এখন সময়:সকাল ৭:৫৫- আজ: রবিবার-২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:সকাল ৭:৫৫- আজ: রবিবার
২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

একজন ভূঁইয়া ইকবাল ও তাঁর পুরানো আখরগুলি: প্রয়াণবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ

পান্ডুলিপি, টীকাভাষ্য, নির্ঘণ্ট, পরিশিষ্ট জাতীয় শব্দাবলি, এক কথায় গবেষণার কথা শুনলে গায়ে জ্বর আসে না, এমন মানুষের সংখ্যা জগতে বিরল। অথচ ঠিক এই বিষয়গুলোই ছিল আরেকজন মানুষের প্রাণের আরাম, ধ্যান-জ্ঞান-স্বপ্নসমান। তিনি আর কেউ নন, এই মাটির এক বিরল সন্তান, গবেষণা শব্দটি ছিল যার নামেরই সমার্থক: ড. ভূঁইয়া ইকবাল (১৯৪৬-২০২১)। আমার সৌভাগ্য আমি এই আমর্ম ভূমিলগ্ন, বিনয় ও নম্রতার  প্রতিমূর্তি, বিশুদ্ধ জ্ঞানতাপসের অকৃত্রিম স্নেহ, সান্নিধ্য ও শুভাশিস পেয়েছিলাম জীবনের বেশ কয়েকটি বছর। সশরীর সাক্ষাৎপর্বটি শুরু হয়েছিল আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান বিশদ বাঙলার যাত্রারম্ভের সময়, সেই ২০০৫ সাল থেকে। যদিও এর অনেক আগে থেকেই তাঁর নাম জানি, তাঁর লেখা পড়ি মনোযোগ সহকারে। কল্পনায় তখন তাঁর চেহারাটি ছিল গুরুগম্ভীর, রাশভারি এক প্রবীণ অধ্যাপকের। অথচ সামনাসামনি প্রথম পরিচয়ে দেখা গেল, নেহাতই গোবেচারা চেহারার, হালকাপাতলা গড়নের, প্যান্টের ভেতর শার্ট-গোঁজা প্রায় যুবাতুল্য এক মানুষ তিনি, যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও বন্ধুত্ব হতে খুব একটা দেরি হলো না, যদিও বয়সের ফারাক ছিল এক যুগেরও বেশি।

সেই ঘনিষ্ঠতা টিকে ছিল বিশদ বাঙলা থেকে এর পরবর্তী সংস্করণ বিস্তার এর চৌহদ্দি পেরিয়ে আমাদের করোনাকালের গৃহবাসপর্ব অবধি, একেবারে তাঁর চির প্রস্থানের পক্ষকাল পূর্বপর্যন্ত। ফোনে তাঁর শেষ ডাকটি কী কারণে যেন আমার শ্রুতি এড়িয়ে গিয়েছিল; আর আমার ফিরতি ডাকটি তাঁর তরফে রয়ে গেল অনুত্তরিত; সম্ভবত সেই মুহূর্তে তিনি হাসপাতালে রোগশয্যায় শুয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে যাচ্ছিলেন জগৎকাঁপানো প্রাণসংহারী সেই অদৃশ্য অণুদানব করোনার সঙ্গে।

