এখন সময়:রাত ২:১৪- আজ: শুক্রবার-২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:রাত ২:১৪- আজ: শুক্রবার
২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

নাসরীন জাহানের নীনা: এক দুঃসাহসী অভিযাত্রী

ড. নূর সালমা জুলি

 

সেই ছবির নারী আমার প্রতিদ্বন্দ্বী, দেখে দেখে বুকে বিষ জমেছে, তা-ও তাকিয়ে থেকেছি। কিছুতেই সেই নারী আর আজকের বৃদ্ধাকে এক করতে পারি নি। রাত বেড়েছে। এবং আমার ওপর আরও গভীর ছায়া ফেলেছে সেই পুরুষ, তাঁর যৌবনকাল, তাঁর প্রৌঢ়ত্ব, দিনের পর দিন আমাকে তার স্থির করে তোলা। আসলে কি স্থির হয়েছি? স্থিরতার অন্তর্নিহিত জলে অবগাহন মানে কি আরও গভীর প্রবল স্রোতে তোলপাড় হওয়া নয়?

এই আত্মোপলব্ধি নীনার। নাসরীন জাহানের (১৯৬৪) অসামান্য সৃষ্টি উড়ুক্কু (১৯৯৩) উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নীনার। আড়াইশ পৃষ্ঠার এক অনবদ্য উপন্যাস উডুক্কু। উত্তম পুরুষে বর্ণিত অভিনব জীবন কথা উড়তে সক্ষম একজন মানুষ নীনার। নীনাকে নারী রেখেই ব্যক্তি করে তোলার এক নান্দনিক প্রয়াস এই উপন্যাসের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। কতটা সচেতন ছিলেন ঔপন্যাসিক এ ব্যাপারে? এমন প্রশ্ন মাথায় এলেও ব্যঞ্জনাময় আর বহুমাত্রিক উপস্থাপনার গুণে স্বাধীনচেতা মনোভাবের একজন নারী আমাদের চোখে হয়ে উঠেছে দুঃসাহসী অভিযাত্রী। তার এই যাত্রা জীবনের অভিমুখে, তার এই যাত্রা জীবনের জন্য। তবে এই যাত্রায় এমনকিছু আছে যা স্বতন্ত্র, একক এবং যা অনায়াসে পাঠকের মগজে শোরগোল তুলতে সক্ষম।

 

শুরুর উদ্ধৃতিটির দিকে দৃষ্টি ফেরানো যাক। সে যে নারীকে প্রতিদ্বন্দ¦ী ভাবছে সেই নারী তার মা। মায়ের প্রেমিক ইরফান চাচা তার মনে গভীর ছায়া ফেলেছে। নীনার অকপট হওয়াটা খুব সহজ নয়। বেশ দৃঢ়তা আর সহসিকতার মিশেলেই এমন সম্ভব।

 

এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা নীনা জীবনের প্রতি পরতে পরতে লড়ে গেছে। তার লড়াইয়ের কোনো শেষ নেই। এক অনিঃশেষ অনিকেত দশা অক্টোপাশের মতো তাকে জড়িয়ে আছে। নিজের ছোটোবেলাটা ছিল দারিদ্র্যে ভরা এক কঠিন বাস্তবতার। কোনোরকমে লেখাপড়া করে সে। প্রাইভেট ফার্মের চাকুরে রেজাউলকে নিজের পছন্দে বিয়ে করলেও শৈশবের দারিদ্র্য পিছু ছাড়ে না। ফলশ্রুতিতে কথা কাটাকাটি ভদ্রতার সীমা ছাড়াতো প্রায়শই আর জৈবিকতার মিছিলে এক অদ্ভুত টানাপোড়েনের দাম্পত্যজীবন। আড়াই বছরের সংসারে সন্তানের মা-ও হয় নীনা। কিন্তু আর্থিক টানাপোড়েনে সন্তানটি একপেট ক্ষুধা নিয়ে পৃথিবী ছাড়ে। এর আগে অবশ্য নীনা আবিষ্কার করে তার স্বামী একজন গে। এই আবিষ্কার, অর্থনৈতিক সংকট, স্বামীর অসংস্কৃত ও অমার্জিত আচরণ, একটি মেয়েশিশুর সঙ্গে করা ইতরামো নীনার দিক থেকে বিচ্ছেদ নিশ্চিত করে।

