এখন সময়:রাত ২:১৩- আজ: শুক্রবার-২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:রাত ২:১৩- আজ: শুক্রবার
২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

বেগম রোকেয়া ও নারীসত্তাজাত লেখা

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

 

ব্রিটিশ ভারতবর্ষের বাঙলায় বেগম রোকেয়া (১৮৮০—১৯৩২) যখন লিখছেন, তখন ‘নারীসত্তাজাত লেখা (ল্কপৎরঃঁৎব ভল্কসরহরহব)’ তত্ত্বের প্রবক্তা এলেন সিকসুস (১৯৩৭—বর্তমান)-এর জন্মই হয়নি। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ উপনিবেশে রোকেয়ার মৃত্যুর কয়েক বছর পর ফরাসি আলজেরিয়ায় তার জন্ম হয়। আর পুরুষতান্ত্রিক নন্দনতত্ত্বের বাইরে গিয়ে নারীরা কেমন করে লেখালেখি করবে তা নিয়ে এলেনের নারীসত্তাজাত লেখার তত্ত্ব তিনি ব্যাখ্যা করেন ১৯৭৫ সালে ফ্রান্সে। অথচ তার প্রায় ৭০ বছর আগেই রোকেয়ার লেখায় এই তত্ত্বের ধারণাগুলি এত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল। কারণ একই ধরনের পীড়ন প্রায়শই একই ধরনের প্রতিবাদের জন্ম দেয়।

 

এলেনের লেখার কেন্দ্রে রয়েছে এই ধারণা যে, প্রতিটি সংস্কৃতিই কিছু বিষয়কে বাদ দিয়ে দিয়ে একটি অদৃশ্য বা কাল্পনিক এলাকা তৈরি করে রাখে। নারীবাদীদের কাজ হল সেই বাদ দেওয়া জায়গা বা প্রান্তিক অবস্থানটি মনে করা এবং সেখান থেকে মুক্তির পথ খোঁজা।

 

এলেন বলছেন, সেই অন্য কোথাও, যা সমাজের সব জঘন্যতা ও আপস-সমঝোতা থেকে মুক্ত থাকতে পারে এবং যা পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য নয়, তা হল লেখা। লেখা এমন একটি এলাকা, যেখানে নতুন পৃথিবী সৃষ্টি হয়, স্বপ্ন দেখা হয় এবং আবিষ্কার করা হয়। ভার্জিনিয়া উল্ফ যেমন নিজের একটা একান্ত ঘরের কথা বলেছিলেন, একটা নিজস্ব কামরা।

 

ধরুন, একটা দুর্গে প্রবেশ করবার একটিই মাত্র স্বীকৃত দরজা আছে, যা পুরুষদের বানানো নিয়ম ও ভাষা দিয়ে তৈরি। এই দুর্গের ভেতরে সবকিছুকে দুই ভাগে বিদীর্ণ করে রাখা হয়েছে, যেটাকে দেরিদা বলেছেন ক্রমবৈষম্যকারী যুগল বৈপরীত্য অর্থাৎ ভালোর বিপরীতে মন্দ মনের বিপরীতে শরীর, পুরুষের বিপরীতে নারী। পুরুষকে রাখা হয়েছে আলোতে ও কেন্দ্রে, আর নারীকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে দুর্গের সীমানার বাইরে একটা কাল্পনিক এলাকায়।

 

এলেন বলছেন, এই এলাকাটা আসলে ময়লা-আবর্জনার আধার নয়, এটি হল ‘বাদ দিয়ে দেওয়া জিনিসের জগৎ, যেখানে নারীর প্রকৃত বাসনা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাগুলিকে দমিয়ে রাখা হয়েছে।

 

এই অবস্থায় এলেন নারীদের বলতে চাইলেন যে, আসুন, আমরা আমাদের এই কাল্পনিক এলাকা বা বাতিল হওয়া জগৎটাকে মনে করি।

