এখন সময়:দুপুর ২:০১- আজ: রবিবার-১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:দুপুর ২:০১- আজ: রবিবার
১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

লেনিনের প্রয়াণ দিনে বার্টল্ট ব্রেখট

ভাষান্তর: জিললুর রহমান

 

১.

যেদিন লেনিন গেলেন পরপারে

মৃত্যু-দেখা এক সেনা, গল্পটা সে বলে,

তার কমরেডদের কাছে: আমি চাইনি

এটা বিশ্বাস করতে। আমি ভেতরে ঢুকি,

এবং তার কানের কাছে চিৎকার করি: “ইলিচ

শোষকেরা তাদের পথে আসছে!” সে নড়ল না।

এখন আমি জেনেছি সে মারা গেছে।

২.

কখন একজন ভাল মানুষ চলে যেতে চায়?

তাকে তুমি কিভাবে পেছন থেকে আটকাবে?

বলো তাকে কেন দরকার,

সেটাই থামাবে তাকে।

৩.

কোন জিনিষটা লেনিনকে ফিরিয়ে আনতে

পারতো?

৪.

সেনাটি ভেবেছে

যখন সে শুনবে, শোষকেরা এগিয়ে আসছে,

সে যতই অসুস্থ হোক, সে উঠে দাঁড়াবে।

হতে পারে সে আসবে ক্রাচে ভর দিয়ে,

হতে পারে সে কাউকে ধরে ধরে আসবে, কিন্তু

সে উঠে দাঁড়াবে এবং এগিয়ে আসবে

শোষকদের সাথে লড়াই চালাতে।

৫.

সেনাটি জানতো, বলা যায়,

লেনিন আজীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছে

শোষকের বিরুদ্ধে।

৬.

আর যে সেনা অংশ নিয়েছে

শীতল প্রাসাদের গোলযোগে, চেয়েছিল

বাড়ি ফিরবে, কারণ সেখানে

এস্টেটের জমি বিলিবন্টন হচ্ছে,

তখন লেনিন তাকে বললেন: থেকে যাও!

শোষকেরা এখনও বিদ্যমান।

আর যতদিন শোষণ চলবে

এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে,

যতক্ষণ তোমার অস্তিত্ব আছে

তুমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে রত থাকবে।

৭.

দুর্বল লড়াই করে না।

সবল সংগ্রামে রত হয়,

হতে পারে তা এক ঘন্টার জন্যে।

যারা অধিকতর সবল তারা

অনেক বছর ধরে লড়ে যায়।

বলিষ্টতমগণ তাদের সারাটা জীবন

লড়াইয়ে রত থাকে।

এসব অপরিহার্য।

 

 

 

 

 

৮.

বিপ্লবীর প্রশংসায় :

যখন শোষণ বর্ধিষ্ণু

অনেকেই নিরুৎসাহিত হয়,

কিন্তু তার উদ্দীপনা ক্রমবর্ধমান।

সে সংগঠিত করে তার সংগ্রাম

মজুরীর পয়সা আর জলখাবারের জন্য

আর ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার জন্য।

সে সম্পত্তিকে জিজ্ঞেস করে:

তোমার উৎপত্তি কোথা থেকে?

সে দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্ন করে:

তুমি কার সেবা কর?

যেখানেই থাকে নিস্তব্ধতা

সে কথা বলবেই,

যেখানেই রয়েছে দমন-পীড়ন, এবং কথাই ভবিতব্য

সে বিষয়গুলোকে ডাকবে তাদের সঠিক নামে,

যেখানে সে টেবিলের ওপর বসে

তার সাথে অসন্তোষও বসে,

খাবারকে ভয়ঙ্কর মনে হয়,

আর কক্ষ ভীষণ সংকীর্ণ ।

যেখানেই তারা তাকে তাড়িয়ে দেয়

অশান্তি অনুসরণ করে, এবং শিকারের জায়গায়

অশান্তি থেকে যায়।

৯.

লেনিন যখন মারা গেলেন এবং তাকে আমরা হারালাম,

বিজয় অর্জিত হয়েছে, কিন্তু জমি পরিত্যক্ত পড়ে থাকল,

জনতা বেরিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পথ ছিল অন্ধকার।

যেমন লেনিন চলে গেলেন,

সৈন্যরা ফুটপাথে বসে কাঁদছিল

এবং শ্রমিকরা তাদের মেশিন থেকে দূরে চলে গেল

এবং তাদের মুষ্টি দৃঢ়বদ্ধ করলো।

১০.

লেনিন যেভাবে চলে গেলেন, এ ছিল

যেমন গাছ তার পাতাগুলিকে বলে

আমি আর নেই।

১১.

তারপর থেকে পনেরো বছর কেটে গেছে

ভূবিশ্বের এক ষষ্ঠাংশ

শোষণ মুক্ত হয়েছে।

সেই ডাক: শোষকরা আসছে!

জনসাধারণ, বরাবরের মতোই, নতুন করে উঠে দাঁড়ায়।

সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত।

১২.

লেনিন অধিষ্ঠিত নিহিত আছেন

শ্রমিক শ্রেণীর বিশাল হৃদয়ে,

তিনি ছিলেন আমাদের শিক্ষক।

তিনি আমাদের সাথে একত্রে লড়াই চালিয়ে গেছেন।

তিনি অধিষ্ঠিত

শ্রমিক শ্রেণীর বিশাল হৃদয়ে।

(১৯৩৫)

বাঙালির ভাষার অধিকার হরণ- রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক মৃত্যু

হোসাইন আনোয়ার আজ থেকে ৭৯ বছর আগের কথা। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারতবর্ষের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যটেন তার রোয়েদাদ ঘোষণা করেন, এই ঘোষণার পর

‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ জননী রঞ্জিতা বড়ুয়াকে নিবেদিত সন্তান সত্যজিৎ বড়ুয়ার ‘সুরাঞ্জলি’

মা সুগৃহিনী শ্রমতী রঞ্জিতা বড়ুয়ার ৮৩ তম জন্মদিনকে উপলক্ষ করে ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গানে গানে সুরের

আন্দরকিল্লা’য় সুকুমার স্মরণ সন্ধ্যা

বিপুল বড়ুয়া   সুকুমার বড়ুয়া আমাদের ছড়াসাহিত্যের একজন প্রবাদপ্রতীম পুরুষ। নানা আঙ্গিক, বিষয়বস্তু, ধরণ-ধারণে, বৈচিত্রে অনুধ্যানে তিনি অসংখ্য ছড়া লিখে আমাদের ছড়া অঙ্গনে বহুমাত্রিকভাবে খ্যাত

জলে জঙ্গলে (পর্ব তিন)

মাসুদ আনোয়ার একে একে মুসল্লিরা বেরিয়ে আসছে মসজিদ থেকে। আমি দাঁড়িয়ে আছি স্থানুর মতো। প্রত্যেক মুসল্লির মুখের দিকে তীক্ষ্ম নজর বুলাচ্ছি। কাপ্তাই বড় মসজিদের ইমাম