এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

বাংলাদেশে মণিপুরিদের কবিতাচর্চা

সুমন বনিক

১৮১৯ থেকে ১৮২৫ পর্যন্ত মণিপুর রাজ্য বার্মিজ বাহিনীর করতলগত ছিলো। এ সময় তারা সে দেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ভারতের  মণিপুরের প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক মণিপুর থেকে পালিয়ে কাছাড়, আসাম, ত্রিপুরা ও সিলেটে চলে আসেন। বাংলাদেশে প্রায় তিনশত বছর ধরে মণিপুরি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করলেও এদেশে মণিপুরি ভাষা ও সাহিত্য চর্চার ইতিহাস দীর্ঘকালের নয়,মাত্র কয়েক দশকের। মণিপুরিরা বাংলা ভাষায় কথা বলেন, বাংলায় লেখাপড়া করেন, কিন্তু তাদের পারিবারিক ভাষা মণিপুরি। প্রসঙ্গত, কবি এ.কে. শেরামের ‘ ‘বাংলাদেশের মণিপুরী: ত্রয়ী সংস্কৃতির ত্রিবেণী সঙ্গম’ বই থেকে একটি উদ্বৃতি উৎকলন করছি:

‘এক উন্নত এবং উজ্জ্বল ভাষা-সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ প্রভাববলয়ে অবস্থান করেও আপন সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য এবং শুধুমাত্র পারিবারিক ভাষা হিসেবেই ব্যবহৃত মণিপুরী ভাষাকে সুদীর্ঘ কয়েক শতাব্দী কাল ধরে বাঁচিয়ে রাখা নিতান্তই এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।’

সিলেট অঞ্চলে বসবাসরত মণিপুরিগণ মণিপুরি ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় নিষ্ঠাবান। ১৯৭৫ সালের ১১ মে তারিখে ‘বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদ’ প্রতিষ্ঠা এবং ‘দপান্বিতা’নামের মণিপুরি সাহিত্য সংকলন প্রকাশের মাধ্যমে এই অঞ্চলে প্রথম মণিপুরি সাহিত্য চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক  অভিষেক ঘটে। ১৯৯০ সালে ‘দীপান্বিতা’ সাহিত্যপত্রের ‘মৈরা’নামকরণের পর বাংলাদেশের মণিপুরি সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা ঘটে। ‘মৈরা’ প্রকাশনা আধুনিক কাব্যরীতির দ্বার উন্মোচন করে। মণিপুরিদেরকে  আধুনিক কবিতা চর্চার প্লাটফর্ম তৈরি করে দেয়। ১৯৯০ দশকে কবিতাচর্চায় আধুনিক কাব্যরীতিতে শেরাম নিরঞ্জন, হামোম প্রমোদ,  এন. যোগেশ্বর অপু, এন. শান্ত প্রমুখ কবি কবিতা নির্মাণের ফর্ম, স্টাইল, কৌশল, আবেগ-অনুভূতি, প্রতীক ও চিত্রকল্প ব্যবহার করে সচেতনভাবে আধুনিক কবিতা রচনার পথ খুঁজে পান।১৯৯৫ সালে শেরাম নিরঞ্জনের কাব্যগ্রন্থ ‘মঙ মপৈ মরক্তা’ এবং হামোম প্রমোদের ‘বাখলগী নাচোম’ প্রকাশিত হয়, যা বাংলাদেশের মণিপুরি কবিতা আধুনিকতার পথে যাত্রা করে। সমসাময়িক সময়ের ও পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের মধ্যে কায়েনপাইবম বৃন্দা, মাইস্লাম রাজেশ, রওশন আরা বাঁশি খূৎহৈবম, অয়েকপম অঞ্জু, মণি অবুজম, আংতাবম সমরেন্দ্র, সমেন্দ্র সিংহ, কে. বীরলাল, মুতুম অপু, অ.গুণমণি মৈতৈ, থোঙাম সঞ্জয়, কন্থৌজম সুরঞ্জিত, মাইবম সাধন, পারী চিংথাম, কন্থৌজম শ্যামল, শেরাম রিপন, শেরাম চীংখৈ,মধুমঙ্গল প্রমুখ কবি আধুনিক কবিতাচর্চার পথ অনুসরণ করেন। ‘দীপান্বিতা’র আগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ১৫ তম সংখ্যা থেকে ‘মৈরা’ নাম নিয়ে প্রকাশিত হতে থাকে। মণিপুরি ভাষায়  মৈরা শব্দের বাংলা অর্থ  আলোর শিখা/ মশাল। সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার দূরীভূত করাই ছিল ‘মৈরা”র মূল লক্ষ্য। মণিপুরি ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করার মহান ব্রত নিয়ে ‘বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ’ (বামসাস) এর যে-পথচলা শুরু হয়েছিল বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে  সংগঠনটি সুবর্ণজয়ন্তীর সোনালী সোপানে পদচিহ্ন রেখেছে।এখন পর্যন্ত ‘মৈরা’র ৬৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।

