ভাষান্তর- আলমগীর মোহাম্মদ
নিকিতা গিলের জন্ম বেলফাস্টে| তাঁর বাবা মা ভারতীয় নাগরিক| তাঁরা বসবাস করেন আয়ারল্যান্ডে| তাঁর বাবা আইরিশ নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন| গিলের যখন বয়স ছয় তখন তাঁর পরিবার দিল্লিতে ফিরে আসেন| দিল্লিতে গিল বড় হন এবং পড়ালেখা করেন| নিউ দিল্লি ইউনিভার্সিটিতে তিনি ডিজাইনে স্নাতক ও ইউনিভার্সিটি ব দ্য ক্রিয়েটিভ আর্টস থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন| নিকিতার কবিতা নারী মুক্তির কথা বলে| উত্তরাধুনিক বিশ্বে তাঁকে নারীর কণ্ঠ¯^র বলা হয় | নারী মুক্তির অন্যতম সারথি এই কবির একগুচ্ছ কবিতা অনুবাদ করেছেন বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কুমিল্লা’র ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাহিত্যকর্ম অনুবাদ ও রিভিউ কমিটির সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ| লেখকরা ভয়ংকর মানুষ
কখনো কোনো লেখককে নিশ্চিতভাবে
ভালো মনে করবে না|
তারা স্নাইপার
শব্দ-সস্ত্রে সজ্জিত|
তাঁরা জানেন
কিভাবে লক্ষ্য করতে হয়
বাক্যের মাধ্যমে,
কিভাবে প্রোজ্জ্বলিত করতে হয়
অনুচ্ছেদের মাধ্যমে,
এবং
কিভাবে তাঁদের দক্ষতাকে অক্ষয় করতে হয়
কবিতায়|
তোমার মেয়েদের বলে দাও
তোমার মেয়েদের বলে দাও তুমি কিভাবে শরীরকে ভালোবাসো|
তাদের বলে দাও কিভাবে নিজের শরীরকে অবশ্যই ভালোবাসা উচিত|
তাদের বলে দাও নিজেদের সবটুকু নিয়ে যেনো তারা গর্ববোধ করে|
বক্ষ-বন্ধনীর স্ট্রাইপ থেকে উরুর নরোম মাংস,
সেটা পরিমাণে যা-ই হোক, বেশি কিংবা কম,
মেচতায় তাদের মুখ ছেয়ে যাক বা না যাক,
তাদের শরীরের রেখাগুলো স্নেহপূর্ণ কিংবা স্নেহহীন ,
তাদের চুল ঘন, কোকড়া, ল¤^া কিংবা ছোটো|
তাদেরকে বলে দাও কিভাবে তারা উত্তরাধিকার সূত্রে নারীত্ব লাভ করেছে
তাদের পূর্বতন নারী জাতি, তাদের আত্মা উৎসারিত হাসি,
তাদের চোখ দেশ ধারণ করে
যা জীবনকে ইতিহাসে রূপ দেয়,
তাদের কটির দুলুনি
কখনো নিজেদের নিয়তিকে নির্ধারিত করে না|
তাদেরকে বলে দাও শরীর নিয়ে কোনো সমালোচনা হলে এড়িয়ে যেতে |
তাদেরকে বলে দাও প্রত্যেক নারীর দেহই সুন্দর
কারণ প্রত্যেক নারীর আত্মা-ই অনন্য|
সময় শেষ
কে বলেছে রাজকন্যারা নেকড়ে হবে না, বা নারীকে অবশ্যই ছায়াহীন আলো হতে হবে? হতে পারে একজন ডাইনী একজন নারী যে জানে কিভাবে তার শক্তিশালী ¯^রকে কাজে লাগাতে জানে| কে বলেছে টিকে থাকার জন্য তোমাকে অবশ্যই চুপ থাকতে হবে? তোমার অস্তিত্বের প্রয়োজনে চুপ থাকার কোনো মানে হয় না| মুখ খোলো| আওয়াজ তোলো|
আমি যখন ছোট মেয়ে ছিলাম
আমি যখন ছোট মেয়ে ছিলাম আমার শিক্ষকেরা বাড়িতে অভিযোগ পাঠাতেন যে আমার ¯^র ছেলেদের মতো উঁচু , একটা মেয়ের উচিত নয় স্পষ্টবাদী হওয়া| এতটা কর্কশ হওয়া মানানসই না| আমাকে ¯^র নামিয়ে কথা বলতে বাধ্য করার বদলে তুমি আমাদের বাড়ির পাশে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গিয়ে বলেছিলে আমাকে| সেখানে তুমি আমাকে বলেছিলে, মন ভ’রে ¯^র তুলে ডাক পাড়ো, তুমি একজন মেয়ে, ইঁদুর নও| এবং কারো মনমতো হওয়ার জন্য আমার নিজেকে বদলানো উচিত নয়| যে যাই বলুক আমার ¯^র আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ| তখন তুমি আমাদের স্কুলে গিয়েছিলে| আমার শিক্ষকদের সবাইকে ডেকে একটা মিটিং করেছিলে| মিটিংয়ে তুমি আমার শিক্ষকদেরকে বলেছিলে, তুমি একজন বিদ্রোহী মেয়েকে বড় করছ যোদ্ধা নারী হিসেবে| এবং সে যদি ছেলেদের মতো ক’রে কথা বলার অনুমতি না পায়, তাকে যদি ¯^র নামিয়ে দীর্ঘশ্বাসে রূপান্তরিত করতে হয়, তাহলে কিভাবে সে যুদ্ধক্ষেত্রে জোর গলায় ডাক হাঁকবে যখন তাকে তার যোদ্ধা ভগিনীরা সাহায্য চেয়ে ডাকবে দুনিয়ার মেয়েদের বাঁচাতে| টিকে থাকা
তুমি যাদের ভালোবাসো
তাদের প্রত্যেকেই
ভালো ও মন্দ উভয় রকম কাজ করতে সক্ষম
তুমি যা কখনো ভাবোনি
তাদের পক্ষে করা সম্ভব হবে বলে
তারা যখন হঠাত আক্রমণ করছে,
ভয়ার্ত হচ্ছে,
ভেঙে পড়ছে,
টিকে থাকার জন্য|
এটা মনে রাখবে যখন তুমি তাদের দেখবে
তাদের সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তে,
এবং তাদেরকে ক্ষমা করে দেবে
তাদের টিকে থাকাকেও|
বলো তুমি আমাকে ভালোবাসো
“আমি অন্যান্য মেয়েদের মতো না” এই কথাটা বলার মতো
কী সাহস তোমার
যখন যেসব মেয়েদের তুমি আমার চেয়ে পছন্দ করো
তারা আমার মা, বোন ও বান্ধবী,
যে সান্ত্বনা ও মহানুভবতা আমি খুঁজেছি
যখন আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে ঘটনাগুলো ঘটেছিল|
কী সাহস তোমার এই ধারণা করো যে
আমি সেটাকে সৌজন্য হিসেবে ধরে নেব,
তোমার প্রতি গদ্গদ হব এটাকে প্রশংসা হিসেবে ধরে নিয়ে
যখন তুমি আমাকে বিচ্ছিন্ন করছ
আমার নারী অস্তিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
কেন্দ্র থেকে?
তুমি আমাকে ভালোবাসো এই কথাটা বলার
এক হাজার পথ আছে,
তবে আমাকে বড় করে
আমার বোনকে হেয় করা এর একটি নয়|
আমাকে বলো, তুমি আমাকে ভালোবাসো , কিন্তু
আমি অন্যদের চেয়ে আলাদা বলে নয়|
বলো, আমাকে ভালোবাসো, কারণ তুমি আমাকে ভালোবাসো, ভালোবাসো বলে|
নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া
নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই,
কিন্তু, যদি তুমি নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাও,
নিশ্চিত হও এটা অবশ্যই অসাধারণ কিছুর জন্য,
নিশ্চিত হও এটা তোমার ভালোর জন্যে|
যারা তোমার যোগ্য নয় তাদের জন্য
নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মতো
খারাপ কাজ পৃথিবীতে আর নেই|
দু:খিত
আমি দু:খিত যে কেউ তোমাকে অসম্ভব ভালোবেসেছিল
এবং তারা তোমাকে ˆতরি করেছিল এমনভাবে যে
তুমি নিজের যোগ্যতার চেয়েও বেশি সুযোগ নাও|
আমি দু:খিত তারা তোমাকে ছেড়ে গিয়েছিল
যখন তাদেরকে তোমার খুব দরকার ছিলো এবং
এটা তোমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে
প্রেম একটি জঘন্য ব্যাপার যা বেদনা দেয়|
আসল দানব
আমাদের মায়েরা বলেন
দুনিয়ায় কোনো দানব নেই
আমাদের বিছানার নিচে,
অথবা আমাদের আলমারির নিচে লুকানো|
কিন্তু তারা আমাদের সতর্ক করে না এই বলে যে,
দানবরা মাঝেমধ্যে হাজির হয়
মানুষের মতো পোশাকী লেবাসে
যারা তোমাকে বেশি ভালোবাসে দাবি করে
সূর্য যেমন চাঁদকে ভালোবাসে তার চেয়েও|
কাছাকাছি অনুভূতি
মাঝেমাঝে
তুমি কোনো মানুষকে মিস করো
যে অনেকটা তোমার ছিলো|
এবং তোমার খারাপ লাগে কারণ
সেই অনুভূতির কোনো
নাম নেই|
তুমি বিষয়টাকে এমনভাবে অনুভব করো
যে এটাকে ক্লান্ত করে
হাড়ে হাড়ে|




