এখন সময়:সন্ধ্যা ৬:৩১- আজ: বুধবার-২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:সন্ধ্যা ৬:৩১- আজ: বুধবার
২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

পাখিদের পাঠশালা- গ্রন্থের পাঠ প্রতিক্রিয়া

মুজিব রাহমান

 

ওড়ার আনন্দে পাখি

শূন্যে দিকে দিকে

বিনা অক্ষরের বাণী

যায় লিখে লিখে…

 

বীজ ছড়িয়ে যে পাখিরা বন গড়ে তোলে, প্রকৃতির নীরবতায় যে পাখিরা সুরেলা কলরব তোলে তাদেরকে নিয়েই রবি কবির উপর্যুক্ত স্তবক, পঙক্তি চতুষ্টয়|

 

পাঠ্যপুস্তকে রোকনুজ্জামান খানের ‘বাক বাকুম পায়রা / মাথায় দিয়ে টায়রা’ পড়তে পড়তেই পড়ালেখার পথে অগ্রগমন| তারপর তো খান মুহম্মদ মঈনুদ্দীনের ‘কানা বগীর ছা’| তারও পরে পাঠ্যে ‘টিয়ে’ পাখির আগমন| বেশ মনে আছে বিশিষ্ট ছড়াকার ফয়েজ আহমদের টিয়ে পাখিকে নিয়ে একোক্তি:

টিয়ে তোর বাড়ি কোথা টিয়ে রে!

রোজ দেখি আকাশে

সবুজের পাখা সে|

যাবি কি খুকুরে আজ নিয়ে রে|

খুকু চায় উড়তে

তোর মতো ঘুরতে

আকাশের নীল পথ দিয়ে রে|

টিয়ে তোর বাড়ি কোথা টিয়ে রে|

 

 

 

কথার ¯^াভাবিকতায় সরলরৈখিক এ-ছড়াগুলো পরিচয় করিয়ে দিয়েছে পাখির সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে|বাবুই, চড়ুই, চিল, কোকিল, কাক, প্যাঁচা, ময়না, বক-সারসে আমাদের ছড়ার গোলাঘর ভরে আছে|

কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘কোথায় ডাকে দোয়েল শ্যামা- / ফিঙে নাচে গাছে গাছে? / কোথায় জলে মরাল চলে-/ মরালী তার পাছে পাছে? বাবুই কোথা বাসা বোনে-/ চাতক বারি যাচে রে?/ সে আমাদের বাংলাদেশ / আমাদেরই বাংলা রে!

এভাবেই ছত্রে ছত্রে পাখির ওড়াউড়ি বাংলা ছড়ার বিপুলায়তন সুনীল  আকাশে| সেই ছোটো বেলায় পড়া নজরুলের পঙক্তি:

‘ত্যাজি নীড়

করে ভিড়

ওড়ে পাখি আকাশে,

এন্তার

গান তার

ভাসে ভোর বাতাসে|’

কিংবা আতোয়ার রহমানের

‘টুনটুনিরে টুনটুনি, তুই উঠোনে আয় এখখুনি

একটুখানি নাচ দেখি তোর একটুখানি গান শুনি|’

 

পাখিমানব ড. সালিম আলীকে নিয়ে লেখা ড. রেজা খানের বই ‘পাখিবিশারদ সালিম আলী’ পড়েছিলাম ২০১৮ সালের শেষ দিকে| জেনেছিলাম বাবুই পাখি সম্পর্কে অনেক অজানা কথা| না-জানা তথ্য|

 

আজ চট্টগ্রামে ¯^াধীনতা বই মেলা ২০২৬-এ আবির প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত ‘পাখির পাঠশালা’ বইটি মেলায় পাঠকদের জন্যে প্রদর্শন ও উন্মোচন আয়োজনে বইটির  প্রকাশক আন্দরকিল্লা সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার ভাইয়ের আমন্ত্রণে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত|

প্রসঙ্গক্রমে নদী-জল ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কবি হোসাইন কবির-এর জনপ্রিয় প্রকৃতিবাদী কবিতা ‘পাখিরা যাবে কোথায়’ থেকে উদ্ধৃত করছি:

গ্রামগুলো শহর হলে-

পাখিরা যাবে কোথায়!

