এখন সময়:রাত ১০:৩৯- আজ: রবিবার-১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ১০:৩৯- আজ: রবিবার
১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও হিট অফিসার প্রসঙ্গ

মুশফিক হোসাইন:
আরশট রক এবং এক্সট্রিম হিট রেজিলিয়েন্স এলায়েন্স (ই এইচ আর এ) ২০২১ সালে বৈশ্বিক তাপ প্রতিরোধ সমস্যা বিবেচনায় প্রথম হিট অফিসার নিয়োগ করে। তাঁদের প্রধান কাজ হলো বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে বিশ্বকে সচেতন করা এবং পরামর্শ দান। আন্তর্জাতিক আরশট-রকফেলার ফাউন্ডেশন বিভিন্ন দেশের সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সাল পর্যন্ত এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের মোট আটটি শহরে আটজন চিফ হিট অফিসার নিয়োগ করে। উল্লেখযোগ্য যে, এরা সকলেই নারী। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপে। প্রতিবেদনে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি, আফ্রিকার সিয়েরা লিওনের ফ্রিটাউন, গ্রিসের এথেন্স, চিলির সান্তিয়াগো, মেক্সিকোর মন্টেরি, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন এবং বাংলাদেশের ঢাকার জন্য চিফ হিট অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয় যে, নগরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা উদ্ভাবন এবং তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির জন্য প্রথম চিফ হিট অফিসার নিযুক্ত হলেন জেন গিলবার্ড। দ্বিতীয় গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের জন্য এলেনি মাইরিভিলি, তৃতীয় হলেন আফ্রিকার সিয়েরা লিওনের ফ্রিটাউনের জন্য ইহুইনা কার্গাবো। চতুর্থ, অস্ট্রেলিয়ার দুটি শহরের জন্য ক্রিস্টাজিলেন এবং টিফানি ফোফোউ সর্বশেষ বাংলাদেশের ঢাকার জন্য বুশরা আরেফিন। তবে ২০২৩ সালের মার্চে এথেন্সের এলেনি মাইরিকে জাতিসংঘে দায়িত্ব দেওয়ার পর সেখানে নিয়োগ পায় এলজাবেথ বার মিয়ান্নি।
আমরা জানি যে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপ প্রবাহ বেড়ে উষ্ণতা বৃদ্ধি করছে। ফলে উত্তর মেরুর বরফ গলছে। সাগর ও মহাসাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের নি¤œাঞ্চলের দেশ সমূহ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। ইতিমধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধিজনিত কারণে ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কাসহ উপকূলীয় দেশসমূহে ভরা কাটালে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্যের হাব খ্যাত চাক্তাই খাতুনগঞ্জ এবং আগ্রাবাদ ও হালিশহরের আবাসিক এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। জলবায়ু উদ্বাস্তু বিষয়ক প্রথম গবেষক জভি জ্যাকশন মনে করেন যে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে ১০ মিলিয়ন উদ্বাস্তুর সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে, রাজনৈতিক উদ্বাস্তুর চেয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা ছয়গুণ বেশি হতে পারে। তাদের ধারণা ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ২০০ মিলিয়ন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বিশেষ করে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। জাতিসংঘের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে বেশ কটি জলবায়ু সম্মেলনসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত করার জন্য উন্নত ও অনুন্নত দেশগুলো সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রশ্ন হল বিশ্বের রাষ্ট্র সমূহের সরকার ও জনগণ যদি সচেতন না হয়, তাহলে বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস করা সম্ভব নয়। জীবাস্ম জ্বালানী অব্যাহত রেখে এবং যত্রতত্র আবাসন ও কলকারখানা স্থাপনের নামে বনবনানী ও জলাশয় ধ্বংস করে বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস করা সম্ভব? চিফ হিট অফিসার নিয়োগ করে কাক্সিক্ষত ফল লাভ করা যাবে কিনা সন্দেহ থেকে যায়। নাকি তারা পর্বতের মুষিক প্রসব করবেন! সাধারণভাবে চিন্তা করলে ধারণা করা যায় এই হিট অফিসার নিয়োগ উন্নত বিশ্বের কায়েমি স্বার্থ রক্ষার নয়া কৌশল মাত্র। বিশ্বজনমতকে অন্যত্র চোখ ঘুরিয়ে নেয়ার নয়া ছল মাত্র। উন্নত দেশগুলো আজ পর্যন্ত জলবায়ু ক্ষতির ফান্ডে টাকা জমা দিতে ঐক্যমতে পৌঁছেনি।
প্রতিটি দেশের আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক। যদিও হালে বিজ্ঞানীরা তা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব রেখেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিশ্বের বহু দেশে তা নেই। এমনকী আমাদের বাংলাদেশে সৃজিত ও মুক্তবনের মোট আয়তন মাত্র ৮ থেকে ১৩ শতাংশ। সঙ্গত কারণে বাংলাদেশে উষ্ণতা বাড়ছে। তবে এ জন্য উন্নত দেশগুলোকে এবং বৈশ্বিক তাপ প্রবাহকে দায়ী করা হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ তাপ প্রবাহ বয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও ৪৪ ডিগ্রি তাপপ্রবাহের রেকর্ড দেখা যায়। এক সমীক্ষায় দেখা যায় চলতি বৎসরে বেশি উষ্ণতা দেখা যায় মরু অঞ্চলে নয় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার শহর মিয়ানমারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাগরের পানিতে লবণাক্ততা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি মিষ্টি ও সুপেয় পানির উৎস হ্রদ ও জলাশয়ের পানি হ্রাস পাচ্ছে। উষ্ণতার ফলে এ সকল জলাধারের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত আহরণে ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার আরো নিচে চলে যাচ্ছে। এখন আর ভূগর্ভস্থ পানি সহজলভ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে চট্টগ্রাম ওয়াসা ডিপ নলকূপ লাইসেন্স স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। নদীর পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াসার পানিতে লবণের মাত্রা বাড়ছে।
জলবায়ুতে উষ্ণতা বৃদ্ধিজনিত কারণে স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি নির্ণয় করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার বাস্তব ব্যবস্থাপনা জরুরি। বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নগরের জনগণকেও সচেতন করে তুলুতে হবে। নগর পরিকল্পনায় আনতে হবে বৈপ্লবিক ও পরিবেশ বান্ধব পরিকল্পনা। পাবলিক পলিসি এবং আন্তরাষ্ট্র সমন্বয় সাধন অতীব জরুরি। জীবাশ্ম জ্বালানি হ্রাসকল্পে উন্নত বিশ্বকে রাজী করতে হবে। অন্যথায় সকল আয়োজন ব্যর্থতায় পর্যবেসিত হতে বাধ্য। যতদূর জানা যায় চিপ হিট অফিসার হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তদের প্রায় সকলে পরিবেশ বিজ্ঞান ও নগর পরিকল্পনায় অভিজ্ঞ। কিন্তু ক্ষমতাধর বিশ্বের শাসক গোষ্ঠী ও পুঁজিবাদী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে তারা কতদূর প্রভাবিত করতে পারবেন! বাংলায় প্রবাদ আছেÑ‘চোর না শুনে ধর্মের কথা’ এরা কী বিশ্ব উষ্ণতার কূফলগুলো সম্পর্কিত বিপর্যয়ের কথা শুনবেন? তারপরও বিশ্ববাসী আশাবাদী তারা বিশ্বকে প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবগত করতে সচেষ্ট হবেন। প্রাচীন প্রবাদ অনুযায়ী বলা যায় ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভাল’। আমরা আশা করবো এই আট জন চিফ হিট অফিসার মাতৃমমতায় নিজ দেশের উষ্ণতাজনিত সমস্যা ও তার সম্ভাব্য প্রতিকার নিয়ে আন্তরিক হবেন। অন্তত বিশ্ববাসীকে বৈশ্বিক উষ্ণতা সম্পর্কে সচেতন করতে ভূমিকা রাখবেন। এই ভরসায় আট নারী চিফ হিট অফিসারের নিয়োগকে স্বাগত জানাই।

মুশফিক হোসাইন, কবি, নিসর্গী ও ব্যাংক নির্বাহী (অব)

চট্টগ্রামী প্রবাদের প্রথম গ্রন্থ : রচয়িতা জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন

মহীবুল আজিজ জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন (১৮৫২-১৯২০), সংক্ষেপে জে ডি এন্ডার্সন আজ থেকে একশ’ সাতাশ বছর আগে চট্টগ্রামী প্রবাদের সর্বপ্রাথমিক গ্রন্থটি রচনা-সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছিলেন। চট্টগ্রামী

দেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই (সম্পাদকীয়- জুন ২০২৪ সংখ্যা)

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্প্রতি আমাদের দেশসহ উপমহাদেশে যে তাপদাহ শুরু হয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় বৃক্ষরোপণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই