এখন সময়:রাত ১২:৩৬- আজ: বৃহস্পতিবার-১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:রাত ১২:৩৬- আজ: বৃহস্পতিবার
১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

বাঙালি সংস্কৃতির বাঁকবদল

শাকিল আহমদ : হাজার বছরের লালিত ঐতিহ্যই বাঙালি সংস্কৃতির ধারক বটে; তবে সংস্কৃতি শব্দটির বাংলায় ব্যবহার প্রাচীন তো নয়ই, আধুনিক রবীন্দ্রনাথ যুগেরই সৃষ্টি। এমনকি রবীন্দ্রনাথের মনঃপুত শব্দ বলেই দ্রত বাংলাভাষায় সংস্কৃতি শব্দের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে।

“১৯২২ সালে প্যারিসে বাসকালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এক মহারাষ্ট্রীয় বন্ধুর কাছ থেকে সংস্কৃত শব্দটি পানÑ তা মারাঠিতে চলছিল বহুকাল ধরে। দেশে ফিরে এসে তিনি যখন একথা রবীন্দ্রনাথকে জানান, তখন তা তাঁর অনুমোদন লাভ করে। ক্ষিতিমোহন সেন ঐতরেয় আরণ্যকে এর ব্যবহার দেখান। তাতে রবীন্দ্রনাথ একেবারেই নিশ্চিত হন। সেই থেকে সংস্কৃতি শব্দটি আমাদের হল” (আনিসুজ্জামান, শ্রেষ্ঠপ্রবন্ধ, পৃ ৬৫)

সংস্কৃতি শব্দের ব্যবহারিক অর্থ ব্যাপক বটে। সেজন্যই অনেক প-িত ইংরেজি ভাষায় ‘কালচার’ শব্দটিকে একটি দুরূহ শব্দ বলে অভিহিত করেন। সংস্কৃতি শব্দটিকে নানাভাবে সজ্ঞায়িত করা চলে; তবে এখানে গোপাল হালদারের ব্যাখ্যাটি আর একবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায়:

 

“সংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি মানুষের প্রায় সমুদয় বাস্তব কীর্তি ও কর্ম, তার জীবন-যাত্রার আর্থিক ও সামাজিক রূপ, অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান : তার মানসিক ও আধ্যাত্মিক চিন্তা-ভাবনা, নানা বৈজ্ঞানিক আবিষ্ক্রীয় আর নানা শিল্পসৃষ্টিÑ সমস্ত কারুকলা ও চারুকলা এই হল সংস্কৃতির স্বরূপ।”

আলোচনায় প্রবেশ করার আগে বলে রাখা প্রয়োজন ‘বাঙালি সংস্কৃতির বাঁক বদল’ বলতে শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের ভূখ-কেই আলোচনায় আনতে চাচ্ছি, এবং সংস্কৃতির বাঁকবদলের সময়কালও ১৯৭১ থেকে বর্তমান অর্থাৎ স্বাধীনতা লাভের এই পঞ্চাশ বছর। কারণ : ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাজনের পর সমগ্র বাঙলা ভূখ- যখন খ-িত হয়ে গেল তখন থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের সূত্রটাও আস্তে আস্তে আলগা হতে লাগলো। দুই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তখনও ছিল না তা কিন্তু নয়। তবে এই রাষ্ট্রীক বিভাজনে তার দূরত্ব আরো ঘনীভূত হতে লাগলো। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন ভূখ- নিয়ে, নিজস্ব স্বকীয়তা দিয়ে বেড়ে ওঠতে লাগলো। অপরদিকে ওপার বাংলার সংস্কৃতির ওপরও দ্রুত প্রভাব পড়তে লাগলো বৃহৎ ভারত রাষ্ট্রের। দেশ বিভাজনের সাত দশকের ব্যবধানে ওপার বাংলার সংস্কৃতির অন্যসব বাদ দিয়ে যদি শুধু ভাষার কথাই বলি তবে দেখতে পাবোÑ তাদের অধিকাংশই কথা বলতে চায় হয় হিন্দিতে, না হয় ইংরেজিতে। তাদের সন্তানেরাও দিল্লি-মুম্বাই কেন্দ্রিক সংস্কৃতিকে লালন ও ধারণ করতে বেশি আগ্রহী। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে পশ্চিম বাংলার সেই ঐতিহ্যের বাঙালি ভাষা-সংস্কৃতি আস্তে আস্তে গৌণ হয়ে যাচ্ছে। তার একটি বড় লক্ষণ হচ্ছেÑ পশ্চিমবঙ্গের ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার এক বড় বাজার তৈরী হচ্ছে বাংলাদেশে। ওপার বাংলার শক্তিধর লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তো মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে চট্টগ্রামের এক অনুষ্ঠানে বলে গেলেনÑ বাংলাভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান হবে বাংলাদেশÑ কলকাতা নয়। একসময় এসবের কেন্দ্রস্থল ছিল কলকাতা। এখন বাংলাদেশের দর্শক, স্রোতা ও পাঠকদের চাহিদাকে মাথায় রেখেই তাদের শিল্প-সাহিত্য তথা সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের বিস্তার ঘটছে এবং বাজার গড়ে ওঠছে।

