এখন সময়:সকাল ১১:০৩- আজ: রবিবার-১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:সকাল ১১:০৩- আজ: রবিবার
১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

একজন প্রাসঙ্গিক সিদ্দিক আহমেদ

মুহম্মদ নুরুল আবসার

সিদ্দিক আহমেদ| কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক| তিনি পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা করেছেন, সাংবাদিকতাও করেছেন|

প্রথম যৌবনে মার্কসবাদে দীক্ষিত সিদ্দিক আহমেদ আমৃত্যু তা ধারণ করেছেন| তিনি পেশাগত জীবনে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও সৎ ছিলেন| সকলের কাছে তিনি রুচিশীল,  নান্দনিক ও পরিপাটি মানুষ| প্রাঞ্জল এই মানুষ সবসময় শোষিতের আন্দোলনের কথা বলেন| তাঁর জীবন ও কর্মের মধ্যে এর ছাপ রেখে যেতো সদা সচেষ্ট ছিলেন|

প্রগতির ধারক সিদ্দিক আহমেদ শিক্ষক রূপেই গ্রামে চিরপরিচিত| সাংবাদিক সিদ্দিক আহমেদ গ্রামে ‘সিদ্দিক মাস্টার’| গ্রামে তিনি শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে একবার জড়িয়ে ছিলেন| আপন মানুষ হয়ে যান গাঁয়ের মানুষের কাছে| তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাউজানের নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে| ১৭ বছর বয়সে তিনি সিটি কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৬২ সালে সাড়া জাগানো শিক্ষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন| ঐ বছর ১৭  সেপ্টেম্বর  শহরের নন্দনকানন এলাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও উপস্থিত বুদ্ধির জোরেই গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন|

 

তিনি কমিউনিস্ট পার্টির পরোক্ষ পরিচালিত রাউজান ইউনাইটেড ক্লাবের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হন| ১৯৬৪ সালে সরাসরি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন| তখন তিনি যামিনী তালুকদার, বিনয় সেন ও ধীরেন ঘোষসহ অনেক বাম রাজনীতিকদের সান্নিধ্য লাভ করেন| ঐ সময়ে তিনি গোপাল হালদারের ‘আর একদিন’ পড়ে প্রভাবিত হয়ে বাম রাজনীতির গভীরে মনোনিবেশ করেন|

১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন দক্ষিণ রাউজান শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন| এ সময় কমরেড অমর সেন ও কমরেড আবদুস সাত্তারকে রাজনৈতিক গুরু হিসেবে গ্রহণ করে বাম রাজনীতির পাঠ নিতে থাকেন| ঐ বছর এক চাকরিতে যোগ দেওয়ার ঠিক চারদিন পর চাকরি বাদ দিয়ে জেলা কৃষক সম্মেলনে যোগ দেন|

১৯৬৮ সালে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যান| সেখানে প্রগতিশীল রাজনীতিক ও লেখক সত্যেন সেন-এর সান্নিধ্য লাভ করেন| তাঁকে শিক্ষাগুরু মেনে পাঠ নিতে থাকেন| সতেন সেন তখন সিদ্দিক আহমেদসহ খেলাঘর সংগঠক জিয়াউদ্দিন আহমদ ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনকে দীর্ঘ দেড় বছর মার্কসবাদের পাঠ দেন| সিদ্দিক আহমেদকে সম্পাদক করে এ সময় খেলাঘর ইউনিট গড়ে ওঠে|

১৯৭০ সালে খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন| একই বছরে তিনি শিক্ষক ও করণিক হিসেবে ঢাকার খিলগাঁও স্কুলে যোগদান দেন| ঠিক ওই সময় বজলুর রহমানকে সম্পাদক (সম্পাদক ˆদনিক সংবাদ) ও মতিউর রহমানকে (সম্পাদক প্রথম আলো) ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক করে গোপন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘একতা’ প্রকাশিত হয়| তখন ‘একাতা’র প্রুফ সংশোধন, বিপণনকারী ও সংবাদ লেখকের দায়িত্ব পান সিদ্দিক আহমেদ| ‘একতা’য় দায়িত্বরত অবস্থায় সিদ্দিক আহমেদ ˆদনিক সংবাদ, ˆদনিক পাকিস্তান, পরে ˆদনিক বাংলা ও ˆদনিক পূর্বদেশ-এ নিয়মিত লিখতেন| এরপর সখ্যতা গড়ে ওঠে বিখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক রণেশ দাশগুপ্তের সঙ্গে|

১৯৭১ সালে রণেশ দাশগুপ্ত আশ্রয়হীন হয়ে পড়লে ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সিদ্দিক আহমেদের ঢাকার বাসায় আশ্রয় নেন| ৩ এপ্রিল রণেশ দাশগুপ্ত ভারতের উদ্দেশে আর ১২ জুলাই সিদ্দিক আহমেদ চট্টগ্রাম চলে আসেন|

১৯৭১ সালে রাউজানের নিজ বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধের গোপন সংগঠকের কাজ করতে থাকেন| যুদ্ধকালীন অসহায় মানুষের আশ্রয় দান, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা দেশত্যাগে সাহায্য করতে থাকেন| যুদ্ধের মধ্যেই গশ্চি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন| এই চাকরি তিনি ১৯৭৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করেন| কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন| ‘গশ্চি শিশুবাগ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তাঁর প্রতিষ্ঠায় আজো শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে|

