এখন সময়:বিকাল ৩:০৪- আজ: মঙ্গলবার-২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:বিকাল ৩:০৪- আজ: মঙ্গলবার
২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

সৃষ্টিলোকের রহস্যময়তায় সুরের সন্জীদা

মাসকাওয়াথ আহসান

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সাংস্কৃতিক কালে সমাজের আমরা বনাম ওরা দিয়ে বিভাজিত করা হয়েছে; আমরা এর বাইরে এক উদার আনন্দময় স্বপ্নদায়ী ঢাকা শহরে বেড়ে উঠেছিলাম। ফলে ঢাকার সংস্কৃতি পাড়াটা ছিল স্নেহের আঁচল। যেখানে সনজীদা খাতুন আমাদের খরগোশ জীবনে একটা যতি চিহ্ন এঁকে দিয়ে বলতেন, এসো শ্যামলও সুন্দরও।

 

রবীন্দ্রনাথ সারা বিশ্ব ঘুরে এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সমাজ পরখ করে দেখেছিলেন, আমাদের সব কিছুই ভালো; কিন্তু শিষ্টাচারে একটু কমতি আছে। শান্তি নিকেতন আসলে আদব শেখার জায়গা ছিল। ভালো ভালো বই পুস্তক তো যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই পড়া যায়। কিন্তু বই পুস্তক পাঠ করে সেই শিক্ষাটা যাপিত জীবনে চর্চার শিক্ষাটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিতে চেয়েছিলেন।

 

সেই যে কবি মির্জা গালিব যখন কলকাতায় কবিতা পাঠ করতে এসেছিলেন; তখন তার বিনয় ও শিষ্টাচারে মুগ্ধ হয়েছিলেন কলকাতার শিল্পরসিকেরা। সেই থেকে কলকাতা ও লক্ষ্মৌর কবিদের শিষ্টাচারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

 

সনজীদা খাতুন শান্তি নিকেতনের উজ্জ্বল ছাত্রী ছিলেন। তিনি ছায়ানট গড়েছেন শিষ্টাচারের মোমের আলোয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সনজীদা খাতুনের মেয়ে রুচিরা আপা ও তার স্বামী মানজারে হাসিন মুরাদের সঙ্গে ধানমন্ডিতে দেখা হতো। রুচিরা আপা ছিলেন ঢাকায় আমার স্থানীয় অভিভাবক হলিক্রসের শিক্ষক শারমীন আপামণির বন্ধু। লাবাম্বার সামনে তারা আড্ডা দিতেন। রুচিরা আপা ও মুরাদ ভাইয়ের স্নিগ্ধ কথোপকথন শুনে টের পেতাম; রবীন্দ্রনাথকে আত্মস্থ করলে মানুষ কতটা বিনয়ী হতে পারে।

 

আমার আব্বা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের ছাত্র ছিলেন। সেখানে তার যে বন্ধুবৃত্ত ছিল; সেখানে শান্তি নিকেতন থেকে গ্রাজুয়েশন করা ছাত্রেরা ছিল। ফলে আব্বার মুখে শান্তি নিকেতনের সুনাম শুনে বড় হয়েছি। বিতর্ক চর্চার কারণে কণ্ঠস্বরে অতটা শিষ্টাচার ধরে রাখতে না পারলেও; বিনয় ধরে রাখতে সম্যক চেষ্টা করি।

 

সনজীদা খাতুন ৯১ বছরের একটি সফল জীবন-যাপন করে অনন্তের পথে পাড়ি জমালে এইসব বিচূর্নীভাবনা মনে আসছিল। বুঝতে চেষ্টা করছিলাম, ছায়ানট আসলে ছিল শিষ্টাচার ও বিনয় শিক্ষার এক নান্দনিক পাঠশালা। রুটিন জীবনের বাইরে একটু সংগীত চর্চা, সুররসিক হলে মানুষের চিন্তাগুলো গুছিয়ে আসে, মানুষ স্থিতধী হয়। সনজীদা খাতুন যুগের পর যুগ মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন।

 

রবীন্দ্র সংগীত চর্চাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান উপনিবেশের শাসকেরা বিধিনিষেধ আরোপ করলে; সনজীদা খাতুন সংগীত মুক্তির যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। সাংস্কৃতিক আন্দোলন কী করে একটি দেশকে মুক্তির গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে; বাংলাদেশ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

সিভিল সার্ভিসে ঢোকার পর জাতীয় বেতার ভবনে পোস্টিং হলে সনজীদা খাতুনের সঙ্গে দেখা হওয়াটা নিয়মিত হয়। গান গাইতে ও সংস্কৃতি বিষয়ক কথিকা পাঠ করতে আসতেন তিনি। সিম্পল লিভিং হাই থিংকিং-এর মানুষ তিনি। একদিন অনুযোগ করলেন, এই যে এত ছাত্র-ছাত্রী গান শেখে কিন্তু রেডিওতে অডিশন খুবই অনিয়মিত হওয়ায় তারা রেডিওতে গাইতে পারে না। সেসময় সংগীত বিভাগে দুলাল ভাই, শামীম আপার মতো সংগীত রসিক মানুষ ছিলেন। সুতরাং আমরা ওয়াক ইন অডিশনের ঘোষণা দিলাম। সংগীত জগতের ভেতরটাতে শিল্পীদের মাঝে অল্প একটু খুনসুঁটি কাজ করে; একে আমি চাইল্ড লাইকই বলব; ওটুকু হার্মলেস জেলাসি সংগীত প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয়।

 

তাই এই অডিশনে আমার ছোট্টো একটা আইডিয়া ছিল। তিনতলায় শিল্পী গান গাইবে; তার একটি নম্বর থাকবে। বিচারক শুধু শিল্পীর নম্বর দেখে; কণ্ঠস্বর শুনে নম্বর দেবেন। অভাবনীয় ফলাফল এল। ছায়ানটের সাধক ছাত্র-ছাত্রীরা বিপুল সংখ্যায় কৃতকার্য হলো। কারণ তাদের ধ্যান জ্ঞান তো সংগীত। সনজীদা খাতুন একদিন বাসায় ডাকলেন। অনেক গল্প হলো। উনি বললেন, আমি তো মনে করতাম আমলাতন্ত্রের কাজই বাগড়া দেওয়া; তোমার কাজ-কর্ম দেখে মনে হলো; ব্যাপারটা সবক্ষেত্রে এমন নয়। সেদিন আলাপে বুঝলাম, রবীন্দ্র সংগীত চর্চা করলেও হিন্দুস্থানী ক্লাসিক্যাল ও উর্দু গজল পছন্দ করেন তিনি। জাতশিল্পী তিনি; উদারপন্থার মানুষ। সংকীর্ণ কোনো চিন্তার অচলায়তনে কখনও বন্দী ছিলেন না।

 

লাইভ টিভিতে একদিন বোশেখের ভোরে রমনার বটমূল বোমার আঘাতে ধোয়া ধূসর হলে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন চোখ এসে পড়তে দেখলাম হারমোনিয়ামের ওপর। স্বাধীন দেশে সুরের বিরুদ্ধে এমন অসুর থাকতে পারে; তা কখনও কল্পনাও করতে পারিনি। সেই থেকে সনজীদা খাতুন, সংকোচের বিহবলতা নিজেরে অপমান; প্রতিজ্ঞা নিয়ে সংগীতের লড়াই করেছেন। এরপর অবশ্য বিএনপি বা আওয়ামীলীগ কোনো আমলেই এমন ঘটনা ঘটেনি। ফেসবুকে যখন থেকে ছায়ানটের ফেসবুক লাইভ শুরু হয়েছে; আমি নিয়মিত দেখি। আওয়ামীলীগের ফ্যাসিজমের কালে সংগীতে সংগীতে ছায়ানটের প্রতিবাদ জারী ছিল। ৫ আগস্টের পর নৈরাজ্যে বিষণ্ন ছায়ানট আবার জেগে ওঠার গান করেছে। ইউরোপ, আরব বিশ্ব, দক্ষিণ এশিয়ায়; সর্বত্র শিল্পীরা ঠিকই তাদের সুরের মাঝ দিয়ে অসুরের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

 

ছায়ানটের সঙ্গে শান্তি নিকেতনের যে সম্পর্ক তা সুরের বন্ধুত্ব। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিজগত তো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ জুড়ে। আমির খসরু কিংবা গালিবের সৃষ্টিজগত যেমন ভারত-পাকিস্তান জুড়ে। শিল্পীরা তস্কর রাজনীতিবিদ ও সামরিক শক্তির বিভাজন রেখায় আটকে থাকেন না; তাদের পরোয়াও করেন না। সুরের কোনো ভূগোল থাকে না।

 

সনজীদা সেই অখণ্ড পৃথিবীর মানুষ। শ্রেণি স্বার্থের ছ’আনা-পাঁচ আনার দলাদলির জগতের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। জগতে আনন্দযজ্ঞে তিনি সবাইকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সবাইকে সুরের আপ্যায়ন করে তারপর সুরের সাম্পানে ভেসে চলে গেছেন সৃষ্টিলোকের রহস্যময়তায়।

 

মাসকাওয়াথ আহসান, প্রাবন্ধিক, ঢাকা

আলোকচিত্রশিল্পী রঘু রাই: ক্যামেরার ভেতর দিয়ে একাত্তরের রক্তাক্ত ইতিহাসের সাক্ষ্য

শাহেদ কায়েস বিশ্বখ্যাত ভারতীয় আলোকচিত্রশিল্পী রঘু রাই আর আমাদের মাঝে নেই। ৮৫ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তের পথে। কিন্তু তাঁর কাজ বেঁচে থাকবে আমাদের

লেখালেখি করে কয় টাকা পাও?

মাহফুজা অনন্যা   “লেখালেখি করে কয় টাকা পাও”? এরকম প্রশ্ন লেখক কবির জন্য নতুন নয়! সেদিন আমার এক শিক্ষিত বন্ধুও আমাকে একইভাবে প্রশ্ন করেছিল খুব

মায়ের কোলে শেষ আশ্রয়

প্রজ্ঞাজ্যোতি ভিক্ষু   ‘মা’ আমার — এক অবিরাম ভালোবাসার গল্প মা—এই ছোট্ট শব্দটির ভেতরে লুকিয়ে আছে এক বিশাল পৃথিবী, অফুরন্ত ভালোবাসা আর অসীম ত্যাগের গল্প।

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির দুই বিভাগে বৈশাখী উৎসব উদযাপিত

পাবলিক হেলথ বিভাগ: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে পাবলিক হেলথ বিভাগের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী ও পিঠা উৎসব-১৪৩৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল ৩টায়

লিমন- বৃষ্টি : পরকালের শান্তি যেন তোমাদেরকে আলিঙ্গন করে

সাইয়িদ মাহমুদ তসলিম বিশ্বের সব বিশ্ববিদ্যালয় একক হৃদস্পন্দন দিয়ে কান্না করেছে বাংলাদেশি মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর জন্য । এ যেন এক বিরল ঘটনা । বিশ্বের এমন