এখন সময়:রাত ২:১৪- আজ: শুক্রবার-২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:রাত ২:১৪- আজ: শুক্রবার
২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

সংকটে ও সৃষ্টিতে বাংলাদেশের নারী: আগামীর মননশীলতার নতুন মানচিত্র

রেজিনা সুলতানা

 

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ নারীর অবস্থান কি কেবল শ্রমবাজারের সংখ্যাতত্ত্বে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তাঁর চিন্তা ও মেধার স্বাধীনতা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মূল চালিকাশক্তি হবে? রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, ডিজিটাল মবিং এবং রক্ষণশীলতার অদৃশ্য দেয়াল ডিঙিয়ে সমকালীন নারী যেভাবে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক ‘এজেন্সি’ বা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই চালাচ্ছেন, তারই এক নির্মোহ ও প্র্যাকটিকাল বিশ্লেষণ এই নিবন্ধ।”

 

বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও চিন্তার জগত বর্তমানে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ নারীর সৃজনশীলতা ও মেধা আজ কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কারের এক অপরিহার্য মাপকাঠি। বর্তমান বাংলাদেশের ভাবনার জগতকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, নারীর অভিজ্ঞতাগুলো এখন আর পার্শ্ব-আখ্যান (ঝরফব ঘধৎৎধঃরাব) নয়, বরং তা সমাজের প্রধান দ্বান্দ্বিকতা ও সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। শব্দের এই ক্যানভাসে আমরা দেখার চেষ্টা করব—রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম এবং ডিজিটাল দুনিয়ার কাঁটাতার পেরিয়ে নারী কীভাবে তাঁর আগামীর মানচিত্র আঁকছেন।

 

রাজনৈতিক রূপান্তর ও ‘এজেন্সি’র লড়াই-

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখনই পরিবর্তনের হাওয়া বয়, বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার রদবদল বা শাসনকালকে সামনে রেখে নারীর অবস্থান নিয়ে নতুন বিশ্লেষণের দাবি রাখে। বিএনপির ‘উৎপাদনমুখী রাজনীতির’ দর্শনে নারীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার কথা বলা হলেও, রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে থাকা রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর চাপ সামলানো হবে এক বড় প্র্যাকটিকাল চ্যালেঞ্জ।

নারীর ক্ষমতায়ন কি কেবল শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? আমরা যদি গত কয়েক দশকের উপাত্ত দেখি, তবে দেখবসংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, কিন্তু নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের ‘অমবহপু’ বা নিজস্ব কর্তৃত্ব এখনো সংকুচিত। রাষ্ট্রক্ষমতায় যে পরিবর্তনই আসুক না কেন, নারীদের জন্য বড় লড়াই হবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর শীর্ষ অংশীদারিত্ব। মননশীল সমাজ এখন কেবল ‘কোটা’ বা ‘দয়া’র ভাগ চায় না, বরং মেধার ভিত্তিতে পররাষ্ট্র নীতি, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ টেবিলে নিজের চেয়ার নিশ্চিত করতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে তাঁদের ইশতেহারে নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা এবং সম্পত্তিতে সমানাধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে সাহসের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা।

‘দ্বৈত-জীবন’: ভাবনার জগতে এক অদৃশ্য যুদ্ধ-

বাংলাদেশের সমকালীন চিন্তাশীল নারীরা প্রায়শই এক জটিল ‘দ্বৈত-জীবন’ যাপন করেন। একজন নারী যখন শিক্ষাবিদ বা গবেষক হিসেবে বিশ্বমানের প্রগতিশীল চিন্তাকে ধারণ করেন, ঘরে ফিরেই তাঁকে চিরাচরিত পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর অদৃশ্য শিকল বয়ে বেড়াতে হয়। সমাজ আজও প্রত্যাশা করে, নারীই হবেন পরিবারের ‘মূল্যবোধের’ একমাত্র রক্ষক—অর্থাৎ রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সন্তান লালন-পালনের পুরো দায়ভার তাঁর, অথচ মেধা চর্চার সময়টুকু একান্তই তাঁর নিজস্ব।

এই দ্বিমুখী চাপের কারণে অনেক সফল নারীকেও নিজের মননশীল সময়কে বিসর্জন দিতে হয়। গবেষক হিসেবে লাইব্রেরিতে সময় কাটানোর চেয়ে তাঁকে ঘরের ‘কেয়ার গিভার’ হিসেবে বেশি নম্বর পেতে হয়। এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই বাংলাদেশের নারীদের লেখায় ব্যক্তিগত বনাম সামাজিক এবং ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতার লড়াইকে তীব্র করে তোলে। এই ‘অদৃশ্য শ্রমের’ স্বীকৃতি এবং পারিবারিক পরিমণ্ডলে কাজের সুষম বণ্টন ছাড়া নারীর সৃজনশীলতার পূর্ণ বিকাশ অসম্ভব।

