এখন সময়:রাত ২:০৬- আজ: সোমবার-২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ২:০৬- আজ: সোমবার
২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

সংস্কার চাই : চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন

নিখিল রঞ্জন দাশ

সম্প্রতি চট্টগ্রাম এম.এ. আজিজ স্টেডিয়ামকে আগামী ২৫ বছরের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারশনকে দেয়া হবে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজনে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের ৬০ বছরের ঐতিহ্য রয়েছে এটা অনেকের জানা নেই।

চট্টগ্রাম ষ্টেডিয়ামে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আসর বসেছিল ১৯৫৪ সালের শেষে। ১৯৪৭ এ দেশ বিভাগের পর প্রথম আন্তর্জাতিক দল হিসাবে ভারতীয় ক্রিকেট দল ভিনু মানকড়র নেতৃত্বে তাদের তৎকালীন পাকিস্তান সফর শুরু করেছিল চট্টগ্রাম থেকে। ভারত বনাম পূর্ব পাকিস্তান ক্রিকেট দলের মধ্যে তিনদিনের ম্যাচের মধ্য দিয়ে ১৯৫৪-৫৫ ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সিরিজ শুরু হয়েছিল চট্টগ্রামে নিয়াজ ষ্টেডিয়াম থেকে। তবে পূর্ব পাকিস্তান দলের নেতৃত্বে দেয়ার জন্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছিল মুনাওয়ার আলী খানকে এবং সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এ, টি, এম মুস্তাফা। অধিনায়ক ভিন্ন মানকড় ছাড়া ভারতীয় দলে ছিলেন গুলাম আহমেদ, মাধব মন্ত্রী, নরেন তামান্নে, পঙ্কজ রায়, পি, এল, পাঞ্জাবী, পলি উমরিগর, জি, এস, রামচাদ, দাত্তু ফাতকার, মঞ্জরেকার ও সুভাষ গুপ্তের মত নামী দামী খেলোয়াড়রা। আমরা তখন হাফ-প্যান্ট পরা বালক মাঠে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলাম বয়-স্কউট হিসাবে বল কুড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে।

চট্টগ্রাম ষ্টেডিয়ামের সংগে সেই সম্পর্ক আজও কাটিয়ে উঠতে পারিনি তাই স্মৃতির অতল থেকে সেই সব দিনকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করি  চট্টগ্রাম ষ্টেডিয়াম আমার জানা মতে তৈরী হয়েছিল ১৯৫২সালে। তৎকালীন চট্টগ্রামে কয়েকজন বিশিষ্ট ক্রীড়ামোদী ও সংগঠকের প্রচেষ্টায় বিশেষ করে চট্টগ্রামের তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার ও ক্রীড়া অনুরাগী জনাব নিয়াজ মোহাম্মদ খানের উদ্যেগে ২৫ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই ষ্টেডিয়াম তৈরী হয়, যা সেই সময় দেশের প্রথম ষ্টেডিয়াম হিসাবে পরিচয় লাভ করে।

প্রাচীনকালে খেলাধুলায় রাজা মহারাজাদের পৃষ্ঠপোষকতার কথা আমরা যেমন জানি, তেমনি নিয়াজ স্টেডিয়াম নির্মাণের পিছনে একটি নাম জড়িয়ে আছে তিনি হলেন জনাব সফি ইস্পাহানী। তাঁর বদান্যতায় এবং চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতিদের আন্তরিক সহযোগিতায় এই ষ্টেডিয়াম গড়ে উঠেছিল। এরপর নিয়াজ ষ্টেডিয়ামে বহু আন্তর্জাতিক ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ইতিহাসের পাতায় তার স্থান করে নিয়েছে।