আমরা যেটিকে নিজস্ব সংস্কৃতি বলে থাকি তাÑও যে কতো কতো বৈচিত্রে ভরা তারও পরিসীমা নেই। ‘এত ভঙ্গ বঙ্গদেশে তবু রঙ্গে ভরা’Ñ আলোচিত এই উক্তিটির যৌক্তিক ব্যাখ্যা তখন বুজে নিতে সকলেরই সহজতর হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে ‘জাতীয়তাবাদ’ শব্দটি কিন্তু আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে আছে। এই জাতীয়তাবাদকে সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখবার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত্যের অন্যতম প্রধান চিন্তক প্রখ্যাত লেখকÑ দার্শনিক হাসান আজিজুল হকের এ বিষয়ক চিন্তাটিও প্রণিধানযোগ্য। তিনি তার ‘অধরা বাঙালি সংস্কৃতির খোঁজে’ প্রবন্ধে মত প্রকাশ করেনÑ

“জাতীয়তাবাদ শব্দটিকে আমি খুব সন্দেহের চোখে দেখে থাকি। এটা যে কোনো সময়েই খুব আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের সে সামর্থ্য নেই যে, একটা আগ্রাসী বাঙালি জাতীয়তাবাদ চালু করবে। আমরা যখন বাঙালী জাতি বলি এবং বাঙালি সংস্কৃতি বলি, তখন একটা জিনিস অনুক্ত থেকে যায় যে, এই বাংলাদেশে তো শুধু বাঙালিরাই বাস করে না। বাংলাদেশের উত্তরাংশে সমতল ভূমির বাঙালি আছে। আদিবাসীরা আছে। এ নিয়েও তক্কাতক্কির অবধি নেই যে, এদের আদিবাসী বলা যাবে, না এদেরকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলা হবে। তাছাড়া নানা পাহাড়ি জাতি আছে। আমরা যে বাঙালি সংস্কৃতি বাঙালি সংস্কৃতি করি এ-ব্যাপারে অনেককে আপত্তি করতে দেখেছি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, আদিবাসী, পাহাড়ি জাতি আছে, তাদের সংস্কৃতিকে তো অস্বীকার করা হয়” (গ্রন্থ: লেখা না-লেখা, পৃ ১৪)।

আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প-িত ব্যক্তি হাসান আজিজুল হকের মন্তব্য ও চিন্তাটি মাথায় রেখে আরো ব্যাখ্যায় গেলে আমরা দেখতে পাবোÑ বাঙালি সংস্কৃতি বলে আমরা যা এক বাক্যে বলে যাচ্ছি তা কতটা সত্য ভেবে দেখার বিষয়। কারণ সতেরো কোটি মানুষের সংস্কৃতি কিন্তু এক ধরনের নয়। বস্তুত সংস্কৃতি কিন্তু নির্ভর করছে আমাদের শ্রেণিবৈষম্যের ওপর। উচ্চবিত্ত এবং উচ্চমধ্যবিত্ত সমাজের সংস্কৃতি আজ একধরনের, মধ্যবিত্ত এবং নি¤œমধ্যবিত্ত সমাজের সংস্কৃতি আর এক ধরনের এবং নি¤œশ্রেণির সংস্কৃতি এই সমাজে অন্য ধরনের। বাঙালি সংস্কৃতিকে খুঁজতে গিয়ে হাসান আজিজুল হক বলেনÑ “এখন বলতে পারি, শতধাবিভক্ত এই বাংলাদেশের সংস্কৃতি। এটা খুব দুঃখজনক, একদিক থেকে স্বাধীন রাষ্ট্রের এক ধরনের ব্যর্থতা। রাষ্ট্র একটা সংস্কৃতি তৈরী করতে পারছে না। সে এখনো পর্যন্ত নিজেরা যা বুঝছে না সেই কথাটাই বলছে যে, আমরা সবাই বাংলাদেশের সংস্কৃতি ধারণ করি।” (পৃ ১৯)।