১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ˆদনিক আজাদী পত্রিকায় যোগ দেন| ˆদনিক আজাদী’র ‘খোলা জানলা’য় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তিনি পাঁচ শতাধিক প্রবন্ধ, নিবন্ধ রচনা করেন| ২০১৪ সালে তিনি এই পত্রিকায় সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে  অব্যাহতি নেন|

তার স্ত্রী মাহমুদা খানম এবং তাদের সংসারে এক মেয়ে তাহমিনা সিদ্দিকী বর্তমানে  স্বামীর  সাথে নিউজিল্যান্ড প্রবাসী এবং তিন ছেলে তানিম আহমেদ সিদ্দিকী বুলবুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল ও তানভির সিদ্দিকী টিপু একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কেমিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন|

অসম্ভব বইপ্রিয় সিদ্দিক আহমেদ ঘুরে বেড়িয়েছেন বই থেকে বইয়ে, পাঠাগার থেকে পাঠাগারে| নিবিড় পাঠ তাঁকে সমৃদ্ধ করে তোলে| যেখানেই গেছেন বই সংগ্রহ এবং মগ্নপাঠ ছাড়া অন্য কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই| বইয়ের দোকানগুলোত বইপড়ুয়া হিসেবে অনায়াসে পরিচিত ছিলেন|

সিদ্দিক আহমেদের প্রথম লেখা কবিতা ১৯৬৬ সালে জনতা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়| তাঁর লেখালেখিতে অনুপ্রেরণা জোগান তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক অমর সেন|

তাঁর লেখালেখি পাঠ-মনষ্কতার ছাপ রেখে যায়| এর অনন্য নজির তাঁর লেখা পাঠে| তিনি নিয়মিত কলাম লিখেন, তাঁর কলামগুলোর শিরোনাম—‘দৈর্ঘ্যপ্রস্থ’, ‘নকশী কাঁথার মাঠ’, ‘প্রিয়া-প্রতিক্রিয়া’, ‘খোলা জানালা’ এবং ‘দক্ষিণের বারান্দা’| তিনি কবিতা, প্রবন্ধ ও কলাম লিখেছেন নিয়মিত| বহু লেখা অগ্রন্থিত রয়েছে| তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা নয়টি— ‘জল ও তৃষ্ণা’ (কাব্যগ্রন্থ), ‘আপেলে কামড়ের দাগ’ (অনুবাদ কবিতা), ‘কিছু মানব ফুল’ (বিখ্যাতদের জীবনী), ‘পিকাসো (চিত্রকলা), ‘কবিতার রাজনীতি (প্রবন্ধ), ‘খোলা জানালায় গোপন সুন্দরবন (প্রবন্ধ), ‘পৃষ্ঠা ও পাতা’ (প্রবন্ধ), ‘প্রভৃতি’ (প্রবন্ধ), ‘ছিটেফোঁটা’ (প্রবন্ধ)| লেখালেখির জন্য তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন| ২০১৪ সালে তাঁকে নিয়ে মাসিক আন্দরকিল্লা সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘সিদ্দিক আহমেদ সম্মাননা স্মারক’| গ্রন্থটি আবির প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়| ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটিতে ৮৬ জন বিশিষ্ট লেখকের লেখা রয়েছে| এছাড়া সিদ্দিক আহমেদের উল্লেখযোগ্য কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও আলোকচিত্র সংযোজন করা হয়েছিল| তাঁর জীবিত অবস্থায় এ সম্মাননা গ্রন্থটি তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়|

তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৯ সালে মুহম্মদ নুরুল আবসার সম্পাদিত সিদ্দিক আহমেদ স্মারকগ্রন্থ (জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে) প্রকাশিত হয়| স্মারকগ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় প্রফেসর ড. অনুপম সেনকে| ৪৮০ পৃষ্ঠার এই স্মারকগ্রন্থটি সুধী মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে| এটি তাঁর জীবনের এনসাইক্লোপেডিয়া হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে|

তাঁর জন্ম ১৯৪৬ সালের ৩১ জুলাই চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গশ্চি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত কৃষক পরিবারে| পিতা-খলিলুর রহমান মাতব্বর ও মাতা-গুলচেহের| তাঁর পিতা—বাংলার ঐতিহ্যবাহী গাজীর গানের একজন গায়েন ছিলেন|

২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন| তাঁর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দেন এবং মহান জাতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহিত হয়|

 

মুহম্মদ নুরুল আবসার : সম্পাদক, আন্দরকিল্লা

বাঙালির বর্ষবরণ—কবিতায়-গানে

সুমন বনিক দিনপঞ্জিকায় প্রতিটি মাসের পাতা জুড়ে ৩০/৩১ টি সংখ্যা থাকে। সংখ্যাগুলো একএকটি তারিখ বা দিনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে। আমরা সেই তারিখমতো আমাদের কর্মপরিকল্পনা সাজাই

আন্দরকিল্লা সাহিত্য পত্রিকাকে সম্মাননা দিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ

গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ—এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাহিত্য সম্মেলনে আন্দরকিল্লা সাহিত্য পত্রিকাকে সম্মাননা প্রদান করেন। আন্দরকিল্লা সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার এই সম্মাননা

লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : গত ১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্য সম্মেলন ২০২৬ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সাহিত্য সংসদের

সুখ কিনতে কত লাগবে

সাফিয়া নুর মোকাররমা “সুখ কিনতে কত লাগবে?”—প্রশ্নটি শুনতে সরল, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে মানুষের গভীরতম আর্তি| আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই ভাবি, সুখ যেন