 

এলেন যে পুরুষতান্ত্রিক ভাষার কারাগারের কথা বলেছেন, রোকেয়াও সেই কারাগারের একজন আক্ষরিক বন্দি ছিলেন। এলেন এই কারাগারকে ভেঙে ফেলবার জন্যে যে তত্ত্ব দিয়েছেন, রোকেয়া সেই কারাগার ভাঙবার জন্য সত্যিকারের সরঞ্জামই তৈরি করেছিলেন।

 

এলেনের তত্ত্বের ভিত্তি হল আমাদের ভাষা, যুক্তি ও সমাজকাঠামো পুরুষকেন্দ্রিক। এই কাঠামোতে নারী হল অন্য, ঘাটতি, বা নিশ্চুপ। রোকেয়ার পদক্ষেপ ছিল এই নীরবতাকেই প্রথমে চিহ্নিত করা। পুরুষতান্ত্রিক ভাষা নারীকে কথা বলতে দেয় না, তাকে চুপ করিয়ে রাখে। রোকেয়ার সমাজ নারীকে আক্ষরিক অর্থেই ‘অবরোধ’-এ রেখে চুপ করিয়ে রাখত। এই অবরোধ শুধু শারীরিক ছিল না, মানসিক ও বৌদ্ধিকও ছিল। মেয়েদের অক্ষরজ্ঞান পাপ বলে গণ্য হত। রোকেয়ার ‘অবরোধ-বাসিনী’ বইটা কেবল পীড়নের বর্ণনা নয়, এটা নারীসত্তাজাত লেখারই আদি-উদাহরণ। রোকেয়া এখানে কোনো গভীর তত্ত্ব দেননি। তিনি শুধু একের পর এক সত্য ঘটনা খুলে ধরেছেন, কীভাবে রেলগাড়িতে বোরকা পরা এক নারী গরমে সেদ্ধ হয়ে মারা গেল, বা কেমন করে আগুন লাগার পরও পুরুষ পাহারাদার না থাকায় মেয়েরা ঘর থেকে বের না হয়ে পুড়ে মরল।

 

এলেনের মতে, সমাজ নারীকে পুরুষ-নির্ধারিত ভূমিকাগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে ‘অন্য কোথাও’ হল সেই জায়গা, যা এই সমস্ত পীড়নমূলক কাঠামো থেকে পালাবার পথ খুলে দেয়। এটা একটা বিকল্প বাস্তবতা, যেখানে নারী তাদের নিজস্ব ইচ্ছা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

 

এলেন বলছেন, এই পুরুষতান্ত্রিক জেলখানার পীড়নমূলক ও প্রথাগত নিয়ম না মেনে, নারীরা একটা ‘অন্য কোথাও’ তৈরি করতে পারে। এই অন্য কোথাওই হল নারীর সত্তা নিংড়ে বের হওয়া নারীসত্তাজাত লেখা। ধরুন, লেখার শাদা কাগজটি হল সেই অচেনা জমি। পুরুষতান্ত্রিক জগৎ চায়, আমরা তাদের সুবিধামতো তৈরি করা নিয়ম-রীতিতে তাদের ভাষায় লিখি। কিন্তু এলেন বলছেন, না। এই লেখার জমিতে কোনো পুরোনো নিয়ম খাটবে না। এটা হবে এমন একটা জমি, যেখানে আমরা নতুন বীজ ফেলব, নতুন স্বপ্ন বুনব, অর্থাৎ নতুন জগৎ আবাদ করব।

 

পুরুষের দুর্গের বাইরে যাদেরকে মানে যাদের সত্তাকে দমিয়ে রাখা হয়েছিল, যাদের কণ্ঠ রুদ্ধ ছিল, তাদের ভেতরের শক্তিটা যখন ফিরে আসে। এই শক্তিটা হল নারীর কণ্ঠস্বর, তার ভাষা, তার ভাষার প্রয়োগ, যা সে লেখায় প্রকট করে।

এলেন বলেছেন, পুরুষোচিত যুক্তি সমাজব্যবস্থার হাস্যকর দিকটা দেখতে পায় না। রোকেয়া এই ঘটনাগুলি নির্লিপ্তভাবে বর্ণনা করে সেই পুরুষতান্ত্রিক প্রথার ভয়াবহ উদ্ভট অযৌক্তিকতাকে উন্মোচন করেছেন। এই উন্মোচনই হল পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোতে প্রথম আঘাত।

 

এলেনের তত্ত্বের একটা অংশ হল বিদ্যমান কাঠামোকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলে অবিনির্মাণ করা। রোকেয়া ঠিক এই কাজটিই করেছেন তার প্রবন্ধে। পুরুষতন্ত্র নারীকে আবেগপ্রবণ আর পুরুষকে যৌক্তিক বলে চিহ্নিত করে। রোকেয়া পুরুষের সেই যুক্তির অস্ত্রই ব্যবহার করেছেন। তার ‘মতিচূর’-এ পুরুষের যুক্তি ছিল ‘নারীদের মস্তিষ্ক পুরুষদের থেকে ছোটো, তাই তাদের বুদ্ধি কম’। রোকেয়া এই দাবিকে ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ‘হস্তির মস্তিষ্ক তো মানুষের চেয়ে অনেক বড়ো, কই, হাতি তো আর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করে না’। এখানে রোকেয়া পুরুষোচিত যুক্তির গোমড় ফাঁস করে দিচ্ছেন। তিনি আবেগ দিয়ে নয়, বরং পুরুষের চেয়েও শাণিত যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করছেন যে, নারীদের অযোগ্যতা প্রাকৃতিক নয়, বরং পদ্ধতিগতভাবে চাপিয়ে দেওয়া। তিনি পুরুষের অস্ত্র দিয়েই পুরুষের দুর্গ ভেঙে দিচ্ছেন।

 

এলেন শরীর দিয়ে লেখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নারীর অভিজ্ঞতা যেমন গর্ভধারণ, রজঃকাল, শারীরিক সংবেদনশীলতা ইত্যাদি পুরুষতন্ত্র লজ্জা বা দুর্বলতা বলে দমিয়ে রাখে, তা-ই হল নারীর জ্ঞানের উৎস।

 

এলেন নারীর জৈবিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতাকে সাহিত্যের কেন্দ্রে নিয়ে আসবার কথা বলেন। রোকেয়া নারীর দৈনন্দিন জীবন, যা পুরুষদের কাছে তুচ্ছ, তাকে তার রাজনৈতিক লেখার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন তার ‘সুগৃহিণী’ প্রবন্ধে। পুরুষরা যখন রাষ্ট্র পরিচালনা, বিজ্ঞান বা দর্শন নিয়ে ব্যস্ত, তখন নারীদের কাজ, যেমন ঘর গোছানো, রান্না, সন্তান পালন ইত্যাকার কাজকে ঘরের কাজ বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়। রোকেয়া এই ঘরের কাজকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, একটা ঘর সুষ্ঠুভাবে চালানো একটা রাষ্ট্র চালানোর মতোই কঠিন আর গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নারীর এই তুচ্ছ কায়িক-শ্রম ও মানসিক ব্যবস্থাপনাকে মহিমা দিয়েছেন। এলেন যেমন চেয়েছেন নারীর শরীরবৃত্তীয় অভিজ্ঞতাকে জ্ঞানের মর্যাদা দিতে, রোকেয়াও তেমনি নারীর গার্হস্থ্য অভিজ্ঞতাকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা দিয়েছেন।

 

নারীসত্তাজাত লেখার চূড়ান্ত লক্ষ্য শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন এক পৃথিবী কল্পনা করা, যা নারীর ভাষায় লেখা। এলেনের মতে, পুরুষতান্ত্রিক ভাষা বাদ দিয়ে নারীর ভাষায় নতুন জগৎ অবিনির্মাণ করতে পারলেই নারীর সত্তাজাত লেখার জন্ম হয়। রোকেয়া আক্ষরিক অর্থেই এমন একটা জগৎ লিখে তৈরি করেছেন। তার ‘ঝঁষঃধহধ’ং উৎবধস’ নারীসত্তাজাত লেখার সবচেয়ে নিখুঁত ও বিস্ময়কর পূর্বাভাস। এলেন যে পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোকে ভাঙতে বলেছেন, রোকেয়া এই বইতে তা সম্পূর্ণ উলটে দিয়েছেন। এইখানে নারীদের জগতে পুরুষরা থাকে ‘মর্দানা’য়, অর্থাৎ অবরুদ্ধ হয়ে। এই জগতে কোনো যুদ্ধ, অপরাধ বা আগ্রাসন নেই। সমাজ চলে জ্ঞান, বিজ্ঞান, ভালোবাসা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, এখানের বিজ্ঞান পুরুষোচিত ধ্বংস, যেমন বন্দুক, বোমা, যুদ্ধ ইত্যাকার বিনাশী বিষয়ের বিজ্ঞান নয়। এখানের বিজ্ঞান হল সৃষ্টিশীল ও প্রকৃতিবান্ধব, নারীরা সূর্যের শক্তিকে বাষ্পে পরিণত করে রান্না করছেন, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করছেন। এটা বিজ্ঞানের এক সম্পূর্ণ নতুন নারীর ভাষা। ‘ঝঁষঃধহধ’ং উৎবধস’ কোনো সাধারণ কল্পকাহিনি নয়। এটা ছিল রোকেয়ার সত্তাজাত লেখা, পুরুষতান্ত্রিক পৃথিবীর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নারীর ভাষায় লেখা এক নতুন সংবিধান।

 

এলেনের তত্ত্ব মূলত একাডেমিক ও সাহিত্যিক। কিন্তু রোকেয়া ছিলেন তাত্ত্বিক ও সংগ্রামী। তিনি শুধু নারীর জগৎই কল্পনা করেই থামেননি, তিনি বাস্তবে সেই জগৎ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তিনি নারী শিক্ষার জন্যে প্রতিষ্ঠা করেন নারীদের জন্যে আলাদা বিদ্যালয়। তিনি বুঝেছিলেন, নতুন ভাষায় কথা বলবার জন্যে আগে সেই ভাষার অক্ষরজ্ঞান দরকার। তার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছিল নারীসত্তাজাত লেখার তত্ত্বকে বাস্তবে রূপ দেবার প্রথম পদক্ষেপ। তিনি সেই বিদ্যালয় থেকে এমন এক প্রজন্ম তৈরি করতে চেয়েছেন, যারা সুলতানার স্বপ্নের সেই বৈজ্ঞানিক, যুক্তিবাদী ও স্বাধীন নারী হয়ে উঠবে।

 

এলেনের মতে, নারীকে তার নিজের গল্প নিজের ভাষায় লিখতে হবে। রোকেয়া তার বহু বছর আগেই, সেই কাজটি শুরু করে দিয়েছিলেন। তিনি জানতেন যে, পুরুষের যুক্তি দিয়ে পুরুষকে হারাতে হবে। পুরুষের তৈরি প্রথার হাস্যকর রূপ তুলে ধরতে হবে। পুরুষের ভাষা ও পৃথিবী সম্পূর্ণ বর্জন করে নারীর জন্যে এক নতুন ভাষা ও পৃথিবীর অবিনির্মাণ করতে হবে।

 