‘মৈরা’র আলোকে এবং এই চেতনায় প্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন বিভিন্ন সময়ে সংকলন প্রকাশ করে। যদিও অধিকাংশ সংকলন সময়ের হাত ধরে এগুতে পারেনি, তথাপি তাঁদের উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশে মণিপুরি সাহিত্যের গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় ৬৪টি।বাংলাদেশের মণিপুরি লেখকেরা দ্বিতীয় মাতৃভাষা বাংলায়ও নিয়মিত লিখে থাকেন। এযাবত তাঁদের বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সাহিত্যের গ্রন্থ সংখ্যাও প্রায় ৬৪টি। পঞ্চাশ বছরে মণিপুরী ও বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সাহিত্যগ্রন্থের এই সংখ্যা নিশ্চয়ই প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল।

০২]

বিশ শতকের সত্তরের দশকে  মণিপুরি এবং বাংলা ভাষায় কবিতা ও সাহিত্যচর্চা শুরু করেন মাইবম তলেন, তৌরেম রবিন, এ কে শেরাম, কারাম নীলবাবু, এল পদ্মামনি দেবী, শান্ত খুমন, খোইরোম ইন্দ্রজিৎ, খোইরোম কামিনী কুমার সিংহ, কন্থৌজম সুবোধ সিংহ, শেরাম শরৎ প্রমুখ। পরবর্তীতে লেখালেখিতে এসেছেন ইমোদম রবিন, সনাতন হামোম, এল শ্যামল, অহৈবম রণজিৎ কুমার সিংহ, টিএইচ কৈনাহল প্রমুখ।

বাংলাদেশের প্রবীণতম মণিপুরি কবি ইমোদম রবিন। ১৯৩৫ সালের ৪ মার্চ তিনি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২টি মণিপুরি কবিতাগ্রন্থ ‘ওয়াখলগী মঙাল’ (ভাবনার আলো, ২০০৭) এবং অঙকপা মালেম (অবাক পৃথিবী, ২০০৯) রেখে গেছেন।

থোকচোম মনিহার শোনী মূলত ভ্রমণআখ্যান লেখলেও তাঁর মণিপুরি কবিতা গ্রন্থ ‘ঐ লাই নীংবা চৎলে’ (আমি উপাসনায় গেলাম, ২০০৮) প্রকাশিত হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কবি কারাম নীলবাবু অসংখ্য কবিতা রচনা করেছেন। মণিপুরি মহিলা কবি এল.পদ্মমনি দেবী কবিতা চর্চা করতেন। তিনি ‘অনৌবা মঙাল’ নামে একটি সাহিত্য সামযকিী সম্পাদনা করতেন। হামোম তনুবাবু প্রবন্ধ ও কবিতা লিখেন।

বাংলাদেশের মণিপুরি সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম—কবি এ.কে. শেরাম। শুধুমাত্র মণিপুরি কবিতা এবং সাহিত্যের বিকাশে নয়, বাংলাদেশে মণিপুরিদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি বিকাশেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে তাঁর জন্ম। তিনি মণিপুরি সাহিত্যকে শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে সংযুক্ত রাখেননি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সাথে মণিপুরি সাহিত্যের সংযোগ ঘটানোর কাজটিও যথাযথ ভাবে করেছেন। গবেষণা কর্মকাণ্ডের জন্য এ.কে.শেরাম বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ অর্জন করেছেন। তাঁর কবিতার গভীরতা, ভাষাগত সৃজনশীলতা এবং মানবিক অনুভূতি মণিপুরি সাহিত্যের একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তিনি শুধু মণিপুরি ভাষার কবি নন, তিনি সমকালীন বাংলাসাহিত্যের শক্তিমান কবি। ১৯৮২ সালে এ কে শেরামের মণিপুরি কাব্যগ্রন্থ ‘বসন্ত কুন্নিপালগী লৈরাং’ (আটাশ বসন্তের ফুল) প্রকাশিত হয়। এটিই বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রথম মণিপুরি সাহিত্যের গ্রন্থ। এরপর কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি, অনুবাদসহ বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশিত হতে থাকে। বাংলা ও মণিপুরি উভয় ভাষাতে রচিত এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৪৪টি। সাহিত্য ও গবেষণা কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে দেশ থেকে এবং আন্তর্জাতিক পরিসর থেকেও সম্মাননা পেয়েছেন। মণিপুরি ভাষাতে প্রণীত এবং বাংলা ভাষায় অনুবাদকৃত কবি এ.কে. শেরামের দুটি কবিতা উৎকলন করছি:

ক]

মঙলান

 

ঐদি থম্মোই পেন্না ওয়া ভাঙজনিংঙি;

অদুবু ঐগীদি লোন হায়ব’মা লৈতে,

লোন থোক্তবগী অওয়া-তেংথাখোল’মদা

লোন্না কল্পি ইদোমতা।

খোন্থাং ওয়াংনা ঈশৈ শকচনিংঙি ঐ;

অদুবু খোনদি থোক্তে ঐগী,

অওয়াবগী ফুম্বংনবা চৈনাখোল’মনা

ঐবু মতম’পুম্বদা তনিকহল্লি যুহারাবগুম।

ঐদি থম্মোইগী শেংলবা মচুনা য়েকচনিংঙি শক্তম অমা;

অদুবু ঐগীদি ইরন্নায় ঘুম অমসু লৈজদে,

মীখা পোনবর্গী তোল্লবা ওয়াখল’মনা

তত্তনা পোকখায়হনদৈ তৌরি থম্মোইসে।

ঐদি মতম’পুম্বদা নুংশিরবা মঙলান অমা শাগৎচৈ;

অদুবু হৌজিক্তি মতমসু ঐগী মায়োক্তনি,

অদুনা কনা মীচঙ লৈজদ্রবা ঐদি

ইদোমতা নূংগী মূর্ত্তি ওল্লি কংলা-শাগুম।

অদুবু করিনো ঐনা হৌজিক তৌগদবা?

ঐবু মতমগী তুরেল ইচাউসিদা

কৌশিং তাউবগুম ‘সুম তাউথদুনা চৎলসিরা,

য়োহ্লিং থাংলবা শামুগুম কোক নোন্দুনা য়ারসিরা

ঐগী তমথীরবা ইরাইবক’সিবু,

ফোঙদোকঙমদ্রবা ওয়াহৈগী পোৎলুম কয়াসি পুদুনা

নূংগী মূর্ত্তি ওন্দুনা’সুম লৈরসিরা?

 

অদুবু,

মরক মরক্তদি থম্মোইনুংদা নোংলৈ নুংশিৎ অমা হৌরকপগুম তৌই,

পোকখাইগদৈ ভাইরবা অগ্নিগিরি’মগী মনিল মখোলসু ফাওরকই,

নোংপোক চীংখোঙদা থোরক্কগদগী ভাইরবা কোরৌগী

মশেক-মঙাল অমসু উবগুম তৌই।

 

***

 

 

বাংলা অনুবাদ

স্বপ্নবিলাস

 

(মূল কবিতা: মঙলান; কাব্যগ্রন্থ: নুংশিবগী তেংথারোল)

 

আমি প্রাণভরে কথা বলতে চাই;

কিন্তু আমারতো কোনো ভাষা নেই,

ভাষাহীনতার অব্যক্ত যন্ত্রণায়

আমি শুধু গোপনে কাঁদি একাকী।

আমার ইচ্ছে হয় গলা ছেড়ে গান গাই;

কিন্তু আমার কণ্ঠ যে রুদ্ধ,

বেদনার এক দুর্বহ ভার তাই

আমাকে সারাক্ষণ কম্পিত রাখে ভয়াল ভূমিকম্পের মতো।

হৃদয়ের শুদ্ধতম রঙে একটি ছবি আঁকতে চাই আমি;

কিন্তু আমারতো নিজস্ব কোনো ঘর নেই,

পরাধীনতার গ্লানি তাই আগ্নেয় উত্তাপ হয়ে

ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন করে দিতে চায় হৃদয় আমার।

আমি সারাক্ষণ একটি প্রিয় স্বপ্নকে বুকে আগলে রাখি;

কিন্তু সময় এখন আমার প্রতিকূলে,

আর তাই স্বজন-বান্ধবহীন আমি

একাকী পাথরের মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি ‘কংলা-শা’-এর মতো।

এখন এই অবস্থায় কী-ইবা করতে পারি আমি?

