এখন সময়:সন্ধ্যা ৬:৩১- আজ: বুধবার-২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:সন্ধ্যা ৬:৩১- আজ: বুধবার
২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

নুরুল হক এর চট্টগ্রাম সংহিতা

(নগর পর্ব)

 

সবুজে সমুদ্রে তুমি সপ্তবর্ণা রঙের উদ্ভাসে

দীপ্তিমাখা চট্টগ্রাম| দিয়েছিলে ঠাঁই একদিন

প্রেয়সীর মতো, তোমার দিগন্ত বিস্তৃত আকাশে

সূর্যের সোনালি আভা, যেন তুমি গোধুলি রঙিন

জলরঙ ছবি এক চিত্তহরা চন্দ্রমুখী ফুল

আমার অস্তিত্বে মাখি সেইসব প্রীতিময় ঘ্রাণ

আমৃত্যু অদৃশ্যে বুকে পুষি প্রেম অধীর আকুল

তোমার ছোঁয়ায় চির উজ্জীবিত নাগরিক প্রাণ

অবিমৃষ্য বেড়াজাল ছিন্ন করে ফিরে আসি আমি

এক লহমায় দূরদেশে কোনদিন যাই যদি

আমার নিথর দেহ মরারোদে ক্লান্ত, অস্তগামী

সূর্য শোকাহত, বিরহের জলশূন্য কোনো নদী

বয়ে যায় অবিরাম হতাশায় তপ্ত মরুতলে

আমার তপস্যা যেন, তুমি সেই প্রিয় নাম ধাম

বার বার টেনে নাও স্নেহময়ী শাড়ির আঁচলে

তুমি প্রিয়তম! জাগ্রত জাতক তুমি চট্টগ্রাম

 

অস্থির কল্লোলে তুমি উদভ্রান্ত কাঁপো থরথর

বিচ্ছেদে কাতর আমি, কোনোদিন নাহি যাবো ভুলি

দেখি পাহাড়ের জলে দিকহীন বেদের বহর

মনিনি কুমারী কন্যা বাহুলগ্না নদী কর্ণফুলী

সমুদ্রমেখলা দ্রাবিড় নগরে দারুচিনি ¯^াদ

আ¯^াদনে কবি আমি অবিভূত, কর্ম কোলাহলে

ঝরে কত ঘাম তবু কিছু অনাঘ্রাত আহলাদ

নিয়ে অনন্তর বেলাভূমে ভাসি গোলাপের জলে

প্রেয়সী আমার! ˆশলচূড়াময়ী সলিল সুকন্যা

করেছো বেষ্টন চারদিকে বৃক্ষরাজি, সারি সারি

বন উপবন নয়নাভিরাম পাহাড়ি ঝরনা

সুহাসিনী শকুন্তলা তুমি কী নগরী নাকি নারী

অধরা প্রেমিকা আহা চন্দ্রালোকে নিত্য হাহাকার

বুকে নিয়ে, ছুঁতে গিয়ে ফিরে আসি বারবার

অনিন্দ্যসুন্দর রঙ্গিনী নগরী তুমি চট্টগ্রাম

খেই হারা কত সমুদ্রের ঢেউ করে তোলপাড়

শিরে কি¤^া গিরি শিখরে ক্ষরিত আদিবাসি ঘাম,

সানুদেশে পরিযায়ী পুষ্পভাণ্ড, শোভিত পাহাড়

ঘেরা নন্দনকানন, আন্দামান বাতাসের ধূলি

উড়ে নগরের অবিমিশ্র নান্দনিক নারকেলি

পাতার বাহারে, পাশ ঘেষে টলমল কর্ণফুলী

ছুটে চলে কার পানে লবণাক্ত অশ্রুজল ঠেলি|

চির অনাবৃতা নন্দিনী নগরী, আমার কবিতা

ঢেকে রাখে সেইসব তাপদদ্ধ বজ্রপোড়া মুখ

কবি আজ মুখরিত, বন্ধু তুমি এক নবনীতা

কাত হয়ে পড়ে থাকো বুকে, নিয়ে বাসনার সুখ

কি¤^া ঢেকে রাখো আমাকে আপন অবয়বে

যেমন রেখেছো ঢেকে মুগ্ধগ্রোত পাখির পালক

 

 

 

 

 

 

সহসা অদৃশ্য হই নগরের বর্জ্য কলরবে

রৌদ্রের আলস্য ভেঙে তুমি এক নবীন বালক

 

লাস্যময়ী নারী তুমি কলহাস্যে ফেটে পড়ো রাতে

দারোয়ান থামগুলো থোকা থোকা জোনাকের ফল

প্রেক্ষাগৃহ ছেড়ে নিঃশব্দে হেঁটে চলে ফুটপাতে

বহুমুখী আয়োজনে নগরের কতক যুগল

 

প্রাণহীন পাথরের চোখে চেয়ে থাকে নিশাচর

সেও যেন প্রেমভারে কম্পমান বিরল বাদুড়

তোমার পাঁজর যেন ভূমিহীন মানুষের ঘর

শুয়ে থাকে রাজপথে, পেতে দাও শীতল মাদুর

বসন্ত বাতাসে তুমি আন্দোলিত কুসুমের ঝাঁকে

কুয়াশায় ম্লান করে হেমন্তের আবাসিক পাখি

শীতাহত পথকলি মধ্যরাতে ডাকে উষ্ণতাকে

সন্তপ্ত হৃদয় কাঁপে থরথর, বাস্পরুদ্ধ আঁখি

দাও জ্বেলে খড়কুটো স্নেহময়ী জননীর মতো

তোমার অস্পর্শে তারা শোকমগ্ন মলিন বদন

বস্ত্রহীন কিশোরীর নগ্নদেহে মুছে দাও ক্ষতো|

তুমিতো নগরী নও সুখ¯^প্ন প্রেয়সীর মন

উপকূলে চলে সাম্পান, অধরে শেফালীর গান

বাবরি দোলানো চুল উড়ে কার শুধু অবিরাম

রঙিন তরল রসে ভরা মহেশখালীর পান

শত দুর্বিপাকে তুলে রাখো মাথা ¯^র্ণশোভা গ্রাম

 

একদিকে খরস্রোতা নদী, চারদিকে সবুজাভ

পাহাড়, শিয়রে শুনি উন্মাতাল সমুদ্রের ¯^র

এ কেমন লোকায়ত দৃশ্য, যেন স্নাত অরুণাভ

আকাশ, দিগন্তব্যাপী হরিদ্রাভ হৃদয় শিকড়

রাত্রির বিনম্র চোখে খসে পড়ে কাজল নেকাব

চলে দর কষাকাষি ভয়ে হিম নগর নিথর

ঝরিবে শিউলি ভোরে জড়িয়েছ দেহে কিংখাব

পাহাড় সমুদ্র জল, অরণ্যের বিশাখা অন্তর

 

মেথরপট্টির মলগন্ধী রমণীর নাক ফুল

নড়ে উঠে রঙে ঢঙে নানাবিধ পূজোয় পার্বণে

বর্ণভেদ ভুলে তুমি তুলে নাও কোলে, দুই কূল

প্লাবি নামে স্নেহমাখা ঘাম ভিজে স্নিগ্ধ শিহরণে

খুলশীর আবাসিকে সিদ্ধ হয় যুবতীর প্রাণ

পাশবিক ঝড় উঠে প্রতিরাতে কামিনী কাননে

অনীল আঁচলে খুঁজে কেহ কেহ নাগরিক ঘ্রাণ

নিশিমগ্ন ছবি ভেসে উঠে তার স্মৃতির আননে

 

 

 

 

গুণীজন জন্ম দিয়ে গড়ে তোল কত কীর্তিগাথা

তাহাদের সাথে তুমি ইতিহাসে চির অমলিন

যত পারো ভরে দাও কাগজের শ্বেতশুভ্র পাতা

অসহায় কবি আজ কী করে শুধিবে এই ঋণ

তবুও কমিবে কিছু নগরের শোক মর্মযাতা

অবগুণ্ঠ কিছু কীট চঞ্চু ঠুকে বুকে প্রতিদিন

তুমিতো নগর নও, সদ্যজাত রত্নগর্ভামাতা

ঝরে জল চোখে, যেন বটবৃক্ষ শতাব্দী প্রাচীন

এইতো সেদিন, এই দ্রাঘিমায় মহারথীগণ

দেখিল ম্যাজিক এক, হাতে ধরে নোবেলের ছবি

নামিল আকাশ হতে ধীরপদে, প্রোজ্জ্বল আনন

হাসিয়া উঠিল আহা প্রভাতের করোজ্বল রবি

আনন্দ জোয়ারে ভাসে দেশ, ছিলে তুমি উসখুস

আমিও কেঁদেছি তাই দুই চোখ জলে ভেজা আজো

(সেওতো তোমার ছেলে, চট্টলার প্রিয় ইউনুছ)

মুষ্টিচালে আনে গান দোলে তার বেণীর ভাঁজও

 

নবীন সেনের পদচিহ্নে চিরভাস¦র হে নগর

বনজে খনিজে শিল্পে প্রকীর্ণপ্রজ্ঞায় পঞ্চমুখী

শ্রমিকের কারুময় হাত দুটি সহসা মুখর

অঙ্গার বাতাসে নিয়ে প্রজ্বলিত আগুনের ঝুঁকি

 

সমরে সৌহার্দ্যে আর জীবিকার কর্ম কোলাহলে

তুমি পৌরঙ্গনা নারী নীরবে নিভৃতে উঁকিবুকি

মেরে পূর্ণিমাতিথিতে স্নান কর পদ্ম দিঘি জলে

তারপর বিলি কেটে স্মৃতি নিয়ে করো টোকাটুকি

কোথায় ˆবভব নেই একুশের প্রথম প্রভাতে

বারুদের বিষ মেখে আমাদের সেই মাহাবুব

শত্রুর ঘৃণিত চিত্তে ছুড়ে তীর অগ্নিমাখা হাতে

কবোষ্ণ-কবিতা সূর্য বক্ষে এঁকে দিলো কষে খুব

বুলেটের ক্ষত চিহ্ন বুকে নিয়ে রফিক নি¯প্রাণ

চট্টগ্রামে উঠে রব কাঁদতে আসি নি ফাঁসি চাই

সালামের রক্ত গ্রোতে মিশে যায় কাব্যকলা গান

খালি হয় মাতৃবুক, শেষ হয় চড়াই খাড়াই

 

পঞ্চাশের মš^ন্তর মনে নেই, প্রাদেশিক ঝড়ে

লণ্ডভণ্ড চৌহদ্দীর গাছপালা সব বাড়িঘরে

প্রাণের অস্তিত্ব নেই, উত্তাল সমুদ্র হতে এসে

একঝাঁক আগুনের ˆদত্য, তারপর যায় ভেসে

লক্ষাধিক লাশ যেন হ্যামিলনি বাঁশীর বাদক

তার পিছু ছোটে লাশ দলে দলে| গোরের খাদক

যারা ছিল মৃত আজ তারা, দ্বীপে কূলে ঘরে ঘরে

মৃত্যুর মিছিল নামে হতভাগা ক্রন্দসী সত্তরে

বিবস্ত্র বোনের লাশ পড়ে থাকে কাদামাটিজলে

সভ্যতার পঁচা মাংস লেপ্টে যায় হায়েনার দাঁতে

লজ্জাশীলা যুবতীর নগ্নদেহ মাছির দখলে

সুশীলা সমুদ্রকূল ছারখার ঝড়বজ্রপাতে

নগ্নতার ছবি ছাপে দুনিয়ার খবর পাতায়

চট্টল জননী তাই প্রতিদিন স্মৃতিকে হাতায়

 

সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে নিয়ে আসে আগুন কুণ্ডলী

নিমিষেই উড়ে যায় তুলো হয়ে নাগরিক খুলি

অভ্রের উল্লাস নিয়ে মেতে উঠে| উরকির চর

থেকে বাঁশখালী হয়ে উপকূলে শানিত নখর

কেটে কেটে ধেয়ে আসে পর্বতচূড়ায় বনে বনে

রাতের আঁধারে ঝড় মেতে  উঠে অন্ধ আগ্রাসনে

বুঝি সব মণ্ড হয়ে ভেসে যাবে  বঙ্গোপসাগর

পাখসাটে ছোট্ট এক পাখি আহা বিচ্ছেদ কাতর|

সমুদ্র করোটিজুড়ে ধ্বংসলীলা শোকাহত চিহ্ন

সাম্পান সমৃদ্ধ গ্রাম যেনো আজ প্রলয় বিদীর্ণ

এক তন্দ্রাচ্ছন্ন জনপথ| যেন কখনো এখানে

সাঁতরাতে আসে নাই প্রবালেরা জোয়ারের টানে,

বোধের সমগ্র স্নায়ু যেনো বিকলাঙ্গ অন্ধকার

হানিবে আঘাত এই কালঝড় আর কতবার|

এরপর একদিন জলক্ষত চিহ্ন মুছিবার

আগে নেমে এলো গাঁয়ে নরক নিন্দিত হানাদার

দুর্বিনীত হাতগুলো উর্দ্ধমুখী ট্রিগারে ট্রিগারে

ঝরে গেলো তাজা প্রাণ| যেনো সেই মনুষ্য শিকারে

এলো এই দেশে রাজা আর তার সভাসদগন,

অকস্যাৎ ঘটে গেলো রাজপথে দীপ্র জাগরণ

উদ্দীপ্ত তারুণ্যে টগবগ তেজ্যেদ্দীপ্ত একদল

তরুণ, মাটিতে মাথা রেখে বলে, দেবে না দখল|

মনে কী পড়েনা  সেই স্মরণীয় কালুরঘাট

যেখানে ঘোষিত হল সহসা মুক্তির চির দীপ্ত

বজ্রডাক পোতাশ্রয়ে ভেড়া অস্ত্র করেছে লোপাট

তারপর অনিবার মুক্তিযুদ্ধে হয় তারা লিপ্ত|

 

সুখচারাগাছ গুলো লিকলিক করে উঠে বেড়ে

সন্তপ্ত মায়ের মতো প্রত্যাশার জলের প্রবাহে

ভস্মীভূত পাললিক সুখ, যেন নিয়ে যায় কেড়ে

সমুদয় ভালোবাসা, আচমকা আগুনের দাহে

পুড়ে যায় তেল নুন পেঁয়াজের ঝাঁজ চাল ধোয়া

পানি, নিভে যায় ¯ে^দবদ্ধ মশালের স্নিগ্ধ আলো

অনাহারী জনপদে অবিমৃষ্য হায়েনার ছোঁয়া

আমার ¯^াধীন দেশ ˆবরীভূম যেনো অগোছালো

নগরের বুকজুড়ে হিম শীতলতা, দুটি আঁখি

অশ্রুভেজা যেন মৃত্যু, সীমাহীন কৃষ্ণ গহবর

দু’মুঠো আহার দাও, ভিক্ষু নই তবু অন্ন হাঁকি

আব্রুহীন প্রাণী শূন্য হে আমার ক্ষুধার্ত শহর

আজ কেনো চিলেকোঠা ঘরে অভাবের কশাঘাত

হাভাতের এই দেশ, বজ্রাহত শোকের মাতম

তবু প্রতীক্ষায় থাকি, যদি দেখি রঙিন প্রভাত

প্রতাশার ফুলঝুড়ি, রাজপথে হেঁটে যায় ভ্রম

 