আর সব বড়মাপের মানুষের মতো ড. ভূঁইয়া ইকবাল, আমাদের প্রিয় ইকবাল ভাইও ছিলেন একেবারেই প্রচারবিমুখ, আত্মলোপী, সলজ্জ স্বভাবের একজন কর্মঅন্তপ্রাণ মানুষ। সারাটা জীবন জ্ঞানচর্চার নানা বিচিত্র প্রকল্প ও উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে বড় মমতায় জড়িয়ে রেখেছিলেন তিনি। এমনকি হাসপাতাল-বাসের সময়টাতেও, প্রয়াণের কয়েকদিন আগ পর্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন একমাত্র পৌত্রীর আসন্ন জন্মদিনের উপহারস্বরূপ একটি ব্যতিক্রমী শুভেচ্ছা-পুস্তিকা নির্মাণের কাজে। তাঁর অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের বিস্তার কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাল স্মরণসভা উপলক্ষ্যে তাঁর দুই মেধাবী পুত্রের সুনির্মিত উপস্থাপনাটি থেকে আমরা জানতে পারি, ভূঁইয়া ইকবালের কর্মময় জীবনের শুরুটা হয়েছিল নেহাতই কমবয়সে, বিদ্যালয়ের এক বন্ধুর সঙ্গে মিলে একটি ছোটখাটো লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। তখন তাঁর স্বপ্ন ছিল একজন গ্রন্থাগারিক হবার। এরপর ডাকটিকিট সংগ্রহ, কিশোর সংগঠন কচি কাঁচার আসর এ যোগদান, পত্রিকায় লেখালেখির পাশাপাশি তিনি নিজেই একটি পত্রিকা প্রকাশনা ও সম্পাদনার কাজে হাত দেন। সেটা কোনো যেনতেন, হাতে-লেখা সৌখিন সাহিত্যপত্রিকা নয়, রীতিমতো একখানি বিজ্ঞানপত্রিকা, নাম টরেটক্কা। পরেও তিনি ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম সম্পাদিত বাংলাদেশের সম্ভবত সবচয়ে দীর্ঘজীবী বিজ্ঞানপত্রিকা বিজ্ঞান সাময়িকী পত্রিকা প্রকাশের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আমাদের সমাজে ও সংস্কৃতিতে কবিসাহিত্যিকদের মধ্যে বিজ্ঞানবিষয়ে এরকম আগ্রহ ও অনুরাগ খুব একটা সুলভ নয়। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে ভূঁইয়া ইকবাল বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবাদ ও বস্তুবাদী দর্শনের ওপর অবিচল আস্থা বজায় রেখেছিলেন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। মনে পড়ে, তিনি বিস্তার প্রতিষ্ঠার গোড়ার দিকেই আমাদের জন্য একটি পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন; সেটি তাঁর অনুজ ভূঁইয়া ইমরান লেনিন (তিনি অবশ্য মজা করে বলতেন ভি. আই. লেনিন) সম্পাদিত জনপ্রিয় বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক পত্রিকা ক¤ুú্যটার বিচিত্রা।

