এখন সময়:দুপুর ১২:৫৫- আজ: বুধবার-১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:দুপুর ১২:৫৫- আজ: বুধবার
১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

রক্তদান

হোসেইন আজিজ

বৃষ্টিভেজা এক সন্ধ্যা। আকাশে মেঘের ঘনঘটা, যেন কিছু একটা ঘটতে চলেছে আজ। সব টেলিভিশন চ্যানেল আর সামাজিক মাধ্যমে বারবার ভেসে আসছে এক জরুরি বার্তা “তাৎক্ষণিক ও-পজিটিভ রক্ত প্রয়োজন। জীবন-মরণ সমস্যায় একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।”

 

বার্তাটি যখন অনিকের চোখে পড়ে, তখনও সে জানত না— তার রক্ত শুধু এক মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন বাঁচাবে না, উন্মোচিত করবে এক নীরব সত্যের দ্বার।

 

অনিক, এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। বহুবার রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে সে। এবারও দ্বিধাহীন।

ছুটে গিয়েছে হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে।

সেখানে পৌঁছে দেখে, ভেতরে অদ্ভুত এক ব্যস্ততা। রোগীটি আর কেউ নয় দেশের খ্যাতিমান ধনকুবের, হায়দার সাহেব।

 

দুই পাউন্ড রক্তের দরকার, তৎক্ষণাৎ।

নার্স একবার চোখ বুলিয়ে নেয় তাকে। না কোনো কাগজে স্বাক্ষর, না কোনো প্রশ্ন।

অনিককে শুইয়ে দেওয়া হয় বেডে। তার শিরা ধরে ধীরে ধীরে রক্ত চলে যায় অন্য এক শরীরে যার হৃদপিণ্ড তখন শল্যচিকিৎসকদের হাতে খোলা পড়ে আছে।

 

 

 

অপারেশন সফল হয়।

করিডোর জুড়ে উল্লাস, আত্মীয়দের চোখে জল, মুখে বিজয়ের হাসি।

তবে অনিক?

সে এক কোণে, প্লাস্টিকের এক চেয়ারে নিস্তেজ হয়ে বসে থাকে।

তার কাঁধে কেউ রাখে না একটি কৃতজ্ঞতার হাত। কেউ জিজ্ঞেস করে না,

“কেমন আছো তুমি?”

না কোনো মৌসুমি ফল, না একফোঁটা জল শুধু নিঃসঙ্গতা।

একসময় বিলাসবহুল একটি গাড়ি গেট পেরিয়ে বেরিয়ে যায়।

হায়দার সাহেবের স্ত্রী আর সন্তান জানালার কাচ নামায় না। অনিক উঠে দাঁড়ায়, তাকে বাড়ি যেতে হবে। তার পদতলে ঠান্ডা মেঝে— মনে হয়, বর্ষার জলে নিজেই ধুয়ে যাচ্ছে সে।

পিছন ফিরে দেয়ালে চোখ পড়ে। সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা—

“রক্তদান শুধু দায়িত্ব নয়, এক অদৃশ্য বন্ধন।”

সে একটু হেসে ফেলে। সেই হাসি না বিদ্রুপ, না বেদনা

এক বিষণ্ন, ভিজে সন্ধ্যার মতো নিঃশব্দ হাসি।

 

 

হোসেইন আজিজ, কবি

বাঙালির ভাষার অধিকার হরণ- রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক মৃত্যু

হোসাইন আনোয়ার আজ থেকে ৭৯ বছর আগের কথা। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারতবর্ষের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যটেন তার রোয়েদাদ ঘোষণা করেন, এই ঘোষণার পর

‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ জননী রঞ্জিতা বড়ুয়াকে নিবেদিত সন্তান সত্যজিৎ বড়ুয়ার ‘সুরাঞ্জলি’

মা সুগৃহিনী শ্রমতী রঞ্জিতা বড়ুয়ার ৮৩ তম জন্মদিনকে উপলক্ষ করে ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গানে গানে সুরের

আন্দরকিল্লা’য় সুকুমার স্মরণ সন্ধ্যা

বিপুল বড়ুয়া   সুকুমার বড়ুয়া আমাদের ছড়াসাহিত্যের একজন প্রবাদপ্রতীম পুরুষ। নানা আঙ্গিক, বিষয়বস্তু, ধরণ-ধারণে, বৈচিত্রে অনুধ্যানে তিনি অসংখ্য ছড়া লিখে আমাদের ছড়া অঙ্গনে বহুমাত্রিকভাবে খ্যাত

জলে জঙ্গলে (পর্ব তিন)

মাসুদ আনোয়ার একে একে মুসল্লিরা বেরিয়ে আসছে মসজিদ থেকে। আমি দাঁড়িয়ে আছি স্থানুর মতো। প্রত্যেক মুসল্লির মুখের দিকে তীক্ষ্ম নজর বুলাচ্ছি। কাপ্তাই বড় মসজিদের ইমাম