আমি কি চলমান সময়ের স্রোতে

ভাসমান কোনো কাষ্ঠখণ্ডের মতো ভেসে ভেসে যাবো

শৃঙ্খলিত কোনো হস্তীর মতো নির্বিরোধ মেনে নেবো

আমার এই অসহায় ললাটলিখন

অব্যক্ত বাণীর দুর্বহ ভার বয়ে নিয়ে

পাথরের মূর্তি হয়ে কি এভাবেই থেকে যাবো আজীবন?

তবু,

কখনো কখনো হৃদয়ের প্রত্ন-প্রান্তরে অনুভব করি এক ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস,

শুনি বিস্ফোরণোন্মুখ কোনো অগ্নিগিরির আগ্নেয় গর্জন,

পূর্ব দিগন্তে কখনোবা দেখি অন্ধকার আলোকিত করা

রক্তিম কোনো বালার্কের উদ্ভিন্ন উদ্ভাস।

 

খ]

পোকপা

 

নুংশিবনা নোংমা শোকম্মি লোন্না অতিয়া খেলবা চীংদোলবু উনগী মতুম শৌদোরজুকুনা খৃহ্মৎখি চীংয়া-তময়া পূম্নমক, মদুদগী পোকখি তুরেল।

 

নুংশিবনা নোংমা শোক্লম্মি তপ্না অওয়াবগী অরোনবা তিংখংবু ঈ-না ভাঙলবসু মাগী থম্মোই নোক্লম্মি মাদি থম্মোই তা-না, মদুদগী শক্তম লৌখি গুলাপ।

 

নুংশিবনা নোংমা নুংশিনা চুপ্পদা শংত্রিক্লখি অতিয়াগী মায়থোং নুংশিরবা মীনোক খোঞ্জেল অমদা তনিক্লখি চীক্লবা উমং, মদুদগী থোরকখি ঈশৈগী সুর।

 

অকোনবদা নোংমা

নুংশিবা মশামক্লা মপোক-লাংওন তমখি মালেমসিদা,

অমসুং মদুম্না শক্তম লাংখি নুজানা।

****

 

বাংলা অনুবাদ

জন্ম

 

(মূল কবিতা: পোকপা; কাব্যগ্রন্থ: মঙলানগী অতিয়াদা নুমিৎ থোকপা)

 

ভালোবাসা একদিন স্পর্শ করেছিলো পাহাড়ের চূড়া

বরফ গলে গলে ভাসিয়ে দিলো পাথর-প্রান্তর,

সেই থেকে জন্ম হলো নদীর।

 

ভালোবাসা একদিন ছুঁয়েছিলো বিষাদের তীক্ষ্ণ কাঁটা

রক্তাক্ত হৃদয়ে তবু হেসে উঠেছিলো সে অপরূপ,

সেই থেকে হলো গোলাপ।

 

ভালোবাসা একদিন আতীব্র চুম্বনে নীল করেছিলো আকাশের বুক

এক মধুর হাসিতে ঝংকৃত হলো উদাস অরণ্য,

সেই থেকে সৃষ্টি হলো সুর।

 

অবশেষে একদিন

ভালোবাসা নিজেই পুনর্জন্ম নিলো পৃথিবীতে,

আর এভাবেই জন্ম হলো নারীর।

 

 

