এখন সময়:দুপুর ১:২৯- আজ: বৃহস্পতিবার-২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:দুপুর ১:২৯- আজ: বৃহস্পতিবার
২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

রিজোয়ান মাহমুদ -এর গুচ্ছ কবিতা

সাম্পানের জ্বরে

 

তোমার ঠোঁটের নৈঃশব্দ্যতা

সবটা উদ্বিগ্ন চিতা

এক চক্র ফিলট্রাম নড়ে

ভাবি, ভস্ম হলেই হয়না ক্ষয়।

 

তোমার হাতের পিঠাপুলি

কোথাও ছিল না চুপ

আমি ঝাঁপাই তোমাতে

যেখানে বেদনা কূপ।

 

কোথায় নৈঃশব্দ্য

শরীরের বিউগল শোনে সব

আটকা সাম্পানজ্বরে আমি

মাঝিবেটা নদীতেই শব।

 

তোমার নদীতে সাঁতরায় যার ফুল

না বোঝে সাম্পান কেন এতটা ব্যাকুল।

 

 

 

 

লাবণ্য এখন নেই

 

এ ফাগুন দিনে কেতকী দেখালো

সুনির্মিত শেষের কবিতা

দুটি কবিতা গোল খয়েরী হলুদ ঊর্ধ্বগামী

আগুন লাগানো ভোরে দীপ্ত অনিন্দিতা।

 

অমিত রায়ের কেতাদুরস্ত সাহেবি শখ

ভাসছে কোন সে ঢেউ হরমুজ প্রণালী

বিশ্ববাজারে বাড়ছে প্রতিদিন ছায়া

লাবণ্যরা যায় আসে, যায় বনমালী।

 

রবীন্দ্র বাবুর লাবণ্য এখন নেই শান্তশিষ্ট

ভেজা গাঁয়ে লাঙ্গলের ঘ্রাণে আমি নই, অবশিষ্ট।

 

 

 

 

মানুষ তুই  ক্যানে এমন রে

 

তোমাকে দেখার বদভ্যাস

এখনও ছাড়তে পারিনি

যদি না দেখি, একটা মুহূর্ত

মনে হয়,

 

কোথাও খারাপ কিছু ঘটে গেছে

আমরা দুজন দারুণ অনুভূতি প্রবণ শীলমাছ

অনেক দূরের ঢেউ এসে জোরস্ েএকটা

ঝাপটা খাওয়া মাছমুখ,,,

যেন চুমুতেই গর্ভবতী হলে তুমি

আচ্ছা মানুষ কেন যে এতটা অস্থির

না দেখতে পেলে টর্নেডোর বিস্ফোরণ ঘটে

 

আহারে মানুষ,,,

তুই ক্যানে এমন রে!

 

 

 

 

কত হেঁটে যাবে একা

 

তুমি আয়াতের মতো নৈঃশব্দ্য রোপণ করে

যে পথে একাকী হাঁটছ দুপুরে সেখানে গুল্মের ছায়া নেই –

মায়া জড়িয়ে না গেলে ;

তোমাকে যাপন গিলে খাবে

তখন উচ্ছিষ্ট মূল হ’য়ে তোমাকে গিলবে

তার চেয়ে ভালো দোকা হও। মানুষেরা অসামান্য বেইমান

তোমাকে দেবেনা কখনোই একতিল ছাড়

একা একজন হাঁটবে কোথায়

এক কাপ বেদনাভরা সম্পর্ক নিয়ে

ভাঙা বৃষ্টি পথে কতদূর হেঁটে যাবে!

 

 

 

 

 

 

অসীম শূন্যে

 

আমি ঘুমাতে পারি না

মধ্যরাতে আঁধার আমার পাশে

একটা গোঙানি দিয়ে গভীর জাপটে ধরে,

আমি কানে কানে তার ;

তুমি এতটা গভীর কেন?

 

প্রকৃতি আমার মধ্যে গভীরতা খোঁজে

এই স্বীকৃত স্বভাবে আবারও আলিঙ্গনাবদ্ধ করে

বস্তুত নৈঃশব্দ্য উত্তাপের আলো

আমার সমস্ত সত্যে

আমাকে উড়িয়ে দেয় শূন্যে

আমিও অসীমে লীন হতে থাকি।

 

 

 

 

বুকের বাঁ পাশে

 

বাঁশি না বাজলে কখনো – সখনো ভয় পাই

মনে হয় যেন কিছু দেয়াল হ’য়ে দাঁড়িয়েছে

আকাশ এতটা খালি

কখনোই লাগেনি বিরান

বরং আকাশ একটা ফাঁদ

একদিন ঊর্ধ্বে তুলে নেবে; কার আশে!