আগ্রাবাদ, জাদুঘর সেই জাতিতাত্ত্বিক ঐতিহ্য

ধরে রাখে সময়ের পরতে পরতে শিলা খাঁজে

পুরাকীর্তি ইতিহাস, বাঙালির কত শৌর্যবীর্য

নৃ-গোষ্ঠীর লোকায়ত লোকাচারে লুপ্ত কারুকাজে

মিল খুঁজি অঙ্গশোভা আদিবাসী শরীরের বাঁকে

ইস্পাত ˆবচিত্র্যে গড়া অলঙ্কার আজ জাদুঘরে

অতি সভ্য চন্দ্রবৃক্ষ, ছায়াঘেরা গুহা গাত্রে আঁকে

নিজেদের চালচিত্র, পাতা ঘর স্মৃতির বিবরে

রাগে আর ক্ষোভে যেন কেঁদে যায় কিছু মরা রোদ

নাগরিক জনারণ্যে মাত্রাহীন নগ্ন উপহাস

সভ্যতার অন্তরালে অন্ধকারে অস্থির প্রমোদ

আমাদের ভবিতব্যে লেখা আছে বড় সর্বনাশ

তার পাশে বেতারের চনমনে লোক নৃত্যগীত

চমকে ঠমকে আর চমৎকার কথার কাননে

কত শিল্পী ফুল হয়ে ফুটে যেন নিকট অতীত

জাহিদুল হক, কত নাম তার নাহি থাকে মনে

বাতাস তরঙ্গে আজো ভেসে আসে শেফালীর গান

শ্যামসুন্দর ˆবষ্ণব, অঞ্জু আর শাবানা, কবরী

শিল্পের নন্দন মাঠে চিত্রকল্পে চলন্ত সাম্পান

ˆবঠা নেই কারো হাতে, তবু পার হয় গিরি দরি

 

এসেছে এখানে কতজন নিসর্গের আকর্ষণে

কবিবর শামসুর রাহমান, আসাদ চৌধুরী

সোনালী কাবিন লিখে মাহমুদ ভাই হর্ষ মনে

ছেঁেকচেনে কাব্যরস, কত কবিতার ফুলঝুরি

অগ্রজে অন্ধত্ব ঘুচে, জেগে উঠে ¯^প্নের প্রসূন

অনন্ত ˆনশব্দে দহ এক ফজল শাহাবুদ্দীন

ফুটিয়েছে রক্তরাগে শশ্রুমুখী নির্মলেন্দুগুণ

নূরুল হুদার দরিয়ানগর বর্ণাঢ্য রঙিন

সেওতো সমুদ্রপুত্র, আজীবন সমুদ্রকে ধরে

নগর জীবন তার ঢাকা পড়ে সমুদ্র গহনে

লিখে যায় কাব্যকলা জ্যোতিষ্মান জলের আখরে

আমার চট্টলা তুমি সেই নাম রেখেছো কী মনে?

 

কোলাহল ক্লান্ত গোধুলিতে কেহ কেহ দল বেঁধে

ছুটে সমুদ্রের কাছে, অতপর বসে নত শিরে

উপকূলে প্রীতিজন, ভালোবাসা প্রীতিভোজ রেঁধে

প্রশান্ত বদনে তারা পুনর্বার মিশে মানুষের ভিড়ে

যত টুকু চোখ যায় অবারিত তরঙ্গের মাঠে

নম্র হয়ে আসে দৃষ্টি, বর্ষাসিক্ত সঘন সজল

কেহ কেহ নীলতিমি, ¯^ার্থের সমুদ্রে শুধু কাটে

সাঁতার সগর্বে ডানাহীন আসমুদ্রহিমাচল|

 

আদুরে পাহাড় ডাকে মমতায় দিয়ে হাতছানি

শহরের কাছাকাছি, অনাহারি মাছরাঙা পাখি

বসে থাকে বেদনার শাখায়, না খেয়ে ওরা নাকি

পড়ে আছে বহুদিন সাঙ্গু পাড়ে, জলাশয়ে পানি

নেই, মৎস্য মেয়েরা চুপিচুপি করে কানাকানি

বাঁচিয়ে আপন প্রাণ সটকে পড়েছে, বাদবাকি

ছিল কিছু কীট তারা অস্থিমজ্জাহীন, ডাকাডাকি

কেন করে আদুরে পাহাড় তাহা শুধু আমি জানি|

 

পাহাড় কী প্রশান্তিতে ভরা নাকি স্নিগ্ধ ছায়াঘেরা

সবুজ বনানী, বৃক্ষের ফাঁকে ফাঁকে রোদের খেলা

দেখে দেখে ক্লান্তিনাশি কমনীয় লোকগুলো বেলা

অবেলায়, প্রশান্তিকে নিয়ে অবশেষে ঘরে ফেরা|

মিশে থাকে মনজুড়ে রাতভর ¯ে^দকণাঘাম

চাঁটগায় পাহাড়েরা খুলে দেয় বুকের বোতাম|

 