মূলত বাংলাদেশের সংস্কৃতি আমরা তখনই ধারণ করবো যখন সতেরো কোটি মানুষের মধ্যে সম্পর্কের একটি সমবণ্টন থাকবে এবং এতে সকল মানুষই একই অর্থনৈতিক মুক্তির সমতায় আসবে। আর তখনই আমাদের একটি সার্বজনিন সংস্কৃতি তৈরী হবে, যাকে আমরা বাংলাদেশের সংস্কৃতি বলতে পারবো।

সময়ের সাথে সাথে প্রবহমান সবকিছুই পরিবর্তনশীল। সংস্কৃতিও যে সর্বদা পরিবর্তনশীল একটি বিষয় তা আমাদের মেনে চলেও মানতে হবে যে, প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠীর একটি মৌলিক সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকে যা আবহমান কাল ধরেই। সে হিসেবে বাঙালীরও একেবারে সহজাত নিজস্বতা বলে কিছু রয়েছেÑ রুচিতে-অভ্যাসে, খাওয়া-দাওয়া, চাল-চলন, ভাষায়-ব্যবহারে, পোশাকে-পরিধানে, কৃষিতে-উৎপাদনে, শ্রমে-ঘামে, গানে-বাদ্যযন্ত্রে ইত্যাকার বহু বহু বিষয়ে। পৃথিবীর নানা পরিবর্তনশীল পরিক্রমায়ও এসব কিছু কিছু বিষয় কালের সাথে প্রবহমান থাকে, যাকে আমরা আমাদের নিজস্বতা বা আমাদের সংস্কৃতি বলে পরিচয় দিতে পারি। কিন্তু এই কিছু মৌলিক বিষয়ের মধ্যেও সময়ের সাথে সাথে যখন পরিবর্তন পরীলক্ষিত হয় তখন তাকে আমরা সংস্কৃতির বাঁকবদল বলে অভিহিত করতে পারে। যেমন আমাদের দীর্ঘদিনের কৃষিপদ্ধতির একটি সংস্কৃতি চালু আছে; কিন্তু আজকের এই প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে সেই কৃষি সংস্কৃতির ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষণীয়। কৃষির অন্যতম উপকরণ লাঙল, গরু আজকাল লোপ পেতে শুরু করেছে। সেখানে স্থান করে নিয়েছে কলের লাঙ্গল, কলের ধানমারানি থেকে শুরু করে ধান কাটা-ধান বোনা পর্যন্ত। প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসা ঢেঁকিও এখন বিলুপ্তির পথে। কৃষক এক সময় মাঠে রোধ-বৃষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবার জন্য ব্যবহার করতো বাঁশ বেত ও গোল পাতা দিয়ে তৈরী মাথার ক্যাপ ও ছাউনি। দীর্ঘ সময় ধরে কৃষকের কাছে এসবের একমাত্র এবং বহুল ব্যবহার থাকলেও গত কয়েক দশক ধরে আর ব্যবহার দেখা যাচ্ছে না। এসব বাঙালি সংস্কৃতির কৃষিজ উপকরণগুলো এখন আস্তে আস্তে স্থান পাচ্ছে জাদুঘরে আর কিছু তথাকথিত বাঙালি সংস্কৃতির ধারক বাহক বলে দাবীদার শহুরে বৈঠকখানায়। নতুন ধান কাটা শুরু হলে গ্রামীণ জীবনের কৃষাণীর ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব চলতো নানা জাতের পিঠা-পুলি, পায়েস তৈরীর মধ্য দিয়ে। আর আজকাল সেই সংস্কৃতি শুরু হয়েছে নগর জীবনেও। গ্রামীণ সংস্কৃতির এই নবান্ন  উৎসব শুরু হয়েছে নগর জীবনে। গ্রামীণ সংস্কৃতির এই নবান্ন উৎসব চালু হয়েছে আধুনিক হোটেল-ক্লাবে। সেখানে সমাগম ঘটে কৃষি পরিবারের নয়; সমাজের উঁচুতলার বাসিন্দাদের।

