এখন সময়:বিকাল ৩:২৫- আজ: শুক্রবার-১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:বিকাল ৩:২৫- আজ: শুক্রবার
১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

কারা যেন আমাদের স্বপ্নগুলো ছিনিয়ে নেয়?

মানুষ যখন রক্ত শূন্যতায় ভুগে তখন মুখটা সাদাটে হয়ে যায়। মানুষটির প্রাণ আছে ঠিকই, কিন্তু নিস্তেজ ও চলৎশক্তিহীন জড়জীব বিশেষ। সমাজে এ ধরনের মানুষ দু’চারজন থাকতেই পারে। পরিবার ও সমাজ এ ক’জনের ভার বহন করে নিতেও পারে। তবে সমাজে বুদ্ধি-বিবেক যাঁদের আছে, চিন্তা চেতনায় যাঁরা শুদ্ধ এবং যাঁদের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখা যায় তাঁরাই যদি রক্ত শূন্যতায় ভুগেন এবং নিস্তেজ হয়ে পড়েন তাহলে ঐ সমাজতো কৃষ্ণ গহ্বরে পতিত হবারই কথা। এই সমাজদেহে সভ্যতা ও সংস্কৃতির আলো পড়ে না এবং অন্ধকারেই বসবাস বিধায় নিজের চোখ জুড়ে অনন্ত অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই বিরাজ করে না।

আজ চারপাশে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে রহস্যময় অদৃশ্য সুতোর টানে এমন কিছু ঘটছে, উত্থান-পতন হচ্ছে যার ভালো-মন্দ বিচার করার শক্তি ও ক্ষমতা যদি কারও না থাকে এবং অশুভ ও দুষ্ট গ্রহের বিরুদ্ধে জাগ্রত হবার আকাঙ্ক্ষা  লোপ পায় তাহলে বুঝতে হবে সমাজদেহে ক্যান্সারের মতো কঠিন ব্যাধি বাসা বেঁধেছে। এই ব্যাধি নিরাময়যোগ্য নয়— এই ভেবে যদি কবরের নীরবতায় নিমগ্ন হই এবং এতে যদি মানুষের স্বপ্নগুলো চাপা পড়ে যায় তা হলে একটি জাতির অতীত যতই গৌরবোজ্জ্বল থাকুক না কেন, তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বলে আর কিছুই থাকে না। তাহলে আমাদের আছে বলতে কী আছে?

আছে অনেক কিছুই— গণতন্ত্র, নির্বাচিত সংসদ, সরকারসহ বিচার বিভাগ, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক কাঠামো, দল, নানা ধরনের ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংঘশক্তি। এসব থেকে নানান আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আয়োজনে উচ্চারিত কথামালা— যার মর্মাথ শান্তি ও স্বস্তির ললিত বাণী। কিন্তু যে অঘটন ঘটন পটিয়সীর অদৃশ্য সুতোর টানে আমাদের নিত্য প্রবহমান জীবনধারাকে অচল করে দিতে চায়, তার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে ‘দূর হটো’ বলে বাক্য উচ্চারণের সাহসটুকু হারিয়ে ফেলি তাহলে শান্তি ও স্বস্তির কথিত ললিত বাণী অরণ্যে রোদন ছাড়া আর কিছু নয়। বিবেক, বুদ্ধি ও রুচির এই আকালে স্তুতি, ভক্তি, শর্তহীন আনুগত্য ও লজ্জাহীন সমর্পণ যদি আরাধ্য-উপাস্য উপাদান হয়ে ওঠে তখন আত্মার জাগরণ ঘটে না। ‘সব পেয়েছি’র তুষ্টিতে ঢেকুর তোলা পুরো সমাজটাই পরিণত হয় অন্ধ স্তাবকতার ঘুণে ধরা মাটির ঢিবিতে। এই ঢিবির মুখটা যতই সাদাটে হোক না কেন এতে সত্যিকার মাটির উর্বরতা নেই, যেন রক্তশূন্য নিস্তেজ এক মানবদেহ। সমাজটাই যখন ঘুণে ধরা মাটির ঢিবি তখন তার দরকারটাই কী— এই উপলব্ধি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এই অপেক্ষা আর কত কাল— এই প্রশ্নের উত্তর এই প্রজন্মকেই খুঁজতে হবে। তারাই তো জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। স্বপ্নের অপমৃত্যু হলে তার দায় তাদেরকেই তো নিতে হবে।

প্রশ্ন জাগে, কারা যেন বার বার আমাদের স্বপ্নগুলো কেড়ে নেয়?

বসুমতি পূজা: লোকবিশ্বাসের ঐতিহ্যবাহী প্রথা

অমল বড়ুয়া   ‘বসুমতি’ বলতে মূলত পৃথিবী বা ধরিত্রীকে বোঝানো হয়। এটি বসুন্ধরা, ধরণী বা ভূমি শব্দের সমার্থক শব্দ। বসুমতিকে ‘সর্বংসহা’ বলা হয়। অর্থাৎ মা

শিল্প-সাহিত্য চলচ্চিত্রে যুদ্ধ ও সংঘাত

তানভীর আহমেদ হৃদয় মানবসভ্যতার ইতিহাস মূলত সংগ্রাম, সংঘাত ও পরিবর্তনের ইতিহাস। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে মানুষ নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করেছে—কখনো প্রকৃতির বিরুদ্ধে, কখনো অন্য

আঙ্গিক বিবেচনায় মিথের চরিত্র

নাজমুল হুদা প্রকৃতিতে ঘটা ঘটনায় কল্পিত গল্পের ব্যাখ্যার কারণে মিথকে বলা হয় আদিম মানুষের বিজ্ঞান। ধারণার মধ্যে মিথের জন্ম বিশ্বাসের মধ্যে মিথের বসবাস। মানুষের জীবনের