উপর্যুক্ত উপস্থাপনাটি থেকেই আমরা আরও জানতে পারি যে, প্রকাশনা ও সম্পাদনার নেশা কলেজ জীবনেই তাঁকে পেয়ে বসেছিল প্রবলভাবে, এতটাই যে, সেই আঠারো উনিশ বছর বয়সেই দুই বন্ধু আলী ইমাম (প্রয়াত বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক) ও আলী মনোয়ারের (প্রবাসী অর্থনীতিবিদ) সঙ্গে মিলে তিনি পূর্বমেঘ নামে একটি বেশ মানসম্পন্ন সাহিত্যপত্রিকা বার করতে শুরু করেন। সেই সময়কার বিখ্যাত সব লেখকের লেখাপত্রই তাঁরা জোগাড় ও প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছিলেন পূর্বমেঘ এর সংখ্যাগুলোতে। এবং এই নেশা তাঁর অব্যাহত থাকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও। তার সঙ্গে যুক্ত হয় সাংবাদিকতা ও গ্রন্থ প্রকাশনার ঝোঁক। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান (স্বাধীনতার পরে দৈনিক বাংলা) পত্রিকায় শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, আহমেদ হুমায়ুন প্রমুখ দিকপাল মানুষদের সঙ্গে সাংবাদিকতা শুরু করেন। স্বাধীনতার পরপর, ১৯৭২ সালে, পাকিস্তানি সেনাপতি রাও ফরমান আলির উদ্ধারকৃত ডায়রির কয়েকটি পাতায় উৎকীর্ণ শহিদ বুদ্ধিজীবীদের নামের তালিকা নিয়ে করা তাঁর একটি রিপোর্ট বেশ আলোড়ন তুলেছিল। তাছাড়া সেই তরুণ বয়সেই অপরাপর তরুণ লেখকদের বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি, এবং কয়েকটি বই প্রকাশও করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে, তাঁর প্রয়াণের পর ফেসবুকে প্রকাশিত কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করা যায় এখানে। তিনি লিখেছিলেন, “একবার আমার ও আবুল হাসানের একটি যৌথকাব্য প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল ভূঁইয়া ইকবাল। ঐ বইটির জন্য বিজ্ঞাপনও বেরিয়েছিল কবি সিকানদার আবু জাফর সম্পাদিত বিখ্যাত সমকাল পত্রিকায় এবং কামাল বিন মাহতাব সম্পাদিত ছোটগল্প কাগজে। ঐ বহু বিজ্ঞাপিত বইটি আর প্রকাশিত হয়নি। ভূঁইয়া ইকবাল টাকা যোগাড় করে উঠতে পারেনি বলে।” গ্রন্থপ্রকাশের তাড়না ক্রমে কমে এলেও পত্রিকা সম্পাদনার নেশায় তখনও ভাটা পড়েনি তাঁর। তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই বক্তব্য নামে একটি সিরিয়াস প্রবন্ধের পত্রিকা প্রকাশে ব্রতী হন পুনরায়। কয়েকবছর ধরে প্রকাশিত এই পত্রিকায় সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজতত্ত্ব, ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে দেশবিখ্যাত লেখকদের গুরুগম্ভীর সব প্রবন্ধ ছাপা হতো।

