এখন সময়:সকাল ৭:৩০- আজ: শনিবার-৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-শীতকাল

এখন সময়:সকাল ৭:৩০- আজ: শনিবার
৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-শীতকাল

স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের নারীরা

এস ডি সুব্রত

বাংলাদেশশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল  এদেশের মানুষের জীবন মরণের যুদ্ধ, একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধ , অস্তিত্বের যুদ্ধ। এ যুদ্ধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছিল অস্তিত্বের প্রয়োজনে। শুধু প্রেরণা আর উৎসাহ নয়, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ  নিয়েছে আমাদের নারীরা। আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ করে যখন ২৫ মার্চের কালরাতে এবং এর পর থেকে পাকিস্তানি সৈন্যরা পুরো বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে, সেই সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদী জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রতিহত করতে এগিয়ে এসেছিল। সে সময় হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে পুরুষ, নারী ও শিশু। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে চষে বেড়িয়েছে পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকারদের সহায়তায়। সেই বিপন্ন সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক নারীরা নিপীড়িত, ধর্ষিত, লাঞ্ছিত ও নিহত হয়েছেন বাছবিচারহীনভাবে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নারীরা  কখনো সন্মুখ যুদ্ধে  লড়াই করেছে, কখনো দেশের ভেতরে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছে, রক্ষা করেছে, সেবা যতœ করেছে। রণাঙ্গনে দাঁড়িয়েও বিপুল বিক্রমে লড়েছেন নারীরা। নানা কারণে মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদানের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। এখানেও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। যেকোনো অমানবিকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অথবা স্বাধীনতাযুদ্ধে নারীর অবদান কোনো অংশেই কম নয়। নারীরা পুরুষের পাশে থেকেছে যোদ্ধা হিসেবে, সহযোদ্ধা হিসেবে, প্রেরনাদায়ী হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। ১৯৭১ সালে এবং পরবর্তী সময়ে প্রায় দুই দশকজুড়ে এ দেশে নারী মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় তেমনভাবে আলোচিত হয়নি। যে কারণে একজন বিথীকা বিশ্বাস বা শিশিরকণা একাত্তরে পাকিস্তানি সৈন্যদের গানবোট গ্রেনেড মেরে উড়িয়ে দিলেও যুদ্ধ-পরবর্তীকালে তাঁরা যথাযোগ্য বীরের মহিমায় অভিসিক্ত হতে পারেন না। উপরন্তু তাঁদের ললাটে জোটে সামাজিক লাঞ্ছনা। যুদ্ধ শেষে এই বিথীকা বিশ্বাস ও শিশিরকণাকে তাঁদের পরিবার ও সমাজ গ্রহণ করেনি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অংশ নিয়েছেন অনেক নারী শিল্পী। পথে-প্রান্তরে অলিগলিতে গান গেয়ে তাঁরা অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় ব্যয় করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা নিপীড়িত হয়েছিলেন লেখক চট্টগ্রামের রমা চৌধুরী। একাত্তরে নির্যাতনের শিকার অনেক নারীর মতো এ নারীর জীবনেরও ট্র্যাজেডি হলো, যুদ্ধের পর স্বামীগৃহে তাঁর ঠাঁই মেলেনি। যুদ্ধকালে যেসব নারী ধর্ষিত হয়েছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের প্রয়োজন ছিল, স্বামীহারা বিধবাদের দরকার ছিল আশ্রয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালের নারী সমাজকে মূল্যায়ন করা দরকার আন্তরিকভাবে  বৈষম্যের খোলস থেকে মুক্ত হয়ে। যুদ্ধের সময় দেশের সর্বত্র যে বিপুল নারী নিগৃহীত হয়েছেন, তা কেবল তাঁরা নারী বলেই এ সত্য অনুধাবন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে যোদ্ধার মতোই নারী আত্মোৎসর্গ করেছেন, সেটা বুঝতেও অনেক সময় পার হয়েছে। একাত্তরের উত্তাল মার্চের ৭ তারিখে তৎকালীন রেসকোর্স, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ঘোষণা দিলেন, ‘…আর যদি একটি গুলি চলে… প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো’, সেই সময়েও ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা’র কাজে উদ্ধুদ্ধ হয়েছিলেন নারীরা।  তখন ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, ফরিদপুর, খুলনা, ঈশ্বরদী, পাবনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহসহ সব জেলায় নারীসমাজের প্রতিবাদী সভা ও মিছিল হয়েছে। ৯ মার্চ বাড়িতে বাড়িতে কালো পতাকা উড়তে দেখা যায়। এই কাজে নারীসমাজ ও ছাত্রসমাজ প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসব ধর্মের নারীই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। কেবল বাঙালি নয়, সর্বাত্মকভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল আদিবাসী নারীরাও।  মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রতিনিধি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পরিচালনায় গোবরা ক্যাম্পের ৩০০ তরুণীকে গোবরা ও ‘বিএলএফ’ ক্যাম্পে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এঁদের মধ্যে গীতা মজুমদার, গীতা কর, শিরিন বানু মিতিল, ডা. লাইলী পারভীন অস্ত্রচালনা শেখার পরও তাঁদের সম্মুখসমরে যেতে দেওয়া হয়নি। সেখানেও বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছিল নারীদেরকে। প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রশ্নে সেই সময় যুদ্ধকালীন সরকারের ভেতরেই দ্বিধা ছিল। অন্যদিকে বিভিন্ন যুবশিবিরে যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য অস্ত্রসংকটে অপেক্ষায় ছিলেন বিপুলসংখ্যক তরুণ। সব বাধা বৈষম্য উপেক্ষা করেও আলমতাজ বেগম ছবি গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল ।বরিশালের করুণা বেগম ছিলেন অকুতোভয় মুক্তিসেনা। পুরুষের পোশাকে এ যুদ্ধে পাকিস্তনিদের প্রতিরোধ করেছিলেন শিরিন বানু মিতিল, আলেয়া বেগম।মূলত নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও  নারীরা বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে অদম্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। তাঁরা ক্যাম্পে ক্যাম্পে কাজ করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ক্যাম্পে রান্নার কাজ করেছেন যাঁরা, তাঁরা অস্ত্র শিক্ষা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রহরী হিসেবেও কাজ করেছেন। আবার শত্রুদের বিষয়ে, খানসেনা ও রাজাকারদের অবস্থান সম্পর্কে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে খবরও দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সময়। বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের লুকিয়ে রাখা, অস্ত্র এগিয়ে দেওয়া অথবা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা ও চিকিৎসা করা, তাঁদের জন্য ওষুধ, খাবার এবং কাপড় সংগ্রহ করা রক্ত ঝরা একাত্তরে নারীদের এই সক্রিয় কর্মকা-ই ছিল তাঁদের মুক্তিযুদ্ধ।  কবি  সুফিয়া কামাল পাকিস্তানি বাহিনীর নজরদারিতে যুদ্ধের ৯ মাস ঢাকায় তাঁর বাড়িতেই ছিলেন।সে অবস্থায়ও তিনি নানা কৌশলে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ইতিহাস বদলাতে শুরু করেছে। নারী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন তিনজন ১৯৭২ ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা সুশীল সমাজের কাছে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে গৃহীত হতে সময় লেগেছে  তিন দশক। নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছেন, প্রেরণা দিয়েছেন এমন নারীর সংখ্যাও অসংখ্য। অজানা-অচেনা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা করেছেন বহু নারী নিজের শ্রম দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে  নারীর  ভূমিকা সুশীল সমাজের কাছে ইতিহাসের উপাদান গৃহীত হতে সময় লেগেছে তিন দশক। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আজো আমরা পিছিয়ে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকার সঠিক মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি।