১৯৬৭ সালে এম, সি, সি, অনুর্ধ-২৫ দল একটি দু’দিনের জোনাল ম্যাচ খেলার জন্য চট্টগ্রামে এসেছিল।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশেও ক্রিকেট চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম তার বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেছে। কমনওয়েথ ক্রিকেট দলের সফর ছাড়াও ১৯৭৯সালে এম সি সি বলাম বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় বেসরকারী টেষ্ট অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ষ্টেডিয়াম নির্মাণের পর প্রধানত ফুটবলকে ঘিরে এই ষ্টেডিয়ামের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে মাঠের সবুজ গালিচা ও অত্যাধুনিক জল ছিটানো ব্যবস্থা এবং গ্যালারী ও অন্যান্য সুবিধা সমুহের পুনঃবিন্যাস এই ষ্টেডিয়ামটিকে বিশ্বমানে রুপান্তরিত করেছে। বিশিষ্ট ক্রীড়ামোদী ও শিল্পপতি জনাব নাদের খানের এই বদান্যতা চট্টগ্রামবাসী স্মরণে রাখবে। বিশ্বকাপ- ২০১১তে বাংলাদেশ বেতারের ধারাভাষ্যকার হিসাবে ভারতের ১১টি টেস্ট-ভেন্যু দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। বাঙ্গালোর, দিল্লী, মুম্বাই, চেন্নাইকে বাদ দিলে আমরাও যে কোন মাঠের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারি।  চট্টগ্রাম এম, এ, আজিজ ষ্টেডিয়াম আজও তার গৌরব অক্ষুন্ন রেখেছে। ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়াও অন্যান্য খেলাধূলার জন্য এখন শহরের কেন্দ্রস্থলে এই স্টেডিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। এক সময় এই স্টেডিয়াম থেকে এ্যামলোকস্ আমরা পেয়েছিলাম শামীম হোসেন এর মত দেশের তখনকার দ্রুততম মানব। এছাড়াও শর্মিলা রায় ও অরুণ চাকমা প্রমুখ তাদের প্রচুর সুনাম দেশের প্রথম সারিতে নিয়ে এসেছিলেন এই স্টেডিয়াম থেকে। তাই শুধুমাত্র ফুটবলের জন্য এই স্টেডিয়ামের নিয়ন্ত্রণ অন্য একটি সংস্থার হাতে তুলে দেয়ায় চট্টগ্রামের ক্রীড়ামোদীরা হতাশ হয়েছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে একটা হতাশা জন্ম নিয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেট আমাদের পরিচিতি বয়ে এনেছে। আর সম্প্রতি ফুটবল ফেডারেশন আমাদের ফুটবল অঙ্গনে যে সংস্কার এর উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। তবে শহরের মাঝখানে এই স্টেডিয়াম যদি শুধুমাত্র ফুটবলের জন্য নির্দিষ্ট করা হয় তাহলে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। এক সময় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে মাঠে টিন দিয়ে ঘিরে ফুটবল লীগ অনুষ্ঠিত হতো। রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড হকি এবং এ্যাথলেটিকসের জন্য ব্যবহৃত হত। অন্যদিকে চকবাজার প্যারেড গ্রাউন্ড এবং দামপাড়া পুলিশ লাইনের মাঠ ক্রিকেটের জন্য ব্যবহৃত হত। এরপর পোর্ট ট্রাস্ট স্টেডিয়াম রয়েছে। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এর অর্থানুকুল্যে আরও একটি স্টেডিয়াম নির্মিত হলেও সীমিত সুযোগ সুবিধার কারণে এখনও পরিচিতি পায়নি। তাই এম.এ. আজিজ স্টেডিয়াম যদি শুধুমাত্র ফুটবলের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় তাহলে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব মাঠ বলতে আর কিছুই থাকবে না। তাই ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও ক্রীড়ামোদীরা তাঁদের হতাশা ব্যক্ত করেছেন।তাঁদের একটাই অনুরোধ—চট্টগ্রামের খেলাধূলার সর্বাত্মক উন্নয়ন স্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হউক।

 

নিখিল রঞ্জন দাশ, প্রকৌশলী ও ক্রীড়াবিদ

আবুল ফজল : বাঙালি মুসলমান সমাজের বিবেকের কণ্ঠস্বর

ইসরাইল খান বাংলার নবজাগরণের সার্থক উত্তর-সাধক মনস্বী আবুল ফজল ছিলেন বাঙালি মুসলমান সমাজের বিকাশের এবং বিবেকের এক অন্যতম প্রধান কারিগর। বিশ শতকে মুসলমান সমাজকে যতোগুলো

মেরিল্যান্ড ডিসি বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিন : যতদিন বেঁচে থাকি-  প্রগতিশীলের পক্ষে, ধর্মান্ধ মৌলবাদের বিপক্ষে আমার লেখা ও লড়াই চলবে

সাইয়িদ মাহমুদ তসলিম : নির্বাসিত লেখিকা ও  কবি তসলিমা নাসরিন বলেছেন, যতদিন বেঁচে থাকি , আমার লড়াই ও প্রতিবাদ থাকবে ধর্মান্ধ মৌলবাদের বিরুদ্ধে। অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল

‘কবিতার কথা’ চট্টগ্রাম আড্ডায় বক্তারা : ‘শুদ্ধতাই হোক কবিতার বুনিয়াদি রূপ’

রুহু রুহেল : ২৮ জুন ২০২৬ রবিবার সন্ধ্যায় অনাড়ম্বররূপে মুগ্ধতার কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হলো ‘কবিতার কথা চট্টগ্রাম আড্ডা’র ব্যানারে, মহিলা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে।

বাংলা আমার প্রণোদনা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন সংস্কৃতিকর্মী

চিংলামং চৌধুরী “শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চায় বিকশিত হউক নতুন প্রজন্ম” প্রতিপাদ্যে দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-এর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা আমার উৎসব-২০২৬।

শুদ্ধ সংগীতের সুরে মুখর সীতাকুণ্ড সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক সঙ্গীত সম্মিলন অনুষ্ঠিত

দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য : সীতাকুণ্ডে শুদ্ধ সংগীতচর্চার এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সম্মিলন। গত ২ জুন ২০২৬