না, ভূঁইয়া ইকবালের জীবনী লিখতে বসিনি আমি এখানে। তবু-যে এই তথ্যগুলো সম্পর্কে এমন বিশদে বর্ণনা করা হলো, সেটা মূলত তাঁর অবিশ্বাস্য আত্মসংযম ও আত্মপ্রচারবিমুখতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরার জন্যই। কেননা গত পনেরোটি বছর তাঁর সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠভাবে মেশার পরও, এবং প্রায় পুরোটা সময়জুড়ে শিল্প-সাহিত্য নিয়েই কথা চালাচালি করেও, আমি তাঁর মুখ থেকে নিজের এই ঈর্ষণীয় অর্জনগুলো নিয়ে ঘুণাক্ষরেও একটি কথা উচ্চারিত হতে শুনিনি। এমনই ছিল তাঁর প্রায় আত্ম-অবলোপী আড়ালপ্রিয়তা ও মজ্জাগত বিনয়ের বহিঃপ্রকাশ! তাঁর মনোযোগ নিবদ্ধ থাকত সবসময় অন্যের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গুণাবলি, শক্তি ও সম্ভাবনার দিকে এবং খাঁটি জহুরির মতো তিনি সেসবের সদ্ব্যবহারেই ব্যস্ত রাখতেন নিজেকে। এই প্রসঙ্গে একটি আশ্চর্য তথ্যের উল্লেখ না করে পারছি না। আমাদের বিশদ বাঙলায় সেবার কী একটা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বেশকিছু পোস্টার ছাপানোর প্রয়োজন পড়েছিল। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে না পেরে এক পর্যায়ে বাজার থেকে রঙিন পোস্টারপেপার কিনে আমি নিজেই তাতে হাতে লিখে দিয়েছিলাম কিছু কবিতা আর রবীন্দ্রগানের উদ্ধৃতি। সেগুলো দেখে তিনি এতটাই মুগ্ধ ও অভিভূত হন যে, তাঁর সদ্যকেনা বাড়ির দরজার নামফলকটি আমাকে দিয়েই লিখিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেটিকে সুন্দর করে বাঁধিয়ে নিয়ে তাঁর গৃহসম্মুখের দেয়ালে সযতেœ টাঙিয়েও দেন। পরে একদিন তাঁর বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে আমার স্বহস্তে উৎকীর্ণ সেই নামফলকটি দেখে আমি নিজেও কম বিস্মিত হইনি। এখানে বলে রাখি, তাঁদের সুশোভিত বাড়ির নামটিও ছিল ভারি নান্দনিক ও ব্যতিক্রমী: চন্দ্রমল্লী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁর কাজের ব্যস্ততা যেন আরও বেড়ে যায়। তিনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরটি পরিচালনার দায়িত্ব তুলে নেন কাঁধে। এছাড়া স্বেচ্ছায় যুক্ত হলেন স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর সাপ্তাহিক সাহিত্য সাময়িকীটি সম্পাদনার কাজে। তিনি পাতাটিকে একেবারে ঢেলে সাজালেন আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে। দেশের বিখ্যাত সাহিত্যিক, শিল্পীদের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রায়শই এর বিশেষ সংখ্যা বার করতেন এবং তার জন্য ঢাকা, কলকাতা থেকে বিখ্যাত সব লেখকের লেখা চেয়ে আনতেন। এই নগণ্য লেখককে দিয়েও তিনি নানা সময়ে নানান বিষয়ের ওপর নিবন্ধ লিখিয়ে নিয়েছেন তাঁর সম্পাদিত সাহিত্যপাতাটির জন্য। মনে পড়ে তাঁর আগ্রহেই আমি লিখেছিলাম চট্টগ্রামের উপেক্ষিত প্রবীণ ইতিহাসবিদ সুনীতিভূষণ কানুনগোর ওপর; বিখ্যাত শিকারী ও মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত মওলা এবং মুক্তিযুদ্ধের অজ¯্র লোমহর্ষক ঘটনার স্মৃতিধন্য তাঁর বিখ্যাত বাড়ি কাকলীকে নিয়ে; বাংলার বিখ্যাত বিপ্লবী, র‌্যাডিকাল হিউম্যানিজম দর্শনের প্রবক্তা মানবেন্দ্র নাথ রায়ের জীবনকথা; এমনকি ২০১৩ সালে কানাডীয় লেখক এলিস মানরো সাহিত্যে নোবেল পাবার প্রায় পরপরই অনুবাদ করে দিয়েছিলাম তাঁর একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকার। ভূঁইয়া ইকবালের চিত্রকলাপ্রীতির পরিচয়ও আমি পেয়েছিলাম তাঁর এই সম্পাদনার সূত্রেই। আমাদের প্রিয় শিল্পকেন্দ্র বিস্তার এ চলমান কোনো চিত্রপ্রদর্শনীর খবর পেলেই তিনি সেই প্রদর্শনীর শিল্পী ও তার শিল্পকর্মের একটি রঙিন ছবি ছাপতেন তাঁর পাতায় নিয়ম করে। পরে জেনেছি, তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহেও ছিল ঢাকা, চাটগাঁ ও কলকাতার অনেক বিখ্যাত শিল্পীদের শিল্পকর্ম।

সবশেষে, আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ের ওপর কিঞ্চিৎ আলোকপাত করেই এই লেখার ইতি টানব। সেটি হচ্ছে ভূঁইয়া ইকবালের প্রবাদপ্রতিম পত্রপ্রীতি। তিনি চিঠি লিখতে ও চিঠি পেতে খুব পছন্দ করতেন। এটি প্রায় একটি অপ্রতিরোধ্য নেশার মতো ছিল তাঁর কাছে। এই জীবনে কতো খ্যাত-অখ্যাত মানুষকে যে তিনি নিজহাতে চিঠি লিখেছেন, আর কতশত বিখ্যাত মানুষদের কাছ থেকে চিঠি পেয়েছেন জীবনভর, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। সর্ববিস্তারী প্রযুক্তির এই যুগে যখন ইমেইল আর এসএমএসের আগ্রাসনে হাতে লেখা চিঠির প্রথা প্রায় অবসিত হতে চলেছে, তখন যেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি কোনো এক সুগভীর দায় থেকেই তিনি চিঠি লেখাকে আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তিনি দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইমেইল ও এসএমএস প্রযুক্তি শিখতে একপ্রকার অস্বীকারই করেছিলেন বলা চলে, পাছে তাঁর চিঠি লেখার প্রিয় অভ্যাসটিতে ছেদ পড়ে। তিনি এমনকি কুরিয়ার ব্যবহারেও কুণ্ঠিত ছিলেন। চিরচেনা সরকারি ডাকবিভাগের ওপর তাঁর আস্থা ছিল অবিচল এবং সেই সেবাটি ব্যবহারও করতেন তিনি

