনে’ প্রবন্ধের শুরুতেই বলতে দেখি ;

‘ আমাদের মোহীত উল আলমের অনেক গুণ; যে দুটি আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে সে দুটি হলো তার প্রসন্নতা ও কর্মনিষ্ঠা। কাজ অনেকেই করে। করে কর্তব্যের তাগিদে, প্রয়োজনের তাড়াতে। মোহীতকে দেখেছি কাজ করে কাজকে ভালোবাসে বলে। আমি তাঁকে তাঁর কাজের বাইরে দেখতে পাই না।’

বস্তুত তাই, কাজকে ভালোবাসেন বলেই তাঁর কাজের পরিম-ল রূপায়িত হয় অনন্য সুন্দরে, এক আশ্চর্য একাগ্রতার সন্নিবেশনে জীবন্ত শব্দচিত্র হয়ে ওঠে প্রাঞ্জল ও মনোজ্ঞ। মোহীত উল আলমের ধ্যানী রাজ্য দিগন্ত বিস্তৃত। ইংরেজি সাহিত্যকে নিয়ে তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র পুষ্ট হয়ে উঠলেও তার গূঢ় অর্থকে ইংরেজি ভাষার যে পরিষ্কার পরিছন্ন শৌখিনতা রয়েছে তার অন্তর্নিহিত রূপ রয়েছে তাকে আবিষ্কার করে আপন বাংলা ভাষায় চিত্রাভাস দিয়ে দেখাতে চেয়েছেন বাংলা ভাষার অপার ঐশ্বর্যে ডুবে যায় যেন জাগতিক চেতনবোধ ও চেতন রাজ্যের সভাষদ। আর এতেই তিনি মজেছেন ইংরেজি ভাষায় এতো বুৎপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি আপন মাতৃভাষা বাংলাকে বুকে টেনে নিয়েছেন বারবার নিরহংকারে, নিতান্ত সরলে। তার এ দিকটাকে ঔজ্জ্বল্যে প্রকট করে তুলতে গিয়ে ড অনুপম সেন বলেছেন; মোহীত উল আলমের জীবনটাই যেন সাহিত্যের নানা শাখায় আবর্তিত।তিনি সাহিত্যের মর্মমূলে ঢোকার চেষ্টা করেছেন।….

মোহীত উল আলমের সাহিত্যিক জীবন আরও অনেককাল ধরে বহমান থাকবে। এ বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই। তাঁর এই বহমান সাহিত্যিক জীবনে তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মের বিরাট বিকাশ তুলে ধরবেন; তাঁর প্রবহমান লেখনী থেকে বেরিয়ে আসবে জীবনের গূঢ় কথা,যা প্রকাশ পাবে আরও অনেক কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে ও সাহিত্যসমালোচনায় এটাই আমার কাম্য।’

কবি ও প্রবীণ সাংবাদিক স্বপন দত্ত বলেন; ‘মানুষ মোহীত উল আলম অনবদ্য। কবি মোহীত উল আলম নিবিড় পর্যবেক্ষক। কথাসাহিত্যে সন্ধানী পর্যটক। অনুবাদে মোহীত উল আলম মগ্ন পরিশ্রমী। শিক্ষক হিসেবে মোহীত উল আলম ছিলেন ছাত্রপ্রিয়তার চির বন্দোবস্তি জারি রাখার কুশলী’।

তবে একথা হলফ করে বলা যায় মোহীত উল আলম উইলিয়াম শেক্সপিয়ার কর্তৃক প্রভাবান্বিত হয়েছেন। ইংরেজি ভাষায় শেক্সপিয়ারের কর্মকা-ের উপরে তাঁর যত লেখা আর্টিক্যাল, রচনা তার অধিকাংশ শেক্সপিয়ারের সৃষ্ট রচনার উপরে যা তাঁকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে তাঁর প্রতিটা লেখা তাঁকে গৌরবান্বিত করেছে। যা যুগের পর যুগ ইংরেজি সাহিত্যে নান্দনিক বিশাল সম্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। এ বিষয়ে বলতে গিয়ে Stepphen Greenblatt Cogan University Professor of the humanities,Harvard University তাঁর প্রবন্ধ ‘Dear Mohit ‘ (a quick few words of appreciation for your volume)  বলেছেন; “And though none of us can hope to soar In that exalted sphere,the writing that we all do and that Mohit Alam has preeminently done through his long career is an attempt to extand our existence  beyond the narrow geographical and temporal compass.I can deep pleasure in the shared love for Shakespeare that has linked our lives,from one side of the globe to the other and I m confident that Mohit Alam’s words will be treasured by generation to come”