সনাতন হামোম বাংলাদেশের মণিপুরি সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট কবি ও সংগঠক। সনাতন হামোমের কবিতা প্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের অতলান্তে স্পর্শ করে। তাঁর কবিতা বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নে বিভোর । নারীর ভালোবাসা, বিরহ-বিচ্ছেদ তাঁর কবিতায় শৈল্পিক দ্যোতনা ছড়ায় আবার সমাজের নানা গ্লানি তাঁর কবিচিত্তকে ব্যথিত করে। তিনি মণিপুরি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কাব্যের ফ্রেমে বেঁধে বিশ্ব চরাচরে  ছড়িয়েছেন। তাঁর  কবিতায় মানবমনের আবেগ- অনুভূতি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় প্রণীত।  বাংলা ও মণিপুরী ভাষার কবি সনাতন হামোম ১৯৫৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর কমলগঞ্জের ছনগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বাংলা কাব্যগ্রন্থ ‘কল্পবধূ’ (১৯৮৮), ‘ইন্সিত বাসনা’ (১৯৮৯) ও ‘ভালবাসার কাব্য’ (২০০৯)। নতুন সমাজ গড়ার স্বপ্নে বিভোর কবি নারীর ভালোবাসার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার নৈরাশ্য প্রত্যক্ষ করেন। সমাজের নানা গ্লানি তাঁর কবিচিত্তকে ব্যথিত করে। তাঁর উল্লেখযোগ্য চারখানা মণিপুরী কবিতা গ্রন্থ- ‘লৈনম য়াওদ্রিবী লৈরাং’ (গন্ধহীন ফুল, ২০০০), ‘থওয়াইগী নুংশিরৈ’ (হৃদয়ের নুংশিরৈ, ২০০৩), ‘মঙ মরক্তা’ (স্বপ্নের মাঝে, ২০০৬) এবং ‘লৈ কলুরা থাং কৎলুরা’ (ফুল দেবো না অস্ত্র দেবো, ২০১২) প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলা ভাষায় ৩ টি,মনিপুরি ভাষায় ৬ টি কাব্যগ্রন্থ এবং  ১টি ভ্রমণআখ্যান সহ তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা দশটি।কবি সনাতন হামোমের একটি কবিতা উৎকলন করছি:

 

বিচিত্র জীবন

 

সুর্যের প্রখর আলোয়

মাঝে মধ্যে

দু:খগুলো ডুবিয়ে দিই

এলকোহলের গ্লাসে।

 

সবকটি যন্ত্রণা

রঙিন জগতে পৌঁছে যায় হঠাৎ

দু:খগুলো গড়িয়ে যায়

লাল রঙের রঙিন আলোয়,

লজ্জায় সূর্যও গড়িয়ে যায়

চাঁদের মহিমায় অবাক হয়ে।

 

খেয়ে না খেয়ে সঞ্চয় করা

ধনীক মানুষেরাও

রঙিন এই আলোয় বাউন্ডুলে হয়

অন্ধকারের মুখোমুখি হলেই

অন্ধকারও অবাক তাকিয়ে রয়।

***

 

কবিতাটির মনিপুরি ভাষান্তর:

অঙকপা পুন্সি

 

নুমিৎনা ঙাল্লিঙৈদা

মরক মরক্তা

অওয়াবা পুম্নমক লুপহল্লি

এলকোহোলগী গ্লাসতা।

 

অওয়া-তেংথা,পেন্দবা পুম্নমক

মচু নাইরবা মলেম ওনখি খুদক্তা

ঙাংজুনরবা মচু মরক্তা

নুমিৎসু ওনথখি থাজগী মঙাল ঙক্তুনা।

 

চাদ-থক্তনা শেল তুংশিনবা

ইনাকখুনবা মীওইশিংসু

তাইবংগী অঙাঙবা ঈখেংগী মচু মরক্তা ঙাওনৈ

অমম্বা থেংনরুরগা অমম্বনা ঙক্নৈ।

 

তাইবংগী অঙকপা তাইবংসে

অঙকপনি অঙকপা।

 

কবি-সম্পাদক নামব্রম শংকর-এর জন্ম ১৯৭৩ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেট শহরের নয়াবাজার-এ। তিনি সম্পাদনা করছেন ‘ইজ্জোল’ নামে একটি মণিপুরী ভাষার সাহিত্যপত্র। কবি নামব্রম শংকরের মণিপুরী কাব্যগ্রন্থ ‘নুংশিবি’ (প্রেমিকা, ২০১৫)। তাঁর বাংলা ভাষায় রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘মানুষ তুমি ‘, ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয়। নামব্রম শংকর নব্বই দশকের কবি,  মণিপুরি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই নিরলস-নিরহঙ্কারে লিখে থাকেন। শংকরের সহজ- সরল কাব্যভাষা অত্যন্ত  ব্যঞ্জনাময়। কবি নামব্রম শংকরের একটি  মণিপুরি ভাষার কবিতা; বাংলা ভাষায় অনুবাদসহ এখানে উপস্থাপন করছি:

নুংশিবগী অপুন্বা লৈপাক অমা

 

