জন্ম ও মৃত্যুর মাঝখানে যে মুখরিত জীবনধারা তা যদি মহাকাব্যিক মাত্রাযুক্ত ব্যঞ্জনায় ব্যাপ্ত ও প্রদীপ্ত হয়ে আলো ছড়ায় এ জীবন কখনো নিভে যায় না। মৃত্যু তাকে স্পর্শ করে না; অমরত্ব প্রাপ্তিতে অক্ষয় ও অবিনশ্বর হয়ে থাকে। এরা সমাজ, রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের সৃজনশীল কারিগর। এরা সমুদ্রবুকের বাতিঘর; সুদূর জাহাজের নাবিকদের গন্তব্যের সঠিক গতির আলোরেখা এঁকে দেন। জাতিসত্তার চিহ্ন ধারণ করে এরা সর্বজনীন, এমনকী দেশকালের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজনীন। এদের জীবনপ্রদীপ নিভে গেলেও প্রতিদিন প্রতিক্ষণ অস্তিত্ব ও অনুভবে অমলিন। এদের সৃষ্টিগুলো সরব। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ এ ত্রিকালের কথা বলে।
বর্ষার বারিধারা মুখরিত এ আগস্ট মাসেই উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কসম এমন ক’জন শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে হারিয়েছি যারা নিত্যদিন দূর আকাশের তারা হয়ে স্মৃতিসত্তায় জ্বলজ্বল করছেন। এরা আমাদের স্বজন পূর্বসুরী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, অগ্রজ কবি শামসুর রাহমান সহ আরো ক’জন মানবসম্পদ। এই আগস্ট মাসেই তাদের মৃত্যুদিনগুলো স্মরণে-বরণে সিক্ত এবং শপথে-সাহসে প্রেরণাদীপ্ত। তাদের হারানোর দিনটিতে আমাদের মাঝেই আবার নতুন করে তাদের ফিরে পাওয়ার দিনও।
তাই এদিন শোকের নয়, কান্নারও নয়, শক্তির উৎস। যেনবা চেতনার সৈকতে ভোরের নোঙর; বালুকাবেলায় রাঙা প্রভায় মুঠোভরা চিকচিক রোদ্দুর।




