ধীমান বড়ুয়া
কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের আন্তরিকতায় আপনার নিয়মিত প্রকাশনাগুলো আমার হাতে পৌঁছে যায়, আর আমি প্রতিবারই নিজেকে একজন কৃতজ্ঞ ও মুগ্ধ পাঠক হিসেবে আবিষ্কার করি। কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় করমর্দনে, আবার কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তাঁদের চিন্তার আলোকরেখায়। দ্বিতীয় পরিচয়টিই অধিক স্থায়ী; কারণ মানুষ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মননের আলো সময়কে অতিক্রম করে।
কারও মঙ্গলকামনা কিংবা শুভেচ্ছা মুখে উচ্চারণ করলে শ্রবণেন্দ্রিয় সাময়িক এক প্রশান্তির পরশ লাভ করে; কিন্তু প্রকৃত শুভকামনা, শুভাশিষ কিংবা দোয়া-আশীর্বাদ শব্দের অলংকারে নয়—তা উৎসারিত হয় অন্তরের গভীরতম কল্যাণবোধ থেকে। হৃদয়ের নির্মল প্রদেশে যে মৈত্রীর প্রদীপ অনির্বাণ জ্বলে, সেখান থেকেই অনবরত বিচ্ছুরিত হতে থাকে এক নীরব, নির্মল, অনাহত প্রশান্তি। সে মৈত্রীর কোনো ভাষা নেই, কোনো ঘোষণা নেই, কোনো আয়োজনও নেই; তবু তার স্পর্শ মানুষের জীবনকে নিভৃতে আলোকিত করে। সত্যিকারের আশীর্বাদ উচ্চারিত হয় না—তা বিকিরিত হয়।
আপনার সঙ্গে আমার কখনো সামনাসামনি সাক্ষাৎ হয়নি। অথচ “আন্দরকিল্লা”, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজভাবনামূলক প্রকাশনার মাধ্যমে আপনি যে মননের অন্ন, চিন্তার আলো এবং সৌন্দর্যবোধের অনাবিল সম্পদ অবিরাম বিলিয়ে চলেছেন, তাতে আমি এক অনির্বচনীয় কৃতজ্ঞতার ঋণে আবদ্ধ। এ ঋণ প্রতিদানের নয়; কারণ জ্ঞানের দান কখনো লেনদেনের বিষয় নয়, তা মানবসভ্যতার এক চিরন্তন উত্তরাধিকার। প্রদীপ যেমন নিজের জন্য
জ্বলে না, নদী যেমন নিজের জন্য বহে না, বৃক্ষ যেমন নিজের জন্য ফল ধারণ করে না—তেমনি প্রকৃত জ্ঞানীও নিজের জন্য আলোকিত হন না; তিনি অন্যের পথ আলোকিত করতেই আলোর বাহক হয়ে ওঠেন।
তাই আমার হৃদয়ের অন্তঃসলিলা মৈত্রী-তরঙ্গ নীরবে, নিভৃতে, প্রতিক্ষণ আপনার সুস্থতা, শান্তি, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত আলোকযাত্রার জন্য কল্যাণকামনা করে। আপনি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আপনার প্রজ্ঞার দীপশিখা, মানবিকতার উষ্ণতা এবং সৃজনশীলতার আলোকধারা এভাবেই মানুষের মনোজগৎ আলোকিত করে যাক জীবনের অন্তিম প্রহর পর্যন্ত।
শেষ পর্যন্ত মানুষ তার ভোগে নয়, তার ভাণ্ডারে নয়, এমনকি তার অর্জনেও নয়—সে বেঁচে থাকে তার রেখে যাওয়া আলোর মধ্যে। সেই আলোই একদিন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পথের দিশারি হয়ে ওঠে। আর সেই কারণেই সত্যিকারের আলোকিত জীবন নিজের জন্য নয়; অন্যের পথকে আলোকময় করে তোলার মধ্যেই তার পূর্ণতা, তার সাধনা এবং তার চিরস্থায়ী সার্থকতা।
ধীমান বড়ুয়া, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব




