এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

বিশ বছর পর বাংলায় ফিরছেন তসলিমা

রোখসানা ইয়াসমিন মণি

সাহিত্যের ইতিহাসে বহু লেখকই সময়ের স্রোতে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু কিছু মানুষ জন্মান কেবল লেখার জন্য। তসলিমা নাসরিন সেই ধারারই এক সাহসী নাম। দীর্ঘ জীবনের এক বিশাল অংশ তিনি কাটিয়েছেন নিজের দেশ থেকে দূরে, অনিশ্চিত নির্বাসনে। অথচ তাঁর ধমনীতে প্রবাহিত হয়েছে বাংলা ভাষা আর বাংলার মাটির প্রতি তীব্র এক টান।

তিনি ইচ্ছে করলেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই আভিজাত্যের সাথে জীবন কাটাতে পারতেন। তাঁর মেধা ও খ্যাতি তাঁকে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দিয়েছিল। ইউরোপ বা আমেরিকার নিরাপদ জীবন তাঁর জন্য অপেক্ষমাণ ছিল, কিন্তু তিনি সেই পথে হাঁটেননি। তিনি নেননি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব। পরদেশি পাসপোর্ট  তাঁকে নিরাপত্তা এবং বিলাসী জীবন  দিতে পারতো। কিন্তু প্রিয় বাংলা ভাষা আর জন্মভূমির সাথে তাঁর অদৃশ্য বাঁধনটি ছিন্ন হয়ে যাবে ভেবে তিনি অন্য কোনো উন্নত দেশে নিজেকে থিতু করেননি। বাংলা ছেড়ে থাকার  ব্যথা তিনি সহ্য করতে পারবেন না বলেই শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ভারতের মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। ভারতের নাগরিকত্ব না পেলেও, তার আত্মার শান্তি ছিল এক জায়গায়—সেখানে থাকার মানেই হলো নিজের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের সীমানার খুব কাছে থাকা। তিনি জানতেন, পাশে দাঁড়িয়ে আছে তার বাংলাদেশ। ছুঁতে না পারলেও সেই মৃত্তিকার ঘ্রাণ বাতাসের মাধ্যমে তাঁর হৃদয়ে পৌঁছাবে। এটিই তাঁর কাছে চরম দেশপ্রেম, এটিই তাঁর অস্তিত্বের লড়াই।

পৃথিবীর ইতিহাসে লেখকদের ওপর জুলুম কোনো নতুন ঘটনা নয়। কলমের শক্তির কাছে ক্ষমতা সবসময়ই ভীত। তাই লেখকদের কারাবরণ করতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে, অথবা হতে হয়েছে দেশান্তরী। তসলিমা নাসরিনও সেই দীর্ঘ তালিকার এক উজ্জ্বল নাম। আজ তিনি যখন পশ্চিমবঙ্গ থাকার অনুমতি পাচ্ছেন, তখন আমাদের থমকে দাঁড়াতে হয়। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যে সমাজ তাঁর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মূল্য দিতে জানে না, তারা একসময় তাদের হারিয়ে ফেলে শোকে মুহ্যমান হয়। একদিন হয়তো বাংলাদেশ তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে গবেষণা করবে, তাঁর লেখনীর মাহাত্ম্য বুঝতে পারবে, হয়তো লজ্জিত হবে অদূরদর্শী হওয়ার জন্য। কিন্তু ততদিনে হয়তো সেই সাহসী পাখিটি এই পৃথিবী থেকে চিরতরে ডানা গুটিয়ে নেবেন। আক্ষেপের জায়গাটা ঠিক এখানেই। জীবিত অবস্থায় আমরা যাঁকে আশ্রয় দিতে পারিনি, তাঁর মৃত্যুর পর হয়তো স্মৃতিস্তম্ভ গড়ার চেষ্টা করব। তসলিমা নাসরিন কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি বাংলা সাহিত্যের এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তিনি প্রমাণ করেছেন, রাজনৈতিক সীমানা দিয়ে মানুষের দেশপ্রেম বা ভাষাপ্রেম মাপা যায় না। তাঁর এই নির্বাসন কেবল একটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা নয়, এটি মানবতার গভীর ক্ষত। যে মাটির জন্য তিনি পৃথিবী ত্যাগ করেছেন, সেই মাটি তাঁকে আপন করে নিক বা না নিক—তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর লেখনীতে, তাঁর সাহসে, আর বাংলার প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে থাকা গভীর ভালোবাসায়।

 

রোখসানা ইয়াসমিন মণি, গল্পকার

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্যিক প্রতিরোধ

শাহেদ কায়েস একজন কবিকে নিয়ে ব্রিটিশ সরকার এতটা অস্বস্তিতে পড়েছিল কেন? তাঁর লেখা বাজেয়াপ্ত করতে হয়েছে, পত্রিকার জামানত কেড়ে নিতে হয়েছে, ছাপাখানায় নজরদারি বসাতে হয়েছে,

হঠাৎ ‘আন্দরকিল্লায় অন্তরকথা

ড. মাসুদুল হক   ২৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা একটু একটু করে রাতের দিকে গড়াচ্ছিল। কচি অন্ধকার পাকতে পাকতে যখন চেরাগি পাহাড় মোড়ে পৌঁছালাম, তখন চট্টগ্রামের

স্বপ্নীল বোঝাপড়া

সৈয়দ মনজুর কবির তুমি কে ও? কোন বাড়ির ছেলে? কই আগে তো কোনোদিন দেখি নাই? বেশ উচ্চ:স্বরে একটানে প্রশ্নগুলো করেন পিয়ার খান প্রায় আশি হাত

লাল নীল স্বপ্নের গল্প

দেবাশিস ভট্টাচার্য   শৈশব নিয়ে লিখতে গেলে আমি আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই, জীবনের এতটা সময় পার করে এসে মনে হয় শৈশবই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।

কামার

তানভীর আহমেদ হৃদয় ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি মাটিতে নামেনি। পূর্ব আকাশে সূর্যের আভা ফুটে উঠলেও গ্রামের অধিকাংশ মানুষের ঘুম ভাঙেনি। কিন্তু আব্দুল করিম কামারের ঘরে