বেগম রোকেয়া ও ফরাসি নারীবাদী তাত্ত্বিক এলেন সিকসুসের চিন্তার তুলনামূলক সার হল শোষণের কাঠামো সর্বত্র এক হওয়ায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ও ভূখণ্ডে জন্ম নিয়েও তাদের লড়াইয়ের সুর ছিল অভিন্ন। এলেন ১৯৭৫ সালে যে তত্ত্বের মাধ্যমে নারীকে নিজের ভাষায় নিজের অস্তিত্ব প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছিলেন, রোকেয়া তার ৭০ বছর আগেই নিপুণ যুক্তিবোধ ও সাহিত্যের মাধ্যমে সেই বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। রোকেয়া কেবল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অসংগতি আর অবরোধ প্রথার নিষ্ঠুরতাই তুলে ধরেননি, বরং পুরুষের তৈরি ভাষার কারাগার ভেঙে নারীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও মেধা দিয়ে একটি বিকল্প জগৎ নির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, নারী যখন তার ঘরোয়া শ্রম, শারীরিক অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতাকে হীনম্মন্যতা ত্যাগ করে সাহিত্যের কেন্দ্রে নিয়ে আসে, তখনই প্রকৃত মুক্তি সম্ভব। ‘ঝঁষঃধহধ’ং উৎবধস’-এ তিনি যেভাবে বিজ্ঞান ও সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে নারীর উপযোগী এক শান্তিময় পৃথিবীর নকশা এঁকেছেন, তা এলেনের তত্ত্বেরই এক সফল ও প্রায়োগিক প্রতিফলন বলা যায়, এবং তা সেই তত্ত্বের আগেই। কাজেই রোকেয়া কেবল একজন সমাজ সংস্কারক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী তাত্ত্বিক, যিনি পুরুষের হাতিয়ার দিয়েই পুরুষতন্ত্রের দুর্গ ধ্বংস করে নারীর নিজস্ব পরিচয় ও ভাষা প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে গেছেন।

 

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য, কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রশিল্পী

কক্সবাজার

বিশ্ব নারী দিবসের পুনর্পাঠ : বহুমাত্রিক নারীর নতুন ভাষ্য

শাহেদ কায়েস   নারীর ইতিহাস কোনো একরৈখিক অগ্রযাত্রা নয়—তা বহু পথে বয়ে চলা নদীর মতো, যেখানে সংগ্রাম, প্রেম, প্রতিরোধ, রাজনীতি, শ্রম, মাতৃত্ব, শিল্প, দর্শন ও

আন্দরকিল্লার ইফতার অনুষ্ঠানে সুধীজনদের অভিমত বাঙালি জাতিসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার চিহ্নটিই অনির্বাণ অস্তিত্বের প্রতীক

আন্দরকিল্লা ডেক্স : শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সমাজভাবনামূলক কাগজ ‘আন্দরকিল্লা’র ইফতার আয়োজনে সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আন্দরকিল্লা কোনো বলয়বদ্ধ সীমানায়

প্রথা ভেঙে বেরিয়ে এসো নারী  

গৌতম কুমার রায় বিংশ শতাব্দী বিদায় হওয়ার পরে এসেছে একবিংশ শতাব্দী। বিজ্ঞান এগিয়েছে। সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে পুরুষ। কিন্তু নারী ! শুধু পিছিয়েছে নারী। কেন

আদিবাসী নারী

কুমার প্রীতীশ বল   ‘হৈ হৈ হৈ জুমত  যেবং. জুমে যেইনে গচ্ছা সুদা তুলিবং. গচ্ছা সুদা তুলি নেই টেঙ্গা কামেবং।’ চাকমা এই গানটির বাংলা অনুবাদ

মহাশ্বেতা দেবী: দর্শন, সাহিত্য ও সমাজচেতনার প্রতিফলন

রওশন রুবী   মহাশ্বেতা দেবী উপমহাদেশের একজন শক্তিমান ও প্রখ্যাত লেখক। তাঁর শতবর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাহিত্য শব্দের সীমা অতিক্রম করে মানবতার গভীর নৈতিক শক্তিতে