মীকুপ্তা মচু তরা অন্থোকপা ঙম্লিবসে মীয়োইবগি পুক্নিংনি।

টাইম মেশিন নত্রগসু মী অনিসে ওইশিল্লগা চৎপা ঙম্মি

চহী কয়া হৌখ্রবা খোংজোম তুরেল, মায়থীখিবা মণিপুরদা।

মীকুপ্তা য়ৌরি কংলা, শ্রীগোবিন্দজী, শংবানরবা লোক্তাক

মোইরাংগি খম্বা-থোইবী, কবি হিজম অঙাংহল তানা।

ভিসাসু লৈতৈ, চৎপদা কনাগিসু অয়াবা চঙদে

কবি নীলকান্তনা উনারুবা আমেরিকাদুগী ফজবা য়েংবদা।

নীংশিংলকপদা হেক্তা চৎপা ঙম্মি অপন্বা লৈত্তনা শান্তিনিকেতন

খুৎকী য়োৎহ্লিং কোলোং থদৎলবা কবি নজরুলগী ‘বিদ্রোহী’

‘বনলতা’ জীবনানন্দগী, অতৈসু সুকান্ত, চাউবা-কমল।

 

ঙাউখ্রবা পুক্নিং শগোলসে তোংলদুনা মীকুপ’মদা য়ৌরি

সালাম, রফিক, জব্বারগী মিছিলদা, নীংতম লান্দা।

মীকুপ্তা চৎখিবা ঙম্মি লাক্কদবা চহী কুননিপাল মতুংদা

থম্মোয়নুংদা শেমগৎপা ঙম্মি নিংথীরবা খ্রীস্টকুম ২০৫০।

মীকুপ্তা মচু তরা অন্থোকপা ঙম্লিবসে মীয়োইবগি পুক্নিংনি।

মীয়োইবনা হৈজদবা, শেম্বা ঙমদবা করিমত্তা লৈত্তে

মলেম’সে শাবা ঙম্মি নুংশিবতগী ফজরবা লৈপাক অমা।

***

 

ভালোবাসাময় এক অনন্য পৃথিবী

 

ভাবনাগুলো ইচ্ছেমতো রং বদলায় মুহুর্তে।

টাইম মেশিনে নয় চোখ বন্ধ করেই পৌঁছে যাই

সেই কবেকার খোংজোম তুরেল, পরাজিত মণিপুর।

মুহূর্তে চলে যাই কংলা, শ্রীগোবিন্দজী, শ্যামল লোক্তাক

মোইরাংয়ের খম্বা-থোইবী, কবি হিজম অঙাংহল সকাশে।

ভিসা নেই, কারো কোনো অনুমতির ধার ধারিনা

কবি নীলকান্তের দেখা আমেরিকার সে সৌন্দর্য উপভোগে।

মনে পড়লেই অবলীলায় যেতে পারি শান্তিনিকেতন

কারার ঐ লৌহকপাট ভাঙা কবি নজরুলের ‘বিদ্রোহী’

‘বনলতা’ জীবনানন্দের, সুকান্ত, চাউবা-কমলের কাছে।

 

দুরন্ত হৃদয় পঙ্খিরাজ চেপে সহসাই শ্লোগান দেয়

সালাম, রফিক, জব্বারের মিছিলে, স্বাধীনতা সংগ্রামে।

মুহুর্তে আমি যেতে পারি আটাশ বসন্ত পরে

হৃদয়ের অচিনপুরে গড়তে পারি অনবদ্য ২০৫০।

মানুষের ভাবনাগুলো প্রতিক্ষণে রং বদলায়।

মানুষ পারে না, মানুষের অসাধ্য কিছুই  নেই

ভালোবাসাময় শান্তির পৃথিবী মানুষই পারে গড়তে।

 

 

বাংলাদেশের মণিপুরি জাতিগোষ্ঠীর আরেকজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি

রওশন আরা বাঁশি খূৎহৈবম। জন্ম ১৯৭১ইং সালের ১৪ই ডিসেম্বর। প্রথম কাব্যগ্রন্থ সমুদ্রের কাছে চিঠি(২০২০)

 

বাংলা ভাষায়  ৫ টি এবং মণিপুরি ভাষায় ১ টি কাব্যগ্রন্থ এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নিয়মিত কবিতা চর্চায় ব্যাপৃত আছেন। বাঁশির কবিতায় প্র্েেম আকুলতা, আশা-নিরাশা, বিরহ ও বেদনার সমস্ত রূপ ফুটে উঠে। তাঁর কবিতা নিছক বিলাপ কিংবা আহাজারি  নয়; বরং শিল্পসম্মত প্রতীক ও ইমেজারির মাধ্যমে রোমান্টিক আবহ তৈরি করে। জীবনের সরল অথচ গভীর সত্য তিনি প্রতীকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন ।কবি রওশন আরা বাঁশি খূৎহৈবম এর একটি মণিপুরি ভাষার  কবিতা বাংলা ভাষায় অনুবাদসহ এখানে উৎকলন করা হলো:

মতম কুইরে কপ্লিবসে ঐনা

 

ইমাই পারবা ইশিংদা তাওথরিবা  চরু মপুন্দা

শাইদাংমিন্নদনুা মহু চেন্বা লিন হঙোই অমসুং ককচেংগা

হিংমিন্নরকপনি কুমজা কয়াসি

চহি চনি তাওথমিন্নরকপসি

য়াম্না নুংশিননা লেল্লকপনি ঐখোয়।

 

নোংমা খংহৌদনা কংফান্দা থুংলখি ঐখোয়

কংফান্দা কারকপদগী ঐখোই লোইনা নিংথৌ ওইরে

কংফান্দা কারকপদগী ঐখোই লোইনা নিংথৌ ওইরে

ঈশা ঈশাগী লৈবাক পাকথোক চাওথোক্নবা হোৎনবদা

অমগা অমগা য়েংথিনবা হৌরকখি ।

ঐখোয় অমনা অমবু শক খঙনরক্তে !

লিন,হঙোই, ককচেং অমদি ঐ, কাইনবা হৌরকখি

ঐখোইগী মরক্তা পুকচেল শেংনদবা হৌরকখি

নুংশিনদবগী মমি তারকপা হৌরকখি ।

ঐদি চৈনা ফাওরে

মালেমদা ঈকং থোক্লে !

মতম কুইরে নোংবু ঙাইদনুা কপ্লিবসে ঐনা

ঐগী থমোইনা পাম্মি ইশিং ইচাও থোকপা

পৃথিবীগী কাচিন কোয়া শিন্বা থুংনা তাওদনুা চৎপা পাম্মি

লাক্লসনু ইশিং ঈচাও!

 

ঐখোয় অমকু পুন্না—

লেনম্ন্নিবা পাম্লে পুন্সিগী আ নঙুাইগী তাংকক কয়া

মহু চেনবা শাথিরবা  শা-ঙাশিংগা

অকি অখং য়াওদনা নুংশিবদা থাজরগা,

মীয়াম্না ঐবু অঙাওবিনি হায়নৈ

অদবুু ঐদি লেপ্তনা কপ্লি

লেপ্তনা কপখিনি নুমিৎ কয়া

অরোইবদা পাৎসিগি তোর্বান্দা নিঙাইদনা তুমখুন তাল্লনি ।

****

 

ঝরে বেদনার জল অবিরল

 

যখন অথৈ জলের স্রোতে

খড় কুটো আঁকড়ে ভেসেছিলাম

তখন বিষাক্ত সাপ-ব্যাঙ-পিঁপড়ের সাথে

গায়ে গা লাগিয়ে পরম বন্ধু ছিলাম আমরা।

ভেসে ভেসে দু’শো বছর পার করেছি

তখনও আপন ছিলাম,

একদিন ডাঙায় উঠলাম এসে

তার পর সবাই রাজা হয়ে গেল

যে যার মতোন রাজ্য বিস্তার করতে শুরু করলো

অতঃপর আমরা কেউ কাউকে চিনছিনা!

 

সাপ-ব্যাঙ-পিঁপড়ে ও আমার মধ্যে

সেই আন্তরিকতা আর নেই

নেই কোন সহানুভূতি।

এখন আমি কষ্ট পাই

পৃথিবীতে দারুণ খরা!

বহুদিন থেকে কাঁদছি বৃষ্টির জন্য

আমার মন চাইছে বন্যা হোক

পৃথিবীর একূল ওকূল ভাসিয়ে

মহাপ্লাবন আসুক!

আবার আমরা–

জীবনের কঠিন সময় পার করবো

বিষাক্ত ও হিংস্র প্রাণীকুল নিয়ে–

ভালোবেসে নির্ভয়ে বিশ্বাস রেখে,

লোকে বলে আমায় পাগলী

তবু আমি কেঁদেই চলছি

কিছুদিন,আরো কিছুদিন কেঁদে যাবো

অতঃপর এই ঝিলের পাড়ে ঘুমিয়ে পড়বো!