কিছু চড়ুই না-হয়

আলোকোজ্জ্বল শহরের অলিতে গলিতে

বাগানবিলাসের লতায় পাতায় ঝুলে

নিদ্রায় অনিদ্রায় পার করবে রাতের প্রহর|

 

গ্রামগুলো শহর হলে

যে মানুষ গ্রামের আলপথে

শিস দিয়ে বাজাতো পাতার শানাই

সে মানুষ তাহলে কি পাখি হবে!

পরিযায়ী পাখি- নিরুদ্দেশ যাত্রার|

 

কবিও দুশ্চিন্তিত পাখিদের আগামী নিয়ে, মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে| পরিযায়ী পাখিদের দশা-ই কি শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিতব্য হবে!

 

নিসর্গীজন প্রাবন্ধিক আমিনুর রশীদ কাদেরী প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি পরম যত্নশীল এক প্রাবন্ধিক| তাঁর ‘ফুলের কথা’ এবং ‘পাখিদের পাঠশালা’ এ সত্যের বিস্তৃত প্রকাশ ও সুনন্দ উপস্থাপন| বইটির ভূমিকায় প্রকাশক প্রকৃতি ও পাখির সাম্পর্কিক সূত্র ব্যাখ্যা করছেন দারুণ কাব্যময়তায়| প্রাণ-প্রকৃতির পরমাত্মীয় ও সজীব স্পন্দন পাখিকে অভিহিত করা হয়েছে ˆনসর্গিক রূপকল্পের সমার্থক হিসেবে| বৃক্ষ, নদী, পাহাড় ও আকাশ পাখিদের আবাস, আশ্রয় ও উড়ে বেড়াবার পথ| অথচ নগরায়নের নির্মনন বিকাশ পাখিদের আবাস ও আশ্রয়ের পরিসর সংকুচিত করে চলেছে ক্রমশ| প্রাবন্ধিক পাখি-প্রেমিক আমিনুর রশীদ কাদেরী তাঁর এই বইয়ে ৩৫ রকমের আবাসিক পাখি, ১৬ ধরনের পরিযায়ী পাখি, ৩৯ ধরনের অরণ্যচারী পাখি, ১১ রকমের জলজ পাখি নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ ও মনোমুগ্ধকর আলোচনা করেছেন| পাখিদের ¯^ভাব, খাদ্যাভ্যাস, আচরণ ও জীবনধারণ সম্পর্কে প্রচুর তথ্য সন্নিবেশিত করেছেন লেখক| উল্লেখ করেছেন প্রত্যেকটি পাখির বাংলা নাম, ইংরেজি নাম, ˆবজ্ঞানিক নাম,  প্রজাতি ও বর্গের নামও| প্রত্যেকটি পাখি পরিচিতি লিখতে গিয়ে উদ্ধৃত করেছেন বিখ্যাত সব কবিতার উদ্ধৃতি| কখনও জীবনানন্দ, কখনও নজরুল, কখনও রবীন্দ্রনাথ, কখনও সুকান্ত ভট্টাচার্য কখনও ফররুখ আহমদ, কখনও যোগীন্দ্রনাথ সরকার কখনও  রজনীকান্ত সেন কখনও বা প্রিয় কবি জসীম উদদীন, শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদ|   উদ্ধৃত করেছেন কবি মোহিত ঘোষের ছড়াও:

শালিক পাখি, শালিক পাখি

তুই আকাশের মালিক নাকি?

মেলে দিয়ে রঙিন ডানা-

চষে বেড়াস আকাশখানা

আবার কখনও এসেছে লোক ছড়া কখনও বা নবীন ছড়াকার ˆসয়দ শরীফের ছড়ার উদ্ধৃতি| সবই কোনো না পাখিকে ঘিরে| পাখিকে নিয়ে| এককথায় দারুণ সুখপাঠ্য হয়ে উঠেছে পাখি পরিচিতিমূলক সুনন্দ এই প্রকাশনা| তবে যেসকল ছড়া ও কবিতার অংশ-বিশেষ এই বইয়ে পাখির বর্ণনায় উদ্ধৃত হয়েছে সেসবের প্রত্যেকটির সঙ্গে কবি ও ছড়াকারের নাম উদ্ধৃত থাকলে খুবই ভালো হতো, অনিন্দ্যসুন্দর হতো|

বইটির চকচকে উজ্জ্বল বর্ণিল প্রতিটি পৃষ্ঠা, মুদ্রণসৌকর্য ও পাতায় পাতায় দৃষ্টিশোভন পাখির বহুবর্ণ রঙিন ছবি, পাখির সঙ্গে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ  ছড়া-কবিতার উদ্ধৃতি বইটিকে যে মান ও মাত্রা দিয়েছে তা এককথায় অনবদ্য, অনন্য|