বাঙালি সংস্কৃতির আর এক রূপ ধরা পরে বিভিন্ন পালা-পার্বণ, বর্ষবরণ, ধর্মীয় উৎসব ও বিবাহ অনুষ্ঠানে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এসব উৎসবেরও বাঁকবদল ঘটছে প্রতিনিয়তই। বাঙালি জাতির হাজার বছরের পথ-পরিক্রমায় গ্রামীণ মেলার আবেদন-আয়োজন যেন জীবনের এক অনিবার্য অনুসঙ্গ। মেলা সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার চেতনা নানাভাবে ফুটে ওঠে। নানা বয়স, নানা ধর্ম-বর্ণ, জাতির এবং নানা শ্রেণির মানুষের মিলনের এক বিশাল সেতুবন্ধন। বাদশা আকবর-এর আমল থেকে বর্ষ বরণের গোড়া পত্তন ঘটলেও স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাঙলা নববর্ষকে সারা দেশে রং ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকার রমনার বটমূলে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে ছায়ানট শিল্পীগোষ্ঠী। আমাদের সংস্কৃতিতে ছায়ানটের সেই ১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া বর্ষবরণ আজ সারা বাংলার আনাচে-কানাচে রং ছড়িয়ে দিয়েছে। ইদানীংকালে এই বর্ষবরণ সংস্কৃতিতে আর একটি নতুন সংযোজন ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সকালে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে। এতে থাকে বাংলার আবহমান সংস্কৃতির অন্যতম বাহন বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির রং বেরং-এর মুখোশ যা প্রতিক হিসেবে ব্যবহার হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এই শোভাযাত্রাটি মঙ্গল শোভাযাত্রা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায়। এমনকি সম্প্রতি ইউনেস্কো থেকেও এই শোভাযাত্রাটি বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে নববর্ষে আস্তে আস্তে লোপ পেতে বসেছে কী নগর, কী গ্রাম অঞ্চলেও ব্যবসায়ীদের সেই নতুন হালখাতা খোলার ব্যাপারটি। কম্পিউটার প্রযুক্তির যুগে এ যেন বড্ড বেমানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অন্যতম সংস্কৃতি চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা বর্ষবরণ। আদিবাসীদের প্রধান জাতীয় উৎসব হিসেবে ফি-বছর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সপ্তাহ ব্যাপী পার্বত্য জনপদে বৈসাবি উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে পাহাড়ি নৃ-গোষ্ঠীর আবহমান কালের সাংস্কৃতিক চিত্র। তবে সময়ের সাথে সাথে উন্নত জীবনের ছোঁয়ায় পাহাড়ি জনপদের অনুষ্ঠানের ব্যাপকতা বাড়লেও ধরনও অনেকেটা পাল্টে যাচ্ছে। কারণ শিক্ষা ও নানামুখী উন্নয়নের ছোঁয়ায় এসব আদিবাসী মানুষের আটপৌরে জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। সুতরাং সেই পরিবর্তনে আদিবাসী জনপদেও সংস্কৃতির বাঁকবদল স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