সবসময়। একবার মনে আছে, আমাদের বিস্তার এর কাছেই চট্টেশ্বরী রোডে অবস্থিত প্রায় পরিত্যক্ত ডাকঘরটি সচল রয়েছে কিনা পরখ করার জন্য আমার নামে একটি পোস্টকার্ড ছেড়েছিলেন তিনি সেই ঠিকানায় এবং আমাকেও প্ররোচিত করেছিলেন সেই ডাকঘর থেকে তাঁর কাছে একটি চিঠি লিখতে। ভূঁইয়া ইকবালের জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছিল তাঁর সংগ্রহের চিঠিপত্রের সেই ‘পুরানো আখরগুলির’ই ¯িœগ্ধ সৌরভমাখা সপ্রেম সান্নিধ্যে। তাঁর কাছে থাকা হাজারো চিঠির ঝাঁপি ঘেঁটে নরেশ গুহ, অমিয় চক্রবর্তী, শঙ্খ ঘোষ, আনিসুজ্জামান, আবু সয়ীদ আইয়ুব, শিশিরকুমার দাস প্রমুখ বিখ্যাতজনদের বহু অপ্রকাশিত চিঠি উদ্ধার করে নিপুণ গবেষকের নিবিড়তম পরিচর্যায় সম্পাদনা ও সংকলন করেছেন একাধিক মূল্যবান গ্রন্থ, যার কিছু তাঁর জীবদ্দশাতেই প্রকাশিত হয়েছে জার্নিম্যান প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী, কবি ও উদ্যোক্তা তারিক সুজাতের সৌজন্যে; আরও কিছু রয়ে গেছে জানি অসমাপ্ত অবস্থায়। আমি নিশ্চিত, বাংলা সাহিত্যের চিরকালীন সম্পদ এইসব অমূল্য অক্ষরের সা¤্রাজ্যেই অনন্তকাল ধরে দাপটে রাজত্ব করবেন বাংলা ভাষার এই অজর ও অজাতশত্রু শব্দ-স¤্রাট: ভূঁইয়া ইকবাল।

 

আলম খোরশেদ, প্রাবন্ধিক ও গবেষক

প্রাচীন বাংলার নাগরিক জীবনে শিল্প ও সৌকর্য

ড. আবু নোমান এখন প্রাচীন বাংলার যে স্থাপত্যগুলো পাওয়া সম্ভব সেগুলোকে প্রত্মতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ বললেও বলা যেতে পারে। স্থাপনা সমাজের সভ্যতার একটি অন্যতম নিদর্শন বা উপাদান।

বৈষম্যমূলক কোটা প্রথায় মেধাবীরা বঞ্চিত হবে (সম্পাদকীয়- জুলাই ২০২৪)

সরকারী চাকরীতে কোটা প্রথা কোন ভালো বা গ্রহণযোগ্য প্রথা হতে পারেনা। এতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়। প্রশাসনে মেধাবীর চেয়ে অমেধাবীর আধিক্য বেশী বলে রাষ্ট্রীয় কাজে

আহমদ ছফা বনাম হুমায়ূন আহমেদ

মাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ তখন আহমদ ছফার পিছন পিছন ঘুরতেন। লেখক হুমায়ূন আহমেদ-কে প্রতিষ্ঠার পিছনে যে আহমদ ছফার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, সে কথা