এ প্রসঙ্গে Yale University এর প্রফেসর উধারফ David Scott Kastan বলেন;

Professor Dr.Mohit Ul Alam is a force of nature. I should say we have never met.I know him only mediated by print and Digital communication. We have been in touch for over a decade,discussing  various project, mainly focused on our shared interest in Shakespeare ; but then I learn that Shakespeare is just one of his interests and fields of expertise.As I have been learned more about Mohit Ul Alam( and I hope it will not seem inappropriate to say this).I have begun to to think,as I contemplete all that ” he ” has achieved in so many different contexts that I have been  taken in by a hoax. ”

সম্পাদক ১৬৩ জন বিশিষ্ট প্রবন্ধকারের ‘প্রবন্ধ সন্নিবেশিত করেছেন ‘ তার সম্পাদিত  ‘আপনারে করো উন্মোচন ‘ গ্রন্থে। পরিসরের স্বল্পতাহেতু সকলের লেখাকে মূল্যায়ন করার সুযোগ না থাকলেও কিছু কিছু কথা অধ্যাপক মোহীত উল আলমকে ভিন্ন ভিন্ন চিত্রে চিত্রায়নের সুযোগ কোনরকমেই হাতছাড়া করা যায় না বলেই তুলে ধরার প্রয়াস রেখেছি। তাই যারা খুব কাছে থেকে মোহীত উল আলমকে দেখেছেন, তাঁর একনিষ্ঠ সান্নিধ্য পেয়েছেন তাদের কিছু কিছু কথাকে এখানে সম্পৃক্ত করেছি। যেমন ড. শিরীন আকতারের সাথে তাঁর একটা সুসম্পর্কের কথা ব্যক্ত করেছেন প্রবন্ধ ‘ মোহীত উল আলম: শিক্ষা ও সাহিত্য সাধনায় নিমগ্ন থাকা একজন মানুষ।

তিনি আরো বলেন ‘ তাঁর সাথে আমার সম্পর্ক অমলিন থাকবে একজন লেখক হিসেবে, একজন শিক্ষক হিসেবে, একজন সহকর্মী হিসেবে । আমি গর্বিত যে একজন মোহীত উল আলম আমাদের সঙ্গে আছেন,আমাদের সঙ্গে থাকবেন, সুস্থ থাকুন নিরন্তর। ‘

অধ্যাপক মোহীত উল আলম  সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাঁরই প্রিয় ছাত্র সম্পদ বড়ুয়া তার প্রবন্ধ ‘ প্রফেসর মোহীত উল আলম : সাহিত্যের এক সৃজনশীল অভিযাত্রী ‘ এ সুখদ স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে লিখেছেন ‘ ২০১৭ -১৮ সালের দিকে প্রথম আলো পত্রিকার কয়েকজন বরেণ্য শিক্ষকের প্রিয় ছাত্রদের সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। স্বনামধন্য শিক্ষকদের মধ্যে প্রফেসর মোহীত উল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি প্রফেসর সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম  এবং আরো দুজন কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। মোহীত স্যার তাঁর তিন-চারজন প্রিয় ছাত্রের কথা বলতে গিয়ে আমার নামও বলেছিলেন। এটা আমার জীবনের কত বড়ো প্রাপ্তি তা প্রকাশ করতে পারবো না। স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ‘

অধ্যাপক মোহীত উল আলম সম্পর্কে বলতে গিয়ে আসাদ মান্নান তার ‘বহুমাত্রিক মোহীত উল আলম ‘ প্রবন্ধে বলেন ‘আলম পরিবারের অনেককেই চিনতাম; দু-চারজনের সঙ্গে পরিচয় থাকলেও কবি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার,, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক সমালোচক এরকম এক বহুমাত্রিক লেখক মোহীত উল আলমের সঙ্গে আমার তখনও পরিচয় হয়নি। অত্যন্ত পরিপাটি ও সুশৃঙ্খল জীবনের সংস্পর্শে আসার সুযোগ সবাই সবসময় পান না। মোহীত উল আলম বরাবরই তেমন একজন মানুষ।। বাইরে যেমন সুন্দর কান্তিমান সুদর্শন পুরুষ তেমনি ভেতরেও দিলখোলা সজ্জন সুজন। তাঁকে অন্তরঙ্গতায় দেখার পর মনে মনে আফসোস করেছি। আগে পরিচয় হলে আমার নিজেকে অনেক বেশি ঋদ্ধিমান করার সুযোগ পেতাম।

বর্তমান সময়ের বেশ আলোচিত মুখ কবি ও প্রাবন্ধিক এজাজ ইউসুফী তার অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে প্রফেসর মোহীত উল আলমের কবিসত্তা নিয়ে খুব সুনিপুণভাবে কবির ৬টি কাব্যগ্রন্থকে শব্দে শব্দে আলোড়িত করেছেন তার মোহীত উল আলমের কবিতা ; ফিরে যাওয়ার দীর্ঘশ্বাস প্রবন্ধে লিখেছেন;

‘মোহীত উল আলমের কবিতা এক অর্থে সরল ও মসৃণ মার্বেলের মতো গড়িয়ে গড়িয়ে যায়। শব্দের বুননে নেই জঠিলতা। কিন্তু প্রতিটি শব্দকে প্রত্যক্ষ করা যায়। তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে বারুদসম বিস্ময়। শব্দের মধ্যে রূপ পায় মানুষের মানবতার কাহন,বৃত্তান্তের বিন্যাস,ক্ষতের উপশম,ভালোবাসার নিবিড় আলিঙ্গন। শব্দ তখন আর তখন শব্দ থাকে না। শব্দ তখন অর্থবহ হয়ে ওঠে। ‘

তিনি আরো বলেন মোহীত উল আলমের কবিতা আধুনিক কবিতার প্রলম্বিত ধারাকে বহন করেছে।একক কোন রাজনৈতিক দর্শনের কাছে তার কবিতা সমর্পিত নয়। জাতীয়তাবোধ ও সমাজ-চেতনার মধ্যে বাক্যবিন্যাস ও বিষয়বস্তু নির্ধারণে একরৈখিক নয়। উচ্চকিতও নয়। বরং এক ধরণের জীবনঘনিষ্ঠ ও অভিজ্ঞতাজাত অনুষঙ্গ তাঁর কবিতার পরিসরকে বিস্তৃত করেছে।

….. মহাকালের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা ব্যক্ত করলেও ‘মানুষের যুদ্ধ তাই নিজের কাছেই’ একথা মানেন। তিনি উচ্চারণ করেন ‘ কতটা কষ্ট করে মানুষ ভেসে থাকে স্মৃতির / ওপারে,শুধু যুদ্ধ করে,শুধু যুদ্ধ করে বর্তমান’।

এ প্রসঙ্গে কবি রুহু রুহেল তার  ‘ মানুষ ফিরে যায় দীর্ঘশ্বাসে ‘ জীবন নদীর বাঁকে জিজ্ঞাসার বিচিত্র বিন্যাস’ প্রবন্ধে লিখেছেন ; সাহিত্যের বহুমাত্রিক লেখার সাথে যিনি সুনিবিড় সম্পর্ক তৈরি করেছেন মেধাও মননের প্রাখর্যে, যিনি দীর্ঘকাল অধ্যয়ন ও অধ্যপনার ব্যপৃত থেকেছেন, প্রশাসন ও বিচিন্তনের পারস্পর্যে তৈরি করেছেন সৃষ্টির নন্দনদুয়ার, ধরেছেন কালের চৌকাঠে মেলে আপন বিভূতির পথরেখায় সদাহাস্যময়, বাকসমুচ্চারণের ললিতভাষ্য- তিনি কবি মোহীত উল আলম।

তিনি আরো বলেন ; তিরিশের পঞ্চকবিরা ইংরেজি ভাষার ছাত্র হয়ে যেভাবে বাংলা ভাষাকে বাংলা কবিতাকে আধুনিকতার গন্তব্য- গতিমুখরতায় ঋদ্ধকরেছেন তেমনি অধ্যাপক ও কবি মোহীত উল আলম সে পথের সোনালি প্রান্তে অবদান রাখার সুদৃঢ় প্রত্যয়ী মনোভাবে সম্পৃক্ত থেকেছেন চার দশকের ও অধিককাল অবধি।

 

শামসুল আরেফিন প্রসঙ্গ : ড.মোহীত উল আলম প্রবন্ধে কিছু তথ্যাবলি উপস্থাপন করে ‘ আহমদ ছফা ‘ র  সাথে মোহীতের যে হার্দিক সম্পর্ক ছিলো তার একটা দুর্লভ চিঠি উপস্থাপন করেছে। এ প্রবন্ধে দুজনের হৃদ্যতার কথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে পরিশেষে একবাক্যে বলা যায় সম্পাদক অসম্ভব শ্রমলব্ধ একটা দুরূহ কাজ সম্পন্ন করেছেন অনন্য সাহসীকতায়। যে বৃহৎ কলেবরে বইটির সূচিসম্ভার সমৃদ্ধ করেছেন তাতে বিস্মিত হতে হয় বৈকি। তারপরও প্রথম প্রথম ঢাউস এই বইটি দেখে মনে মনে আঁতকে উঠেছিলাম। মনে হয়েছিলো সম্পাদক এতো লেখকের লেখা অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা কি তার দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টাকে, শ্রম সাধনাকে নস্যাৎ করে দেবে! অতি সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্টের মতো। পরবতী সময়ে বইয়ের ভেতরের নির্যাস ঘেঁটে অন্তত এটুকু সহজ ও সাবলীলে বলা যায় প্রায় প্রতিটা লেখা হয়েছে আপন রোদ্দুরে বাঙময়। সব লেখকই কোন না কোনোভাবে তাদের প্রিয় মোহীত’কে খোঁজার চেষ্টা করেছেন আপন বলয় থেকে। তবু কেন যেন মনে হলো বুকে আজো মোহীত’কে জানার চেষ্টা, চেনার চেষ্টার তৃষ্ণা জাগরুক। বহুমাত্রিক, সব্যসাচী এ লেখককে তাঁর সুদীর্ঘকালের অধ্যবসায় আর ধ্যান সাধনা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা করে প্রতিভাত করার কোন সুযোগ এককভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। ‘মোহীত ‘নিজেই তাঁর চারপাশ এমনভাবে আলোকিত করে রেখেছেন যে সেখানে মোহীত বিনা অন্যকোন জপমালা কাজ করবে না। সেদিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় সম্পাদক তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অক্ষুণœ রেখেছেন প্রফেসর মোহীত উল আলমকে তার সাদামাটা অথচ আনন্দঘন পরিবেশ থেকে সর্বোপরি সুন্দরের অবগুণ্ঠন থেকে বের করে এনে প্রকাশ্যমান করতে। ‘মোহীত উল আলম ‘কালকে আকীর্ণ করে আছে ১৯৫২ এর পর থেকে তাই বলতে পারি তিনি যেন মোহীত যুগের, মোহীত কালের এক মোহিত কন্ঠস্বর।

অফসেট পেপারে সাজানো ৬৭.৫ ফর্মার বইটির ছাপা ঝকঝকে। ৯৯৪ থেকে ১০৭৪ পর্যন্ত রয়েছে বইয়ের প্রচ্ছদ ছবি ও মোহীত উল আলমকে ঘিরে থাকা কিছু দুর্লভ আলোক ছবি। বইটি প্রকাশ করেছে তৃতীয় চোখ প্রকাশনা। কোথাও কোন বানান ভুল পরিলক্ষিত হয়নি। সম্মাননা এ গ্রন্থের প্রচ্ছদ করেছেন সঞ্জীব কান্তি দাশ। সম্মাননা এ গ্রন্থের আমি বহুল পাঠকপ্রিয়তা আশা করছি।।

 

রূপক বরন বড়ুয়া, কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধিক

 

প্রাচীন বাংলার নাগরিক জীবনে শিল্প ও সৌকর্য

ড. আবু নোমান এখন প্রাচীন বাংলার যে স্থাপত্যগুলো পাওয়া সম্ভব সেগুলোকে প্রত্মতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ বললেও বলা যেতে পারে। স্থাপনা সমাজের সভ্যতার একটি অন্যতম নিদর্শন বা উপাদান।

বৈষম্যমূলক কোটা প্রথায় মেধাবীরা বঞ্চিত হবে (সম্পাদকীয়- জুলাই ২০২৪)

সরকারী চাকরীতে কোটা প্রথা কোন ভালো বা গ্রহণযোগ্য প্রথা হতে পারেনা। এতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়। প্রশাসনে মেধাবীর চেয়ে অমেধাবীর আধিক্য বেশী বলে রাষ্ট্রীয় কাজে

আহমদ ছফা বনাম হুমায়ূন আহমেদ

মাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ তখন আহমদ ছফার পিছন পিছন ঘুরতেন। লেখক হুমায়ূন আহমেদ-কে প্রতিষ্ঠার পিছনে যে আহমদ ছফার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, সে কথা