বাঙালির ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিবাহ উৎসবেও এসেছে নানা পরিবর্তন। একসময় ঈদ উৎসবে নতুন জামাকাপড় এর সাথে সেমাই-পায়েসের ব্যাপক আয়োজন থাকলেও এখন সেই যায়গা দখল করে নিয়েছে পাশ্চাত্য ধারার হরেক রকমের মুখরোচক ফার্স্টফুড। শুধু ঈদের দিন নয়; এখন ঈদ উৎসব চলে সপ্তাহ জুড়ে। কোরবানি ঈদ মানে আত্মীয় পরিজন-পাড়া প্রতিবেশীÑ গরিব-দুঃখীদের নিয়ে মাংস পরিবেশন ও আদান-প্রদানের সংস্কৃতিটিও ক্রমে ক্রমে লোপ পেতে বসেছে। বড় বড় গরু-ছাগল কোরবানি দিয়ে সারা বছরের জন্য মাংস ফ্রিজিং-এর সংস্কৃতিই চালু হতে বসেছে। এক সময় গ্রাম বাংলায় অবস্থাপন্ন পরিবারে বিবাহ উৎসব মানেই ছিল সপ্তাহ ধরে আত্মীয় প্রতিবেশীর সমাগমে মুখর বাড়িঘর। আর এখন বিয়েতে তালা পড়ে বাড়িতে। আত্মীয় পরিজনের সাথে ক্ষণিকের তরে দেখা মেলে অভিজাত ক্লাব- কমিউনিটি সেন্টারে। দাওয়াতের জন্য বিয়ের কার্ড এর প্রচলনও ওঠে যেতে বসেছে, সেই সংস্কৃতি দখলে নিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ফেসবুক-মুঠোফোনে। প্রযুক্তির বহুল ব্যবহারের ফলে এভাবে প্রতিনিয়তই আমাদের আবহমান সংস্কৃতির বাঁকবদল ঘটছে।

পোশাক এবং খাদ্যাভাসেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষণীয়। বাঙালির পোশাকের চিরায়ত রূপ নারীর শাড়ি এবং পুরুষের পাজামা-পাঞ্জাবি, লুঙ্গি-ধুতির ব্যবহার কিন্তু এখন দ্রুততার সাথে হ্রাস পাচ্ছে। এখন আধুনিক শহুরে নারী শুধু নয় পল্লির অতি সাধারণ গৃহবধূটিও সেই ঐতিহ্যের শাড়ি ছেড়ে সালোয়ার কামিজ ধরেছে। তরুণ সমাজ এমনকী গ্রামের অনেক দিনমজুরও এখন আর লুঙ্গি পরতে অভ্যস্ত নয়। আর পাজামা-পাঞ্জাবী-ধুতি তো আজকাল বিশেষ দিনের। বিশেষ মানুষের পোশাকে পরিণত হয়েছে। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পাশ্চাত্য পোশাকের চাহিদাই দিন দিন বারছে।

আমাদের খাদ্য তালিকার সংস্কৃতিতে ঘটছে ব্যাপক পরিবর্তন। পাশ্চাত্যের আদলে ফার্স্টফুড খাদ্যের দিকে বর্তমান প্রজন্মের আগ্রহ বাড়তেই আছে। তাতে মনে হয় আগামীতে বাঙালি সংস্কৃতির নানা পুষ্টিসমৃদ্ধ উপাদেয় খাদ্য তালিকার বিলুপ্তিই ঘটবে। কারণ এখনকার প্রজন্ম ঘরে-বাইরে সেই ঐতিহ্যের বাঙালিয়ানা খাদ্য পিঠা-পুলি-পায়েস দেখলে নাক-মুখ-চোখ সিকে তুলে নেয়। বাঙালির খাদ্য তালিকায় দুইবেলা ভাত, ডাল, মাছ, সবজির প্রচলন বহুকাল থেকে উপাদেয় এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যহিসেবে চলে আসলেও বর্তমান প্রজন্ম সেই খাদ্যতালিকাকে একপাসে রেখে কথিত ফার্স্টফুডকে বেচে নিয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ছে বলে মনে হলেও দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এসে তা কিন্তু মনে হচ্ছে না। খাদ্য তালিকার এই পরিবর্তনের ফলে আগামী প্রজন্ম একটা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে যাচ্ছে এটাই সত্য।

সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম সংগীত ও বাদ্যযন্ত্রের ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষণীয়। লোকসংগীত ও লোকজ বাদ্যযন্ত্রের কদর ও ব্যবহার বাঙালী সমাজে বহুকালের হলেও ইদানীং ভাটা পড়ছে। মূলত জাতীয় প্রচার মাধ্যমগুলোতে লোকসংগীত ও লোকবাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার খানিকটা লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে এসবের গুরুত্ব ও চাহিদা নেই বললেই চলে। মূলতত পাশ্চাত্য যন্ত্রসংগীত দিয়েই এখন আধুনিক সংগীতচর্চা চলে। লোক সংগীত এবং লোকজ যন্ত্রসংগীতগুলো মনে হচ্ছে ক্রমে ক্রমে জাদুঘরেই স্থান পাবে। বাঙালির ঐতিহ্য লোকসংগীত নামে যা বর্তমান প্রজন্ম প্রচলন করতে যাচ্ছে তা মূলত প্রকৃত লোকজধারার এক বিকৃত রূপই বটে। আর এভাবেই চলতে থাকলে বাঙালির আবহমান কালের জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, লালনের গানগুলোর প্রকৃত শিল্পীরা বিলুপ্তির পথেই হাঁটবে।

