এখন সময়:রাত ১১:৪১- আজ: সোমবার-৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:রাত ১১:৪১- আজ: সোমবার
৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

যেখানে কোন প্যারা নেই

আবদুল মোমেন

মুকসুদপুর বাস স্টেশনে নেমে রিকশায় উঠলাম। রিকশায় চড়ে দুই তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর কটিয়াদি গ্রামে পৌঁছলাম। জনবহুল গ্রামটি পেছনে ফেলে হাঁটা শুরু করলাম।

মনে অনেক দুশ্চিন্তা! অস্থিরতা ও হতাশা জেঁকে বসেছে। মা, বাবা, বউ আর দুই সন্তান নিয়ে সংসার। আমার যা আয় তা দিয়ে পুরো মাস চলে না। মাস শেষে দেনা হয়ে যায় ম্যালা টাকা। সেই দেনার দায় মেটাতে হিমসিম খেতে হয়। তার ওপর কয়েকটি মাল্টিপারপাস কোম্পানি থেকে মাসিক কিস্তিতে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামের মেঠোপথ ধরে হেটে চলছি আর দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে ভাবছি।

এতো দায় দেনা কী করে মেটাবো। মা বাবার আবদার, বউ বাচ্চার নানা চাহিদা কী করে পূরণ করবো। চরম দুশ্চিন্তার ভেতর হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ সংজ্ঞা ফিরলো। তখন নিজেকে গ্রাম থেকে অনেক দূরে আবিষ্কার করলাম।

চারদিকে খোলা মাঠ। মাঠে ফসলি জমি।

ফসল ফলে নানা জাতের, সারা বছর। চারদিকে সবুজ আর সবুজ।

মাঠের মাঝখানে এঁকেবেঁকে  চলে গেছে মেঠোপথ।

পথের দু ধারে মেহগনি গাছের সারি, মাঝে মাঝে ঝোপঝাড়। বাতাসে গাছের মগডাল নড়ছে। রোদের আলোতে গাছের ছায়া

খেলছে। খোলা মাঠে বাতাসের শনশন শব্দ সুর তুলেছে ।

পথে হাঁটতে হাঁটতে  চোখে পড়ল নারিকেল গাছে  ঘেরা বড় একটি পুকুর। পুকুরের সামনের পাড়ে আম গাছের ছায়ায় কাঠের তক্তার বৈঠকখানা। আহ! কি সুন্দর স্নিগ্ধ পরিবেশ! মনোমুগ্ধকর  হিমেল হাওয়ায় হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।

মেঠোপথ ধরে আরো খানিকটা এগোলে  অপূর্ব সুন্দর ছোট্ট  একটি কাঁচা ঘর। ঘরটি কাঁচা হলেও সব কিছু পরিপাটি। সামনে বারান্দা। বড় উঠান। উত্তর-দক্ষিণে জানালা। জোছনার আলো রাতে অনায়াসে ভেতরে প্রবেশ করে। দক্ষিণা হাওয়া নির্বিঘেœ ঘরের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে।

এরকম একটা বাড়িতে আমরা বসবাস করছি। মাঠের নানা জাতের ফসলে আমাদের রোজগার। সে রোজগারের অর্থ খরচ করে বছর কুলিয়ে আরো জমা থাকে। কোনো টেনশন নেই। নেই কোনো প্যারা। আমার মা, বাবা বিকেলে নাতিদের নিয়ে উঠানে খেলছে। বউ পুকুর থেকে তুলে আনা তাজা মাছ রান্না করছে। অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশে চলছে আমার সুখের সংসার।

হঠাৎ ঘরের দরজায় প্রচ- শব্দে বউ ডাকছে। উঠো উঠো। কিস্তির টাকার জন্য লোক এসেছে। উঠোৃ। বউয়ের চেঁচামেচিতে আমার ঘুম ভাঙলো। স্বপ্ন ভেঙে সংজ্ঞা ফিরলো।

 

আবদুল মোমেন, গল্পকার

বাঙালির ভাষার অধিকার হরণ- রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক মৃত্যু

হোসাইন আনোয়ার আজ থেকে ৭৯ বছর আগের কথা। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারতবর্ষের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যটেন তার রোয়েদাদ ঘোষণা করেন, এই ঘোষণার পর

‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ জননী রঞ্জিতা বড়ুয়াকে নিবেদিত সন্তান সত্যজিৎ বড়ুয়ার ‘সুরাঞ্জলি’

মা সুগৃহিনী শ্রমতী রঞ্জিতা বড়ুয়ার ৮৩ তম জন্মদিনকে উপলক্ষ করে ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গানে গানে সুরের

আন্দরকিল্লা’য় সুকুমার স্মরণ সন্ধ্যা

বিপুল বড়ুয়া   সুকুমার বড়ুয়া আমাদের ছড়াসাহিত্যের একজন প্রবাদপ্রতীম পুরুষ। নানা আঙ্গিক, বিষয়বস্তু, ধরণ-ধারণে, বৈচিত্রে অনুধ্যানে তিনি অসংখ্য ছড়া লিখে আমাদের ছড়া অঙ্গনে বহুমাত্রিকভাবে খ্যাত

জলে জঙ্গলে (পর্ব তিন)

মাসুদ আনোয়ার একে একে মুসল্লিরা বেরিয়ে আসছে মসজিদ থেকে। আমি দাঁড়িয়ে আছি স্থানুর মতো। প্রত্যেক মুসল্লির মুখের দিকে তীক্ষ্ম নজর বুলাচ্ছি। কাপ্তাই বড় মসজিদের ইমাম