 

 

 

বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে  মণিপুরি কবিতাচর্চার বিষয়-আশয় পূর্ণাঙ্গরূপে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি, এটি বাংলাদেশের মণিপুরি জাতিগোষ্ঠীর কবিতাচর্চার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। মণিপুরি সাহিত্য আমাদের সাহিত্যের মূল স্রোতোধারা থেকে প্রায়-বিচ্ছিন্ন। তাই, বাংলাদেশে মণিপুরী সাহিত্যচর্চার ধারা খুব একটা বেগবান হতে পারছে না। তবে, মণিপুরি সাহিত্যচর্চার নানান কর্মকাণ্ড আমরা পরিলক্ষিত করি।  বাংলা সাহিত্যের প্রবাহমান ধারায় মণিপুরি সাহিত্যচর্চা পরিপুষ্ট, প্রভাবিত ও গতিশীল হচ্ছে—তা-বলার-অপেক্ষা রাখে না। তাই ,মণিপুরি  কবিতা বিষয়-ব্যাপ্তিতে এবং গভীরতায় শিল্পমানসম্পন্ন ও উৎকর্ষতার দাবি রাখে।একুশ শতকে বাংলাদেশে মণিপুরি সাহিত্যচর্চা আরো বেগবান হবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।মণিপুরি কবি/ লেখকগণ  বাংলা সাহিত্যচর্চায় তাঁদের সৃজনশীলতা ও প্রজ্ঞার প্রতিফলন ঘটিয়ে

সাহিত্যচর্চার ধারা প্রবাহিত রাখবেন—এটাও আমাদের বিশ্বাস।

 

সহায়ক রচনাপঞ্জি

গ্রন্থ

০১)এ.কে. শেরাম সম্পাদিত : মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য ২০১৬, প্রকাশক-নাগরী ,সিলেট

০২)এ.কে. শেরাম প্রধান সম্পাদক: ‘মৈরা’ সংখ্যা ৬৬, বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ, সিলেট।

প্রবন্ধ

০১) নন্দলাল শর্মা : ‘সাহিত্যচর্চায় সিলেটের মণিপুরী সমাজ’ , গ্রন্থ -মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য ২০১৬, প্রকাশক-নাগরী ,সিলেট।

০২) শেরাম নিরঞ্জন: ‘বাংলাদেশে মণিপুরি সাহিত্যের পঞ্চাশ বছর: এই সংক্ষিপ্ত রূপরেখা’, গ্রন্থ -মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য ২০১৬, প্রকাশক-নাগরী ,সিলেট ।

 

 

সুমন বনিক: কবি, সম্পাদক- অগ্নিশিখা; সাহিত্যের ছোটোকাগজ

সিলেট

নাজিমুদ্দীন শ্যামল এর গুচ্ছ কবিতা

আব্বা   আমার আব্বা খুব সাধারণ মানুষ ছিলেন। তিনি খুব সাধারণ কথাবার্তা বলতেন তিনি ভাষার কথা বলতেন, তিনি স্বাধীনতার কথা বলতেন। তিনি বলতেন ‘অ’ মানে

জাকির তালুকদার-এর ‘মাতৃহন্তা’: মিথ, ইতিহাস ও নারী জাগরণের এক অনন্য আখ্যান

শারমিন সুলতানা সাহিত্যের প্রতিটি শাখাই পাঠককে বিমোহিত করে লেখকের সৃষ্টিশীলতার গভীরতায়। একজন বড় লেখক তাঁর সৃষ্টিকর্মে যত বেশি অভিনবত্ব, ভাবনার বৈচিত্র্য ও ভাষার সৌন্দর্য আনতে

শিল্প পরিক্রমায় শিল্পের সাম্পান

শিশির মল্লিক   শিল্পদর্শন, শিল্পপাঠ কিংবা শিল্প আলোচনা/সমালোচনা— দর্শক, পাঠক, আলোচক বা সমালোচকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি বা উপলব্ধিকে রিপ্রেজেন্ট করে। ফলতঃ কোন সুনির্দিষ্ট ফ্রেমে শিল্প বা

ধাঁধা: প্রজ্ঞা ও ধীশক্তির লোক-ঐতিহ্য

অমল বড়ুয়া   লোকসাহিত্যের একটি অন্যতম বিষয় হল ধাঁধা। প্রাচীনকাল থেকেই ধাঁধা সাধারণ জনমানুষের শিক্ষার একটি অন্যতম উপায়। আদিম সমাজে মানুষ যখন প্রকৃতির বিভিন্ন রহস্য