 

এস ডি সুব্রত, কবি ও প্রাবন্ধিক

মুসলিম সম্পাদিত ও প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র : শিখা

ইসরাইল খান ভূমিকা: উনিশ শতকের রেনেসাঁস হিন্দুসমাজেই বদ্ধ ছিল। ওর মর্মবাণী সমাজঅভ্যন্তরে প্রবাহিত করেছিলো যেসকল সাময়িকপত্র তা ছিল হিন্দুসমাজপতিগণের। মুসলিম- পত্রপত্রিকার উদাহরণ কেবলই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। উল্লেখ

নাটোরের সাহিত্য সম্মেলনে রত্নগর্ভা হাজেরা খাতুন পদক ২০২৫ প্রদান ও গুণীজন সংবর্ধনা

\ আন্দরকিল্লা ডেক্স \ নাটোর ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার হাজেরা ফাউন্ডেশন সাহিত্য সম্মেলন শুভ উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে প্রতি

আন্দরকিল্লা’র উদ্যোগে তিন কবির জন্মদিন উদযাপন

মন ও প্রাণের অনাবিল আনন্দ আমেজে শীতার্ত সন্ধ্যেয় হৃদয়ের উষ্ণতায় উচ্ছল উচ্ছ্বাসে আন্দরকিল্লার ২৮ বছর পদার্পণ, ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬, এবং তিন কবির জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠিত

প্রজেক্ট ক্লাউড হাউস

রোখসানা ইয়াসমিন মণি ডা. অভ্র সেনগুপ্ত, একজন প্রথিতযশা জ্যোতির্বিজ্ঞানী। ল্যাবের কাঁচের দেওয়ালের ওপারে ধূসর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। আজ সকালটা মেঘাচ্ছন্ন, ঠিক তার মনের মতো।