নীনা একা থাকতে শুরু করে কোনোরকমে একটা চাকরি জোগাড় করে। ছোটোভাই আরেফিন (বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া) এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করে। সাবলেট জীবনেও সংকট তার পিছু ছাড়ে না। বন্ধুদের সাহচর্য পায় সে। সেখানে বই পড়া, সাম্প্রতিক রাজনীতি, অর্থনীতিসহ বহুধাবিভক্ত বিষয় নিয়ে চলে আড্ডা। সত্যজিৎ, সালাহ্দিন, রন্জু, শাহতাব—এদের নিয়ে এক ভিন্ন জগৎ আছে নীনার। কিন্তু সেটাও সংক্ষুব্ধ। ইরাকযুদ্ধ-সাদ্দাম হোসেন-মার্কিনি আগ্রাসন—এমন অশান্ত বিশ্বরাজনীতির সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা, ছোটোভাই আরেফিনের আলোর প্রত্যাশায় ক্রমশ অন্ধকারে ডুবে যাওয়া, বিছানাগত বাবা, ছোটো বোন রানুর এক অস্বাভাবিক জীবন (গ্রামের মজুমদার নামক এক অদ্ভুত, রহস্যময়, বয়স্ক পুরুষের সান্নিধ্যে চলে যাওয়া)—সবকিছুই নীনাকে তার ভাষায় ‘পোড়-খাওয়া যোদ্ধা নারী’তে রূপান্তর করে। এমনসব বিশৃঙ্খলতার মধ্যে নীনা তার আঁকিয়ে সত্তাটাকে বাঁচিয়ে রাখে। যার সঙ্গে সংযোগ ঘটে প্রৌঢ় ইরফান সাহেবের। সে তাকে ছবি আঁকবার সামগ্রী দিতে চায়। বাইরের যোদ্ধা নীনার ভেতরে বাস করে এক অতি সংবেদনশীল শিল্পী। তাই তো তার নিজেকে নিয়ে এমন বিশ্লেষণ:

আমি পরিণত হতে থাকি নিরুত্তাপ শীতল মানুষে। সাতাশ বছর বয়সেই আমি যেন ক্ষয়িষ্ণু এক বৃদ্ধা। মফস্বল থেকে বয়ে নিয়ে আসা একমাত্র শৌখিনতা—ছবি আঁকার নেশা খসিয়ে ফেলি অস্তিত্ব থেকে এমনভাবে, যেন রঙ নয়, ক্যানভাস নয়, প্রাণ থেকে খসিয়ে ফেলছি একমাত্র সবুজ, ঘাস মুছে নিংড়ে পিষে নিভিয়ে দিয়েছি শেষ আলোর রশ্মিটুকুও।

 

কিন্তু ইরফান সাহেবের ইজেল নেওয়ার ব্যাপারে ঘোর আপত্তি নীনার। তার প্রখর ব্যক্তিত্ববোধ কিংবা আত্মসম্মান দেখে ইরফান সাহেব বলেন পয়সা মানুষকে ব্যক্তিত্ববান করতে পারে না তবে দারিদ্র্য মানুষকে ব্যক্তিত্বহীন করতে পারে। ভ্যানগগের উদাহরণ দিয়ে তিনি নীনাকে বোঝান আর্টের জন্য তথা শিল্পের জন্য সাহায্য নেওয়াটা দোষের নয়। নীনা রাজি হয়। নীনা নয় নীনার শিল্পীসত্তা জিতে যায় এখানে। সে ইরফান সাহেবের ইজেলটা নিয়ে আসবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে চাল, ডাল আর সম্ভ্রম রক্ষার মতো নগ্ন বাস্তবতার আঁধারে নিক্ষিপ্ত জীবনে এটা কী করে সম্ভব? নীনার অসামান্যতা এখানেই। লিখিয়ে নাসরীন জাহান শিল্পকে জীবন থেকে আলাদা করেননি বরং দেখিয়েছেন এ-ও জীবনের এক পাঠ, এক পর্যায়, এক ধরন।