সংস্কৃতির এক উল্লেখযোগ্য মাধ্যমের মধ্যে পরে আমাদের ভাষা ও সাহিত্য। বাংলাভাষা ও সাহিত্যের কালজয়ী ¯্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেনÑ নদী যেমন বাঁক ফেরে, সাহিত্যও তদ্রুপ গতি বদলায়, আর এই গতি বদলানোটাই হচ্ছে আধুনিক। সর্বকালের এই আধুনিক সৃষ্টিশীল মানুষটির চিন্তার জগতের ক্ষেত্রটিও প্রতিফলিত বর্তমান সৃষ্টিশীল প্রেক্ষাপটে। আজ সৃষ্টিশীল সাহিত্যে যেমন পরিবর্তনের বাতাস পরিলক্ষিত তেমনি বাহ্যিক কাঠামোগত অনেক পরিবর্তনও লক্ষণীয়। বই-এর ক্ষেত্রে মুদ্রণযন্ত্রের ব্যাপক উৎকর্ষ সাধনের ফলে প্রকাশনাশিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বটে; কিন্তু এ পর্যন্ত এসে থেমে থাকেনি। এখন অনেকেই অনলাইন প্রকাশনার দিকেও ঝুঁকে পরেছে। এতে কি বইয়ের অস্তিত্ব বা আবেদন নিকট ভবিষ্যতে আর থাকবে না? হয়তো সময় বলে দেবে! আর ভাষা ও শব্দের ব্যবহার তো চলতে চলতেই খানিকটা পরিবর্তনশীল বটে। তবে বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভাষার যে বিকৃত রূপ দেখা যাচ্ছে তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। সময়ের সাথে সাথে বাংলাভাষার শব্দগত কিছু পরিবর্তন লক্ষণীয়। যেমন : সন্দেশ শব্দের মূল (আদি) অর্থ সংবাদ, সুসংবাদ হলেও বর্তমানে সন্দেশ অর্থ এক ধরনের মিষ্টান্নই বোঝানো হয়। বর্তমানে অর্থগত এর ব্যাপক পরিবর্তনের কারণ হচ্ছেÑ একালের মানুষেরা সুসংবাদ দিতে সাথে নিয়ে যায় মিষ্টান্ন (সন্দেশ)।    এভাবে ক্রমে ক্রমে সংবাদ বা সুসংবাদের ভিন্ন অর্থ দাঁড়িয়ে যায় সন্দেশে। এতে ক্রমে ক্রমে মূল অর্থটি হারিয়ে সেখানে জায়গা করে নিচ্ছে বহনকারী অর্থটি। ঠিক সে ভাবে ‘মৃগ’ মানে পশু হলেও এখন মানুষ বুঝে নেয় হরিণ অর্থে। শব্দগত এই পরিবর্তনের কারণ হলো এক সময় রাজা বাদশাদের বনে পশুশিকারে যাওয়ার রেওয়াজ ছিল। মূলত তারা শিকার করে আনতো শুধু মাত্র হরিণ। তাই রাজা মৃগয়ায় যাচ্ছে মানেই পশুশিকারে নয়; হরিণ শিকারে যাচ্ছে। সুতরাং মৃগয়ায় যাওয়া মানে পশু শিকারে নয়; হরিণ শিকারে যাওয়াই বোঝায়। এভাবে ‘মৃগ’ শব্দটির অর্থগত পরিবর্তন লক্ষণীয়। অর্থাৎ এভাবেও আমাদের চিরায়ত সংস্কৃতির রূপ পরিবর্তন।