 

ধর্ম, সমাজ ও মননশীলতার বাধা: বাস্তব প্রেক্ষাপট-

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধর্ম কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক নিয়ন্ত্রক। ধর্মীয় অপব্যাখ্যা অনেক সময় নারীর মননশীলতাকে বিকশিত হওয়ার আগেই রুদ্ধ করে দেয়। নিচের বাস্তব উদাহরণগুলো এর প্রমাণ দেয়:

* পোশাক ও ব্যক্তিত্বের ওপর আঘাত:  সম্প্রতি একজন নারী সাংবাদিককে একটি সেমিনারে তাঁর মেধা বা আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, বরং তাঁর পোশাক ও ‘পর্দা’ নিয়ে একদল রক্ষণশীল ব্যক্তির কুরুচিপূর্ণ আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, সমাজ এখনো নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতার চেয়ে তাঁর বাহ্যিক অবয়বকে বড় করে দেখে। যখন একজন নারীর পোশাক তাঁর যোগ্যতার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়, তখন প্রকারান্তরে তাঁর স্বাধীন চিন্তার পথ সংকুচিত হয়।

* অর্থনৈতিক অধিকার ও উত্তরাধিকার: সম্পত্তিতে নারীর সম-অধিকারের দাবিতে সরব হওয়া একজন নারী অ্যাক্টিভিস্টকে যখন ধর্মীয় দোহাই দিয়ে সামাজিকভাবে বয়কট করার হুমকি দেওয়া হয়, তখন তা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বরং পুরো নারী সমাজের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডের ওপর আঘাত। সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে নারীর পক্ষে কোনো স্বাধীন বা বৈপ্লবিক মননশীল অবস্থান নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ভয় ও শঙ্কার এই সংস্কৃতি নারীকে আত্ম-নিয়ন্ত্রণের (ঝবষভ-পবহংড়ৎংযরঢ়) দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

 

ডিজিটাল স্পেস: অভয়ারণ্য ও সাইবার সহিংসতার কেন্দ্র-

ইন্টারনেট বর্তমানে নারীদের কণ্ঠস্বর প্রকাশের বড় মঞ্চ। কিন্তু এই স্বাধীনতার সাথে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ ‘ডিজিটাল মবিং’।

কেস স্টাডি (ডিজিটাল মবিং): জনৈক প্রথিতযশা নারী শিক্ষাবিদ একটি সামাজিক প্রথা নিয়ে ফেসবুকে বিশ্লেষণধর্মী পোস্ট দেওয়ায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কয়েক হাজার আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হন। আক্রমণকারীরা তাঁর গবেষণালব্ধ যুক্তির উত্তর না দিয়ে সরাসরি তাঁর চরিত্র নিয়ে নোংরা আক্রমণ চালায়। একে বলা হয় ‘এবহফবৎ-নধংবফ উরমরঃধষ ঠরড়ষবহপব’, যার উদ্দেশ্য হলো জনসমক্ষে নারীকে লজ্জিত করে তাঁকে নীরব হতে বাধ্য করা। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে অনেক মেধাবী নারী এখন সংবেদনশীল বিষয়ে লিখতে গিয়ে কলম থামিয়ে দিচ্ছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা পরবর্তী কোনো আইনি কাঠামো যেন নারীর এই কণ্ঠস্বর রোধে ব্যবহৃত না হয় এবং সাইবার বুলিং-এর বিরুদ্ধে যেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: গুণগত পরিবর্তনের দাবি-

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহণ গত কয়েক দশকে বহুগুণ বেড়েছে। তবে উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে নারীরা এখনো লৈঙ্গিক বৈষম্যের শিকার হন। একজন পুরুষ গবেষক যে পরিমাণ পারিবারিক ও সামাজিক সহযোগিতা পান, একজন নারী গবেষক তা পান না। আগামীর বাংলাদেশে যদি শিক্ষা খাতে গবেষণার বাজেট বাড়ে, তবে নারী গবেষকদের জন্য বিশেষ গ্র্যান্ট এবং মাতৃত্বকালীন বিরতির পর গবেষণায় ফেরার ‘ব্রিজ ফান্ডিং’ রাখা প্রয়োজন।

সংখ্যা দিয়ে লিঙ্গ সমতা মাপার দিন শেষ। এখন সময় গুণগত বিচারে মূল্যায়ন করার। একজন নারী যখন প্রতিষ্ঠানের প্রধান হন, তিনি কেবল একটি পদ অলংকৃত করেন না, বরং দীর্ঘদিনের পুরুষতান্ত্রিক কর্ম-সংস্কৃতিতে (ডড়ৎশ ঈঁষঃঁৎব) পরিবর্তন আনেন। বর্তমানের রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও এই মেধাভিত্তিক নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখা জরুরি।