ব্যক্তি নীনার আরেকটি গহিন ক্ষত তার মৃত সন্তানের স্মৃতি। যা প্রায় তার আকাশে বিষাদের মেঘ এনে দেয়। নারীর জীবনে তার মাতৃসত্তা যে বিশেষ অনুভবের জন্ম দেয় তা তুলনারহিত। এছাড়া নীনার জীবনে আরেক ক্ষত রেজাউল। ডিভোর্স হলেও একসময় এসে হাজির হয় নীনার সামনে। আবার একসঙ্গে থাকবার প্রস্তাব দিলে নীনার সহজ সরল উত্তর:

 

. . . খুব ভালো আছি এমন অবিশ্বাস্য উচ্চারণ করবো না। কিন্তু চমৎকার স্বাধীন আছি। পাশাপাশি সংসার করার সময় আমি যা ছিলাম তার চেয়ে সুস্থ আছি, অন্তত মনের দিক থেকে। স্বাধীনতার একটা অদ্ভুত আনন্দ আছে।

কিন্তু এই আনন্দ নীনা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে না। এটা কি সমাজ বাস্তবতা? না কেবল নারী বলেই পারে না? দুর্বলতা তো এক সহজ, স্বাভাবিক মানবিক অনুভব। রেজাউল নীনার বিয়ের পর প্রথম রাতে বিছানায় রক্তপাত দেখে আদিম উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিল। যেখানে একটা বীভৎস জান্তব অনুভবে আক্রান্ত মানুষের প্রতিচ্ছবি নীনাকে শিহরিত করেছিল। তার ভাষ্যমতে সে সেই প্রথম রাত থেকে এক অপরিসীম ঘৃণা নিয়ে দাম্পত্যজীবন শুরু করে। বিচ্ছেদের পর অনেকটা সময় গড়িয়ে যাওয়ার পরও রেজাউল ফিরে আসতে চাইলে সে না করে। অথচ সে না প্রতিহত করে ফেলে রেজাউল অনায়াসে। নীনার একলা ঘরে পরপর কয়দিন সে আসে। তারপর শোনা যাক নীনার মুখ থেকে:

আমার সরলতার সুযোগে আমাকে চেপে ধরে বিছানায়। প্রথমে ভীষণ ক্ষুব্ধ এবং অপমান বোধ করলেও এক সময় নিজেকে তলিয়ে না দিয়ে পারি না। যে অশিল্পিত মানুষটাকে বিয়ে করেছিলাম তার মধ্যে এতোখানি শিল্পের উদ্ভব ঘটলো কি করে? কী কোমল, নরোম তার আচরণ। এছাড়া আমিও তো দীর্ঘ দিবস-শর্বরী বুভুক্ষু রমণী। তার স্পর্ষের প্রতিটি বিন্দুর মধ্যে নিজেকে ছেড়ে দিই সমস্ত বিবেকবোধ এবং বিবেচনার বাইরে… ।

নীনার এই আত্মসমর্পণ হয়তো জীবনের দাবি। কিন্তু পরক্ষণেই সে আবিষ্কার করে রেজাউলের বানিয়ে তোলা শিল্পিত ব্যক্তিত্ব। যেটা ক্ষণস্থায়ী। সে প্রেমিক নয় একজন সনাতন স্বামীই। এবং নীনার ‘নিজের ওপর ঘেন্নায়, আক্রোশে বুক ঠেলে কান্না আসতে থাকে।’ জীবনের দাবিকে অগ্রাহ্য করতে না পারা নীনার ওপর প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয়। তার গর্ভে একটি মাংসপিণ্ড বাড়তে থাকে। এটাকে কি প্রকৃতির প্রতিশোধ বলা যাবে? নাকি ভীষণই স্বাভাবিকতা?

নীনা ভ্রূণটাকে উপড়ে ফেলার কথা ভাবলেও শেষ অবধি পেরে ওঠে না। তবে রেজাউলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে। ব্যাপারটা তাকে জানানোর ইচ্ছা হলেও জানায় না। তার বাসার আরেক অংশের অধিবাসী শানু। তারা স্বামী-স্ত্রী সব জেনে তুলকালাম শুরু করে। নীনা আলাদা বাসা খুঁজতে শুরু করে। সঙ্গে ওমর। ক্ষুন্নিবৃত্তির চেষ্টায় পাগলপ্রায় ওমর নামের সাধারণ মানুষটি খুব সঙ্গোপনে উপন্যাসের শুরু থেকে নীনার সঙ্গী হয়ে ওঠে। কোনো বাঁধন নেই, সে অর্থে পারস্পরিক কোনো বোঝাপড়া নেই তারপরও নীনা ওমরকেই তার বাচ্চার পিতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বসে। খুব সাদামাটা ওমর কিন্তু তার বলা এই কথাটা ‘আপনি যদি সমাজকেই ভয় পেয়ে থাকেন, তবে আমি রাজি এর পিতৃত্বের দায়িত্ব নেয়ার জন্য।’ আর তাকে সাধারণ বা সাদামাটা চিন্তার মানুষ হিসেবে থাকতে দেয় না। চিন্তার কুণ্ডলী পাকাতে থাকে। নীনার বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু, স্বামী, অফিস কলিগ—কেউ তার মতো করে তাকে নেয় না। ববং নীনা তাদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং মেনে নেওয়ার বোঝাপড়ায় চলে। এত এত মানুষ তার চারপাশে, এত এত সম্পর্ক, সম্পর্কের এত এত নাম কিন্তু তারপরও কোথাও যেন সে ভীষণ একলা। তাই তার অসহায় উচ্চারণ, ‘ওমর, একজন মানুষ নেই যার পাশে দাঁড়িয়ে আমি বাঁচতে পারি।’ এই কাতরতা ব্যক্তিমানুষের। আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজের উন্মূল ব্যক্তির। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি পৃথিবীকে ছোটো করে এনেছে কিন্তু সম্পর্ককে করেছে দূরের। মানুষ তার চিবুকের কাছে একা বিষয়টা এমন।

 

নীনা যেকোনো পরিস্থিতিতেই থেমে যেতে জানে না। তার আসামান্যতা এখানেই। তাই তো তার সরল অনুভব ‘সামনে পুরো জীবনটাইতো পড়ে আছে।’ আসলেই তো। তিরিশও পেরোইনি নীনা। সামনে জীবন তো পড়েই আছে। মানুষ হারবে না। সিসিফাসের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে সে বারবার বেঁচে থাকবার, টিকে থাকবার, প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ভালো থাকবার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাই শেষ পর্যন্ত ওমরের ঠিক করা ভাড়া বাসাটা দেখার কথা জানিয়ে গল্প শেষ হয়। শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে শেষ প্যারাটায় দেখা যায় নীনা আবার তার চিরকালীন দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে। শেষ অবধি দরজা খুলে বাইরে বেরোয়। শীতের রাতে কুয়াশার আবরণে দূর থেকে আসা এক চিলতে আলোর বিস্তার আর ঠান্ডা হাওয়া নীনাকে শান্ত করে।

 

দীর্ঘ এই উপন্যাসের বেশির ভাগ ঘটনায় ঘটেছে নীনার মনোলোকে। অতিকথন আর নীনার মনোলগ পাঠককে ক্লান্ত করার বদলে গভীর চিন্তায় নিপাতিত করে। এখানেই শিল্পীর মুনশিয়ানা। নীনার দৃষ্টি দিয়ে সমকালীন জীবন-বাস্তবতাকে দেখান নাসরীন জাহান। নীনা নিজেই বলে তার রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক নেই কেমন যেন এক আত্মকেন্দ্রিক প্রাণী সে, নিজের বাঁচার চেষ্টায় তার দিনরাত এক হয়ে চলেছে ইত্যাদি। ওমরও অনেকটা এমন। হয়তো একারণেই তাদের দুজনার পথ শেষ অবধি এক হতে চলেছে।

 

কিন্তু কথা শেষ নয় এখানে। নীনা তার পারিপার্শ্বিকতা বিচ্ছিন্ন একজন মানুষ এটা আপাতভাবে মনে হলেও সে সমগ্রের মধ্যে ছড়িয়ে আছে। তার সম্পৃক্ততা গহিনে। তার বোধ আর প্রকাশভঙ্গির গভীরতার কারণে সেগুলো ভাষা পায় না হয়তোবা। তার পর্যবেক্ষণ তার চারপাশকে নিয়ে তার অনুসন্ধানী ও জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ধরা পড়ে শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র, মার্জিত-অমার্জিত, শিল্পিত-অশিল্পিত অর্থাৎ সমাজের সকল বিন্যাসের ব্যক্তিমানুষ। তার সমাজবীক্ষণ একজন ব্যক্তিমানুষের। নারীসুলভ মায়া তার চারপাশে ফাগুনের মিষ্টি হাওয়ার মতো একটা পাতলা প্রলেপ হয়ে ছড়িয়ে থাকে বা বেশির ভাগেরই চোখে পড়ে না। চোখে পড়ে তার স্বাধীনচেতা এবং যোদ্ধা মনোভাব। তারপরও উপন্যাসের শুরুর দিকে নীনার একবার নিজের সংসারের যাবতীয় বিশৃঙ্খলা অসহ্য হয়ে উঠলে তার মনে হয়েছিল:

 

প্রতিদিনই মনে হতো, এই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ি। পালিয়ে যাই দূরে কোথাও। এই দূরের স্বপ্ন হয়তো সবাই দেখে কিন্তু তার নাগাল আর পায় না।

 

ঠিক তাই। পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ কারোরই থাকে না। বৃত্তাবদ্ধ জীবনে এক অদ্ভুত যাপন আমাদের করতেই হয়। তাইতো শেষ অবধি নীনা আবার ঘরের খোঁজে নেমেছে। সমস্যার সঙ্গে লড়ে যাওয়া এক লড়াকু যোদ্ধা নীনা।

 

নাসরীন জাহানের জীবনঘনিষ্ঠ অনুভবের এই শৈল্পিক বয়ান আমাদের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়। তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি নীনার বোধ এবং জীবনের পথে প্রায় একলা পরিভ্রমণ আমাদেরও সাহসী কওে, অনুপ্রাণিত করে। উড়ুক্কু বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ সংযোজন। আর নীনা জীবননামক অশান্ত, অনিশ্চিত, সংকটে আকীর্ণ সমুদ্রে এক দুঃসহসী অভিযাত্রী।

 

ড. নূর সালমা জুলি, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ

নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী।

বিশ্ব নারী দিবসের পুনর্পাঠ : বহুমাত্রিক নারীর নতুন ভাষ্য

শাহেদ কায়েস   নারীর ইতিহাস কোনো একরৈখিক অগ্রযাত্রা নয়—তা বহু পথে বয়ে চলা নদীর মতো, যেখানে সংগ্রাম, প্রেম, প্রতিরোধ, রাজনীতি, শ্রম, মাতৃত্ব, শিল্প, দর্শন ও

আন্দরকিল্লার ইফতার অনুষ্ঠানে সুধীজনদের অভিমত বাঙালি জাতিসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার চিহ্নটিই অনির্বাণ অস্তিত্বের প্রতীক

আন্দরকিল্লা ডেক্স : শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সমাজভাবনামূলক কাগজ ‘আন্দরকিল্লা’র ইফতার আয়োজনে সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আন্দরকিল্লা কোনো বলয়বদ্ধ সীমানায়

প্রথা ভেঙে বেরিয়ে এসো নারী  

গৌতম কুমার রায় বিংশ শতাব্দী বিদায় হওয়ার পরে এসেছে একবিংশ শতাব্দী। বিজ্ঞান এগিয়েছে। সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে পুরুষ। কিন্তু নারী ! শুধু পিছিয়েছে নারী। কেন

আদিবাসী নারী

কুমার প্রীতীশ বল   ‘হৈ হৈ হৈ জুমত  যেবং. জুমে যেইনে গচ্ছা সুদা তুলিবং. গচ্ছা সুদা তুলি নেই টেঙ্গা কামেবং।’ চাকমা এই গানটির বাংলা অনুবাদ

মহাশ্বেতা দেবী: দর্শন, সাহিত্য ও সমাজচেতনার প্রতিফলন

রওশন রুবী   মহাশ্বেতা দেবী উপমহাদেশের একজন শক্তিমান ও প্রখ্যাত লেখক। তাঁর শতবর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাহিত্য শব্দের সীমা অতিক্রম করে মানবতার গভীর নৈতিক শক্তিতে