এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

নাজিমুদ্দীন শ্যামল এর গুচ্ছ কবিতা

আব্বা

 

আমার আব্বা খুব সাধারণ মানুষ ছিলেন।

তিনি খুব সাধারণ কথাবার্তা বলতেন

তিনি ভাষার কথা বলতেন,

তিনি স্বাধীনতার কথা বলতেন।

তিনি বলতেন

‘অ’ মানে বাংলাদেশ

‘ক’ মানে বাংলাদেশ

প্রতিটি বর্ণমালা বাংলাদেশ,

বাংলা ভাষা মানে বাংলাদেশ।

 

তিনি বলতেন

পাখির উড়ে বেড়ানো মানে স্বাধীনতা,

মুক্তিযোদ্ধার ঘামে ভেজা জামা স্বাধীনতা

ইশকুলের ছুটির ঘন্টা স্বাধীনতা

বাংলাদেশ মানে স্বাধীনতা।

 

তিনি ভাষার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

তিনি স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

তিনি মুক্তির জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

তিনি বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

 

 

দেখা না পেলে

 

আমাকে দেখতে না পেলে

তুমি কি থাকতে পারবে?

যদি চলে যাই কোথাও

একা একা তখন কি কাঁদবে?

প্রতিদিন তোমাকে দেখার অভ্যাস,

প্রতিদিন আমাকে দেখার অভ্যাস

প্রতিদিন কাছাকাছি থাকা,

প্রতিদিন ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখা

এসব ছেড়ে কেউতো আর

থাকতে পারবো না;

না তুমি, না আমি;

কেউ না।

তোমাকে না দেখে একদিনও

থাকতে পারবো না আমি,

আমাকে না ছুঁয়ে কখনো

থাকতে পারবে না তুমি।

আমাদের দীর্ঘ ভালোবাসা

আমাদের প্রতিদিনের আলিঙ্গন

পরস্পরকে একাত্ম করেছে

প্রতিদিন আরো এক করেছে।

 

 

 

 

দেখা হবে না

 

তোমার সাথে আমার যখন শেষবার দেখা হয়েছিল,

তখন রোদ একেবারে তরুণ ছিলো। শীতের শেষে

বসন্ত আসার অপেক্ষা করছিলাম আমরা।

 

কিন্তু আামদের আর কখনো দেখা হয়নি।

হয়তোবা আর কোনদিন দেখা হবে না।

আমিও সেই পরিচিত রাস্তায় প্রতিদিন

যাই; তুমিও হয়তো দিনের কোন সময়

সেই স্মৃতির রাস্তা ধরে তুমিও হাঁটো।

কিন্তু আমাদের আর কখনোই দেখা

হবেনা। সেটা আমরা দুজনেই জানি।

কিন্তু তবুও পরস্পরকে খুঁজে বেড়াই।

 

জানোতো শেষ দেখার একটি তত্ত্ব আছে।

তাতে বলা হয়েছে আর দেখা হবে না কোনদিন

তবুও মনে রেখো, চোখ খুঁজে দেখে চোখের কোণে।

 

 

 

পার্থক্য

 

ওদের আছে অনেক টাকা,

আমাদের তা নাই।

ওদের অনেক সুখ

আমাদের তা নাই।

ওদের বাড়ি, গাড়ি, ভোজ বিলাস

আমাদের তা নাই।

ওদের অনেক আনন্দ বিনোদন

আমাদের তা নাই।

ওদের অনেক ক্ষমতা, রাজনীতি

আমাদের তা নাই।

আমাদের আছে অনেক অভাব

ওদের তা নাই।

আমাদের রোগ শোক দুঃখ কষ্ট,

ওদের তা নাই।

আমাদের অনেক অসহায়তা

ওদের তা নাই।

আমাদের আছে দুঃস্বপ্ন ভয়,

ওদের তা নাই।

আমাদের বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তা

ওদের তা নাই।

আমাদের চিরকাল দারিদ্র,

ওদের সম্পদের পাহাড়,

আমরা চিরকাল শোষিত

ওরা সবকিছুর মালিক ক্ষমতার আধার।

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্যিক প্রতিরোধ

শাহেদ কায়েস একজন কবিকে নিয়ে ব্রিটিশ সরকার এতটা অস্বস্তিতে পড়েছিল কেন? তাঁর লেখা বাজেয়াপ্ত করতে হয়েছে, পত্রিকার জামানত কেড়ে নিতে হয়েছে, ছাপাখানায় নজরদারি বসাতে হয়েছে,

হঠাৎ ‘আন্দরকিল্লায় অন্তরকথা

ড. মাসুদুল হক   ২৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা একটু একটু করে রাতের দিকে গড়াচ্ছিল। কচি অন্ধকার পাকতে পাকতে যখন চেরাগি পাহাড় মোড়ে পৌঁছালাম, তখন চট্টগ্রামের

স্বপ্নীল বোঝাপড়া

সৈয়দ মনজুর কবির তুমি কে ও? কোন বাড়ির ছেলে? কই আগে তো কোনোদিন দেখি নাই? বেশ উচ্চ:স্বরে একটানে প্রশ্নগুলো করেন পিয়ার খান প্রায় আশি হাত

লাল নীল স্বপ্নের গল্প

দেবাশিস ভট্টাচার্য   শৈশব নিয়ে লিখতে গেলে আমি আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই, জীবনের এতটা সময় পার করে এসে মনে হয় শৈশবই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।

কামার

তানভীর আহমেদ হৃদয় ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি মাটিতে নামেনি। পূর্ব আকাশে সূর্যের আভা ফুটে উঠলেও গ্রামের অধিকাংশ মানুষের ঘুম ভাঙেনি। কিন্তু আব্দুল করিম কামারের ঘরে