তুমিও নৈঃশব্দ্য একসাথে জ্বলো

 

বুকের বাঁ পাশে।

 

 

 

 

মায়ামত যেন সত্য পাই

 

আমার লেখায়

মতামত দিয়োনা কখনো

যদি দিতে চাও

মায়ামত দিয়ো

অদ্বৈত বেদান্ত বলেছে যা –

আজ ভিন্ন সম্পূরক করি,

মায়া মানে ভেতরের গভীর নিংড়ানো

দহনের এক রত্তি আলো।

 

মায়া মানে কবির হাড়ের পাড়ে

শীতকালে দু’পা হেঁটে আসা

আমি বিবস্ত্র আঁধারে আলো দেখি,

অতএব, মায়ামত দাও বেশি নয়

একফোঁটা।

শংকরাচার্য, তুমি পাশে থাক, সত্য হয়ে

আমি যেন মায়াময় মায়মতে শক্তি পাই

মায়া ফিলসফি পাই।

 

মায়াবী জাল

 

যখন বাঁদিকে হাঁটি

তখন কেনবা ডানে হেলে যাই!

সেখানেই থাক তুমি, একটা গলির পাশে

ফুলের বালিশে মেঘ যেখানে ঘুমাতে যায়

আমি ঘ্রাণ হ’য়ে অনুমান করি

প্রতিদিন একটা গোলাপ কোথাও লুকাতে থাকে

আমি লজ্জা পেয়ে আবার বাঁদিকে…

 

পশ্চিমে অথবা পুবে যাইনা কখনো

সূর্য হৃদপুরে ওঠে, সকালের মৃদু আলো

বিকেলের সূর্য পশ্চিমে হেলতে থাকে

নিয়মমাফিক

 

মাঝি নদী সেলাইয়ে ব্যস্ত, অবিরাম

আমার বাঁদিকে তীক্ষ্ম রোদ, তবু হাঁটি, তবে

ঝুঁকে থাকি, ডান দিকে

গোলাপের হৃৎপিণ্ডে টোকা মেরে নামছি যখন

মায়াবী সুদূর জালে

মৃত্যু তুচ্ছ, ভয়হীনতাকে জয় করে সাঁতরাই

 

আমার গন্তব্য জানে দূরের স্টেশন।

 

 

 

 

দেহ ভাঙা জলে

 

তোমার পাশের রাস্তা মধ্যরাতে

কতটা ফাঁকা ও শূন্য থাকে

মাঝেমধ্যে খুবই দেখতে ইচ্ছে হয়

একদিন ছিলো ভালোবাসাময় মলয় দুপুর

অপরাহ্ণ পাতার শিরার মতো শুকনো মলিন

দু’একটা ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভারসাম্যহীন

শাঁই করে কোথাও উধাও হলে,

মনে হয়, কালো শাপের জিহবা দুই টুকরো কিরিচ

সে হীন গহীন তুমি গাঙচিলি

পর্দার আড়ালে অচর্চিত অনেকটা

দেহ একটা জঞ্জাল সাফ

সামাজিক বোধের খেলায়

অসহনীয় একাকী তুমি কত দূরে যাবে?

পাদুকা দু’খানা আমার সদর দরজায়

দূরত্ব মাপতে গেলেই হারিয়ে যায়

আমি ওডোমিটারে আটকে আছি

তোমার শরীর ভাঙা জলে।

হাসনাত আবদুল হাই: নবতিতম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ তাঁর কথা প্রথম শুনি স্বয়ং পিতৃদেবের মুখে। একই এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দুজনেই, তদুপরি লতায় পাতায় কীরকম যেন আত্মীয়ও। এই নিয়ে একধরনের চাপা গর্বও

ডা. চন্দন দাশ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ

শোয়েব নাঈম চন্দন দা’ (ডা. চন্দন দাশ) অভূতপূর্ব মানসিক অনুরণনে আমার মধ্যে বহু বছর আগেই বসন্তের এক রেশ রেখে গেছেন। তাঁর বসন্তের এই রেশ ছিল

তেজোদীপ্ত তোফায়েল আহমেদ বোধশূন্যতায় তুমি শোকসভা

কামরুল হাসান বাদল   বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তর একবারই এসেছিল, সে একাত্তর গৌরবের, সে একাত্তর অহংকারের। সে একাত্তর আর কখনও বাঙালির জীবনে আসবে না।

পান্থজনের কথা

সুমন বনিক মহেড়া জমিদার বাড়ির নামটি অনেক আগেই জানা ছিল, কিন্তু দেখা হয়নি। ইতিহাসের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এর মানিকরতœ উদঘাটন করা ঊর্মিলা (আমার স্ত্রী)’র স্বভাবজাত

পরিশেষে সেই তুমি

সৈয়দ মনজুর কবির এমনিতেই সরু গলি, কি বুঝে ফায়ার ব্রিগেড এর মাঝারি সাইজের পেট মোটা ওয়াটার ওয়াগনটা ঢ়–কলো তা দামালের বোধগম্য হচ্ছে না। অফিসের গাড়ি