এখন সময়:রাত ১১:৩১- আজ: সোমবার-১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ১১:৩১- আজ: সোমবার
১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

মায়ের কোলে শেষ আশ্রয়

প্রজ্ঞাজ্যোতি ভিক্ষু

 

‘মা’ আমার — এক অবিরাম ভালোবাসার গল্প

মা—এই ছোট্ট শব্দটির ভেতরে লুকিয়ে আছে এক বিশাল পৃথিবী, অফুরন্ত ভালোবাসা আর অসীম ত্যাগের গল্প। একজন সন্তানের কাছে মা শুধু জন্মদাত্রী নন, তিনি তার প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু, এবং জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

 

কার্তিক—চার বছরের এক ছোট্ট শিশু। সবার আদরের ‘বাবু’। সদ্য দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠেছে সে। ছোট্ট বয়স হলেও তার ভেতরে ছিল অসাধারণ প্রতিভা, বিশেষ করে চিত্রাঙ্কনে। একদিন স্কুলে আয়োজন করা হলো চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। দিনটি ছিল মা দিবস, তাই প্রতিযোগিতার বিষয়ও ছিল—“মা-বাবার ছবি আঁকা”।

শিক্ষকরা ঘোষণা করলেন, যে সবচেয়ে সুন্দর ও আলাদা ছবি আঁকবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে। সব ছাত্রছাত্রী মন দিয়ে ছবি আঁকতে শুরু করল। কিন্তু সবার থেকে আলাদা এক আবেগ দিয়ে নিজের মায়ের ছবি আঁকল কার্তিক। তার ছবিতে শুধু রং ছিল না, ছিল ভালোবাসা, অনুভূতি আর এক শিশুর হৃদয়ের গভীরতা।

ফলাফল ঘোষণা হতেই দেখা গেল, কার্তিকই প্রথম হয়েছে। তার ছবি সবাইকে মুগ্ধ করেছে। শিক্ষকরা তাকে নিয়ে প্রশংসা করতে

 

 

লাগলেন, সহপাঠীরাও আনন্দে ভরে উঠল।

পুরস্কার নেওয়ার পর মঞ্চে তাকে বলা হলো কিছু কথা বলতে। কার্তিক প্রথমে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। ছোট্ট বয়স, কথা বলার অভ্যাসও কম—তাই সে একটু সংকোচ বোধ করছিল। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল সে।

ঠিক তখনই তার চোখে পড়ল সামনে বসে থাকা তার মা। মা দূর থেকে ইশারা করে বললেন—

“বাবু, আমি তোমার সামনে আছি। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলো।”

মায়ের সেই একটুকরো সাহস তাকে নতুন শক্তি দিল। কার্তিক ধীরে ধীরে মাইক্রোফোনের সামনে গিয়ে মৃদু কণ্ঠে বলতে শুরু করল—

“আমি এখন অনেক ছোট। বয়সে ছোট হতে পারি, কিন্তু প্রতিদিন আমার কাছে মা একেকটা গল্প, একেকটা উপন্যাসের মতো। মা আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়, আমাকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।”

তার এই সরল অথচ গভীর কথাগুলো শুনে পুরো হলরুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল। অনেকের চোখে জল চলে এল। তার মা-ও আবেগে অশ্রুসিক্ত হলেন। মুহূর্তের মধ্যেই করতালিতে ভরে উঠল চারপাশ।

সেদিনের সেই ঘটনা যেন মা-ছেলের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তুলল।

সন্ধ্যায় মা স্নেহভরা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন—

“বাবু, তোমার কি ইচ্ছে হয় না বাইরে গিয়ে খেলতে, বা কোথাও ঘুরতে?”

কার্তিক বলল—

“হ্যাঁ মা, আমার খুব ইচ্ছে হয় তোমাকে নিয়ে ঘুরতে।”

মা হাসলেন—

“তাহলে আমরা কাল ঘুরতে যাবো। তুমি বলো কোথায় যাবে?”