পাহাড়তো নয় যেনো নগ্ন নীল ডানাকাটা পরির

বাসগৃহ, শেষ করে সবকাজ আকাশের নীল

মেয়ে উড়ে আসে আশ্রমে| একান্তে দরজার খিল

খোলে রাত্রি; ভোর অব্দি কান্তিমান রাতের শরীর

চৌকি দিয়ে বসে থাকে নির্জনে নির্ঘুম গোলাকার|

পরিরা ঘুমিয়ে থাকে সন্তর্পণে কায়ক্লেশহীন

¯^প্নের শাখায়| ভোরে সূর্যালোকে নিয়ে আসে দিন

ততক্ষণ রাত যেন পরীদের প্রিয় চৌকিদার|

 

সেই দিন নেই আর সন্ধ্যা হলে শুধু রাত নামে

শহরের বুকের ভেতর| একদল পাকা চোর

সিঁধ কাটে হৃদয়ে, শোকের বার্তা আসে নীল খামে

কালঘুমে আচ্ছন্ন পাখিরা হয় না ¯^প্নে বিভোর

পরির পাহাড় আছে পরী নেই, লাল ইটে ভরা

নগরে নগরে চলে সেই থেকে জরাজীর্ণ খরা

 

পরির পাহাড় থেকে এক মুঠো পথ ডিসি হিল

দুপুরের ঝলসিত যুবকরোদের পদভারে

কাঁপে তরু ঝোপ| নজরুলের দীপ্তিমুখ বারে বারে

ডেকে যায় ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’| উর্ধ্বাকাশে চিল

উড়ে দৃষ্টি তার নিম্নমুখী, যদি জোটে তাজা এক

কবিতার ছানা, নেমে এসে পাখিরাজ আহা, গিলে

খাবে রাজভোগ নরম নুদুস পরিজন মিলে

দেখে হেসে উঠে পর্যটন, অদৃশ্যে ফয়েজলেক|

 

কখনো সখনো চিল হয়ে চষে বেড়ায় প্রান্তর

অতিলোভী মানুষতো বটে রাক্ষুসও মানে হার

চিলের খাবারে ভাগ| লুটপাট ভালোবাসা আর

কামিনীর বন, কুসুমের রস জুলেখার ঘর,

গাছপালা কৃষিজমি প্রেমিকার মন সবকিছু

লুট হয়,অন্তরালে ছুটে চলে শকুনের পিছু

 

নগরীর ক্যানভাসে ওয়ারসিমেট্রি, তার পাশে

শিল্পকলা একাডেমি, কতিপয় যুবক যুবতী

অদৃশ্যে রূপম মোনালিসাচোখে চিত্রকলা চাষে

পার করে দিন, শ্যামল প্রান্তর হয়ে যায় রূপবতী

 

চিত্রকল্পে হেসে উঠে রনক্লান্ত ঘুমন্ত কবর

যুথবদ্ধ নাগরিক আসে যায়, সমাধি নিবিড়

কারা সেই মহাযুদ্ধে বুকে সব বসালো নখর

বাঙালির বর্ষবরণ—কবিতায়-গানে

সুমন বনিক দিনপঞ্জিকায় প্রতিটি মাসের পাতা জুড়ে ৩০/৩১ টি সংখ্যা থাকে| সংখ্যাগুলো একএকটি তারিখ বা দিনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে| আমরা সেই তারিখমতো আমাদের কর্মপরিকল্পনা সাজাই

আন্দরকিল্লা সাহিত্য পত্রিকাকে সম্মাননা দিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ

গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ-এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাহিত্য সম্মেলনে আন্দরকিল্লা সাহিত্য পত্রিকাকে সম্মাননা প্রদান করেন| আন্দরকিল্লা সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার এই সম্মাননা

লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : গত ১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্য সম্মেলন ২০২৬ উপজেলা  পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়| সাহিত্য সংসদের

সুখ কিনতে কত লাগবে

সাফিয়া নুর মোকাররমা “সুখ কিনতে কত লাগবে?”—প্রশ্নটি শুনতে সরল, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে মানুষের গভীরতম আর্তি| আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই ভাবি, সুখ যেন