সমগ্র বিশ্বের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ছোঁয়া লেগেছে আমাদের বাংলাদেশের তথা আমাদের সংস্কৃতিতেও। বাঙালী সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের রেওয়াজ যোগাযোগের এবং মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম এক মাধ্যম চিঠি বা পত্রলেখার সংস্কৃতি; যা আজ বিলুপ্তপ্রায়। অনেক খ্যতিমান ব্যক্তি এবং সাহিত্যিকদের চিঠি বা পত্রালাপগুলো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সময়ের এক উল্লেখযোগ্য মূল্যবান দলিল ও উপাদেয় নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। রম্যসাহিত্যিক আসহাবউদ্দিন তো চিঠি লিখতে বসে লিখে ফেলেন একটি সম্পূর্ণ উপন্যাস। অতি সম্প্রতি আনিসুজ্জামানের লেখা প্রফেসর ভূঁইয়া ইকবালের কাছে যেই চিঠিগুলো ছিল তা দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যবান গ্রন্থই প্রকাশ পেয়েছে। অতীতে খ্যাতিমান লেখকের চিঠিগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেলেও এখন ঐতিহ্যম-িত এই সংস্কৃতির জায়গাটি দখলে নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আর মুঠোফোন। (ফেসবুকের আভিধানিক যুতসই বাংলা শব্দ এখনো প্রচলন হয়নি)। তবে শঙ্কার কথা হচ্ছে পত্র যোগাযোগের আবেদন এবং ভাবপ্রকাশের সম্পূর্ণ জায়গাটা কখনো ফেসবুক কিংবা মুঠোফোন জায়গা করে নিতে পারে না।

 

নারীজাগরণের ক্ষেত্রেও আমাদের সংস্কৃতির বাঁকবদল লক্ষণীয়। আগের যুগের ঘরমুঘু সংস্কৃতিকে ভেঙে বাঙালি নারী সমাজ ঘরের বাইরে কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে পরছে। এটাও বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নশ্রেণির নারীজাগরণের নতুন সংস্কৃতিই বটে। এই বিষয়টিকে প্রথম দিকে অনগ্রসর সমাজের মানুষেরা মেনে নিতে না পারলেও বর্তমানে তাদেরকে বিষয়টি নিয়ে আর হা-পিত্যেস করতে দেখা যায় না। কারণ ইতোমধ্যেই তাদের পরিবারের অনেক নারীই ঘরের অন্ন জোগাতে বাইরে কর্মে গিয়ে পরিবারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের মেয়েরা আজকাল শুধু ব্যক্তিগত গাড়িই চালাচ্ছে না; ভাড়ায় চালিত গাড়ি চালাতেও দেখা যায়। সংস্কৃতি অনেক সময় মানুষকে পশ্চাতের দিকেও টেনে ধরার চেষ্টা করে; আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংস্কৃতির বাঁকবদলও পরিলক্ষিত হয়।

অনেক সময় রাষ্ট্র-সমাজ-সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর এই নিয়ন্ত্রণের ফলে সমাজের এবং সংস্কৃতির প্রকৃত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। সময়ের চাহিদাকে মাথায় রেখে সংস্কৃতির বাঁকবদল ঘটে থাকলেও পাশ্চাত্য ভাবধারার প্রভাবও এর আর এক কারণ। প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে এখন আর নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে কোনো দেশের সামাজিক আচরণ সম্পূর্ণ সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তবে প্রত্যেক দেশ তো বটেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও কিছু মৌলিক আচরণ পরিলক্ষিত হয়, যা তাদের একান্তই নিজস্ব সংস্কৃতি। আর সেই জায়গাটাতে পরিবর্তন আসা মানেই ওই জাতি গোষ্ঠীর অস্থিত্বের সঙ্কটে নিপতিত হওয়া। সুতরাং ওই জায়গাটিতে পাশ্চাত্য সভ্যতা ক্ষেত্রবিশেষে গ্রহণ বর্জনের প্রয়োজন এসে পড়ে। সুক্ষ্ম সমাজ বিশ্লেষক ও চিন্তক প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার ‘রাষ্ট্র ও সংস্কৃতির সামাজিকতা’ গ্রন্থেরÑ ‘লোকসংস্কৃতির ভদ্রচর্চা’ প্রবন্ধে মতপ্রকাশ করেনÑ

“সমগ্র দেশ জুড়ে মানুষের এক ও অখ- সংস্কৃতি গড়ে তোলাই হবে আমাদের কাম্য। তার মানে অবশ্যই এ নয় যে, বৈচিত্র্য থাকবে না সংস্কৃতিতে, স্থানের রং এসে লাগবে না তার গায়ে। বৈচিত্র্য অবশ্যই থাকবে। কিন্তু বিভেদ থাকবে না আমরা ও ওরার।” আজীবন তিনি শোষণহীন সমাজের, বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখে আসছেন। আর সেই সমাজে কখনো সংস্কৃতিগত বৈষম্য থাকতে পারে না। অখ- সংস্কৃতিই শোষণহীন সমাজের পূর্বশর্ত। স্থান বিশেষে সংস্কৃতির রং থাকতে পারে কিন্তু শ্রেণি বৈষম্যের কারণে আজ সংস্কৃতির বিভাজনও লক্ষণীয়। আর সেই জায়গাটিতে পরিবর্তন প্রয়োজন এবং কাজটি হচ্ছে রাষ্ট্রের।

একটি বিশাল জনপদে স্থানবিশেষে যেমন তার সংস্কৃতির পরিচয়ের তারতম্য ঘটে থাকে। তেমনি সময়ের চাহিদাকে সামনে রেখে সংস্কৃতির পরিবর্তনও ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে আমেরিকা একটি বড় উদাহরণ হতে পারে। সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ একত্র হয়ে এক নতুন সংস্কৃতি, নতুন জাতির সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকান জাতির সংস্কৃতি বলে আলাদা কিছু নির্ণয় করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমাদের বাঙালির তো একটি হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে এবং এই ইতিহাসের সাথে একটি আত্মপরিচয়ের সংস্কৃতিও  বিদ্যমান। আর এই মৌলিক বিষয়টিকে উপড়ে ফেলার মতো কোনো সুযোগ নেই। এখানে সংস্কৃতির যতই বাঁকবদল ঘটুক না কেন! একটি দেশের মানুষ তার আত্মপরিচয়কে তোয়াক্কা না করে বিদেশি অহংকার নিয়ে, সংস্কৃতি নিয়ে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। যেমন দূর অতীতেও পারেনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। সুতরাং নিকট অতীতেও নয়। এখানে আনিসুজ্জামানের ‘বাঙালি সংস্কৃতি’ প্রবন্ধের শেষাংশের কথাটি প্রণিধানযোগ্যÑ

“আশা করা যায় আমরা বাঙালি থাকবো ও বিশ্ববাসী হবো। দেশকে ভালোবাসবো ও আন্তর্জাতিকতায় উদ্বুদ্ধ হবো। মেলাবে, মিলিবে, যাবে না ফিরেÑ আমরাও ফিরে আসবো না প্রত্যাখাত হয়ে। এটাই সংস্কৃতিক্ষেত্রে আমাদের একুশ শতকের স্বপ্ন।”

প্রবহমান সময়ে জীবন, জীবিকা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও জীবনের জন্যেই সবকিছু। সুতরাং জীবনের প্রয়োজনেই সংস্কৃতির পটপরিবর্তন বা বাঁক বদল অপরিহার্য, একথা বিবেচনায় রেখেও আমাদেরকে প্রতিনিয়তই সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে মৌলিকত্বের ওপর ভর করে। অর্থাৎ আমাদের নিজস্বতা বলে কিছু আছে; যাকে কখনো উৎপাটন করা যাবে না।

 

শাকিল আহমদ : লেখক, গবেষক, প্রাবন্ধিক

বাজেটের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির বাজেট

আলম খোরশেদ আর কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হবে। আর অমনি শুরু হয়ে যাবে সবখানে বাজেট নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা। প-িতেরা, তথা অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার,

যৌক্তিক দাবি সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর

দেশে চাকরির বাজার কত প্রকট বা দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কত তা নিরূপণ করতে গবেষণার প্রয়োজন নেই। সরকারি চাকরি বা বিসিএস ক্যাডারে আবেদনকারীর সংখ্যা দেখলেই

সংবর্ধনার জবাবে কবি মিনার মনসুর বঙ্গবন্ধু শব্দটি যখন নিষিদ্ধ ছিল তখনই আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছি

রুহু রুহেল সময়ের সাহসী উচ্চারণ খুব কম সংখ্যক মানুষই করতে পারেন। প্রতিবাদী মানসিকতা সবার থাকে না; থাকলেও সেখানে  সংখ্যা স্বল্পই। এই স্বল্পসংখ্যক মানুষের মাঝে  সৌম্যদীপ্র