 

ঐতিহ্যের পুনর্মূল্যায়ন ও উত্তর-ঔপনিবেশিক চেতনা-

বাংলাদেশের মননশীল নারীরা এখন আর কেবল পশ্চিমা ঘরানার নারীবাদের অনুসারী নন। তাঁরা আমাদের নিজস্ব ইতিহাসকে নতুন চোখে দেখছেন। আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধকে কেবল নারীর ‘নির্যাতিত’ হওয়ার গল্প হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানের নারী চিন্তাবিদগণ প্রশ্ন তুলছেন—কেন নারী যোদ্ধাদের অবদান আড়ালে চলে গেল? কেন যুদ্ধের পর তাঁদের কেবল ‘বীরাঙ্গনা’ তকমা দিয়ে করুণার পাত্রী করা হলো?

এই ‘জবপষধরসরহম’ বা সত্যকে পুনরুদ্ধার করার লড়াই এখন তুঙ্গে। নারীরা এখন ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর পুরুষতান্ত্রিক ব্যাখ্যার বিপরীতে মানবিক ও সমতাপূর্ণ পাঠ উপস্থাপন করছেন। তাঁরা দেখাচ্ছেন যে, ধর্ম বা ঐতিহ্য প্রগতির পথে বাধা নয়, বরং তার ভুল ব্যাখ্যাই মূল সমস্যা। এই নিজস্ব শেকড়সন্ধানী চিন্তাই আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি।

আগামীর প্রত্যাশা-

বাংলাদেশের নারীদের এই মননশীল পথচলা বহুমুখিতা ও দ্বান্দ্বিকতার এক সার্থক সম্মিলন। ধর্মের অপব্যাখ্যা, ডিজিটাল মবিং বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন—সবকিছু জয় করেই নারী আজ তাঁর মেধা ও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখছেন।

রাষ্ট্রক্ষমতায় যারাই আসুক, তাঁদের বুঝতে হবে যে নারীর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ওপর অনুগ্রহ নয়, বরং এটি একটি প্রকৃত শিক্ষিত ও প্রগতিশীল জাতির মেরুদণ্ড শক্ত করা। আগামীর বাংলাদেশ হবে এমন একটি দেশ, যেখানে একজন নারী তাঁর পোশাক, বিশ্বাস বা লৈঙ্গিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল তাঁর মেধা ও কর্ম দিয়ে মূল্যায়িত হবেন। নারীর এই লড়াই কেবল তাঁর নিজের জন্য নয়, এটি একটি সামগ্রিক মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার। এই সংগ্রাম ও সৃষ্টিশীলতাই হবে আগামী দিনের বাংলাদেশের প্রধান চালিকাশক্তি।

 

রেজিনা সুলতানা, বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি বিভাগ,

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা

বিশ্ব নারী দিবসের পুনর্পাঠ : বহুমাত্রিক নারীর নতুন ভাষ্য

শাহেদ কায়েস   নারীর ইতিহাস কোনো একরৈখিক অগ্রযাত্রা নয়—তা বহু পথে বয়ে চলা নদীর মতো, যেখানে সংগ্রাম, প্রেম, প্রতিরোধ, রাজনীতি, শ্রম, মাতৃত্ব, শিল্প, দর্শন ও

আন্দরকিল্লার ইফতার অনুষ্ঠানে সুধীজনদের অভিমত বাঙালি জাতিসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার চিহ্নটিই অনির্বাণ অস্তিত্বের প্রতীক

আন্দরকিল্লা ডেক্স : শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সমাজভাবনামূলক কাগজ ‘আন্দরকিল্লা’র ইফতার আয়োজনে সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আন্দরকিল্লা কোনো বলয়বদ্ধ সীমানায়

প্রথা ভেঙে বেরিয়ে এসো নারী  

গৌতম কুমার রায় বিংশ শতাব্দী বিদায় হওয়ার পরে এসেছে একবিংশ শতাব্দী। বিজ্ঞান এগিয়েছে। সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে পুরুষ। কিন্তু নারী ! শুধু পিছিয়েছে নারী। কেন

আদিবাসী নারী

কুমার প্রীতীশ বল   ‘হৈ হৈ হৈ জুমত  যেবং. জুমে যেইনে গচ্ছা সুদা তুলিবং. গচ্ছা সুদা তুলি নেই টেঙ্গা কামেবং।’ চাকমা এই গানটির বাংলা অনুবাদ

মহাশ্বেতা দেবী: দর্শন, সাহিত্য ও সমাজচেতনার প্রতিফলন

রওশন রুবী   মহাশ্বেতা দেবী উপমহাদেশের একজন শক্তিমান ও প্রখ্যাত লেখক। তাঁর শতবর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাহিত্য শব্দের সীমা অতিক্রম করে মানবতার গভীর নৈতিক শক্তিতে