গাছ নিয়ে একদা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন- ‘ওরা মানুষের মতো আধুনিক নয়, সেইজন্যে ওরা চিরনবীন’| একই কথা পাখিদের বেলাতেও সমান প্রযোজ্য মনে করি|

বইটির শুরুতে আমিনুর রশীদ কাদেরী ‘আমার কথা’ শিরোনামাধীন লিখেছেন: প্রকৃতির অলঙ্কার পাখি নানাভাবে পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে| পাখিদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যে ও ভালোবাসা জাগিয়ে রাখার জন্যে তিনি এই বই লিখেছেন| অর্ধ শতাব্দব্যাপী চা বাগানের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, শ্রীমঙ্গল ও সিলেটের বনাঞ্চলে নিবিড়ভাবে পাখি পর্যবেক্ষণের যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তারই উজ্জ্বল ফসল এই বই|

ফুল-পাখি-প্রকৃতি নিয়ে দারুণ সব বই লিখেছেন প্রিয় লেখক নিসর্গসখা দ্বিজেন শর্মা| তাঁর ‘ফুলগুলো যেন কথা’, ‘গাছের কথা ফুলের কথা’, ‘কুসুমে কুসুমে চরণচিহ্ন’ আমাদের নতুন করে শিখিয়ে দেয় গাছগাছালি আর পাখপাখালিতেই একাত্ম হয়ে আছে প্রকৃতির অপরূপ রঙ, রূপ আর লাবণ্যের প্রায় সবটুকু| দ্বিজেন শর্মার পাঠকমাত্রই তাঁর মোহময় ভাষায় বিমুগ্ধ| যেন ফুল-পাখি-প্রকৃতির মোহময় সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে তাঁর মোহন শব্দে শব্দে| এ-প্রচেষ্টাই যেন পেখম মেলেছে আমিনুর রশীদ কাদেরীর ‘পাখিদের পাঠশালা’ বইয়ে| এ দারুণ পাঠশালায় সকল পাঠককেই জানানো যায় উদার আমন্ত্রণ|

যদিও তিনি বলেছেন  শিশু-কিশোরদের জন্যে এই বই,  আমি মনে করি যেকোনো বই প্রেমিক, পাখি প্রেমিক, প্রকৃতিপ্রেমিক ও ছড়া প্রেমিক কবিতা প্রেমিকের জন্যে এই বই| প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সকলের জন্যে এই বই|

পাখি নিয়ে এমন অনন্যসাধারণ একটি বই রচনার জন্যে প্রাবন্ধিক আমিনুর রশীদ কাদেরীকে আন্তরিক অভিবাদন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি| বইটি প্রকাশের জন্যে আবির প্রকাশনকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি|

‘পাখিদের পাঠশালা’ আমাদের সকলের পাঠের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হোক| পঠিত হোক|

–পাখিদের জন্যে আমাদের ভালোবাসা অবারিত হোক, প্রীতিময় হোক|

–সুখদ হোক সকল সুহৃদ পাঠকের ‘পাখিদের পাঠশালা’ পাঠ ও পরিভ্রমণ!

 

 

মুজিব রাহমান : অধ্যাপক, কবি ও অনুবাদক

বাঙালির বর্ষবরণ—কবিতায়-গানে

সুমন বনিক দিনপঞ্জিকায় প্রতিটি মাসের পাতা জুড়ে ৩০/৩১ টি সংখ্যা থাকে| সংখ্যাগুলো একএকটি তারিখ বা দিনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে| আমরা সেই তারিখমতো আমাদের কর্মপরিকল্পনা সাজাই

আন্দরকিল্লা সাহিত্য পত্রিকাকে সম্মাননা দিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ

গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ-এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাহিত্য সম্মেলনে আন্দরকিল্লা সাহিত্য পত্রিকাকে সম্মাননা প্রদান করেন| আন্দরকিল্লা সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার এই সম্মাননা

লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : গত ১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্য সম্মেলন ২০২৬ উপজেলা  পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়| সাহিত্য সংসদের

সুখ কিনতে কত লাগবে

সাফিয়া নুর মোকাররমা “সুখ কিনতে কত লাগবে?”—প্রশ্নটি শুনতে সরল, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে মানুষের গভীরতম আর্তি| আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই ভাবি, সুখ যেন