কার্তিক উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল—

“মা, আমরা গঙ্গা নদীতে নৌকায় করে ঘুরতে যাবো। সেখানে গিয়ে স্নান করবো, আর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবো—আমি যেন সারা জীবন তোমার কোলে থাকতে পারি।”

মায়ের চোখ ভরে উঠল ভালোবাসায়। তিনি সম্মতি দিলেন।

পরের দিন সকালে মা, কার্তিক এবং তাদের কয়েকজন পরিচিত মিলে লঞ্চে করে রওনা হলো। আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন, বাতাসে ছিল অশুভ ইঙ্গিত, তবুও তাদের আনন্দে কোনো ভাটা পড়েনি।

লঞ্চে সবাই আনন্দ করছিল—কেউ গান গাইছিল, কেউ গল্প করছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রকৃতি রুদ্র রূপ ধারণ করল। শুরু হলো দমকা হাওয়া, ঝড় ও প্রবল বৃষ্টি।

ম্যানেজার সবাইকে লাইফ জ্যাকেট পরতে বললেন। সবাই চেষ্টা করল নিজেকে নিরাপদ রাখতে। কিন্তু ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেড়ে গেল যে কিছুক্ষণের মধ্যেই লঞ্চটি উল্টে গেল।

চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। সবাই প্রাণপণ চেষ্টা করছিল বাঁচার জন্য। কেউ সাঁতার কাটছিল, কেউ ভেসে থাকার চেষ্টা করছিল।

কিন্তু ছোট্ট কার্তিক—সে তো সাঁতার জানে না। মা নিজের লাইফ জ্যাকেট থাকা সত্ত্বেও ছেলেকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। যেন কোনো দুর্যোগ তার সন্তানকে তার বুক থেকে ছিনিয়ে নিতে না পারে।

তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছেলেকে আঁকড়ে ধরে রাখলেন।

কিছু মানুষ বেঁচে গেল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মা ও কার্তিক আর ফিরতে পারল না।

গঙ্গার বুকে ভেসে উঠল মা ও সন্তানের নিথর দেহ—একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্য। উদ্ধারকর্মীরাও সেই দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না।

নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো নিঃশব্দে কাঁদতে লাগল। সেই মুহূর্ত যেন প্রমাণ করে দিল—

পৃথিবী থেমে যেতে পারে, কিন্তু মায়ের ভালোবাসা কখনো থামে না।

মা না থাকলেও সন্তানের প্রতি তার ভালোবাসা অমলিন থাকে।

এই গল্প শুধু একটি মা-ছেলের নয়—এটি পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতিচ্ছবি।

 

 

মা হলো জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। তার ভালোবাসা নিঃস্বার্থ, তার ত্যাগ অমূল্য। এই পৃথিবীর প্রতিটি সন্তান যেন তার মাকে ভালোবাসে, সম্মান করে এবং যতদিন সম্ভব তার পাশে থাকে—এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।মা দিবসে সকল মায়ের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা রইল

পৃথিবীর সকল মা ভালো থাকুক।

 

প্রজ্ঞাজ্যোতি ভিক্ষু, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

হাসনাত আবদুল হাই: নবতিতম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ তাঁর কথা প্রথম শুনি স্বয়ং পিতৃদেবের মুখে। একই এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দুজনেই, তদুপরি লতায় পাতায় কীরকম যেন আত্মীয়ও। এই নিয়ে একধরনের চাপা গর্বও

ডা. চন্দন দাশ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ

শোয়েব নাঈম চন্দন দা’ (ডা. চন্দন দাশ) অভূতপূর্ব মানসিক অনুরণনে আমার মধ্যে বহু বছর আগেই বসন্তের এক রেশ রেখে গেছেন। তাঁর বসন্তের এই রেশ ছিল

তেজোদীপ্ত তোফায়েল আহমেদ বোধশূন্যতায় তুমি শোকসভা

কামরুল হাসান বাদল   বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তর একবারই এসেছিল, সে একাত্তর গৌরবের, সে একাত্তর অহংকারের। সে একাত্তর আর কখনও বাঙালির জীবনে আসবে না।

পান্থজনের কথা

সুমন বনিক মহেড়া জমিদার বাড়ির নামটি অনেক আগেই জানা ছিল, কিন্তু দেখা হয়নি। ইতিহাসের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এর মানিকরতœ উদঘাটন করা ঊর্মিলা (আমার স্ত্রী)’র স্বভাবজাত

পরিশেষে সেই তুমি

সৈয়দ মনজুর কবির এমনিতেই সরু গলি, কি বুঝে ফায়ার ব্রিগেড এর মাঝারি সাইজের পেট মোটা ওয়াটার ওয়াগনটা ঢ়–কলো তা দামালের বোধগম্য হচ্ছে না। অফিসের গাড়ি