এখন সময়:রাত ৮:৫৩- আজ: রবিবার-১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ৮:৫৩- আজ: রবিবার
১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

মায়ানমারের শহিদ কবি খেৎ থি: বিপ্লবের অবিনশ্বর কণ্ঠস্বর

জ্যোতির্ময় নন্দী

মায়ানমারের সামরিক জান্তা বিগত ২০২১ সালের ৮ মে সন্ধ্যায় কবি খেৎ থি ও তাঁর স্ত্রী সও সু-কে মনিওয়া প্রদেশের সাগাইং অঞ্চলের শোয়েবো শহরে অবস্থিত কবির বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁদেরকে প্রথমে স্থানীয় একটি থানায় আটক করে রাথা হয়। তারপর কবি খেৎ থি-কে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা করে নিয়ে যাওয়া হয় কাছের এক সামরিক ছাউনিতে, যেখানে সে-রাতেই তাকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

পরদিন ৯ মে সকালে কবির স্ত্রীকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়ে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আহত হওয়ায় তাঁর স্বামীকে মনিওয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি যেন সেখানে চলে যান। কিন্তু তিনি হাসপাতারে গিয়ে জানতে পারেন যে, তাঁর স্বামীকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। মর্গে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তাঁর স্বামীর লাশ সেখানে পড়ে আছে এবং সেটা থেকে আভ্যন্তরীণ নানা অঙ্গ কেটে খুলে নেয়া হয়েছে।

কবি খেৎ থি তাঁর বাড়িতে বিস্ফোরক সামগ্রী মজুদ করেছেন, এ সন্দেহে সামরিক জান্তা তাঁকে আটক করেছিলো, যদিও শেষপর্যন্ত এর সপক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ তারা খুঁজে পায় নি। বহু নির্যাতনের পরেও তাঁর কাছ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারি নি। আমৃত্যু মুখ খোলেন নি মৃত্যুঞ্জয়ী এই কবি।

খেৎ থি’র জন্ম ১৯৭৬ সালে, এবং তাঁর আসল নাম জও তুন। সাগাইং অঞ্চলে ২০২১-এর মার্চে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মাত্র দুমাসের মধ্যে মোট তিনজন কবিকে জান্তা বাহিনী হত্যা করে। ৪৫-এ পা রাখা খেৎ থি ছাড়া শহিদ অন্য দুই কবি হলেন ৩৯ বছর বয়সি কে জা উইন ও ৩৬ বছর বয়সি কিই লিন্ আয়ে।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা কবি খেৎ থি-কে হত্যা করেছে, কিন্তু তাঁর চেতনাকে হত্যা করতে পারে নি। তারা তাঁর দেহের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, কিন্তু তাঁর ভাবধারাকে স্পর্শ করতে পারে নি। তারা একজন জীবন্ত কবিকে নিয়ে গিয়েছিলো, কিন্তু ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁর মৃতদেহকে। তারা ভেবেছিলো, এভাবে তারা কবিকণ্ঠকে চিরস্তব্ধ করে দেকে, কিন্তু কবির শব্দাবলী এখন সারা মিয়ানমারে এবং দেশের বাইরেও ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

 

কবি খেৎ থি লিখেছেন:

ওরা মাথায় গুলি করে,

কিন্তু ওরা জানে না

বিপ্লব থাকে হৃদয়ে।

২০২১-এর সামরিক অভ্যুত্থানের পর তিনি লিখেছিলেন:

আমি যদি আর এক মিনিটও বাঁচি

আমি চাই, আমার বিবেক যেন পরিষ্কার থাকে।

আমৃত্যু তিনি নিজের বিবেক পরিষ্কার রেখে গেছেন, কোনো মূল্যের বিনিময়েই তাকে জনবিরুদ্ধতার কালিমালিপ্ত হতে দেন নি। ২০২১-এর ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পরবর্তী মাস দুয়েকের মধ্যে উল্লিখিত তিন কবিসহ কমপক্ষে ৭৬১ জন নিরস্ত্র বেমামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়।

খেৎ থি পেশায় ছিলেন একজন প্রকৌশলী। ২০০৪ থেকে ২০১২ পর্যন্ত তিনি কালায়, শোয়েবো ও মনিওয়া পৌরসভায় জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। এর পর তিনি চাকরি ছেড়ে দেন সার্বক্ষণিকভাবে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ততা ও লেখালেখির তাগিদে। তখন থেকে তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্যে তিনি খন্ডকালীনভাবে নিজেদের তৈরি কেক ও আইসক্রিম বিক্রি করে আসছিলেন। সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সাগাইংয়ের পালে-তে সামরিক একনায়কতন্ত্র-বিরোধী অন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন একজন সম্মুখসারির অংশীদার।

মায়ানমারে সামরিক শাসনের প্রতিপক্ষ হিসেবে গঠিত জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কবি উ য়ী মন্ তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “খেৎ থি-সহ মনিওয়ার তিনজন কবি শহিদ হয়েছেন। আমি শোকার্ত। জয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।”

মায়ানমারের শহিদ বিপ্লবী কবি খেৎ থি’র একটি বিখ্যাত কবিতা বাংলা ভাষান্তর করে দেয়া হলো ইংরেজি অনুবাদ অনুসরণে:

 

টিকে থাকার স্মারকলিপি

আমি কোনো বীর নায়ক হতে চাই না

কোনো শহিদ হতে চাই না

কাপুরুষও হতে চাই না।

 

আমি কোনো দুঃসাহস দেখাতে চাই না

কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে চাই না

লজ্জিত হতে চাই না।

 

আমি বাঁধা জিভে উচ্চারিত ভাষণ শুনেছি

আমি বসবাস করেছি বন্দী মানবাধিকারের সঙ্গে

নির্বীর্যকরণের দিনগুলো আমি পেরিয়ে এসেছি

আমরা চাই নিজেরাই নিজেদের নরকের অবসান ঘটাতে।

 

আমি সুবিধাবাদী রাজনীতিক হতে চাই না

স্বপ্নচারী কবিও হতে চাই না

চাই না অবিচার মেনে নেয়াদের একজন হতে।

এমনকি আর একটা মিনিটও যদি আমি বেঁচে থাকি

আমি চাই আমার বিবেক যেন পরিষ্কার থাকে।

 

জ্যোতির্ময় নন্দী, কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক

চট্টগ্রামী প্রবাদের প্রথম গ্রন্থ : রচয়িতা জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন

মহীবুল আজিজ জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন (১৮৫২-১৯২০), সংক্ষেপে জে ডি এন্ডার্সন আজ থেকে একশ’ সাতাশ বছর আগে চট্টগ্রামী প্রবাদের সর্বপ্রাথমিক গ্রন্থটি রচনা-সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছিলেন। চট্টগ্রামী

দেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই (সম্পাদকীয়- জুন ২০২৪ সংখ্যা)

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্প্রতি আমাদের দেশসহ উপমহাদেশে যে তাপদাহ শুরু হয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় বৃক্ষরোপণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই